ব্যাংক,জালনোট,এটিএম এবং সাধারনের ভুল ধারণা

0
23

আজকের এই লেখাটি সেই সব মানুষের জন্য যারা কোন না কোন সময় ব্যাংক অথবা এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে এক বা একাধিক জাল নোট পেয়েছেন কিংবা এক হাজার টাকার নোটের মধ্যে পাচঁশত টাকা কিংবা পাঁচশত টাকার নোটের মধ্যে একশত টাকার নোট পেয়েছেন।কিংবা টাকা জমা দিতে গিয়ে ভুল করে বেশি জমা দিয়েছেন কিন্তু ক্যাশিয়ার সেটা ফেরত দেয়নি কিংবা টাকা উত্তোলন করেছেন টাকা কম পেয়েছেন।তার পর স্বভাবতই গালি দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তাকে এবং ব্যাংককে। আমি ব্যাংক বিষয়ে কোন পন্ডিত কেউ নই তবে আমার ঝুলিতে গবেষণার কিছু অভিজ্ঞতা জমা আছে। অসংখ্য ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে এবং এটিএম সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি এসব বিষয় নিয়ে। সেসব থেকে যতটা পারি বলতে চেষ্টা করবো। বন্ধু তালিকায় যে সব ব্যাংকার বন্ধুরা আছেন তারা বুঝতে পারবেন আমি কতটা ভুল বলেছি আর কতটা সঠিক বলেছি। তবে হ্যা লেখাটি পুরোপুরি না পড়লে বুঝতে অসুবিধা হবে। পড়তে চাইলে পুরোটা পড়বেন না চাইলে মোটেই পড়ার দরকার  নেই তার চেয়ে বরং আপনার মধ্যে যে ধারণা জন্মেছে সেটি নিয়ে থাকাই ভালো।

প্রথমে আসি ব্যাংকের ক্যাশ এরিয়া সম্পর্কেঃ

প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিটি শাখার অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন একটি অংশ হলো ক্যাশ এরিয়া,যেখানে এমনকি ওই শাখার সব কর্মকর্তা কর্মচারিরও প্রবেশাধিকার নেই। দিনের শুরুতে ক্যাশে যারা কাজ করেন তারা সেখানে প্রবেশ করার আগেই তাদের মানিব্যাগ নির্ধারিত লকারে জমা রাখতে হয়। সুতরাং সেই মানুষটির কাছে কোন টাকা থাকে না। লেনদের শুরু হলে ভল্ট থেকে টাকা বের করে প্রতি কাউন্টারে কিছু কিছু টাকা দেওয়া হয় যা আগের দিন বিকেলে প্রস্তুতকৃত। একজন ক্যাশিয়ার/ক্যাশ টেলার টাকা জমা নিয়ে থাকে এবং বিতরণ করে থাকে। আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধাযুক্ত ব্যাংকের একই কাউন্টারে জমা এবং উত্তোলনের সুযোগ থাকে। তো একজন গ্রাহক যখন টাকা জমা দিতে আসেন তখন কাউন্টারে যাওয়ার পর ক্যাশিয়ার সেটা বুঝে নেন,গুনে নেন এবং টাকা জাল আছে কি না, তিন বা তার চেয়ে বেশি টুকরা আছে কি না সেটা চেক করে নেন। কোন কারণে গ্রাহকের ওই টাকার মধ্যে গ্রাহকের অজান্তে হোক আর জানা অবস্থায় হোক যদি কোন জাল নোট থাকে বা তিনটুকরা নোট থাকে এবং এই চেকিংএর সময় ক্যাশিয়ারের চোখে সেটা ধরা না পড়ে তাহলে কি হতে পারে? সেটা জমা হয়ে যাচ্ছে এবং অন্য একজন গ্রাহক যখন টাকা উত্তোলনের জন্য আসবে এবং ক্যাশিয়ার সেই টাকা থেকেই পরিশোধ করবে তখন ক্যাশিয়ার এবং গ্রাহক দুজনের অজান্তেই জাল নোট বা তিনটুকরা নোট বা অচল নোট গ্রাহকের হাতে চলে যাবে। অর্থাৎ এক গ্রাহক না জেনে জাল নোট জমা দিয়েছে,ক্যাশিয়ারের চোখ সেটা এড়িয়ে গেছে বিধায় সেই জাল নোট বা অচল নোট অন্য গ্রাহকের হাতে চলে গেছে। এখন সেই গ্রাহক যদি সাথে সাথে জাল নোট ধরতে পারে তাহলে কি হয়? সে হয়তো কটুকথা বলে অথচ ক্যাশিয়ারের কিন্তু কোন দোষ নেই।

