পৃথিবীকে বাঁচাতে চায় এক বাঙালী কিশোরী

বেগম রোকেয়াকে আপনি ধন্যবাদ দিতে পারেন।আজ যে আপনি বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন,উচ্চ শিক্ষা লাভ করছেন,অফিস আদালতে চাকরি করছেন তার পিছনে বেগম রোকেয়ার অনেক অবাদন রয়েছে।যে সময়ে নারীরা বাড়ির বাইরে পা ফেলার অধিকার পেতো না সেই সময়ে তিনি শিক্ষার জন্য লড়াই করেছেন। নারী জাগরণের অগ্রদুত বলা হয় তাকে।শুরুতে কেউ ভাবেনি জাগরণের সেই ডাক কতটা প্রভাব বিস্তার করবে।আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি বাঙ্গালী নারীরা পুরুষের সাথে সমান ভাবে প্রতিযোগিতা করছে।অফিস,আদালত,কল-কারখানা,আইনশৃংখলা বাহিনী থেকে শুরু করে পার্লামেন্টেও নারীদের জয়জয়কার।বাঙ্গালী নারী যে চেষ্টা করলেই অনেক কিছু পারে তা এখন দিনের আলোর মতই পরিস্কার।ওয়াসফিয়া নাজনীন কিংবা নিশাত মজুমদার লাল সবুজের পতাকা উড়িয়েছে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকা এভারেষ্টের চূড়ায়।সালমারা লাল সবুজের পতাকার ধারক ও বাহক হয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দেখিয়েছে।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সহ রাজনৈতিক নেতাদের বাইরে নারীদের সাফল্য এবং এগিয়ে যাওয়ার গল্পের কোন শেষ নেই।তারই ধারাবাহিকতায় ফাতিহা আয়াতের পর আরও একটি নাম যুক্ত হয়েছে, রেবেকা শবনম।গ্রেটা তুনবার্গের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে সে বিশ্বকে বাঁচানোর জন্য আওয়াজ তুলে বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে।বিশ্বের প্রবল প্রতাপশালী দেশ আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে সে যখন বলছে আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তখন লাল সবুজের পতাকাটি আরো খানিকটা সম্মানিত হচ্ছে।

মাত্র ছয় বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায় রেবেকা শবনম। গত ১০ বছরে দেশের স্মৃতি তার অন্তর থেকে ম্লান তো হয়ইনি বরং দেশের কল্যাণের ভাবনায় তার পরিকল্পনা দৃঢ়তর হয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সপ্রতিভ ষোড়শী রেবেকা। আর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সে জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি ও তা মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এইতো সেদিনের কথা।স্পেনের মাদ্রিদে চলছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের অধিকার আদায়ে ওই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একদিকে বাংলাদেশ সরকারের হয়ে প্রধানমন্ত্রী যেমন চেষ্টা করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনি আন্দোলনকারীদের কাতারে থেকে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রেবেকা। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সে ম্যানহাটানে প্রায় দুই লাখ মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনরোধে সোচ্চার সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা তুনবার্গের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ম্যানহাটানে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের সামনের সারিতে ছিল রেবেকা শবনম। তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।তারপরই সে রাতারাতি পরিচত হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে।

বর্তমানে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত শবনমের চেষ্টা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সে বিষয়ে সবাইকে জানানো। নিউ ইয়র্কে হাজারো মানুষের সামনে সে বলেছে, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, যা জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।’ বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে সে।

আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেবেকা বলে, ‘ভেবেছিলাম, যখন বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হবে তখন সবাই চুপ থাকবে। তবে সবার সাড়া দেখে আমি নিজেই অবাক। এটা শুধু পরিবেশগত সংকট না, এটা মানবাধিকার সংকটও। বাংলাদেশের নারীরা পাচারের শিকার হয়। আর এটা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরো বেড়েছে। আমরা বাংলাদেশে থাকা নারী ও রোহিঙ্গাদের জানাতে চাই, তাদের জীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে আন্দোলন করছি আমরা। এখনও স্কুলজীবন শেষ হয়নি রেবেকা শবনমের। সে মনে করে, সামনে হাঁটতে হবে আরও অনেক পথ। ভয়াবহ ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের নারী, শিশু ও রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বের দরবারে কীভাবে সুবিচার প্রত্যাশা করা যায়, সেটাই তার চিন্তার মূল বিষয়। রেবেকা বলেছে, জলবায়ু আন্দোলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ কেউ যেন ভুলে না যান, তা নিশ্চিত করতে লড়াই চালিয়ে যাবে সে।

আমাদের দেশে এমন রেবেকার সংখ্যা নেহায়েত কম নয়,যারা পৃথিবীকে বাঁচাতে চায়।শুধু জ্বলে ওঠার অপেক্ষায়।