অন্যের ভালোকাজের প্রশংসা করি প্রচার করি।

0
10
স্বপ্নের দোকান
স্বপ্নের দোকান

লেখাটা শুরু করছি ফুটবলের দুই কিংবদন্তি ম্যারাডোনা আর পেলেকে দিয়ে।তার পর সেটা মির্জা ফখরুল আর ওবায়দুল কাদেরের হাত ধরে এগিয়ে যাবে। আমি ভেবে দেখলাম পৃথিবীতে খুব কম মানুষ আছে যারা নিজেদের সমকক্ষ অথবা প্রতিদ্বন্দ্বির ভালো কাজের প্রশংসা করে বা মূল্যায়ন করে। বরং যত খুশি নিন্দা করে,ছোট করতে ভালোবাসে।

কে সেরা? ম্যারাডোনা নাকি পেলে?
এই প্রশ্ন ম্যারাডোনাকে করলে তিনি নিজেকে এগিয়ে রাখে আর পেলেকে করলে তিনি নিজেকে শুধু এগিয়েই রাখে না বরং ম্যারাডোনাকে নিচে নামাতে নামাতে এমনকি নেইমারের সাথে তুলনা করতে ছাড়ে না। কোন দিন ম্যারাডোনাকে বলতে শুনিনি পেলে সর্বকালের সেরাদের একজন আর পেলেকেও বলতে শুনিনি ম্যারাডোনা আামার দেখা অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।

হালের মেসি রোনালদোও পরস্পর পরস্পরের প্রশংসা করতে শুনিনি। কেউ হয়তো বলতে পারে দূর থেকে অনেক দূরে বসে কি করে শুনবে? বিষয়টা তেমন না। মেসি রোনালদোরা কাশি দিলেও তার সংবাদ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং প্রশংসা করতে শুনিনি কখনো।

এবার আসি আওয়ামীলীগ বিএনপি তথা ওবায়দুল কাদের আর মির্জাফখরুল বিষয়ে। যে কোন ভাবেই হোক আওয়ামীলীগ দীর্ঘমেয়াদে সরকারে আছে। অনেক কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সেই সব কাজের কোন কোনটা ভালো আবার কোন কোনটা খারাপ। কিন্তু বিএনপি তথা মির্জাফখরুলকে কোন দিন আওয়ামীলীগের বা ওবায়দুল কাদেরের প্রশংসা করতে শুনিনি। বলতে শুনিনি ওবায়দুল কাদের এই ভালো কাজটা করেছে।

ঠিক একই ভাবে ওবায়দুল কাদেরকে কোন দিন বলতে শুনিনি মির্জাফখরুল এবং বিএনপি অমুক অমুক ভালো কাজ করেছে। বিএনপি যেমন কোন দিন আওয়ামীলীগের কোন ভালো কাজ দেখতে পায়নি তেমনি আওয়ামীলীগও বিএনপির কোন ভালো কাজ দেখতে পায়নি। যদি দেখতে পেতো তবে শুনতাম কোন দিন না কোন দিন একে অন্যের ভালো কাজের প্রশংসা করতো বিবৃতি দিতো।

এই যে পদ্মাসেতু হচ্ছে বিএনপিকে কোন দিন বলতে শুনিনি আওয়ামীলীগ সরকার সাহস করে পদ্মা সেতুর কাজ হাতে নিয়েছে যা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। তারা বরং বলবে কোথায় কত টাকা মেরে খাচ্ছে বা খাবে সেসব। একই অবস্থা আওয়ামীলীগেরও। তাদের মুখেও কোন দিন বিএনপি সরকারের কোন ভালো কাজের প্রশংসা শুনিনি।

পেলে ম্যারাডোনার মতই ক্রিকেট,টেনিসেও কেউ কাউকে সেরা বলতে নারাজ। কেউ কারো ভালো কাজের প্রশংসা করতে নারাজ। নাদাল কখনো মনে করে না ফেদেরার সেরা আবার ফেদেরারও কখনো মনে করে না নাদাল সেরা। শচীন মনে করে না বিরাট কোহলি সেরা আবার বিরাট কোহলিও মানে না শচীন সেরা।

