ভ্যাকেশানের ভেলকি
একবার বর্ষাকালে কলেজের ভ্যাকেশান শুরু হলো।বর্ষা কাল আমাদের ভাল লাগতো না।শরিয়তুল্লাহ হাউজের ক্যাডেট সিজানের বাসা ঝিনাইদাহ।ওর সাথে আমার বেশ ভাল বন্ধুত্ব ছিল। যদিও আমি সোহরাওয়ার্দি হাউসের তার পরও বন্ধু বলতে আমরা মোট চারজন ছিলাম খুবই ক্লোজ।শের ই বাংলা হাউসের ক্যাডেট জাহিদ,সোহরাওয়ার্দী হাউসের ক্যাডেট সাব্বির আমি আর শরিয়তুল্লাহ হাউসের ক্যাডেট সিজান।
আমার বাসা কুষ্টিয়াতে হওয়ায় ভ্যাকেশানেও সিজানের সাথে আমার দেখা হওয়া খুবই সহজ।সিজান যাওয়ার সময় সাব্বির আর জাহিদকে ঝিনাইদাহ যাওয়ার আমন্ত্রন জানালো।আমিও বললাম তোরা যদি আসিস তবে আমিও কুষ্টিয়া থেকে সিজানদের ওখানে যেতে পারি।তাহলে ভ্যাকেশানটা জোস হবে।সাব্বির আর জাহিদ বললো ঠিক আছে আগে বাসায় যাই তার পর জানাবো।ভ্যাকেশানে বাসায় ফিরে একদিন সাব্বির আর জাহিদ ফোন করে জানালো ওরা সিজানদের ওখানে আসবে।
এক বিকেলে সাব্বির আর জাহিদ সিজানদের ওখানে চলে আসলো।আমিও তখন বড় ভাইয়ার সাথে সিজানদের বাড়িতে গেলাম।ভাইয়া আমাকে রেখে ফিরে গেল।কথা ছিল আমরা দুইদিন একসাথে থাকবো।সিজানদের বাড়ি ছিল একদম গ্রাম্য এলাকায়।রাস্তায় হাটুসমান কাদা থাকে।তবে রাস্তার মাঝামাঝি দিয়ে কিছুটা অংশ শুকনো থাকায় একজন করে সেই পথ দিয়ে হাটা যায়।আমি আমার বাকি তিন ক্যাডেট বন্ধুর সাথে সেদিন বিকেলে হাটতে বেরিয়েছি।
এই কাদার রাস্তা দিয়ে যখন হাটছি তখন সামনে থেকে দুটো মোটাগোটা আমাদের বয়সী ছেলে আসছিল।এখন কাউকে না কাউকেতো কাদায় নামতেই হবে।কারণ যে রাস্তাটুকু ভাল ছিল সেটা দিয়ে শুধু একজনই হেটে যাওয়া সম্ভব।আমাদের সবার সামনে ছিল শের ই বাংলা হাউসের ক্যাডেট জাহিদ।আমরা সবাই ক্লাস সেভেনে পড়ি।জাহিদ আবার খুবই চালাক।
সে গলা খাকারি দিয়ে উল্টো পাশ থেকে আশা মোটাগোটা ছেলে দুটোকে বললো ভাই সাইড দাও আমরা যাব।তারা তখন উল্টো ঝাড়ি দিয়ে বললো তোমরা আমাদের সাইড দাও আমরা যাব।দেখা গেল কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেনা।ঠিক তখন ক্যাডেট জাহিদ তার ক্যাডেটীয় ভেলকী দেখালো।সে বললো দেখ মানে মানে সাইড দাও নইলে কিন্তু গতবার যা করেছিলাম এবারও তাই করবো। তখন কিন্তু কিছু বলতে পারবা না।
জাহিদের কথার আগা মাথা কিছুই বুঝলাম না।তার পরও কি হয় এটা দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।ঠিক তখন দেখি মোটাগোটা ছেলে দুটো দেখি কোন কথা না বলে কাদায় নেমে পড়েছে।আমরা তখন শুকনো পথ দিয়ে হেটে এগিয়ে যেতেথাকি। আমরা যখন জাহিদের কাছে জানতে চাইবো গতবারকি করেছিলি তার আগেই ছেলে দুটো প্রশ্ন করলো “আমরাতো কাদায় নেমে তোমাদেরকে সাইড দিলাম, এখন বলে যাও গতবার তোমরা কি করেছিলে?
জাহিদ তখন বললো তোমরা এবার যা করেছ গতবার আমি তাই করেছিলাম!ছেলে দুটো বোকা হয়ে গেল আর আমরা হাসতে হাসতে শুকনো পথে হেটে হেটে সিজানদের বাড়িতে ফিরে গেলাম।সিনিয়র হওয়ার পর জুনিয়রদেরকে মাঝে মাঝে ভয় দেখিয়ে বলতাম এটা করো নইলে গতবার যা করেছিলাম এবারও কিন্তু তাই করবো। জুনিয়রেরা তখন ভাবতো গতবার না জানি কি ভয়ংকর কোন শাস্তি দিয়েছিলাম তাই তারা ভয়ে ভয়ে হুকুম তামিল করতো।।
৭ জানুয়ারি ২০১৭