Sunday, May 19, 2024
Homeবিবিধআমি যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করি

আমি যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করি

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আমি মোটামুটি সচেতনতা অবলম্বন করতে চেষ্টা করি। কখনো কখনো পোস্ট দেওয়ার পর ভুল হয়েছে বুঝতে পারলে সেটা সরিয়ে নিই। নানা কারণে অন্যদের তুলনায় আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকটা সময় ব্যয় করি।তবে এডিক্টেড বলা যাবে না। কারণ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে গিয়ে আমি অন্যান্য কাজ ফেলে রাখ না। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কাজগুলো আমি সাধারণত করি না তার একটি তালিকা নিম্নরুপ। 

১। ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করি না।

বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই মূলত আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করি না।প্রতিনিয়ত নিজের জীবনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরলে মানুষ আমার ব্যক্তিগত জীবনে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবে এবং যেহেতু আমি নিজেই আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার জনসম্মুখে তুলে ধরছি, তাই সবাই আমার জীবনে নাক গলানোকে নিজেদের অধিকার হিসেবে মেনে নেবে। গোপনে আমাকে নিয়ে চায়ের কাপে চর্চাও হবে প্রতিনিয়ত। তাই নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত রাখাটাই আমি শ্রেয় মনে করি।  এ কারণে আপনারা আমার বন্ধু তালিকায় থাকার পরও,ভালো সম্পর্ক হওয়ার পরও আমার পড়াশোনা,কর্মজীবন,জীবনধারা সম্পর্কে আমি আপনাদের সাথে খুব কমই শেয়ার করি। বছরের পর বছর সুসম্পর্ক থাকার পরও আমার ছবি,বয়স,গ্রামের বাড়ি কোনো কিছুই আপনাদের সাথে আমি শেয়ার করিনি। দুএকজন যাদের সাথে আমার সরাসরি পরিচয় আছে তারাই শুধু খুব সীমিত পরিমান তথ্য জানেন। এতে আমি অনেক নিরাপদ বোধ করি। নির্ভার বোধ করি।

২। নেতিবাচক কথা বলি না

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা কত কথাইতো বলি। কত ঘটনার মুখোমুখি হই। প্রতিটি বিষয়েই দুটি দিক থাকতে পারে যার একটি ইতিবাচক আরেকটি নেতিবাচক। আমি চেষ্টা করি নেতিবাচক বিষয়টি এড়িয়ে যেতে। এমন কোনো কথা বলি না যা নেতিবাচক। যার মাধ্যমে কারো উৎসাহে ভাটা পড়বে, কারো ক্ষতি হবে, কারো আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। একজন কম নাম্বার পেয়েছে বলে তাকে বলি না তুমি এতো কম পেয়েছ! তারচেয়ে বরং ইতিবাচক ভাবে তাকে বলি তোমার নাম্বারতো বেশ। তবে তোমার মধ্যে যে সক্ষমতা আছে তুমি চেষ্টা করলে পরবর্তীবার আরও বেশি ভালো করবে। প্রতিনিয়ত তুমি নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে। আমি কারো সাথে কারো তুলনা করে তার মনোবল ভেঙ্গে দিতে ইচ্ছুক নই। সব সময় তাই ইতিবাচক কথা বলাকে আমি প্রাধান্য দিই।

৩। বিতর্কিত পোস্ট করি না

নানা সময়ে আমাদের সমাজে অনেক ঘটনাই ঘটে যা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়ে থাকে। আমি সাধারণত এমন কোনো পোস্ট করি না যা বিতর্কের জন্ম দেয়। কিছু পোস্ট করি যা হয়তো  আলোচনার বিষয় হতে পারে কিন্তু সেটা সেই অর্থে বিতর্ক তৈরি করে না। বিতর্ক বলতে সেই যে ডিম আগে না মুরগি আগে টাইপ বিষয়কে আমি এড়িয়ে চলি। তবে বিতর্কিত বিষয়ে আমি আমার মতামত তুলে ধরি যেন অপেক্ষাকৃত ভুল ধারণা নিয়ে থাকা মানুষ তা বুঝতে পারে। যেমন ক্রিকেটার তানজিম সাকিবের পুরোনো স্ট্যাটাস নিয়ে যে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়েছে তা নিয়ে আমি কোনো পোস্ট করিনি। এর মানে আবার এই নয় যে আমি বিতর্ক এড়িয়ে যাচ্ছি।  আমার কিছু শুভাকাঙ্খী আছেন যারা নানা সময়ে এই ধরনের কোনো বিষয় নিয়ে আমার মতামত জানতে চান। তখন আমি সেসব নিয়ে লিখি বা মতামত দিই। নিজ থেকে বিতর্ক জন্মদিতে আমি পছন্দ করি না।

