জাজাফী প্রবন্ধ সিটিং সার্ভিস,নাকি চাঁদাবাজি

সিটিং সার্ভিস,নাকি চাঁদাবাজি



ঢাকার প্রায় প্রতিটি রুটেই সিটিং সার্ভিস বাস চলাচল করছে।মূলত জ্যামের কারণে সিটিং সার্ভিস বাস আর লোকাল বাসে চলাচলের ক্ষেত্রে খুব বেশি ব্যবধান নেই।সময় একই লাগে।সিটিং সার্ভিসে নিরিবিলি বসে যাতায়াত করা যায় আর লোকালে ভীড় ঠেলে উঠতে হয় এটুকুই পার্থক্য।তবে ভাড়ার ক্ষেত্রে ঠিকই পার্থক্য দেখা যায়।

আমরা উত্তরার আব্দুল্লাহ পুর থেকে গুলিস্থান রুটের কথাই চিন্তা করি। আব্দুল্লাহপুর থেকে গুলিস্থানে ৩ নম্বর সিটিং সার্ভিসের ভাড়া ৩৫ টাকা।এখন যে মানুষটি এয়ারপোর্ট থেকে বাসে উঠে বাংলামোটর নামছে তাকেও ৩৫ টাকা দিতে হচ্ছে আবার যে আব্দুল্লাহপুর থেকে উঠে গুলিস্থান নামছে তাকেও একই ভাড়া দিতে হচ্ছে যা আইনত নীতি বর্হিভূত।আব্দুল্লাহপুর থেকে এয়ারপোর্টের সাধারণ ভাড়া সবর্নিম্ন ৫ টাকা ধরা যেতে পারে।অপর দিকে বাংলামোটর থেকে গুলিস্থানের ভাড়াও সবর্নিম্ন হারে যদি ৫ টাকাও ধরি তাহলে দেখা যাচ্ছে যে যাত্রী এয়ারপোর্ট থেকে উঠে বাংলামোটর নামছে তার কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

এখানে দেখা যাচ্ছে আব্দুল্লাহপুর থেকে কোন কোন যাত্রী এয়ারপোর্ট নামছে এবং সেখান থেকে সেই শুন্য সিটে নতুন যাত্রী উঠিয়ে তার থেকেও পুরো ভাড়াটাই নেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে বাংলামোটর নামা যাত্রীটি গুলিস্থান পযর্ন্ত ভাড়া দিয়ে নেমে যাওয়ার পর বাংলামোটর এবং শাহবাগ থেকেও সেই সিটের বিপরীতে নতুন যাত্রী উঠিয়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।এসব মনিটরিং করার মত কেউ নেই।সত্যি কথা লিখতে গেলে আমাদের কলম থামিয়ে দেওয়া হয়।বাস ড্রাইভার কিংবা কন্ট্রাকটরেরা যোগাযোগ মন্ত্রীর কোন নির্দেষই মানেনা।তারা যাত্রীদের বলে যোগাযোগ মন্ত্রী বললেই হবে নাকি?

     সিটিং সার্ভিসে ছাত্রদের থেকেও ফুল ভাড়া নেওয়া হয় এবং তথাকথিত হাফপাশ নেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়।ঠিক একই বাসে যখন পুলিশের কেউ ওঠে তার কাছ থেকে কোন ভাড়াই নেওয়া হয়না।পুলিশের নাকি পুরো পাশ আছে।পাশটা কে দিল, কেন দিলো তা আমাদের জানা নেই।সিটিং সার্ভিস বলে ছাত্রদের থেকে হাফ ভাড়াও নেওয়া যাবেনা অথচ সেই বাসেই পুলিশকে বিনা ভাড়ায় নেওয়া যাবে কোন নিয়মে সেটাও আমাদের মাথায় ঢোকেনা।নাকি মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক হয়রানি থেকে বাঁচতে এই নিয়ম তারা নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছে।

আমরা সাধারণ ভাবে জানি পুলিশ চাকরি করে,মাস শেষে বেতন পায়।তারা ভাড়া দিয়ে গেলে কিংবা হাফ ভাড়া দিলেও কোন সমস্যা নেই।কিন্তু ছাত্রেরতো কোন বেতন নেই তার থেকে কেন ফুল ভাড়াই নেওয়া হবে আর পুলিশ থেকে কেন কোন ভাড়াই নেওয়া হবেনা তা বোধগম্য নয়।এগুলোকে যদি চাঁদাবাজি বলে অভিহিত করি তবে এ সমাজ আমাদের ধুয়ে দেবে।চাঁদাবাজিকে চাঁদাবাজি বলা যাবেনা।

     পুলিশের পাশ কে দিয়েছে?নিশ্চই সরকার কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী?তাহলে ছাত্রদের ব্যাপারেওতো মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী একাধিক বার ঘোষণা দিয়েছেন অর্ধেক ভাড়া নিতে।পুলিশ পুরো মাফ পেয়ে যায় আর ছাত্ররা হাফ ভাড়াও দিতে পারেনা এটাকি জবরদস্তি নয়?

