জাজাফী চলচ্চিত্র নান্নি জায়সেলমির

নান্নি জায়সেলমির



শিশুতোষ চলচ্চিত্র নিয়ে আমার ভীষণ আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই আমি অসংখ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখেছি এবং সংগ্রহ করেছি। গতকাল আমি চিলড্রেন্স মুভির একটি লিস্ট শেয়ার করেছিলাম। লিস্টে প্রথম যে নামটি ছিলো সেটি নান্নি জায়সেলমির। ১০ বছর বয়সী নান্নি নামের এক ছেলের গল্প বলা হয়েছে এই সিনেমায়। এই সিনেমা দেখা নিয়ে আমার একটা দারুন অভিজ্ঞতা আছে। আমি সকালে উঠে ক্লাসে যাবো বলে রেডি হয়েছি সেই সময় টিভি চালু করতেই দেখি এই সিনেমাটি হচ্ছে। বের হওয়ার আগে বিশ মিনিট মত দেখলাম। এতো মুগ্ধ হলাম যে সেদিন ক্লাস টেষ্ট ছিলো তাও না গিয়ে বাসায় থেকে গেলোম।

সিনেমাটি মূলত রাজস্থানে বসবাসরত দশ বছর বয়সী নান্নিকে নিয়ে।নান্নি আর ওর বড় বোন সহ ওর মা থাকে রাজস্থানের জায়সেলমিরে।নান্নির আয় দিয়েই মুলত সংসার চলে। ওদের একটা উট আছে।রাজস্থানে বিদেশী পযর্টকদের ও সাফারি করায়। পাশাপাশি ভ্রমন গাইড হিসেবেও সে চমৎকার। একই সাথে বেশ কয়েকটি ভাষায় ওর দক্ষতা আছে।মূলত বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পযর্টকদের কাছ থেকেও ও নানা ভাষায় পারদর্শীতা অর্জন করে।স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। ওর একটাই নেশা সেটা হলো ববি দেওলের সিনেমা দেখা ববিদেওলের যে কোন সংবাদ সে লুফে নেয়।ও যখন খুব ছোট ছিলো তখন একবার ববি দেওল শ্যুটিং করতে এসে ওকে কোলে নিয়েছিলো একটি সীনের প্রয়োজনে।একটু বড় হয়ে ও সেই ঘটনাটা শোনার পর থেকেই ববিদেওলকে নিজের বন্ধু বলে মনে করতো।

একবার ও জানতে পারলো ববিদেওল আসবে শ্যুটিং করতে রাজস্থানে! ও সে কী আনন্দ। এর মাঝে মরুভূমিতে ও উট নিয়ে একাকী বাসায় যাচ্ছিল। হঠাৎ দেখলো একটা জীপ বালুতে আটকে গেছে।ড্রাইভার বললো তোমার উটকে দিয়ে হেল্প করবা? ও রাজি হলো।এক টানে গাড়িটাকে তুলে দিলো। লোকটা বললো তোমার উটতো দারুন! নান্নি তখন ফিরে যেতে যেতে বললো “মনে হচ্ছে তুমি এই এলাকায় নতুন এসেছ তাই রাজা জায়সেলমিরের নাম শোনোনি। রাজা জায়সিলমির হলো নান্নির উটের নাম। লোকটা তখন বললো তোমার নাম কি? ও তখন বললো নান্নি! নান্নি জায়সেলমির। ও যখন উটের কাছে গেলো তখন গাড়ি থেকে নেমে আসলো ববিদেওল।

নান্নিকে ডাক দিলেন! নান্নি ফিরে তাকিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলো।কাছে গিয়ে হাত ছুয়ে দেখলো আর উটকে বললো একটা ঢিসা দিতে। ওকে উট গুতো মেরে ফেলে দিলে ববিদেওল জানতে চাইলেন এটা কি হলো? ছোট্ট নান্নি বললো টেষ্ট করে দেখলাম আমি স্বপ্ন দেখছি না তো!! ববিদেওল বললো না স্বপ্ন নয় তুমি সত্যিই দেখছো। নান্নি তখন অভিমান করে বললো দোস্ত তোমাকে কত্ত চিঠি দিলাম তুমি একটারও উত্তর দিলে না।তখন ববিদেওল নিজের পকেট থেকে শেষ চিঠিটা বের করে বললেন তোমার সব চিঠি পেয়েছি কিন্তু উত্তর দেবো কি করে তোমার ঠিকানাতো লিখে দাওনি!!

অসাধারণ এক গল্প এটি। নান্নির সাথে ববিদেওলের দেখা হলো আড্ডা হলো।নান্নির বড় বোনের বিয়ে ঠিক হলে ববিদেওলকে দাওয়াত দেওয়া হলে সে জানালো অবশ্যই আসবো। কিন্তু বিয়ের দিন আসলো না।সবাই নান্নিকে বললো তুমি যা ভেবেছ সব ছিলো তোমার কল্পনা। ববিদেওল সেই ছোটবেলায় তোমাকে কোলে নিয়েছিল তার পর কোনদিন তার সাথে তোমার দেখা হয়নি। নান্নির মনখারাপ হয়ে গেলো।কিন্তু কল্পনা বা যেভাবেই হোক নান্নি যে ববিদেওলের সাথে আড্ডা দিয়েছিল তখন ববিদেওল তাকে অসাধারণ সব জ্ঞানের কথা বলেছিল যা ওকে অনুপ্রাণিত করেছিল।সেই সব কথাই ও স্মরণ করতে লাগলো। তার পর?……

এক সন্ধ্যায় বিরাট এক হলরুমে একটি বইয়ের লেখককে বুকার পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে আসলেন সত্যিকারের ববি দেওল।পুরস্কার প্রদানের পর লেখককে ববিদেওল বললেন কি অসাধারণ কাহিনী একদম হৃদয় ছুয়ে যাওয়া। ববিদেওলকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখক যখন চলে যাবে তখন ববিদেওল পিছন থেকে ডাক দিলেন নান্নি!! এটা শুনে লেখক থমকে দাড়ালেন তার চোখ ছলছল করছে।তিনি ফিরে এলে ববিদেওল তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন নান্নি এটা স্বপ্ন নয় সত্যি। তোমার চিঠি আমি পেয়েছি।আমন্ত্রনের চিঠি এখনো আমার হাতেই আছে।

মরুভূমিতে উটের জকি সেই ছোট্ট ছেলেটিই বুকার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে!

আমার যতটুকু মনে হয়েছে সিনেমাটি ছোটদের দেখা উচিত। বাবা মায়েরও দেখা উচিত। সিনেমাটিকে আমি ১০/১০ নম্বর দিতে একবারও ভাবছি না।