Sunday, May 19, 2024
Homeনিবন্ধতের বছর বয়সে যে ১৩ লাখ গাছ লাগিয়েছে

তের বছর বয়সে যে ১৩ লাখ গাছ লাগিয়েছে

পৃথিবী বদলে দিতে চায় তাদের জন্য বয়স কখনো বাঁধা হতে পারে না।তারা হয় অদম্য সাহসী, অকুতোভয় যোদ্ধা। হার না মানা প্রত্যয় থাকে তাদের হৃদয়ের গভীরে। ফলে কোনো কিছুই তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারে না।তারা তাদের চারপাশ ভালোভাবে দেখে।তারপর সিদ্ধান্ত নেয় যেমন পৃথিবী সে আশা করে, যেমন পরিবেশ সে আশা করে এই পৃথিবী তেমন নেই।তার জন্য নতুন একটি পৃথিবী চাই। আর সেই নতুন পৃথিবী কেউ তাকে গড়ে দিবেনা। সেই পৃথিবী সে নিজেই গড়ে নিবে।আর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যাবে সুন্দর স্বপ্নময় একটি পৃথিবী।যুগে যুগে এমন মানুষ জন্ম নিয়েছে। তাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।যারা শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখতে রাখতেই এমন কিছু করেছে যার জন্য গোটা পৃথিবী তাদেরকে চিনেছে, তাদেরকে মনে রেখেছে। তেমনই এক কিশোরীর গল্প এটা।তার নাম এলিয়ান ওয়ানজিকু ক্লিস্টন।

কেনিয়ার নাইরোবির হিলভিউ স্টেটের চারপাশে যে সাইকেল  চালাতে ভালোবাসে। যে পৃথিবীকে সবুজে ভরে দিতে চায়।হতে চায় ওয়েনগেরি মাথাইয়ের যোগ্য উত্তরসূরী।যদিও সে এরই মধ্যে ওয়েনগেরি মাথাইয়ের উত্তরসূরী হিসেবে নিজেকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। ওয়ানজিকুর বয়স ১৩ বছর।জন্ম ও বেড়ে ওঠা কেনিয়ায়। ৮ বছর বয়সেই সে কেনিয়া সরকার কর্তৃক “ইকো ওয়ারিয়র” পুরস্কার পেয়ে কেনিয়ার সর্বকনিষ্ঠ মাশুজা বা জাতীয় হিরো হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।মাত্র ৪ বছর বয়স থেকে গাছ লাগানো শুরু করে ১৩ বছর বয়সে তার লাগানো গাছের সংখ্যা ১৩ লাখ!২০২১ সালে মাত্র দশ বছর বয়সে সে পল হ্যারিস ফেলোশীপ পুরস্কারে ভূষিত হয়।এলিয়ান ওয়ানজিকু বৃক্ষরোপন এবং প্লাস্টিক দুষণ বন্ধের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করছে।সে মনে করে ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর ৭০% মানুষ শহরে বাস করবে।সুতরাং যদি আমরা সুস্থ্য সুন্দর জীবনযাপন করতে চাই তবে আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের শহরগুলিকে সবুজ ও স্বাস্থ্যকর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