আচ্ছা দোষের ব্যাপারটা পরে আসি। গ্রাহক সাথে সাথে জাল নোট বুঝতে পারলে কাউন্টার থেকেই সেটা পরিবর্তন করে দেওয়া হয় এবং আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন ওই জালনোট অন্য কারো কাছে গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়? আসলে তা নয় সেটা সাধারণত সেই গ্রাহকের সামনেই পাঞ্চ করে দেওয়া হয়। ক্যাশিয়ার টাকা জমা নেওয়ার সময় জাল নোট ধরতে পারলে তা ছিদ্র করে উক্ত গ্রাহককে দিয়ে দেয়।কিন্তু যখন ঘটনাটা উল্টো ঘটে তখন কি হয়? অর্থাৎ কোন গ্রাহক যখন টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে জাল নোট পায় তখনও টাকাটা ছিদ্র করা হয় কিন্তু ভর্তুকি দিতে হয় ওই অফিসারকে যিনি ক্যাশ লেনদেন করছেন! অথচ জাল টাকাটা কিন্তু তার নয়।ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ওই অফিসারকে জালনোটের কোন বিনিময় মূল্য দিবে না বরং সেটা অফিসারকেই বহন করতে হবে। মোদ্দা কথা হলো ক্যাশ কাউন্টারে কোন কারণে ক্যাশ রিসিভের সময় জালনোট সনাক্ত করতে অফিসার ব্যার্থ হলে সেটা তাকেই বহন করতে হয়। আবার দেখুন যদি কোন গ্রাহক টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যায় এবং সেই টাকার মধ্যে সেই জালনোট থেকে যায় তাহলে গ্রাহকের কপাল পোড়ে কারণ নিয়ম অনুযায়ি ব্যাংকের বাইরে গিয়ে ফিরে এসে কোন অনুযোগ করলে তা গ্রহনযোগ্য নয়। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। ধৈর্য্য ধরে পড়তে হবে পুরোটা।

মনে করুন কোন গ্রাহক না জেনে টাকা জমা দিয়েছিল এবং সেই টাকার মধ্যে জাল নোট ছিলো যা অফিসারও বুঝতে পারেনি এবং সেভাবেই রয়ে গেছে। তো গ্রাহকের একাউন্টে টাকাটা জমা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিপদ থেকে যাচ্ছে অফিসারের মাথায়। এই বিপদ কতদিন অব্দি থাকছে শুনলে অবাক হবে। ধরুন সারাদিন অন্যান্য লেনদেন করার পরও কোন কারণে সেই জালনোটটা তার কাছেই থেকে গেলো তাহলো কি হবে? দিন শেষে ক্যাশ অফিসার তার টাকা গুছিয়ে বান্ডিল করে (এই বান্ডিল বিষয়ে আলাদা করে আরও লিখবো)। তো সেই বান্ডিলের কোন একটিতে সেই জাল নোট বা তিনটুকরা নোট বা অচল নোট থেকে গেলো। বান্ডিল করার পর ব্যাংকের নির্দিষ্ট ফ্লাইলিফ লাগানো থাকে,সীল মারা থাকে আর থাকে ওই অফিসারের সিগনেচার! এখন যতদিন অব্দি ওই সিগনেচার যুক্ত কাগজটি ওই বান্ডিলের উপর থাকবে ততোদিন অব্দি টাকা যেখানেই যাক না কেন জালনোট সনাক্ত হলে ঘুরে ফিরে ওই অফিসারের ঘাড়েই সেটা পড়বে এবং তাকেই তার দায়ভার বহন করে টাকাটা টুকরো টুকরো করতে হবে এবং সমপরিমান টাকা নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করতে হবে। তাহলেই বুঝুন যে জালটাকা কোন ভাবে সনাক্ত করতে অফিসার ব্যার্থ হলে সব সময়ের জন্যই তার উপরই সেটা রিস্ক হিসেবে থেকে যাচ্ছে এবং সে কোন ভাবেই আপনাকে নিজ থেকে জালটাকা দেয়নি। অন্তত এই লেখাটা পড়ার পর আশা করি ভবিষ্যতে কোন ক্যাশিয়ারকে দোষ দিতে পারবেন না যে সে আপনাকে জাল টাকা দিয়েছে। জালটাকা কিভাবে আপনার হাতে গিয়েছে তা আমি পরিস্কার করে দেখিয়ে দিলাম। একজন ক্যাশ অফিসারের যে কত বিপদ সেটা বুঝতে হলে পুরো লেখাটা মন দিয়ে পড়ুন।