৪। সার্বক্ষণিক সেলফী/নিজের ছবি পোস্ট করি না

ফেসবুকে সিংহভাগ মানুষই ছবি শেয়ার করেন। এতে দোষের কিছু নেই। তবে কেউ কেউ প্রচুর সেলফী এবং নিজের অন্যান্য ছবি শেয়ার করেন। আমি খুবই কম শেয়ার করি। করলেও অনলি মি করে রাখি কিংবা কিছু নির্দিষ্ট মানুষ দেখতে পাবে সেভাবে অডিয়েন্স সেট করে তারপর পোস্ট করি। আমার এটা ভালো লাগে। 

৫। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ করি না

একটা সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আমিও অভিযোগ করতাম। পরে যখন একটু পরিণত হয়েছি তখন বুঝেছি এটা ঠিক না। অভিযোগ করতে হলে যার বিষয়ে অভিযোগ তাকেই সরাসরি অভিযোগ করার পক্ষে আমি। আমি চেষ্টাও করি ইনবক্সে তাদেরকে তাদের বিষয়ে জানাতে। সোশ্যাল মিডিয়াতে কারো বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ করা থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকি।

৬। অতিরিক্ত দেখনিপনা টাইপ পোস্ট করি না

নানা সময়ে রেস্টুরেন্টে খেতে দিয়ে বা কোথাও ঘুরতে গিয়ে বা কিছু কেনাকাটা করে তার ছবি তুলে শেয়ার করার একটা রীতি বা প্রবণতা আমাদের সমাজে দেখা যায়। আমিও ঘুরতে যাই,খেতে যাই, ছবি তুলি। তবে সেগুলো অন্যদের মত সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করি না। স্মৃতি হিসেবে শুধু রেখে দিই। তবে কেউ আমাকে যখন উপহার দেয় তখন মাঝে মাঝে খুশি ধরে রাখতে না পেরে সেটা নিয়ে স্ট্যাটাস দিই।

৭। বিভ্রান্তিকর তথ্য পোস্ট করি না

অনেক সময় আমরা দেখতে পাই ভুল ও চটকদার তথ্য দিয়ে অনেক পোস্ট শেয়ার হয়। ওই সব পোস্ট প্রচুর ভিউ হয়,লাইক কমেন্ট পায় এবং ভালো লাগার কারণে অনেক মানুষ শেয়ারও করে। ক্ষেত্র বিশেষে আমারও ভালো লাগে। তবে যদি দেখি তথ্য বিভ্রান্তিমূলক এবং সত্যতা যাচাই করার সুযোগ নেই। কিংবা সত্যটা আমি জানতে পেরেছি যে পোস্টের তথ্য ভুল তখন আমি তা শেয়ার করা বা পোস্ট করা থেকে বিরত থাকি। বরং আমি অন্যরা যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে তা সবাইকে জানাতে চেষ্টা করি। আপনারা জানেন রিউমার স্ক্যানার পেজের মাধ্যমে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সবাইকে সচেতন করা হয়ে থাকে।

৮। হ্যাশট্যাগের অতিরিক্ত ব্যবহার করি না

আজকাল অনেকেই কথায় কথায় হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে থাকে। কিছু একটা হলেই হ্যাশট্যাগ দেয়। আমি খুব কম দেই। আমি হ্যাশট্যাগ দিলে শুধু নিজের নামে হ্যাশট্যাগ দিই যেন সহজে কখনো প্রয়োজন পড়লে আমার ওই লেখাটি খুঁজে পাই। তবে সব পোস্টে না বরং যদি কোনো কবিতা,গল্প বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কিছু লিখি শুধু তখন এটা করি। অর্থাৎ আমার ওই হ্যাশট্যাগ অন্য কারো কাজে আসে না বা অন্য কাউকে প্রভাবিত করে না।

৯। কারো মন্তব্য ও মেসেজ উপেক্ষা করি না

নানা সময়ে আমরা অনেকের পোস্টে মন্তব্য করি বা মেসেজও দিয়ে থাকি। তবে সবাই সব সময় রিপ্লাই দেয় না। আমাকে যারা মেসেজ দেয় আমি প্রায় শতভাগ মানুষকে রিপ্লাই দিই। কাউকে উপেক্ষা করি না। পাশাপাশি যারা মন্তব্য করে তাদের মন্তব্যের রিপ্লাই দিতে চেষ্টা করি। আর যে সব মন্তব্যে রিপ্লাই দেওয়ার সুযোগ নেই সেগুলোতে লাইক দিই।

সোশ্যাল মিডিয়াকে ভালো কাজের জন্য ব্যবহার করতে পারলে অবশ্যই এটি থেকে অনেক উপকৃত হওয়া সম্ভব। আমি এর বহু প্রমাণ পেয়েছি। আবার অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের বিকৃত মানসিকতা জেনে না জেনে প্রকাশ করে থাকে। এটা আমি ঘুরতে ঘুরতে বিভিন্ন মানুষের পোস্টে করা কমেন্ট দেখে যেমন জেনেছি তেমনি বেশ কিছু জনপ্রিয় কিশোর কিশোরীর পেজের এডমিন হিসেবে শত শত বিকৃতমনা মানুষের পাঠানো মেসেজ দেখেও জেনেছি। সবার সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার হোক ইতিবাচক এবং নিরাপদ। শুভেচ্ছা সবাইকে।

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Most Popular