     লোকাল বাস গুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিলেও ছাত্র ছাত্রীদের থেকে অর্ধেক ভাড়া নিতে খুব বেশি কথা কাটাকাটি না করলেও শুক্রবার আসলেই তারা ফুল ভাড়ার জন্য তর্ক করতে শুরু করে।এমনতো নয় যে শুক্রবার আসলেই ছাত্র ছাত্রীরা চাকুরেজীবী হয়ে যায়।আর তাছাড়া শুক্রবার গুলোতে এখন ক্লাস হচ্ছে,পরীক্ষা হচ্ছে। ছাত্র ছাত্রীদের জীবনে কি কোন শুক্র শনিবার বলে কিছু আছে।

সিটিং সার্ভিস গুলোতে তুলনামূলক ভাবে তাই যাত্রী হয়রানি বেশি হচ্ছে।অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি অন্যায় ভাবে ভাড়া চাপিয়ে দিয়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।একজন যাত্রী এয়ারপোর্ট থেকে উঠে কেন আব্দুল্লাহপুরের ভাড়া পরিশোধ করবে?আর কেনইবা বাংলা মোটরে নামার পরও গুলিস্থানের ভাড়া পরিশোধ করবে?যেতো আব্দুল্লাহ পুর থেকে আসেনি কিংবা গুলিস্থান যাচ্ছেনা।তবুও কেন সেই অংশের ভাড়া তাকেই পরিশোধ করতে হবে?

     যারা এসব মনিটর করেন তারা কি কোন দিন এগুলোর খোঁজ নেন?আর যখন ছাত্র ছাত্রীরা ভাড়ার বিষয়ে কথাকাটাকাটি করে রাস্তায় গাড়ি আটকে দেয় তখন সবার টনক নড়ে এবং সব দোষ হয় ছাত্র ছাত্রীদের।তারা এটা বলতেও পিছপা হয়না যে এই সব ছাত্র ছাত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেনি,মারামারি করতে এসেছে।

     মহম্মদপুর শিয়া মসজিদের ওখান থেকে যে গাড়িটি মিরপুর ঘুরে কামারপাড়া যাচ্ছে সেই সব সিটিং সার্ভিসেও চরম অরাজকতা চলছে।শ্যামলী থেকে যে উঠে কামারপাড়া যাচ্ছে তার ভাড়াও যা আবার মিরপুর দশ নাম্বার থেকে যে এয়ারপোর্ট যাচ্ছে তার ভাড়াও একই।যে পথটুকু আমি ভ্রমন করছিনা তার ভাড়া কেন আমি দিতে যাবো?কে করেছে এই নিয়ম?আমি নেমে যাবার পরওতো ওরা নতুন যাত্রী তুলে তাদের থেকে ভাড়া আদায় করছে।

     বাসে উঠলেই একটা তথাকথিত ভাড়ার চার্ট দেখানো হচ্ছে। কে বানিয়েছে ওই চার্ট?কি আছে ওগুলোর ভিত্তি?যোগাযোগ মন্ত্রীর দেওয়া প্রকাশ্য নির্দেশকে তারা মানবেনা অথচ মনগড়া বানানো ভাড়ার চার্ট মানতে যাত্রীদের বাধ্য করবে।

আট ঘন্টা কাজের কথা বলে প্রতিনিয়ত ১১ ঘন্টা কাজ করিয়ে নেওয়া অফিসও কখনো আমাদের একটা টাকা বেশি দেয়না, যেখানে আমরা আমাদের শ্রম দিচ্ছি এবং প্রতিষ্ঠানকে মুনাফা অর্জন করিয়ে দিচ্ছি। সেখানে বিনা ভ্রমনে কেন আমি গন্তব্যের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে যাবো?কিসের দায় পড়েছে?এ সবই অন্যায় এবং এগুলো অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিত।না হলে একদিন ছাত্র ছাত্রীরা,সাধারণ যাত্রীরা রুখে দাড়াবে আর ওই সব চাঁদাবাজদের রাজপথে টেনে নামাবে।

আমাদের একটাই দাবি আমরা যাত্রা পথের অতিরিক্ত কোন ভাড়া দেব না।অন্যায় ভাবে দিনের পর দিন আমাদের থেকে সিটিং সার্ভিসের নামে চিটিং করে চাঁদাবাজি করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের উচিত এটার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।যদি পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে সাধারণ জনগন নিজেদের মত করে কারো কারো চরিত্রে সুন্দর ভাবে কলঙ্কতিলক লাগিয়ে দেবে।

     রাজধানী ঢাকার প্রতিটি রুটে সিটিং সার্ভিসে ভাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং করার জোর দাবী জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার আমরা করেছি তা বাস্তবায়ন করতে হলে কোন খাদ রাখা চলবে না।সোনা হতে হবে গিনি সোনা।এভাবে প্রকাশ্যে অন্যায় ভাবে ভ্রমন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হলে সত্যিকারের সোনার বাংলা স্বপ্ন হয়ে থেকে যাবে।তাই এই ভাড়া চাঁদাবাজদের রুখে দিতে হবে এখনি।

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

Tags: