Home Blog Page 11

চৈমনি রাজ্যের সত্যিকারের রাজপুত্র

— তাসনুভা চৌধুরী

একটা রাজার ১মাত্র ছেলে ১মাত্র মেয়ে। একদিন বেড়াতে গেলো সমুদ্রে। সেখানে একটা দ্বীপে তারা নামলো তার ছোট ছেলের জন্মদিনের উৎসবের জন্য। হঠাৎ দ্বীপ টা নড়ে উঠল। মন্ত্রী তার মন্ত্র পুত চশমাটা জলে ফেলে দিলো। চশমাটা জলের নিচে দেখতে পায়।অার চশমা যা দেখতে পায় সেটা মন্ত্রী ও দেখতে পায়।দেখল এটা দ্বীপ নয়।তিমির পিঠ। সর্বনাশ! এটা যাদুর তিমি।প্রতি ১০০বছরে তার এক দিন। টানা ৪০বছর সে ঘুমায়।তারপর ৬০বছর জেগে থাকে। এখন তার ঘুম ভাঙ্গছে। তার ঘুম ভেঙ্গে যাবার পরই তান্ডব আরম্ভ করবে।

সবাই যে যার মত মন্ত্র পড়তে লাগল।নিজেদের বাঁচানোর জন্য। কেও ভেসে গেলো। কেও উড়ে গেলো। কেও কাঠের মতন বসে রইল নাক,মুখ,কান, চোখ বুজে।তবু কেও জানেনা বাঁচতে পারবে কিনা। ছোট্ট ছেলে জাজাফী পিট পিট করে সব দেখছিল। মা তাকে একবার শক্ত কে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।তারপর, তার বড় বোনের কাছে উপহারে পাওয়া সাবানের টুকরো অার জলের কৌটো দিয়ে মন্ত্র বলে একটা বুদবুদ তৈরি করে তার ভেতর জাজাফী কে ভরে দিলেন। তার পর উড়িয়ে দিলেন। ওড়ানোর অাগে, ছুরি দিয়ে হাতের কনে অাঙ্গুল ফুটো করে বুদবুদেরর গায়ে লিখে দিলেন জাজাফী। অার জাজাফীর গলায় দিলেন তার লকেটটা। বুদবুদ টা উড়তে উড়তে ভাসতে ভাসতে একটা ছোট্ট নৌকায় গিয়ে পড়ল। তার অাগে হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল।


জাজাফী এর জা টা মুছে গিয়ে শুধু জাফী রইল। ঐ বোটে ছিল এক দম্পতি। তারা নিজেদের দুই ছেলের সাথে জাজাফী কে মানুষ করতে লাগল। নাম দিল জাফী। জাফী নামে জাজাফী বড় হতে থাকল সাধারন বাচ্চাদের মতন। ও কোনো মন্ত্র জানত না তাই ওর মাঝে “চৈমনি”রাজ্যের কোনো ছাপ নেই। শুধু ওর গলার লকেটট টা! লকেটে একটা মনি কালো রং এর। মাঝে মাঝে জাজাফী মনি টা ছোঁয়। তখন ওর কেমন অদ্ভুত লাগে। একদিন ও অাবিস্কার করলো,অাসলে মনি টা সাধারন মনি নয়।মনি টা চেপে ধরে রাখলেই জাফী শুনতে পায় একটা নরী কনাঠ তাকে জাজাফী বলে ডাকছে।হ্যাঁ। কোনো ভুল নেই। ওকেই ডাকে।কিন্তু খুব বেশি সময় মনিটা ধরে থাকলেই মাথা ঝিম ধরে অাসে।

তাই তখন ছেড়ে দেয়।অাস্তে অাস্তে জাফী বড় হতে থাকে।সব খানে ও বেশ দক্ষ,পড়ালেখা,খেলাধুলা,বুদ্ধি। সব।জাফীকে ওর পালিত বাবা মা ময়েন এবং শিফু খুব ভালো বাসত।তাই জাফীর কখনো মনেই হয়নি তার ওর অাসল বাবা মা না। জাফী সব কিছু তে ভালো হওয়ায় ময়েন অার শিফু ঠিক করলো ওকে বড় শহরে পাঠাবে অারও ভালো ভাবে সব কিছু শিখতে। তখন জাফীর ২বছরের বড় পালিত ভাইটা অাপত্তি করল।বললো সে বড় সুতরাং তাকে পাঠানো উচিত।এক পর্যায়ে বলে ফেলে যে, “তোমরা নিজের ছেলের চে… “বলতেই শিফু মুখ চেপে ধরে তার ছেলে শকুর।জাফী বাড়ির বাইরে থেকেও শুনতে পায় শকুর উত্তেজিত কন্ঠে। জাফী মুষড়ে যায়।অারও চুপ চাপ হয়ে যায়।তবে সব পাকাপাকি করে জাফীকে ময়েন শহরে পাঠানোর ব্যাবস্থা করে ফেলে ইতমধ্যে।জাফী ও চাইছিল অার বোঝা হয়ে না থাকতে।


