Monday, October 26, 2020
Home স্মৃতিকথা টুনির মায়ের জন্মদিন

টুনির মায়ের জন্মদিন

মুমু! মানে টুনির মা। দুই অক্ষরের একটি নাম।ভারি সুন্দর।ভারি সুন্দর তার কথা বলা,তার কিশোরী বয়সের উচ্ছলতা তার হাসি তার দুষ্টুমী।সে খুব ছবি তুলতে ভালোবাসে।দুই ভাই বোনের মধ্যে সে ছোট।বড় ভাই ডাক্তার এবং সে তাকে খুবই আদর করে।এমন আদর করে যে আদরে আদরে মুমু কিছুটা বাদর না না বাদরানী হয়ে উঠেছে।তবে ওই রকম দুষ্টুমী বেশ আনন্দের।মুমুর সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি।কোন দিন দেখা হবে এমনও ভাবা যায় না।মুমুর সাথে আমার কথা হয়নি,কখনো কথাও হবে কিনা জানা নেই।মুমুর সাথে আমিও ভীষণ দুষ্টুমী করি।একবার মুমু আমার কাছে আমার ছবি চাইলো আমি ওকে ছবি পাঠালাম।কিন্তু ছবি পাঠালাম অন্য কারো!আসলে ছবি যদি দিতেই হয় তাহলে ইনবক্সে কেন দিতে হবে?সবার সাথেইতো শেয়ার করা যায়।

তাই দুষ্টুমী করে ফেসবুক থেকে একজনের ছবি নিয়ে ইনবক্সে দিয়ে দিলাম।ও ভেবেছে ওটাই বুঝি জাজাফী।কিন্তু অন্য একজনের কথা ধার করে বলতে হচ্ছে “জাজাফী হলো একটা রহস্যে ভরা বই,যে বইটি এখনো প্রকাশিত হয়নি তাই সেই বইয়ের কনটেন্ট সম্পর্কে কারো ধারনা নেই”।

মুমু

মুমুর আজ জন্মদিন।কত তম জন্মদিন? ১৫ তম। তার মানে আমার চেয়ে মুমু প্রায় ২২ বছরের ছোট।মুমুর অনেক অনেক ছবি দেখেছি।সে বিভিন্ন স্টাইলে ছবি তোলে।ওকে আমি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছি কিন্তু ওর মন ভরেনি।ও চায় আমি যেন ওকে আরো সুন্দর করে শুভেচ্ছা জানাই।এখন কথা হলো আমি কী করে আরো সুন্দর করে শুভেচ্ছা জানাবো।ও খুব রাগ করে যদি ওকে পিচ্চি বলে ডাকি।এখন ১৫ বছর বয়সতো আর পিচ্চি না কিন্তু আমার তুলনায় সে নিশ্চই পিচ্চি।তাকে তা ডাকা যাবে না।তাহলে কি ডাকবো? আমি বলি তুমি একটা বুড়ি।সে অবশ্য এটা মেনে নিতে রাজি আছে।

আমি যদি বলি এই মুমু তোমাকে আমি আপু বলে ডাকি? সে রেগে মেগে আগুন।বলে আর কিছু পাইলা না ডাকার জন্য? আমি বললাম আপু ডাকলে সমস্যা কি? সে বলে পৃথিবীতে সৈকত ছাড়া তার আর কোন ভাই নেই আর কোন ভাই লাগবে না।বাচ্চা মানুষ তার কোনটা দুষ্টুমী আর কোনটা সাধারণ আচরণ তা বুঝে ওঠা কঠিন।মুমুকে একবার একটা গিফট পাঠিয়েছিলাম।পিচ্চিদের গিফট দিতে আমার ভালো লাগে।ওরা গিফট পেলে খুশি হয়।মুমুর জন্মদিনে ওকে বলতে চাই আমি কিন্তু সব্বার আগে তোমার জন্মদিনের উপহার পাঠিয়েছিলাম।

আমার একটা বান্ধবী আছে।মুমু তাকে চেনে।অবশ্য সেই বিখ্যাত ডায়লগের মত “ নাম বললে চাকরি থাকবে না” টাইপের ব্যাপার আছে।তাই আমরা কেউ সেই নামটা উচ্চারণ করি না।মুমু তাকে যখন আপু বলে ডাকে তখন ভালো লাগে।মুমুর এই জন্মদিনে আমাদের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।আর হ্যা আমরা বড়রা চাই মুমু ভালো করে পড়াশোনা করুক এবং ভালো রেজাল্ট করুক। সামনে কত্ত পড়াশোনা।তার পর একদিন একটা রাজপুত্র এসে মুমুকে পঙ্খিরাজে চড়িয়ে নিয়ে যাবে রাজমহলে।সেদিন আমরা ওকে হাসিমুখে বিদায় দেবো।আমাদের স্বপ্নগুলো একটু একটু করে বড় হোক। শুভজন্মদিন টুনির মা।

Most Popular

জমজ সন্তানের মায়েরা

সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে একজন মা পরিপুর্নতা লাভ করেন। তার জীবনের সব থেকে বড় পাওয়া হলো নিজ গর্ভে জন্মনেওয়া সন্তান। সন্তান যেমনই হোক...

শোল মাছের মাথা

আরিফের জীবনে হঠাৎ করে প্রেম আসলো। আরিফ নিজেও কখনো ভাবেনি এমন কারো প্রতি তার মুগ্ধতা তৈরি হবে। স্কুল জীবনে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে...

করোনায় বিপযস্থ কর্মজীবী মায়েরা

করোনা ভাইরাস পৃথিবীতে এমন ভাবে বিস্তার করেছে যে নিজ ঘরেও কেউ আজ আর নিরাপদ নয়। নানা ভাবে দিন দিন সংক্রমন বেড়েই চলেছে।এর...

ব্যাংক,জালনোট,এটিএম এবং সাধারনের ভুল ধারণা

আজকের এই লেখাটি সেই সব মানুষের জন্য যারা কোন না কোন সময় ব্যাংক অথবা এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে এক বা...

Recent Comments