Sunday, September 27, 2020
Home ক্যাডেট স্মৃতি ক্যাডেটের বাড়ি ফেরা

ক্যাডেটের বাড়ি ফেরা

ট্রেনে ওঠার পর থেকে প্রান্তর যেন হাসি আর থামেইনা। যখন বাসায় ঢুকেছি তখনো সে হো হো করে হাসছে।আম্মু ওর হাসি দেখে অবাক হয়ে জানতে চাইলেন কি হয়েছে এতো হাসছিস কেন?কিন্তু প্রান্ত হাসবে, না ঘটনা বলবে?প্রান্ত আমার ছোট ভাই।আমরা একই কলেজে পড়ি।কলেজে সিনিয়র জুনিয়রের মতই আচরণ করলেও বাইরে বন্ধুর মত।একসাথে কলেজ থেকে বাসায় আসি আবার ভ্যাকেশান শেষে একসাথেই ফিরে যাই। বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল ছেলেরা  ক্যাডেট কলেজে পড়বে।বাবা মায়ের স্বপ্ন পুরণ করতে গিয়ে সেটা কখন যেন নিজেদেরও স্বপ্ন হয়ে উঠেছিল।কিন্তু বাবা মা কিংবা আমরা কি আর জানতাম যে স্বপ্ন গুলো উল্টো হয়ে বুম্যেরাং এর মত ফিরে আসবে।

বাবা মা ভাবতো ছেলেরা ক্যাডেট কলেজে পড়ছে বিশাল কিছু হচ্ছে কিন্তু বাইরের লোক কি ভাবতো সেটা কিন্তু বাবা মা জানে না। ভ্যাকেশানে বাড়ি ফিরছি।টাঙ্গাইল রেল স্টেশান থেকে ট্রেনে উঠেছি।যে কামরায় উঠেছি সেখানে একটা ছোট্ট বাচ্চা তার আম্মুকে বলছে আম্মু দেখ কত ছোট বাচ্চা পুলিশ!ক্যাডেট কলেজ থেকে খাকি পোষাকে বাড়ি যাচ্ছি।আমি কিছু বলার আগেই আমার আদরের ভাইটা হো হো করে হেসে  উঠলো। ট্রেনটা যখন পোড়াদাহ স্টেশানে থেমেছে তখন দুই ভাই নেমে গেলাম।একটু হাটাহাটি করছি এমন সময় এক লোক এসে আমার ভাইয়ের কাধে হাত রেখে বললো এই ছোকড়া আমার ব্যাগটা স্টেশানের বাইরে নিয়ে চল পাঁচ টাকা দিবো।

আগের বার প্রান্ত হো হো করে হাসলেও এবার রেগে গেল।বললো দেখেতো শিক্ষিতই মনে হচ্ছে কিন্তু কোট টাইয়ের ভিতরে যে আস্ত একটা গন্ডমুর্খ ঢুকে বসে আছে বুঝিনি।ওর কথায় লোকটা থতমত হয়ে গেল।আমতা আমতা করে বললো বুঝিনি বিষয়টা। তখন আমি বললাম, যে বোঝেনা তাকে বুঝাতে চাইনা।আমার হেটে বেরিয়ে গেলাম।শুনলাম কেউ একজন বলছে আরে ভাই ওরাতো ক্যাডেট কলেজে পড়ে।বাসে উঠে বসেছি, এমন সময় শুনি পিছনের সিটের এক মহিলা বলছেন এতো ছোট বয়সের কাউকে দারোয়ানের চাকরি দেওয়া ঠিক নয়!এবার প্রান্ত আবার হো হো করে হেসে উঠলো।সে দাড়িয়ে মজা করার জন্য বললো ইয়েস আন্টি! ইউ আর রাইট।বাট উই হ্যাভ নাথিং টু ডু। ইউ ক্যান নট চেঞ্জ দ্যা রুলস অব সোসাইটি।

ওর পটরপটর ইংরেজী শুনে ভদ্রমহিলার মুখটা হা হয়ে গেল। সেই মুখ দিয়ে আস্ত একটা হাতিও ঢুকিয়ে দেওয়া যেত।বাস থেকে নেমে দুই ভাই হাটছি আর কথা বলছি। কথায় কথায় প্রান্ত হো হো করে হাসছে।যাওয়ার পথে একজন বললো তোমরা কি আনসারের চাকরি করো? তা বেতন কত দেয়!এবার আমারও হাসি এসে গেল।প্রান্তর সাথে সাথে আমিও একচোট হেসে নিলাম।আমাদের হাসা দেখে লোকটা ভেংচি কেটে বললো আনসারের চাকরি করো আর বেতন বলতে লজ্জা পাও? এতে হাসার কি আছে। তোমাদের সাত পুরুষের ভাগ্য যে তোমাদেরকে দারোয়ান না বানিয়ে আনসার বানিয়েছে।

বাসায় ফেরার পর প্রান্তর হাসি যখন থামছেই না আম্মু তখন আমাকে ধরলেন। আমি ঘটনাটা বলতেই আম্মুও হাসতে শুরু করলো।হাসি আসলে সংক্রামক। খুব সহজেই অন্যের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। আর আমাদের কলেজ জীবনটাও হাসি আনন্দে ভরপুর। এর পর ভাবতে থাকি ভ্যাকেশান শেষ করে ফিরে যাওয়ার সময় লোকে আর কি কি বলতে পারে।

৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Most Popular

জমজ সন্তানের মায়েরা

সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে একজন মা পরিপুর্নতা লাভ করেন। তার জীবনের সব থেকে বড় পাওয়া হলো নিজ গর্ভে জন্মনেওয়া সন্তান। সন্তান যেমনই হোক...

শোল মাছের মাথা

আরিফের জীবনে হঠাৎ করে প্রেম আসলো। আরিফ নিজেও কখনো ভাবেনি এমন কারো প্রতি তার মুগ্ধতা তৈরি হবে। স্কুল জীবনে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে...

করোনায় বিপযস্থ কর্মজীবী মায়েরা

করোনা ভাইরাস পৃথিবীতে এমন ভাবে বিস্তার করেছে যে নিজ ঘরেও কেউ আজ আর নিরাপদ নয়। নানা ভাবে দিন দিন সংক্রমন বেড়েই চলেছে।এর...

ব্যাংক,জালনোট,এটিএম এবং সাধারনের ভুল ধারণা

আজকের এই লেখাটি সেই সব মানুষের জন্য যারা কোন না কোন সময় ব্যাংক অথবা এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে এক বা...

Recent Comments