টাকা কম দেওয়া বা বেশি দেওয়া বিষয়ঃ

অনেক সময় আপনি টাকা জমা দিতে গিয়েছেন 20 হাজার কিন্তু সেখানে নোট ছিলো 21 হাজার।আপনি প্রথমে খেয়াল করেন নি এবং অফিসার যখন মেশিনে গুনেছে এবং মেশিন রিড করেছে 20 হাজার তখন নিশ্চিত হয়ে টাকাটা জমা করা হয়েছে। যেহেতু মেশিন দেখিয়েছে বিশ হাজার আবার আপনি লিখেছেনও বিশ হাজার তখনতো দ্বিতীয়বার গণনা করার প্রয়োজন নেই। আপনি ফিরে গেলেন পরে সেদিন বা অন্য যে কোন দিন মনে হলো আপনার ওখানে 21 হাজার ছিলো। আপনি অবশ্যই ভুল বলেন নি। যেহেতু ছিলো তার মানে অবশ্যই ছিলো।কিন্তু আপনি কোন ভাবেই ওই অফিসারকে চোর ভাবতে পারেন না যে আপনার অতিরিক্ত এক হাজার টাকা সে মেরে দিয়েছে।আপনিতো টাকা জমা দিয়ে চলে গেছেন এর পরেরটুকু আমার গবেষণা থেকেই না হয় শুনুন। জমা দেওয়ার সময় আপনি যেমন জানতেন না ওখানে একটা নোট বেশি আছে তেমনি অফিসারও জানতেন না। ধরে নিন সারা দিনে ওই অফিসার আর কোন ভুল করেনি অর্থাৎ কাউকে একটা নোট ভুল করে বেশি দিয়ে দেয়নি তাহলে কি হবে? তার কাছে হিসাবের অতিরিক্ত একটা নোট বেশি থাকবে।

এখানেই অনেক কিছু ঘটবে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটা বিষয় ঘটতে পারে যার একটা একটা করে বলছি।দিন শেষে সে যখন নোটগুলো বান্ডিল করবে তখন একই ভাবে ভুল করে কোন এক বান্ডিলে যদি একটা নোট বেশি চলে যায় অর্থাৎ 100টা নোটের বদলে 101 টা নোট থাকে এবং আপনার সময়কার ঘটনার মতই মেশিন গণনাতে সেটা 100 নোট দেখায় তাহলে অফিসারের দিন শেষে কোন টাকা বেশিও হবে না কমও হবে না।এবং পরবর্তী দিন সেই অতিরিক্ত টাকার বান্ডিলটা যদি কাউকে পেমেন্ট করা হয়ে যায় তাহলে কি হবে? আপনি ক্লেম করলেও আপনার টাকা ফেরৎ পাবেন না তার তিনটি কারণ। প্রথমত সিসিটিভিতে দেখা যাবে আপনি বিশটা নোটই দিয়েছেন আর দ্বিতীয় কারণ আপনার লেখা ভাউচারে বিশ হাজার টাকা লেখা এবং বিশটি নোট লেখা। যেহেতু অফিসার বিশ হাজার টাকা পেয়েছে এবং আপনার একাউন্টেও বিশ হাজারই জমা করেছে তাই আপনি কোন ভাবেই প্রমান করতে পারবেন না যে আপনার ওখানে এক হাজার বেশি ছিলো।

