জেগে ওঠা

0
11
শালবন
শালবন

গাড়ি ছুটছে তার আপন গতিতে। দুইধারে মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকা গাছ গুলো ক্রমে চোখের সামনে থেকে সরে যাচ্ছে। গুরুত্বপুর্ন কাজটা অবশেষে ভালো ভাবে শেষ করা গেলো। এখন আর কোন চিন্তা নেই। ভাবতে ভাবতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো তুরান।হঠাৎ ফোন আসলো বাড়ি থেকে। জ্বরে পাঁচ বছরের ছেলেটার গা পুড়ে যাচ্ছে। রাত তখন পৌনে বারটাা হবে। ড্রাইভারকে তাড়াদিলেন তুরান।একটু দ্রুত চালাও বাচ্চাটাকে হাসপাতালে নিতে হবে। ড্রাইভার দ্রুত চালাতে থাকলো। বেশ কিছুদুর আসার পর ড্রাইভার বললো স্যার বাবা মা এমনই হয় সন্তানের যে কোন বিপদে এভাবেই তটস্থ থাকে। সন্তানের ভালোর কথা ভেবে সব সুখ বিসর্জন দেয়।কিন্তু সন্তান যখন বড় হয় তখন এসব ভুলে যায়। ড্রাইভারের কথা গুলো বুকে এসে বিঁধলো তুরানের। সাথে সাথে বললো গাড়ি ঘুরাও জসীম। ড্রাইভারের নাম বোধহয় জসীম। সে বুঝতে পারলো স্যার কেন গাড়ি ঘুরাতে বলেছে। ঝড়ের গতিতে গাড়ি ঘুরিয়ে পারলে উড়িয়ে নিয়ে চললো। ব্যাক মিররের দিকে তাকিয়ে ড্রাইভার দেখলো স্যারের চোখে জল।এই জল দেখে তার মায়া হলো না বরং আনন্দ হলো। কিছুক্ষনের মধ্যেই গাড়ি এসে থামলো শালবনের মাঝামাঝি। গাড়ি থামতে না থামতেই তুরান দৌড়ে গাড়ি থেকে নেমে বনের ভিতরে চলে গেলো। ড্রাইভার জসীম অপেক্ষা করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর তুরান সাহেব এক বৃদ্ধাকে সাথে করে গাড়ির কাছে ফিরে আসলেন। বৃদ্ধা তুরান সাহেবের মা। কিছুক্ষণ আগে যাকে একাকী এই জঙ্গলে ফেলে গিয়েছিলেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এই ভয়ে।

অগল্পঃ জেগে ওঠা
– জাজাফী
১৫ এপ্রিল ২০২০