১৬বছর বয়সি জাফী চলে যায় শহরে।তার রাত গুলো ভীষণ এককী কাটতো।সে প্রথম রাত বেশ ভয় পায়।কিন্তু সে কিছুতেই অার বোঝা হয়ে ফিরবে না।তাই থেকে যায়।তাকে তো নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।পরের রাতেও ভয় করে,তখন সে তার গলার লকেট টা ধরে রাখে।কালো মনি তার জাদু বলে জ্বলে ওঠে দপ করে।এর অাগে কখনো রাতে মনিটা হাতে চেপে রাখেনি।একমুহুর্ত যেতেই সব ভয় কেটে যায় জাফীর। কালো মনির ভেতর থেকে একটা নরী কন্ঠ ভেসে অাসে। জাফী এখন জানে যে শিফু তার অাসল মা না।তাই সহজেই বুঝতে পারে মনির ভেতরের মানুষের গলাটা অার কারো নয় ওর মায়ের।গলায় লকেটটা না থাকায় মন্ত্র কাজ করেনি।ফলে জাজাফীর মা জেনেফার মারা যায়।কিন্তু তার অাত্মা জাদু বলে সেই মনিটা খুঁজে নিয়েছে।অার তাই জাফীর ডাকে সাড়া দিতে পারছে।

জাফী চোখ বন্ধ করে একবার ডাকে,তুমি কি মা?মা বলে,হ্যাঁ সোনা।অামার মানিক।জাজাফী অামি তোর মা।চৈমনি রাজ্যের অভাগা রানী। । তারপর জাজাফী কে সব খুলে বলে জেনেফার। সব শুনে জাজাফীর চোখ ভিজে যায়।ওর মা জানায় মাঝ সমুদ্রে ওদের চৈমনি রাজ্য। যেখানে কখনও এই সমাজের কোনো মানুষ পৌছুতে পারে না।এখান কার সমাজের মানুষের মূল অস্ত্র হচ্ছে জ্ঞান।চৈমনি রাজ্যে জাদু টাই মূল ভিত্তি অার এই সমাজে বিজ্ঞান। জাদু শেখার নিয়ম অাছে।২বছর বয়স থেকে অারম্ভ হয়।তবে জাজাফী হারিয়ে গেছে ১বছর বয়সে।তার কাছে কোনো যাদু শিক্ষা নেই।


এ সমাজের ভাষায় যাকে বলে অলৌকিক ক্ষমতা সেটা নেই।তাই এখানে জাজাফীর জাফী হয়ে বড়হতে সমস্যা হয়নি। মৃত মা জেনেফারের সহচার্যে জাজাফী জাফী নামেই শহরে বড় হয়।পেতে থাকে নানার জ্ঞানের শিক্ষা। অার দিন শেষে সে নির্জন পাহাড়ে বসে মায়ের সাথে কথা বলত।অনেক নতুন জিনিস শিখত।চৈমনি রাজ্যের ব্যাপারেও বেশ কিছু জিনিস সে জানতে পারে।যেমন ঐ যাদুর তিমি।যার জন্য তারর মা মারা গেছেন।ঐ জাদুর চশমা।অার তাকে জাদু সাবানের বুদ বুদে করে উড়িয়ে দেয়া।

দেখতে দেখতে জাফীর বয়স ১৮পূর্ণ হয়ে গেলো।মা বললেন এবারে যদি সে সমুদ্রে ডুব দিয়ে মাঝ সমুদ্রের উদ্দেশ্যে রওনাদেয় তাহলে ১দিন ৫মিনিট ৩৪সেকেন্ডে সে পোঁছে যাবে চৈমনি রাজ্যে।সে ওখানে প্রবেশাধিকৃার পাবে না।তবে বাইরে থেকে দেখে অাসতে পারবে।অার মা একটা মন্ত্রও শিখিয়ে দেন যেটা পড়লে সে অদৃশ্য হয়ে যাবে কেও তাকে বাঁধাও দেবে না।তবে অবশ্যই সাবধান যে কালো মনির।লকেট টা যেনো হারিয়ে না যায়।জাফী মায়ের কথা মত সব কাজ করল।পৌঁছে গেলো চৈমনি রাজ্যে। কি চমৎকার রাজ্য।ছোট্ট রাজ্য।সবার পরনে নীল জামা।অথচ প্রত্যেকটা একটা অারেকটা থেকে অালাদা।

এক কোনায় বাচ্চাদের স্কুলে জাদু শেখানো হচ্ছে।অন্য পাশে জাদুর গাড়ি চলছে রাস্তায়।কয়েকটা মেয়ে তাদের জাদু দিয়ে একে অন্যকে সাজিয়ে দিচ্ছে।বাজার টাও বড্ড সুন্দর।সব চেয়ে সুন্দর রানী টা।একটা ২৭-২৮বছরের মেয়ে।চেহারা অনেকটা জাফীর মতন।এমন সময় মা বললেন,ওটা রিফানি।ওর বোন।অার রাজার অাসনের মানুষ টা রিজেন।ওর বাবা।তাদের দুজনের ঠোঁটে শুকনো হাসি।প্রফুল্লতা নেই। জাফী বুঝলো এটা ওর অর ওর মায়ের অনুপস্থিতি মর ফল। সব খুঁজে পেয়েও জাফী পেলো না কিছুই ধরে রাখতে। সে ফিরে গেলো।হঠাৎ মাঝ পথে অাওয়াজ পেলো, জাজাফী। নরম কন্ঠ। মা ডাকছে।