এখনো শেষ করিনি সুতরাং পড়তে থাকুন। আর তৃতীয় কারণ হলো সেদিন অফিসারের কাউন্টারে দিন শেষে হিসাবের বাইরে কোন টাকা পাওয়া যায় নি। যদি যেত তাহলে সিসিটিভিতে বিশটা দেখালেও টাকাটা আপনি পেতে পারতেন। এছাড়াও কিন্তু আপনি টাকাটা পেতে পারেন ঘটনা এবার দ্বিতীয় বা তৃতীয়দিনে যেতে হবে। কিভাবে? ধরুন পরবর্তী দিন আগেরদিনে করা সেই একটা নোট বেশি ওয়ালা বান্ডিল একই অফিসারের হাতে নাও পড়তে পারে। অন্য অফিসার সেই বান্ডিলটা পেমেন্ট করতে গিয়ে গুনলেন এবং একটা নোট বেশি পেলেন। কয়েকবার গুনে একই ফল আসলে তিনি দেখবেন কার সিগনেচার আছে? তখন তাকে দেওয়া হবে এবং একটা নোট বের করে ক্যাশ ইনচার্জের কাছে রাখবেন যেন যদি কেউ ক্লেইম করে তাকে ফেরত দেওয়া যায়।আর ওই দিন যদি ক্লেইম না আসে তাহলে ব্যাংকের সান্ড্রি একাউন্টে তা জমা রাখা হবে।ঘটনা আরও আছে যা কোনদিন আপনারা কেউ জানেন না বা শোনেন নি। ধরুন আগেরদিন করা সেই অতিরিক্ত টাকা সহ বান্ডিলটা অন্য এক অফিসারের হাতে পড়লো এবং তিনি সেটা একবারে পেমেন্ট না করে বান্ডিল ভেঙে বিভিন্নজনকে পেমেন্ট করলেন।

তাহলে কি হবে? সে যদি সারাদিনে আর কোন ভুল না করে তাহলে দিন শেষে তার হাতে একটা নোট মানে সেই এক হাজার টাকা বেশি থাকবে!!অথচ এটা কিন্তু তার ভুল নয় এবং তার টাকাও নয়।এটা নিয়ে তার অন্তত এক ঘন্টা নষ্ট হবে,চিন্তা হবে,রেপুটেশান খারাপ হবে। অন্তত একঘন্টা কিভাবে নষ্ট হবে সেটা বলছি। সেদিন যেহেতু একটা নোট বেশি হয়েছে মানে এক হাজার টাকা বেশি হয়েছে তাই সেদিনের সব ভাউচার সে বের করে একটা একটা করে চেক করবে। আপনি টাকা জমা দেওয়ার সময় অনেক সময় কয়টাকার নোট কয়টা লিখতে চান না বা লেখেন না এটা ঠিক নয়। এটা বিপদ থেকে বাচিয়ে দেয়। অফিসার তখন খুজে খুজে দেখবেন কে কতটাকার নোট কতপিস দিয়েছেন এবং তা মিলিয়ে কতটাকা হয়েছে। একই ভাবে তিনি যে সব চেক পেমেন্ট করেছেন তার পিছনে তিনি কাকে কতটাকার নোট কতটা দিয়েছেন তা সব লিখে রাখেন সেসবও মিলিয়ে দেখবেন। যদি দেখেন কোথাও কাউকে যে পরিমান নোট দিয়েছেন তাতে টাকার পরিমান কম হয় তাহলে তিনি ধরে নিবেন তিনি লোকটাকে টাকা কম দিয়েছেন।

তখন তাকে ফোন করে জানতে চাইবেন স্যার আজকে আপনি টাকা তুলতে এসেছিলেন কতটাকা তুলেছিলেন এবং আমরা আপনাকে কতটাকার নোট কতপিস দিয়েছি যদি বলতেন।দেখা গেলো আসলেতো ভুল হয়নি তাই ওপাশ থেকে জানানো হলো টাকা ঠিক আছে। তার মানে অফিসার লেখার সময় ভুল সংখ্যা লিখেছিলেন। কিন্তু যে এক হাজার টাকা বেশি সেটার তাহলে কি হবে?কারণ কোথাও আর কোন ক্লু নেই। শেষে টাকাটা সান্ড্রি একাউন্টে জমা করা হবে। ধরুন একসপ্তাহ পর আপনি এসে ক্লেম করলে তখন এই টাকাটা পাবেন না কারণ যার কাউন্টারে আপনি টাকা বেশি দিয়েছিলেন তার কাউন্টারে সেদিন কোন টাকা বেশি হয়নি!!এটাতো আপনিও স্বীকার করবেন পুরো প্রক্রিয়াটা দেখালাম। কথা শেষ হয়নি। পেমেন্টের ক্ষেত্রে যেমন তিনি কল করেছেন রিসিভের ক্ষেত্রেও চেক করবেন। যদি কোন সন্দেহজনক কিছু থাকে তবে সেই গ্রাহককে একই ভাবে ফোন করা হবে। যদি সেরকম কিছু না থাকে তাহলে টাকাটা সান্ড্রি একাউন্টে জমা হবে।

  • এবার আসি টাকা কম দেওয়া বা বেশি দেওয়া বিষয়ে। কিংবা কম নেওয়া বিষয়েঃ

আপনি টাকা জমা দিতে গিয়েছেন এবং ইচ্ছেকরে হোক বা অনিচ্ছায় হোক আপনি ভাউচারে যে পরিমান লিখেছেন টাকা তার চেয়ে কম দিয়েছেন। অফিসার সেটা নেওয়ার সময় ধরতে পারেনি এবং সেভাবেই জমা করে দিয়েছে। দিন শেষে অফিসারের টাকা শর্ট পড়বে। সেটা যদি এক লাখও হয় বা একশো হয় তা্ও একই কথা।দিন শেষে যখন ক্যাশ মিলবে না তখন সে সব ভাউচার চেক করবে। যদি কোথাও নোটের সংখ্যার সাথে টাকার মিল না থাকে তবে সেটাকে সাসপেক্ট করবে। আর যদি সবঠিক থাকে আসলে ফিজিক্যাল টাকা দেওয়ার সময় আপনি কম দিয়েছেন তবে মনে রাখবেন সেই শর্ট পড়া টাকার পুরোটাই ওই অফিসারকে নিজের পকেট থেকে দিয়ে  ক্যাশ মেলাতে হবে। সেটা এক লাখ টাকা হলেও তাকেই দিতে হবে। ব্যাংক কোন রকম সহযোগিতা করবে না। তাহলে উপরের বর্ননা থেকে কি দাড়ালো? আপনার থেকে কোন কারণে টাকা বেশি নিলেও সেটা ওই অফিসার নিজের কাছে রাখতে পারবে না বা খেতে পারবে না আবার আপনাকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দিলে সেটাও অফিসারকে নিজের পকেট থেকেই দিয়ে দিতে হবে। সুতরাং সব কিছুতেই অফিসারের বিপদ।আর দিন শেষে ভাউচার চেক করতে গিয়ে যদি ভুলটা ধরা পড়ে তাহলে অবশ্য টাকাটা উদ্ধার হয়। বেশি হলে তা গ্রাহককে দিয়ে দেওয়া হয় এবং কম হলে সেটাও গ্রাহক থেকে আদায় করা সম্ভব হয় কারণ সব প্রমান আছে।

