মানুষ গড়ার কারিগর যদি নিজেই মানুষ না হয়

0
10

মানুষ গড়ার কারিগর যদি নিজেই মানুষ না হয়,তবে সে কি করে মানুষ গড়বে?আমাদের কোমলমতি শিশু-কিশোর যারা বিদ্যার্জন নামক দুর্লভ বস্তু আহরণের জন্য দিন-রাত ছুটছে, তাদের অবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমান যুগে যারা আধুনিক অভিভাবক, তাদের অধিকাংশের সন্তান একটি বা দু’টি।

ফলে আমাদের সন্তানদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা এতো বেশি যে, সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, বড় আমলা, বিজ্ঞানী সবকিছু বানাতে হবে, এমন ভাবনায় আমরা পাগলের মতো দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছি। আর এ সুযোগ নিচ্ছে বিদ্যা নিয়ে বর্তমানে ব্যবসায় জড়িত শিক্ষক ও বিদ্যাপিঠের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি। ছেলেমেয়েদের আমরা এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে দিতে চাই না।

এমনিতেই ঢাকা শহরের শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলার কোনো সুযোগ নেই, অধিকন্তু অতিরিক্ত লেখাপড়ার চাপে শিশুদের মানসিক ও স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে তাদের হয়ত ভিন জগতের মানুষে পরিণত করছি আমরা।

শিশু-কিশোরদের সামাজিকীকরণ যে একটি প্রকৃত ও অতি প্রয়োজনীয় শিক্ষা তা বুঝতে চেষ্টা করি না। অতি ব্যস্ততার কারণে আমরা যেমন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাই না, তেমনি কোনো আত্মীয়স্বজন বাসায় এসে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষতি করুক, সেটাও পছন্দ করি না। ফলে ছেলেমেয়েরা আত্মীয়দের তেমন চেনে না। যৌথ পরিবার না থাকায় চাচাতো মামাতো ভাইবোন বা অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বন্ধন সৃষ্টি হয় না। এর ফলে আমরা আমাদের অজান্তেই শিশুদের এক ঘরে করে ফেলছি।

তাই আজকালকার শিশু কিশোররা অন্তঃমুখী হয়ে বেড়ে উঠছে এবং তারা নতুন পরিবেশে বা অপরিচিতজনদের কাছ থেকে নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। যা কোনোভাবেই সুস্থ আচরণের বহিঃপ্রকাশ নয়।
অতিরিক্ত লেখাপড়ার চাপ শিশুদের শুধু যে মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে বা মানসিক পীড়া সৃষ্টি করে, তা নয়, এটি তাদের শারীরিক সমস্যাও সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ল্যানচেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, এশিয়ার প্রধান প্রধান শহরের বিদ্যালয়ে লেখাপাড়া শেষ করা শিক্ষার্থীদের ৯০ শতাংশ ক্ষীণদৃষ্টি সমস্যায় ভুগছে। গবেষকরা বলেছেন, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার অতিরিক্ত চাপ এবং বাইরের প্রাকৃতিক আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণেই ক্ষীণদৃষ্টিজনিত সমস্যা এত প্রকট আকার ধারণ করেছে।


তাই আসুন আমাদের শিশু কিশোরদের সত্যিকার শৈশব কৈশর ফিরিয়ে দিই। ওদের জীবন হয়ে উঠুক আনন্দঘন। কোচিং আর প্রাইভেট টিউটরদের দৌরাত্ব কমে যাক এটা প্রত্যাশা করি এবং সেই সাথে স্কুল গুলোতে যেন শিক্ষকেরা আগের মত আন্তরিকতা নিয়ে পড়ান সেই জোর দাবী জানাই।

শিক্ষক স্কুলে নিজ দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করে ছাত্রছাত্রীকে বাসায় প্রাইভেটে আসতে বলার যে প্রচলন শুরু হয়েছে তা বন্ধ হওয়া উচিত। ওই সব শিক্ষকদের বলতে চাই কদিনইবা বাচবেন তাহলে এতো ফাকিবাজি করে ধান্দা করে টাকা আয় করে কি হবে বলুন? আপনারা নাকি শিক্ষক আর শিক্ষক নাকি মানুষ গড়ার কারীগর। আপনারা নিজেরাইতো মানুষ হতে পারেন নি তাহলে অন্যকে কিভাবে মানুষ করবেন?