বলো মা। মন খারাপ করতে নেই সোনা। অামি তো অাছি। তোর সাথে। সব সময়।
রিফানি খুব বুদ্ধি মতি।ও ঠিক সব সামলে নেবে।জাফী তার মায়ের কাছে শোনা সব কথা অাগে থেকেই তুলে রাখত খাতায়। একবার এক শিক্ষক সেই খাতা দেখে ফেললেন।জানতে চাইলেন এসব কি? সে কিছু বলেনি। তবে তিনি ধরে নিয়েছেন জাফী গল্প লিখেছে। হয়ত লজ্জা পাচ্ছে তাই বলছে না।তিনি বললেন চর্চা চালিয়ে যেতে। এর মাঝে জেনেফার চৈমনি রাজ্যে।রিজেন কে,যে তাদের ছেলে বেঁচে অাছে।ভালো অাছে। সব শুনে তারা ভীষণ খুশি হলেন।তবে চৈমনি রাজ্যের নিয়ম কড়া।পূর্ণ জাদু শাত্র না জানলে প্রবেশ করতে পারবে না। চৈমনি রাজ্যে সব ঠিক হয়েছে শুনে জাজাফী ছুটে গেলে অাবার।দেখে এলো সবাইকে।চুপি চুপি। তারপর থেকে সে ছুটি পেলে মাঝে মাঝে চলে যেতো। এমন সময় একদিন ওর শিক্ষক ওকে ডেকে পাঠালেন।গল্প লেখা প্রতিযোগিতা হবে।

জাফী কে সেখানে যেতে হবে।জাফী তো অাকাশ থেকে পড়ল।সে কি করে গল্প লিখবে।তখন স্যার বললেন তোমার ডায়েরিতে,খাতায় যেমন গল্প লেখো সেগুলোর মত হলেই হবে। জাফী বলতে গেলো, কিন্তু… জেনেফার থামিয়ে দিল। জাফি বললো ঠিক অাছে স্যার। অামি যাবো। মায়ের কাছে জাজাফী জানতে পারল,চৈমনি রাজ্যের সব চেয়ে বুদ্ধিমানই রাজ্যের রাজা রানী হয়।অর্থাৎ,পুরো রাজ্যের সবচেয়ে বুদ্ধিমানে ব্যাক্তির ছেলে সে।সে চেষ্টা করলেই পারবে। রূপকথার গল্প অনেকক কালজয়ী লেখকেরা লিখে গেছেন।সেগুলো পড়েছে সবাই। কিন্তুু রূপকথা লেখা সবচেয়ে কঠিন কাজ মনে করে অনেক কম ছেলেমেয়ে ই অংশ নেয়ার কথা।তবু দেখা গেলে অনেকেই উপস্থিত। অথচ প্রতিযোগিতা অারম্ভের পর বেশির ভাগ কেই দেখা গেলো মলিন মুখে বসে থাকতে।

কিন্তু জাফি লিখেই যাচ্ছে। কিন্তু লেখা শেষে নামের ঘরে জাফী না লিখে জাজাফী লিখে ফেলল ভুল করে। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ঘোষনা করা হলো জাজাফী কে।জাফীর শিক্ষকরাও বুঝতে পারলো না কে সে? তখন জাফী হাত তুললো যে সেই জাজাফী। এবং অন্যান্য তথ্য দেখে নিশ্চিত করা হলো যে সেই জাজাফী। জাফীর স্যারের নিজে থেকে কধা বলার অভ্যেস।তিনি বললেন,এটা তার ছাত্রের গল্প লেখার ছদ্মনাম। তারপর থেকে জাজাফীর কাছে থেকে নিয়মিত লেখা চাওয়া হতে লাগল।সে জাজাফী নামেই লিখতে লাগল। সেও ভীষণ ব্যাস্ত সময় কাটাতো। মাঝে মাঝে ফাঁক পেলেই ছুটে যেতো চৈমনি রাজ্যে। সরাসরি কথা না বলতে পারলেও মায়ের সাহায্যে টুক টাক খোঁজ নিতো। অার এদিকে গল্পকার হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়ল। জাফী অন্যান্য বিষয়েও পড়ালেখা করল অার সাহিত্যের অন্য শাখায়ও তার পদচারণ হলো। তবে চৈমনি রাজ্যের ওপরে তার লেখা গুলোই ছিল তার শ্রেষ্ঠ রচনা। সবার কাছে যেগুলো নেহাত রূপকথা অথচ জাফীর কাছে সত্যি। জাফী যখন প্রথম তার মা জেনেফার কে পায় তখন তার ইচ্ছে করছিল তার নাম টা বদলে ফেলে।কিন্তু পারেনি।


এবার সেই সুজোগ এসেছে।সবাই জাফী কে জাজাফী নামেই চেনে।জাজাফীর কাছে প্রস্তাব অাসলো তার সেরা রূপকথা গুলোর সমগ্র বের করতে অনেকে অনেক রকম নামের ধারনা দিলেও কারোটাই পছন্দ হলো না জাজাফীর।
দুমাস বাদে, “সত্যিকারের রূপকথা”নামে প্রকাশ পেলো জাজাফীর রূপকথা সমগ্র। যদিও নাম নিয়ে অনেকে দ্বিমত করেছিল শুরুর দিকে।কিন্তু জাজাফীর ভাষা অার রচনা শৈলীগত কারনে পাঠকের কাছে গল্প গুলো একেবারে বাস্তত মনে হতে লাগল। তাই পরে অার কেও নাম নিয়ে কোনো তর্কে জড়ায়নি। কিন্তু নাম টা অমন হওয়ার অাসল কারন তার ভাষা বিন্যাস নয়।বরং এটাই তার জীবনের সব থেকে বড় সত্যি সেটা সে ছাড়া অার কেও ই জানলো না। জাজাফী লেখক হিসেবে অনেক নাম করল।


তবু মাঝে মাঝে বিখ্যাত রূপকথাকার জাজাফী মাঝে মাঝে নিখোঁজ হয়ে যেতেন। কেও জানতে চাইলে সে মিষ্টি হেঁসে বলত,”চৈমনি রাজ্যে গিয়োছিলাম।” সবার কাছে যেটা রূপকথা সেটা জাজাফীর সতিকারের গল্প।
#তাসনুভা_চৌধুরী

মিছেই খুঁজি তারে নগরে-বন্দরে রোজ

পৃথিবীর পথে পথে,কোনো এক মায়াবিনী মূখ
সারাদিন খুঁজে ফিরি,যার মাঝে আছে সব সুখ।

ক্লান্ত দিনের শেষে ঘরে ফিরে চোখ দু’টি বুজি
নগরে-বন্দরে কোথাও পাইনি তারে,কোথায় আর খুঁজি।

সে কি তবে রংধনু;হঠাৎ উদয় হয়ে আবার মিলিয়ে যায় একা
আজীবন খুঁজে যাবো তারে,কোনো দিন পাবো নাকি দেখা?

স্বপনে বা জাগরণে বার বার ভেসে ওঠে তার মূখখানি
কতনা জনম বুঝি হয়ে যাবে পার,তবু দেখা পাবো কিনা জানি।

হায় অভাগা আমি! মিছেই খুঁজি তারে নগরে,বন্দরে রোজ
তার বাস হৃদয়েই,সে হৃদয়ে নেইনিকো খোঁজ।

সারাক্ষণ হৃদয়ের মাঝে থাকে,হৃদয়েই যার বসবাস
তারে আমি হেতা সেথা খুঁজি,না পেয়ে করি হাহুতাশ।

যতবার শ্বাস নেই প্রতিশ্বাসে সে আসে এ হৃদয়ের মাঝে
ঘন্টাধ্বনির মত প্রতিটি নিঃশ্বাসে তার নাম সারাক্ষণ বাজে।

# মিছেই খুঁজি তারে নগরে,বন্দরে রোজ
-জাজাফী
৩০ ডিসেম্বর ২০১৯
#জাজাফী

সেদিন সন্ধ্যা বেলায়

সেদিন সন্ধ্যা বেলায় তুমি এলে বলে
সবকিছু ছুড়ে ফেলে ছুটেছি দ্বিচক্রযানে চেপে
যেন বিলম্ব তোমাকে অপেক্ষার যন্ত্রনা না দেয়
কল্পনার সব রং একসাথে করে তোমাকে ভেবেছি,কেমন হবে তুমি
প্রথম সে দেখার স্মৃতি কখনোকি ভুলে থাকা যাবে
দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে তুমি তখন ক্লান্ত,মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে খুব মায়া হয়
প্রথম দেখার সেই ক্ষণে তোমার হাতের স্পর্শ পায়নি আমার আঙুল

হয়তো আছি কিংবা ছিলাম অথবা নেই

খুব ছোটবেলা থেকেই সবকিছুকে আমার আমার করে বড় হয়েছি
আমার বাবা,আমার মা,আমার ভাই,রুমটাও আমার
এমনকি বাবার লেখার কলমটিও আমার বলে দাবী ছিলো
স্কুল থেকে বছরের শুরুতে যে বইগুলি দিতো তা একান্তই আমার
বাজার থেকে কিনে আনা মাছের মাথাটা আমার,লেজটাও আমার
কখনো কখনো আবদারের সুরে পেটিটাও আমার বলে দাবী ছিলো
কিন্তু আসলে কোন কিছুই আমার ছিলো না,এখন আমি বুঝি।।