বান্ডিলে নোট মিশ্রন হওয়া না হওয়াঃ

অনেক সময় আপনারা অভিযোগ করেন অমুক ব্যাংক বা এটিএম থেকে এক হাজার টাকার বান্ডিলের মধ্যে 500 টাকার নোট ঢুকিয়ে দিয়েছে বা 500 টাকার নোটের মধ্যে 100 টাকা ঢুকিয়ে দিয়ে বাটপারি করেছে। এই কথাটা ভুল। আমি আগেই খানিকটা বলেছি যে ক্যাশ অফিসাররে ড্রয়ারে প্রচুর লুজ টাকা বা খুচরা নোট জমা হতে থাকে। একই ড্রয়ারে সবধরনের খুচরা নোট থাকে। দিন শেষে অফিসার সেই টাকা গুছিয়ে বান্ডিল করেন।কোন কারণে সেই গোছানোর সময় নোট মিক্সড হতে পারে এবং আমি আগেই দেখিয়েছি ভুল যাই হোক বিপদ কিন্তু ঠিকই অফিসারের মাথার উপর থেকেই যায়। এই নোট মিক্সিং হলেও ঘটনা একই ঘটে। দিন শেষে তার ক্যাশ মেলে না।ধরুন 500 টাকার নোটের মধ্যে একটা 100 টাকা ঢুকে গেছে তার পর সেই বান্ডিল যখন মেশিনে কাউন্ট করা হচ্ছে তখন কিন্তু ঠিকই 100 পিচই দেখাবে। এর মানে দিন শেষে ওই অফিসারের 400 টাকা বেশি হবে! আসলে কিন্তু বেশি না। সে অনেক চেষ্টা করেও যদি খুজে বের করতে না পারে যে কেন বেশি হলো তাহলে ওই চারশো টাকা ব্যাংকের সান্ড্রি একাউন্টে জমা হয়ে যাবে।

পরদিন বা যে কোন দিন সেই মিক্সড বান্ডিল পেমেন্ট করা হলে সবার অজান্তেই 500 টাকার নোটের মধ্যে 100 মিক্সড হয়ে গ্রাহকের হাতে চলে যাবে এবং গ্রাহক অফিসার এবং ব্যাংকে গালি দিবে। ঘটনা এখানেই শেষ না। গ্রাহক বান্ডিলের উপরের ফ্লাই লিফ না ছিড়ে ব্যাংকে গেলে সেটা বদলে দেওয়া হবে। গ্রাহকের সামান্য সময় নষ্ট হবে এর বেশি কিছু না। কিন্তু যে অফিসারের সিগনেচার আছে তার কি হবে জানেন? মেমো খাবে। পাশাপাশি ওই একশো টাকা বের করে সেখানে একটা পাচশো টাকার নোট নিজের পকেট থেকে দিয়ে দিতে হবে। অফিসারের চারশো টাকা লস। কারণ গতদিন যে টাকা সে বেশি ছিলো ভেবে সান্ড্রি একাউন্টে জমা করেছিল তা আর সে বের করতে পারবে না।অথচ পরেরদিন বা যেদিন ধরা পড়বে যে বান্ডিলের মধ্যে নোট মিক্সিং হয়েছে সেদিনতো তাকে ঠিকই সেটা দিতে হবে। একই ভাবে জাল টাকার ক্ষেত্রেও ঘটনাটা সেম।আপনি মনে রাখবেন একজন ক্যাশ অফিসার অবশ্যই সৎ।