অভিনেতারাও বাদ পড়বে না
আমাদের দেশের কোন অভিনেতাকে কখনো বলতে শুনিনা অমুকের অমুক সিনেমাটা অসাধারণ হয়েছে। অন্তত নিজ থেকে কেউ বলে না।চুপ করে থাকে। সে জানে সিনেমাটা খুব ভালো হয়েছে তাও সে বলে না। সেটা আয়নাবাজী দেখেই হোক বা ঢাকা এটাক দেখেই হোক কিংবা অন্য কোন মুভি দেখেই হোক। নির্মাতারাও খুব কমই অন্য নির্মাতার প্রশংসা করে। সব দায় যেন আমাদের মত দর্শকদের।

লেখক কবিরা বাদ যাবে এমনটা ভাবছি না কখনো
এই যে আমাদের অনেক খ্যাতিমান লেখক কবি আছেন আমি কখনো নির্মলেন্দু গুনকে বলতে শুনিনি মহাদেব সাহা খুব ভালো কবিতা লেখেন কিংবা মহাদেব সাহাকে বলতে শুনিনি নির্মলেন্দু গুন ভালো কবিতা লেখেন। আমি কোন লেখককে বলতে শুনিনি এই মেলায় অমুক লেখকের অমুক বইটি খুব ভালো যদিনা তিনি ওই লেখকের বন্ধু মহলের কেউ হয়ে থাকেন। রিকম্যান্ড করার যে বিষয়টি তা একেবারেই উঠে গেছে। সাদাত হোসাইন তার নিজের বই সম্পর্কেই প্রচার করছে আনিসুল হকও তার নিজের বই সম্পর্কেই প্রচার করছে।

আর রিকম্যান্ড করতে গেলে ঘুরে ফিরে বিশ্ব সাহিত্য নয়তো আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কিংবা শহীদুল জহির ঘুরে ফিরে আসছে। কেউ বলছে না অমুক লেখকের অমুক বইটি সেরা একটি বই আবার সেই লেখকও অন্য লেখকের বই নিয়ে বলছে না। বরং পড়ে মুগ্ধ হলেও চেপে যাচ্ছে কারণ একজন বিখ্যাত লেখক যদি অন্য এক লেখকের লেখার প্রশংসা করে তবে অন্যরাও প্রভাবিত হয়ে সেই লেখকের সেই বই পড়বে এবং মুগ্ধ হয়ে তার পাঠক হয়ে যাবে! এটা অনেকেই চান না।

করোনার এই দুর্যোগ কালে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে তার প্রশংসা কম হচ্ছে,প্রচার কম হচ্ছে বরং প্রচার হচ্ছে কে সাহায্য দিলো না সেটা। অগনিত ডাক্তার নার্স সেবাকর্মী জীবন বাজি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে তাদের কথা প্রচার কম হচ্ছে বরং প্রচার হচ্ছে কোন ডাক্তার নার্স কোয়ারান্টাইনে গেলে!

একটা উদাহরণ দেই টিভিতে অভিনয় করে ইয়াশরীব হাবিব নামে ছোট্ট একটা বাচ্চা সে তার আয়ের টাকা দিয়ে গরীবদের যতটা সম্ভব সাহায্য করেছে সেটা প্রশংসা না করে কেউ কেউ বলছে নাম কামানোর জন্য এটা করছে।

বুয়েটিয়ানরা মানতে পারছে না কুয়েটিয়ানরা অনেক কিছুতে তাদের চেয়ে সেরা আবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মানছে না বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ভালো কিছু করা সম্ভব।

চীন থেকে যে মহামারি পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে চীন তা ভালোভাবেই মোকাবেলা করতে পেরেছে বা সচেষ্ট হয়েছে সেটার প্রশংসা হচেছ না বরং দোষারোপ করা হচেছ চীনের প্রতি । তারা যে নানা ইকুইপমেন্ট দিয়ে বিশ্বকে সহযোগিতা করছে তার প্রশংসা কম হচ্ছে বরং ভাইরাস ছড়ানো নিয়ে নিন্দা হচ্ছে।

চারদিকে মানুষ মারা যাচ্ছে জানাজা দেওয়ার লোক মিলছে না আবার কেউ একজন মারা গেছে আর দূর দুরান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ জানাজা দিতে হাাজির হচ্ছে।

বেশ চলছে দুনিয়া!

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী ‘পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে । কবি বোধকরি ভুল লিখেছিলেন।

আসুন প্রশংসা করি,শুধু নিন্দা না করে প্রতিপক্ষ হলেও তার ভালোকাজের প্রশংসা করি,প্রচার করি। নিজে ভালো কাজ করতে পারি বা না পারি অন্তত অন্যের ভালোকাজের প্রশংসা করি প্রচার করি।

— জাজাফী
১৮ এপ্রিল ২০২০