বাবা কখন জানি আমার থেকে আমার বোনের হয়ে গেছে
এখন আমি আমার বাবাকে আমার বোনের বাবা মনে করি
মা কখন জানি একান্তই তার ছোট ছেলেটার হয়ে গেলো
রুমটা এসে দখল করলো বড় ভাইয়ের স্ত্রী, মানে আমার ভাবি
বারান্দার এক কোণে একটা চৌকিতে ঠাই হলো আমার
বাড়িতে মেহমান আসলে সেটাও বেদখল হয় হরহামেশাই
বাবার কলমটা ক্লাসে ফাষ্ট হওয়া ছেলেটিকে পুরস্কার হিসেবে দিয়ে দিলো
বছরের শুরুতে যে বইগুলো আমার বলে দাবী করেছিলাম তাও ফিরিয়ে নিলো।

আমার বলে দাবী করা কোন কিছুই যখন আমার নয়
তখন ভেবেছিলাম সব কিছু আমাদের
আমাদের মানে আমার আর তোমার মিলে আমাদের
আমাদের বাড়ি,বাড়ির উঠোন,শানবাঁধানো পুকুর ঘাট
বেলকনীতে ঝুলানো ছোট ছোট টবে তোমার প্রিয় সব ফুল
আর একটা একক কোন স্বপ্ন,যার আছে রঙীন ডানা
ইচ্ছে মত উড়ে বেড়ানোর স্বাধীনতা।

আমি তবে ভুল ছিলাম,ছোটবেলায় এবং এখন
ছোটবেলায় আমার আমার করে দাবী করাটা আমার যেমন ভুল ছিলো
এ বেলায় আমাদের বলে দাবীকরাটাও ভুল ছিলো
কোন কিছুই কখনো আমার নয়,আমাদেরও নয়
সব কিছু তাদের,সব কিছু তোমাদের
মাঝখানে তাদেরটাকে আমার দাবী করে ভুল করেছি
তোমাদের স্বপ্নকে নিজের সাথে মিশিয়ে আমাদের দাবী করে ভুল করেছি
এখানে আমি বলতে কারো অস্তিত্ব অনেকটা কল্পনার মত
হয়তো আছি কিংবা ছিলাম অথবা নেই।

# হয়তো আছি কিংবা ছিলাম অথবা নেই।
জাজাফী
২৭ ডিসেম্বর ২০১৯
আলোরমেলা

আরও পড়ুনঃ পৃথিবীকে বাঁচাতে চায় এক বাঙালী কিশোরী।

ব্লাংক চেক

ফোর্থ গ্রেডে পড়ুয়া একটা ছেলের হাতে যদি এক মিলিয়ন ডলার ধরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে কি করবে সে? কয়দিন লাগবে খরচ করতে? সারা জীবন? নাকি কয়েক মাস কয়েক বছর?
সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়েই এক মিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলতে একটু চিন্তাও করতে হয়নি প্রিষ্টন ওয়াটারের।

প্রিস্টন ওয়াটার নামে ১১ বছরের একটা ছেলে। একদিন সে সাইকেল চালিয়ে বাড়ী ফিরছিল। হঠাৎ একটা গাড়ি তার সাইকেলে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা দিল। আর সাথে সাথে ও ছিটকে পড়ে গেল। প্রিস্টনের অবশ্য কিছু না হলেও ওর সাইকেলটা আর চালানোর মত রইলোনা। লোকটা একটু বকাঝকা করে পালিয়ে যেতে চাইছিল কিন্ত প্রিস্টন ওয়াটারস এর বন্ধু তাকে বাধা দিল। ক্ষতিপূরণ ছাড়া সে লোকটাকে যেতে দেবেনা। একে একে অনেক লোক জড়ো হলো। শেষে লোকটা একটা চেক বের করে তাতে ওর ক্ষতিপূরণ দিতে গেল। ঠিক এমন সময় দেখলো পুলিশ আসছে এই দেখে লোকটা তাড়াহুড়ো করে চেকে টাকার অংক না লিখেই প্রিস্টনের হাতে দিয়ে বিদায় নিল। বন্ধুরা ভাবতেও পারবেনা প্রিস্টন সেই ব্লাংক চেক নিয়ে কি করেছিল।

ও ছিল কম্পিউটারে ভীষন এক্সপার্ট আর তাই সেন্টাল ব্যাংকের সার্ভারে ঢুকে ওই একাউন্টে সার্চ দিল। প্রথমে ১০০ ডলার তার পর ও যখন দেখলো একাউন্টে ১০০ ডলার আছে সাথে সাথে ও সার্চ দিল দশ হাজার ডলার। প্রিস্টনের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। দেখা গেল ওই লোকটার একাউন্টে দশ হাজার ডলারও আছে। শেষে প্রিস্টন লিখবো লিখবো করে ১ মিলিয়ন ডলার লিখে সার্চ দিল। প্রিস্টন ওয়াটার কি দেখলো তা কি কেউ কল্পনা করতে পারবে? সে দেখলো সেই লোকটার একাউন্টে সত্যি সত্যি ১ মিলিয়ন ডলার আছে।