তার পদে পদে বিপদ মাথায় নিয়ে,গ্রাহকের গালি শুনে,উর্ধতন কর্মকর্তার ঝাড়ি শুনে কাজ করতে হয়। অফিসে সব চেয়ে বেতন কম তাদের,সবচেয়ে সম্মান কম তাদের,সবচেয়ে গালি শুনতে হয় তাদের কিন্তু সবচেয়ে প্রেশার নিতে হয় তাদের। দু চারজন বাদে অধিকাংশ গ্রাহক টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে কোন ভাবে বেশি টাকা পেলে তা আর ফেরৎ দেয় না। কোন ভাবে আইডেন্টিফাই করা না গেলে পুরো টাকা সেই অফিসারকেই বহন করতে হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে অফিসারের পুরো মাস এমনকি দুই মাসের বেতনের সমপরিমান টাকাও একদিনে গচ্ছা দিতে হয়। কিন্তু এটা নিশ্চিত থাকুন আপনি টাকা জমা দিতে গিয়ে যদি মাত্র একটাকাও বেশি দিয়ে আসেন কিংবা এক লাখও বেশি দিয়ে আসেন তা ওই অফিসার ভোগ করে না বরং সেটা ব্যাংকের সান্ড্রি একাউন্টে জমা থাকে। আপনি প্রমান করে সেটা ফিরিয়ে নিতে পারেন।

  • এটিএম মেশিন থেকে জাল টাকা,তিনটুকরা নোট বের হওয়া বিষয়েঃ

বাস্তব জ্ঞান সম্পন্ন কোন ব্যাংক কর্মকর্তাই অস্বীকার করবে না যে কখনোই কোন ব্যাংকের এটিএম থেকে জাল টাকা বা তিনটুকরো জোড়া দেওয়া নোট বের হয় না। কিংবা 500 টাকার মধ্যে 100 টাকার নোট বা 1000 টাকার মধ্যে 500 টাকার নোট মিক্সড হয়ে বের হয় না।যদি কেউ বলে যে বের হয় না তাহলে ধরে নিতে হবে সেই অফিসার মুর্খ এবং বাস্তবজ্ঞান সম্পন্ন নয় পাশাপাশি নিজের ব্যাংকের দোষগুলো ঢাকতে চা। প্রকৃত পক্ষে এটিএম থেকে কালেভদ্রে (খুবই রেয়ার) এই সব ঘটনা ঘটতে পারে। আপনি মাত্র 500 টাকা উঠিয়েছেন সেটাও কিন্তু জোড়া দেওয়া হতে পারে,জাল হতে পারে। আবার ধরুন মাত্র পনেরশ  টাকা উত্তোলন করতে গিয়েও একটা ভিন্ন নোট পেতে পারেন।আমি না বললেও অন্তত এরই মধ্যে অনেকেই হয়তো বুঝতে পারছেন আসলে কি ঘটে? দেশের অধিকাংশ ব্যাংক যাদের বৃহদ এটিএম নেটওয়ার্ক আছে যেমন ডাচ বাংলা ব্যাংক,ব্র্যাক ব্যাংক থার্ডপার্টি ভেন্ডরের মাধ্যমে ক্যাশ লোড করে থাকে।সে ক্ষেত্রে ভেন্ডর প্রথমে ব্যাংকের শাখা থেকে টাকা নিয়ে আসে।

আগেই ঘটনাগুলো পড়ে থাকলে বুঝতে সুবিধা হবে। ভেন্ডরকে শাখা যে টাকার বান্ডিলগুলো দিয়ে থাকে তা কিন্তু অফিসারেরাই করে এবং সেই টাকার মধ্যে যদি আগের ওই ভুল মিক্সিং বান্ডিল থেকে যায় তবে সেটা ভেন্ডরের হাতে চলে যায়। একই ভাবে জালটাকা বা তিনচারটুকরা জোড়া দেওয়া নোটও থাকতে পারে।তো ভেন্ডর সেই বান্ডিল গুলো নিয়ে ট্রাংকে ঢুকায় এবং ট্র্যাংক বন্ধ করে সেখানে একধরনের ট্যাগ লাগিয়ে দেয় যা একবার লাগালে খুলতে হলে ছিড়ে ফেলতে হয় এবং এই ট্যাগের নাম্বার তিন চার স্তরে বিতরণ করা হয়। অর্থাৎ খুলতে হলে তা কেবল থার্ডপার্টি ভেন্ডর অফিসে নিয়ে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় খুলতে হবে অথবা এটিএম লোডিং এর সময় খুলতে হবে। একবার খুললে ট্র্যাংক অরক্ষিত অবস্থায় থাকবে এবং সেই অবস্থায় আপনি কোথাও মুভ করতে পারবেন না। এর পর এটিএম লোড দেওয়ার সময়  এটিএম মেশিনের মধ্যে চারটা ক্যাসেট থাকে। এই ক্যাসেট হলো একরকম ড্রয়ার। যার একটিকে 1000 টাকার নোট একটিতে 500 টাকার নোট এবং একটি ফাকা থাকে। আর চতুর্থ ক্যাসেট হলো বিন হিসেবে ব্যবহারের জন্য।