এলিয়ান ওয়ানজিকুর বয়স যখন মাত্র চার বছর এবং সে কিন্ডারগার্টেনে পড়তো তখন তাদেরকে একটি প্রজেক্ট করতে দেওয়া হয়েছিল হিরোদের উপর।সেই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সে প্রথম জানতে পারে আফ্রিকার প্রথম নারী নোবেল বিজয়ী এবং কেনিয়ার পরিবেশবাদী বিশ্ববিখ্যাত নারী ওয়েনগেরি মাথাই সম্পর্কে।ছোট্ট এলিয়ান ওয়েনগেরির কাজ সম্পর্কে যতই জানছিলো ততোই মুগ্ধ হচ্ছিল।তার ছোট্ট মনে মাথাইয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল।তার বার বার মনে হচ্ছিল ইস আমিও যদি তার মত হতে পারতাম। এবং তাকে সে আইডল মেনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমিও তারমতই হবো। কিন্তু সে আরো বেশি পড়াশোনা করতে গিয়ে জানতে পারে তার এই আইডল মানুষটি আজ আর পৃথিবীতে নেই।তখন ছোট্ট এলিয়ানের মনে একটি ভাবনার উদয় হয়। সে সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমিই হবো এই কাজের অগ্রগামী নেতা।মাথাইয়ের কাজ সম্পর্কে জানতে গিয়েই গাছের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল এবং বৃক্ষরোপনে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল ছোট্ট এলিয়ান।বহু গল্পে সে শুনেছিল ওয়েনগেরি মাথাই বহু আম গাছ লাগিয়েছেন। আর এলিয়ান নিজেও আম খুব পছন্দ করে।তার মনে হতো সে জন্মেছে আম খাওয়ার জন্য!সে যখন ওয়েনগেরি মাথাইকে নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা শুরু করলো তখন তার বার বার মনে হতো আমিও এটা করতে পারবো।আর সেদিনই সে ওই প্রজেক্ট শেষ করে কিন্ডারগার্টেন থেকে বাড়ি ফিরে প্রথমেই একটি কমলালেবু গাছ লাগালো।আর রাতে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বললো মা তুমিকি আমাকে প্লিজ কারুরা বনে নিয়ে যেতে পারবে। এই বনটি নাইরোবির অসাধারণ একটি বনাঞ্চল। এভাবে বার বার আব্দার করার কারণে একসময় বিরক্ত হয়ে হলেও তার মা রাজি হলেন এবং বললেন ঠিক আছে নিয়ে যাবো। তারপর মায়ের সাথে সেখানে গিয়ে আমি মুগ্ধ ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই।যতদূর চোখ যায় ছোট বড় নানা ধরনের বৃক্ষ। চোখ জুড়িয়ে যায়। এমন সুন্দর সবুজ পৃথিবীইতো গড়তে হবে।সেখানে কাছেই একটি দোকান ছিলো। যেখানে গাছের খুব ছোট ছোট চারা বিক্রি করা হয়। এলিয়ান তার মাকে অনুরোধ করলো মা এখান থেকে কয়েকটা চারা কিনে নিয়ে যাই।মা তার কথায়রাজি হলেন এবং কয়েকটি চারা কিনে বাড়ি নিয়ে গেলেন।সেদিনই সেগুলো লাগানো হলো।আর সেখান থেকেই তার মধ্যে বৃক্ষরোপনের প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেলো, ভালোবাসা বেড়ে গেলো। কাছাকাছি থাকা স্কুলগুলোতে সে গাছ লাগাতে শুরু করলো।এটা তার কাছে খুবই আনন্দের বিষয় হয়ে উঠলো। তার মনে হতো গাছেরা যেন তার সাথে কথা বলছে চুপিচুপি।

এর কয়েক বছর পর এলিয়ান তরুণদের সাথে নিয়ে মায়ের সহযোগিতায় একটি সংগঠন দাড়করালো। নাম রাখলো “চিলড্রেন্স উইথ নেচার”।এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ ছিলো তার মতই যে সব শিশু কিশোর কিশোরী সবজু পৃথিবী গড়তে চায়,গাছ ভালোবাসে তাদেরকে সংযুক্ত করতে।যেন দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ এমনটি হয়ে ওঠে।তারা সিদ্ধান্ত নিলো জলবায়ু নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাবে।একই সাথে তাদের এই কার্যক্রম সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গল বা এসডিজির সাথে যুক্ত হলো।পাশাপাশি তাদের এই কার্যক্রম কেনিয়ার ভিশন ২০৩০ এর সাথেও যুক্ত হলো।তাদের এই সংগঠনটি মূলথ সেই সব শিশুদের অর্ন্তভূক্ত করে যারা তাদের মতই গাছ লাগাতে ভালোবাসে এবং যারা নিজেদের জীবনকে সুন্দর ও নিরাপদ করার পাশাপাশি তাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে চায়।

এলিয়ান তার দলবল নিয়ে স্কুলে স্কুলে গিয়ে শিশু কিশোর কিশোরীদের সাথে এসব নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। সে বুঝাতে চায় কেন গাছ লাগানো প্রয়োজন এবং কিভাবে প্লাস্টিক আমাদের পরিবেশকে নষ্ট করছে । কিভাবে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।আর এভাবেই সে ও তার দল ৭৯টি স্কুলে গিয়েছে এবং রোপন করার জন্য তাদেরকে গাছের বীজ দিয়েছে।এছাড়াও বিভিন্ন হোটেল ও পার্কেও তারা বীজ উপহার দিয়েছে শুধুমাত্র পরিবেশগত পরিবর্তন আনার জন্য।এতো এতো বীজ এবং চারা কেনার জন্য প্রয়োজন হয়েছে অনেক অনেক  টাকা। ছোট্ট এই কিশোরী মেয়েটির অর্থের যোগান হয়েছে বিভিন্ন ভাবে। শুরু করলে সফলতা আসেই। আমাদের দেশে যেমন একটি কথা প্রচলিত আছে টাকা ভূতে যোগাবে। এলিয়ানের টাকা যদিও কোনো ভূতে যোগায়নি তবে মাধ্যম তৈরি হয়েছে। সে শুরু করেছিলো নিজের টিফিনের টাকা দিয়ে, নিজের জমানো টাকা দিয়ে এবং মায়ের কিছু জমানো টাকার মাধ্যমে।পরবর্তীতে তার এই কাজ দেখে অনেকেই টাকা দিয়ে, বীজ দিয়ে, চারা দিয়ে তাকে সহযোগিতা শুরু করায় তার বৃক্ষরোপন কর্মসূচি আরও বেগবান হয়।

কেনিয়ার নাইরোবিতে জন্ম নেওয়া এলিয়ান নিজেও কি কখনো ভেবেছিল তার এই কার্যক্রম এভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। শুধু কেনিয়া নয় পুরো আফ্রিকা মহাদেশের সব দেশ ছাড়িয়ে এখন এই বৃক্ষরোপন কর্মসূচি তারা আমেরিকাতেও চালু করেছে। সব দেশেইতো  মানুষ কম বেশি গাছ লাগায়। কিন্তু কিশোরী এলিয়ান তার সংগঠনের মাধ্যমে পুরো আফ্রিকাকে সবুজায়নের পাশাপাশি আমেরিকাতেও কার্যক্রম বেগবান করেছে।৪ বছর বয়সে যে শিশুটি গাছ লাগানো শুরু করেছিল তার বয়স এখন ১৩। সে এখন কিশোরী। এই নয় বছরে সে তার সংগঠনের মাধ্যমে তের লাখ গাছ লাগিয়েছে।এলিয়ান পৃথিবীর সব কিশোর কিশোরীর উদ্দেশ্যে বলেছে “তোমরা যে যেখানেই থাকো না কেন, তোমরাও চাইলে আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারো একটি সুন্দর নির্মল সবুজ পৃথিবী গড়ার এই আন্দোলনে”আর এটা করতে হলে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করে নিজের সম্পর্কে বলতে হবে,তুমি কি করতে চাও এবং কিভাবে করতে চাও সেটা জানাতে হবে এবং কিভাবে তুমি সহযোগিতা করতে চাও সেটাও বলতে হবে।

শুধু কেনিয়ার নাইরোবিতে গাছ লাগিয়েই থেমে যায়নি এলিয়ান। ওয়েনগেরি মাথাইকে আদর্শ মেনে সে সবুজায়নের এই চেষ্টাকে সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছে। এখন তার লক্ষ্য সাহেল মরুভূমির বুকে ৮ হাজার কিলোমিটার জুড়ে বনায়ন করার।যা কিনা পুরো আফ্রিকা মহাদেশব্যাপী প্রশস্থ। তার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন অবক্ষয়িত জমি পুনরোদ্ধার করা এবং ২৫০ মিলিয়ন টন কার্বন রিসাইক্লিং করা।সে একই সাথে প্রচুর বাঁশ লাগাতে চায় যা দিয়ে নদী পরিস্কার করা যাবে এবং সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে তার কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারবে এবং প্রচুর বাবলা গাছ লাগাতে চায় যেটা পর্যাপ্ত ছায়া দিবে।আর এই বছরে সে সাহিল মরুভূমিতে ১ মিলিয়ন গাছ লাগানোর টার্গেট নিয়েছে।সম্প্রতি কেনিয়ার পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের কেবিনেট সেক্রেটারি কেরিয়াকো টোবিকো তাকে “মিচুকি পার্ক আরবান গ্রীন স্পেচ” প্রকল্পের কো চেয়ার নির্বাচন করেছে।যেদিন এই পার্ক উদ্ভোধন করা হয়েছিল সেদিন এলিয়ান কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু মুইগাই কেনিয়াত্তাকে পার্কের সব দিকে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিল।আর এই প্রজেক্টে এলিয়ানের দায়িত্ব হলো সবুজায়ন ঠিক রেখে শিশুদের খেলার সুযোগ তৈরি করা এবং খেলতে খেলতে শেখার ব্যবস্থা করা।

মানুষ বাসস্থান তৈরির জন্য এখন প্রতিনিয়ত গাছ কাটছে। এতে করে পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে।এলিয়ান চায় অতি প্রয়োজন ছাড়া যেন গাছ কাটা না হয় এবং কাটলেও অধিক পরিমান গাছের চারা লাগাতে হবে।সে যখন আরও ছোট ছিল তখন একবার তার স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খুব মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। স্কুলের পাশে সবচেয়ে বড় যে  গাছটি ছিলো সেদিন সেটা কেটে ফেলা হয়েছিল। এই গাছের সাথে তাদের ছিল কত স্মৃতি। এখানে বসে বন্ধুরা মিলে বই পড়তো, গল্প করতো। গাছটি কেটে ফেলায় তার হৃদয়ে আঘাত লেগেছিল।সেই বয়সেই সে জানতো যে গাছটি কেন তারা কাটছে। গাছটি না কাটলে স্কুলের জন্য ভবন নির্মানের মত যথেষ্ট জায়গা পাওয়া যেতো না।তবে সে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত মানুষ কেন এখনো পরিবেশ যে ভয়াবহ ঝুকিতে আছে সেটা বুঝতে পারছে না। কেন মানুষ অধিক হারে গাছ লাগাচ্ছে না।কিশোরী এলিয়ান মনে করে বড়রা পরিবেশ নিয়ে মোটেও চিন্তিত না।সে মনে করে বড়দেরই সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা উচিত। তারাই সবচেয়ে ভালো জানে যে পৃথিবী থেকে গাছের সংখ্যা কমে গেলে পরিবেশের উপর কেমন প্রভাব পড়বে। কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। ছোটদের মত এই পৃথিবীটাতো বড়দেরও। এই দিক থেকে তার মা খুবই ভালো। যদিও তিনি একটু লাজুক। নিজেকে প্রকাশ করতে চান না। তবে এলিয়ানের এই বৃক্ষরোপন কর্মসূচির অর্থের যোগান তার মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

গাছ লাগানোর প্রতি এমন ভালোবাসার জন্য অনেক সময় তাকে বিরুপ পরিবেশের সাথে মোকাবেলা করতে হয়েছে। নতুন স্কুলে গিয়ে অনেক কটুকথাও শুনতে হয়েছে। কিন্তু সে দমে যায়নি।সে তার লক্ষ্যে অবিচল ছিলো।এলিয়ানের মতে শুধু সুন্দর সু্ন্দর রাস্তা,উচু উচু ভবন, দামি দামি কার থাকাটাই উন্নয়ন নয়। পাশাপাশি বায়ূ দূষণ কমাতে হবে, পানি দূষণ কমাতে হবে,অপুষ্টিতে ভুগে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে হবে। এই যে বৃক্ষনিধনের ফলে যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে তা হয়তো আজ দেখা যাচ্ছে না কিন্তু এর ভয়াবহ রূপ আরও অনেক বছর পর উপলব্ধি করা যাবে যখন প্রতিহত করার সুযোগ থাকবে না। তাই এখন থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী।এলিয়ানের আফসোস দেশে দেশে এতো তরুন, যুবক আছে যারা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবলেও সুন্দর নির্মল পৃথিবী কিভাবে গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে ভাবে না। কিভাবে শিশুদের জন্য সুন্দর একটি পৃথিবী নির্মাণ করা যায় সেই চিন্তা কারো মাথায় নেই।  

যারা গাছ লাগায় এলিয়ান তাদেরকে ভালোবাসে। তবে সে মনে করে আমাদের বুঝতে হবে কোন গাছ কোন জায়গায় লাগানো উচিত যেন ইকোসিস্টেমে কোনো বাধা তৈরি না হয়।এলিয়ান তার বয়সী কিশোর কিশোরীদের উদ্দেশ্যে বলেছে তোমাদের জন্য আমার উপদেশ হলো শুরু করো।মনে করো তুমি কিছু খাওয়া শুরু করেছ যার মধ্যে বীজ আছে। তুমি খাওয়ার পর সাথে সাথেই সেই বীজটি মাটিতে পুতে দাও। যেন একদিন তা থেকে চারা জন্মাতে পারে। শুরুটাতো এভাবেই হতে হয়।ঠিক শিশুদের হাটতে শেখার মত ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়েই শুরু করো। পরিবর্তন আনতে হলে তুমি যতটুকু পারো সেটাই শুরু করো।শুরুতেই বিরাট কিছু করতে না পেরে হতাশ হওয়া যাবে না। এছাড়াও তুমি যা করতে চাও সেটায় তোমার বাবা মাকেও রাজি করাতে চেষ্টা করতে হবে। যতক্ষণ তারা রাজি হবে না ততক্ষণ তাদের রাজি করাতে চেষ্টা অব্যাহত রাখো। কারণ তারা রাজি হয়ে গেলে তুমি তোমার কাজে নানা ভাবে সহযোগিতা পাবে।তারপর এক সময় নিজ দেশের সরকারকেও প্রভাবিত করতে হবে। কারণ তাদের হাতে অনেক জমি আছে, অনেক ক্ষমতা আছে। তারা একটু চেষ্টা করলেই খুব সহজেই বনায়নে সফল হতে পারে।কখনোই হতাশ হওয়া যাবে না, হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।সম্প্রতি এলিয়ান বিখ্যাত ফুটবলার ডেভিড ব্যাকহামের সাথে সম্মিলিত ভাবে কলেরা নিমূল বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে যুক্ত হয়েছে।এলিয়ান কেনিয়ার সর্বকনিষ্ট পরিবেশবিদ হিসেবে শিশু কিশোর কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। সম্প্রতি বিশ্ব বিখ্যাত ব্লগার “নাস ডেইলি” তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।এলিয়ান এখন পযর্ন্ত তিনটি বই লিখেছে।

-জাজাফী

২১ নভেম্বর ২০২৩

Most Popular