অর্থাৎ কেউ টাকা ওঠানোর সময় অনেক সময় ননডিসপেন্স হতে পারে। আপনি কমান্ড দিলেন কিন্তু টাকা বের হলো না সেই টাকাটা ওই ননডিসপেন্স ক্যাসেটে জমা থাকে। আগেকার দিনে মেশিনে 100 টাকার নোটও দেওয়া হতো তাই চারটা ক্যাসেট সিস্টেম রয়েই গেছে। যাই হোক বলছিলাম মাত্র 500 টাকা উঠাতে গেলেও সেটা জাল পড়তে পারে। কিভাবে সেটা বলছি। ধরুন কোন এক 500 টাকার বান্ডিলের মধ্যে ক্যাশ অফিসারের সেই ভুল ক্রমে থাকা নোটটি রয়ে গেছে এবং অন্যান্য বান্ডিলের সাথে সেই বান্ডিলের নোটগুলোও এটিএমএ লোড দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য নোট তুলে নেওয়ার পর সবার সামনে ওই জাল নোট বা জোড়াদেওয়া নোট এসে গেছে সেই সময়ে আপনি 500 টাকা উঠাতে চাইলেন। তাহলে সেটাই আপনার হাতে পড়বে। আর তখনই আপনি গালি দিতে শুরু করবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যাংক সব সময় বলে থাকে আপনি টাকা যেখান থেকেই উঠান না কেন দেখে নিবেন,গুনে নিবেন। এটিএম থেকে টাকা তুলে চেষ্টা করবেন গুনে বুঝে দেখে নিতে।

সেখানেই যদি ভুল চোখে পড়ে তবে রাগ করবেন না,বিচলিত হবেন না বরং তাদের কলসেন্টারে ফোন করে বিষয়টি জানাবেন। সব এটিএম এর একটা করে নাম্বার থাকে আর সেখানে ক্যামেরাও থাকে। আপনি ক্যামেরার দিকে নোটটি অথবা নোটগুলো দেখান এবং সেখান থেকেই ফোন করে বিষয়টি জানান। আপনি নিশ্চিত থাকুন সমাধান পাবেন। এক সপ্তাহ সময় লাগলেও আপনি সমাধান পাবেন। আপনার 500/1000 টাকার জন্য ব্যাংক কোন ভাবেই তাদের রেপুটেশন নষ্ট করবে না এবং আপনাকে 500/1000 জাল বা মিক্সড নোট দিয়ে ঠকাচ্ছে না এটা শ্রেফ একটা ভুল যা আগেই বিস্তারিত লিখেছি কিভাবে ভুল সংগঠিত হয়।আরও আছে, আপনাকে আগেই বলেছি ব্যাংকে সান্ড্রি একাউন্ট বলে একটা একাউন্ট আছে যেখানে ক্যাশে কোন টাকা অতিরিক্ত হলে তা জমা রাখা হয়। প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় এই সান্ড্রি একাউন্টে অনেক টাকা জমা পড়ে আছে যার কোন মালিক এসে প্রমান সহ দাবী করেনি। যারা প্রমান সহ দাবী করেছে তারা তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছে। যদিও সেটা এক দু মাস পার হয়ে গিয়ে থাকে।

8 জুন 2020