তুমি আমি হলে কি করতাম? এতো এতো ডলার আছে দেখে বেহুশ হয়ে পড়ে যেতাম। প্রিস্টন ওয়াটার কিন্তু বেহুশ হয়নি। মাত্র এগার বছর বয়সী এই ছেলেটি কি করলো তা ভাবতেই অবাক লাগে। সে সত্যি সত্যি তার সেই ব্লাংক চেকে ১ মিলিয়ন ডলার লিখে ক্যাশ হিসেবে চেক প্রিন্ট করে নিল। পরদিন সকালে সে সেন্ট্রাল ব্যাংকে গেল। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। তারপর সে যখন এক মহিলার কাছে চেকটা দিল মহিলা দেখেতো থ। সে ভাবলো বাচ্চা ছেলেটা মশকরা করছে। তাই সে ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে প্রিস্টনকে এবং সেই চেকটা নিয়ে গিয়ে তাকে সব বললো।

ম্যানেজার মহিলাকে বিদায় করে দিয়ে প্রিস্টনের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললো। তারপর কি হলো? ম্যানেজার চেকটা ছিড়ে ফেললো। বেচারা প্রিস্টন ওয়াটার যে আশায় চেকটা প্রিন্ট দিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তার কি হলো? তোমরা হয়তো ভাবতে পার সে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছিল আসলে তা নয়। ম্যানেজার চেকটা ছিড়ে ফেলেই সব ডলার মানে ১ মিলিয়ন ডলার ওকে দিয়ে দিল। ও ব্যাগ ভরে সেই ডলার বাসায় নিয়ে আসলো। ওদিকে লোকটা ডলার উঠাতে গিয়ে দেখলো তার একাউন্ট ফাকা। সে রাগে ম্যানেজারকে ধরে নিয়ে আসলো এবং সবাই মিলে বেরিয়ে পড়লো প্রিস্টন ওয়াটার নামে এগার বছরের ছেলেটাকে যে ব্লাংক চেক দিয়ে তাকে ফতুর করে দিয়েছে।
কি করেছিল এতো টাকা?

প্রিস্টন ওয়াটার কিন্ত খুব চালাক আর ভীষন স্মার্ট তাইতো মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সে সব ডলার খরচ করে ফেললো। কিভাবে খরচ করলো এত ডলার? এত ডলার আমাদের কাছে দিলোতো গুনেই শেষ করতে এক মাস লেগে যেত তাহলে সে কিভাবে খরচ করলো? সে দামি দামি শপিংমলে গেল শপিং করলো। দামি দামি গেম খেললো। ইচ্ছে মত খাবার খেল। বড়লোকদের নিয়ে পার্টি দিল আর একটা অফিস খুলে বসলো। সেই অফিসের মালিক মি.ম্যাকিনটোশ।

আসলে ওর কম্পিউটার মনিটরটা ছিল ম্যাকিনটোশ ব্র্যান্ডের সেই বুদ্ধি করে এই নামটা বেছে নিল। সব কিছু করে গেল মি.ম্যাকিনটোশের নাম করে। কেউ জিজ্ঞেস করলেই বলতে সে মি.ম্যানিকটোশের সহকারী। এভাবেই সে সব টাকা খরচ করে ফেললো। আসলেই কি মি. ম্যাকিনটোশ নামে কেউ ছিল? সব শেষে প্রিস্টন ওয়াটারস কে কি সেই চেকের মালিক ধরতে পেরেছিল? জানতে হলে দেখতে হবে অসাধারণ থেকে অসাধারণ এই সিনেমা ” ব্লাংক চেক” সিনেমার প্রতিটা অংশে আছে অন্যরকম আনন্দ আর উত্তেজনা। যা না দেখলে সিনেমা দেখার সার্থকতাই থাকবেনা।
…………………………………………………………………….

#জাজাফী

ব্লাংক চেক”
ক্যাটাগরিঃ শিশুতোষ
মুক্তির সনঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪
পরিচালকঃ রুপার্ট ওয়াইনরাইট
মূল লেখকঃ ব্লেক স্নেইডার
দৈর্ঘ্যঃ ৯৪ মিনিট

পৃথিবীকে বাঁচাতে চায় এক বাঙালী কিশোরী

বেগম রোকেয়াকে আপনি ধন্যবাদ দিতে পারেন।আজ যে আপনি বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন,উচ্চ শিক্ষা লাভ করছেন,অফিস আদালতে চাকরি করছেন তার পিছনে বেগম রোকেয়ার অনেক অবাদন রয়েছে।যে সময়ে নারীরা বাড়ির বাইরে পা ফেলার অধিকার পেতো না সেই সময়ে তিনি শিক্ষার জন্য লড়াই করেছেন। নারী জাগরণের অগ্রদুত বলা হয় তাকে।শুরুতে কেউ ভাবেনি জাগরণের সেই ডাক কতটা প্রভাব বিস্তার করবে।আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি বাঙ্গালী নারীরা পুরুষের সাথে সমান ভাবে প্রতিযোগিতা করছে।অফিস,আদালত,কল-কারখানা,আইনশৃংখলা বাহিনী থেকে শুরু করে পার্লামেন্টেও নারীদের জয়জয়কার।বাঙ্গালী নারী যে চেষ্টা করলেই অনেক কিছু পারে তা এখন দিনের আলোর মতই পরিস্কার।ওয়াসফিয়া নাজনীন কিংবা নিশাত মজুমদার লাল সবুজের পতাকা উড়িয়েছে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকা এভারেষ্টের চূড়ায়।সালমারা লাল সবুজের পতাকার ধারক ও বাহক হয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দেখিয়েছে।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সহ রাজনৈতিক নেতাদের বাইরে নারীদের সাফল্য এবং এগিয়ে যাওয়ার গল্পের কোন শেষ নেই।তারই ধারাবাহিকতায় ফাতিহা আয়াতের পর আরও একটি নাম যুক্ত হয়েছে, রেবেকা শবনম।গ্রেটা তুনবার্গের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে সে বিশ্বকে বাঁচানোর জন্য আওয়াজ তুলে বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে।বিশ্বের প্রবল প্রতাপশালী দেশ আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে সে যখন বলছে আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তখন লাল সবুজের পতাকাটি আরো খানিকটা সম্মানিত হচ্ছে।

মাত্র ছয় বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায় রেবেকা শবনম। গত ১০ বছরে দেশের স্মৃতি তার অন্তর থেকে ম্লান তো হয়ইনি বরং দেশের কল্যাণের ভাবনায় তার পরিকল্পনা দৃঢ়তর হয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত সপ্রতিভ ষোড়শী রেবেকা। আর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সে জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি ও তা মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

এইতো সেদিনের কথা।স্পেনের মাদ্রিদে চলছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের অধিকার আদায়ে ওই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একদিকে বাংলাদেশ সরকারের হয়ে প্রধানমন্ত্রী যেমন চেষ্টা করে যাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনি আন্দোলনকারীদের কাতারে থেকে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রেবেকা। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সে ম্যানহাটানে প্রায় দুই লাখ মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনরোধে সোচ্চার সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা তুনবার্গের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ম্যানহাটানে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের সামনের সারিতে ছিল রেবেকা শবনম। তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।তারপরই সে রাতারাতি পরিচত হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে।

বর্তমানে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত শবনমের চেষ্টা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সে বিষয়ে সবাইকে জানানো। নিউ ইয়র্কে হাজারো মানুষের সামনে সে বলেছে, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, যা জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।’ বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে সে।

আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেবেকা বলে, ‘ভেবেছিলাম, যখন বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হবে তখন সবাই চুপ থাকবে। তবে সবার সাড়া দেখে আমি নিজেই অবাক। এটা শুধু পরিবেশগত সংকট না, এটা মানবাধিকার সংকটও। বাংলাদেশের নারীরা পাচারের শিকার হয়। আর এটা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরো বেড়েছে। আমরা বাংলাদেশে থাকা নারী ও রোহিঙ্গাদের জানাতে চাই, তাদের জীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে আন্দোলন করছি আমরা। এখনও স্কুলজীবন শেষ হয়নি রেবেকা শবনমের। সে মনে করে, সামনে হাঁটতে হবে আরও অনেক পথ। ভয়াবহ ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের নারী, শিশু ও রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বের দরবারে কীভাবে সুবিচার প্রত্যাশা করা যায়, সেটাই তার চিন্তার মূল বিষয়। রেবেকা বলেছে, জলবায়ু আন্দোলনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ কেউ যেন ভুলে না যান, তা নিশ্চিত করতে লড়াই চালিয়ে যাবে সে।

আমাদের দেশে এমন রেবেকার সংখ্যা নেহায়েত কম নয়,যারা পৃথিবীকে বাঁচাতে চায়।শুধু জ্বলে ওঠার অপেক্ষায়।

ক্যাডেটের বাড়ি ফেরা

ট্রেনে ওঠার পর থেকে প্রান্তর যেন হাসি আর থামেইনা। যখন বাসায় ঢুকেছি তখনো সে হো হো করে হাসছে।আম্মু ওর হাসি দেখে অবাক হয়ে জানতে চাইলেন কি হয়েছে এতো হাসছিস কেন?কিন্তু প্রান্ত হাসবে, না ঘটনা বলবে?

প্রান্ত আমার ছোট ভাই।আমরা একই কলেজে পড়ি।কলেজে সিনিয়র জুনিয়রের মতই আচরণ করলেও বাইরে বন্ধুর মত।একসাথে কলেজ থেকে বাসায় আসি আবার ভ্যাকেশান শেষে একসাথেই ফিরে যাই।

বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল ছেলেরা ক্যাডেট কলেজে পড়বে।বাবা মায়ের স্বপ্ন পুরণ করতে গিয়ে সেটা কখন যেন নিজেদেরও স্বপ্ন হয়ে উঠেছিল।কিন্তু বাবা মা কিংবা আমরা কি আর জানতাম যে স্বপ্ন গুলো উল্টো হয়ে বুম্যেরাং এর মত ফিরে আসবে।বাবা মা ভাবতো ছেলেরা ক্যাডেট কলেজে পড়ছে বিশাল কিছু হচ্ছে কিন্তু বাইরের লোক কি ভাবতো সেটা কিন্তু বাবা মা জানে না। ভ্যাকেশানে বাড়ি ফিরছি।টাঙ্গাইল রেল স্টেশান থেকে ট্রেনে উঠেছি।যে কামরায় উঠেছি সেখানে একটা ছোট্ট বাচ্চা তার আম্মুকে বলছে আম্মু দেখ কত ছোট বাচ্চা পুলিশ!

ক্যাডেট কলেজ থেকে খাকি পোষাকে বাড়ি যাচ্ছি।আমি কিছু বলার আগেই আমার আদরের ভাইটা হো হো করে হেসে উঠলো। ট্রেনটা যখন পোড়াদাহ স্টেশানে থেমেছে তখন দুই ভাই নেমে গেলাম।একটু হাটাহাটি করছি এমন সময় এক লোক এসে আমার ভাইয়ের কাধে হাত রেখে বললো এই ছোকড়া আমার ব্যাগটা স্টেশানের বাইরে নিয়ে চল পাঁচ টাকা দিবো।

আগের বার প্রান্ত হো হো করে হাসলেও এবার রেগে গেল।বললো দেখেতো শিক্ষিতই মনে হচ্ছে কিন্তু কোট টাইয়ের ভিতরে যে আস্ত একটা গন্ডমুর্খ ঢুকে বসে আছে বুঝিনি।ওর কথায় লোকটা থতমত হয়ে গেল।আমতা আমতা করে বললো বুঝিনি বিষয়টা। তখন আমি বললাম, যে বোঝেনা তাকে বুঝাতে চাইনা।আমরা হেটে বেরিয়ে গেলাম।শুনলাম কেউ একজন বলছে আরে ভাই ওরাতো ক্যাডেট কলেজে পড়ে।

বাসে উঠে বসেছি, এমন সময় শুনি পিছনের সিটের এক মহিলা বলছেন এতো ছোট বয়সের কাউকে দারোয়ানের চাকরি দেওয়া ঠিক নয়!এবার প্রান্ত আবার হো হো করে হেসে উঠলো।সে দাড়িয়ে মজা করার জন্য বললো ইয়েস আন্টি! ইউ আর রাইট।বাট উই হ্যাভ নাথিং টু ডু। ইউ ক্যান নট চেঞ্জ দ্যা রুলস অব সোসাইটি। ওর পটরপটর ইংরেজী শুনে ভদ্রমহিলার মুখটা হা হয়ে গেল। সেই মুখ দিয়ে আস্ত একটা হাতিও ঢুকিয়ে দেওয়া যেত।

বাস থেকে নেমে দুই ভাই হাটছি আর কথা বলছি। কথায় কথায় প্রান্ত হো হো করে হাসছে।যাওয়ার পথে একজন বললো তোমরা কি আনসারের চাকরি করো? তা বেতন কত দেয়!এবার আমারও হাসি এসে গেল।প্রান্তর সাথে সাথে আমিও একচোট হেসে নিলাম।

আমাদের হাসা দেখে লোকটা ভেংচি কেটে বললো আনসারের চাকরি করো আর বেতন বলতে লজ্জা পাও? এতে হাসার কি আছে। তোমাদের সাত পুরুষের ভাগ্য যে তোমাদেরকে দারোয়ান না বানিয়ে আনসার বানিয়েছে।

বাসায় ফেরার পর প্রান্তর হাসি যখন থামছেই না আম্মু তখন আমাকে ধরলেন। আমি ঘটনাটা বলতেই আম্মুও হাসতে শুরু করলো।হাসি আসলে সংক্রামক। খুব সহজেই অন্যের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। আর আমাদের কলেজ জীবনটাও হাসি আনন্দে ভরপুর। এর পর ভাবতে থাকি ভ্যাকেশান শেষ করে ফিরে যাওয়ার সময় লোকে আর কি কি বলতে পারে।

৩০ ডিসেম্বর ২০১৬

ক্যাডেটের বাড়ি ফেরা

—————–
জাজাফী

#ক্যাডেট
#Cadet
#MCC

নেতার আদর্শ

খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসটা বরাবরই ধরে রেখেছেন।৩০ ডিসেম্বর সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে ইজি চেয়ারে বসলেন।বয়স ৯৭ বছর হয়ে গেলেও মনের দিক থেকে তিনি যেমন এখনো জোয়ান তেমনি নিজ পায়েই দাড়াতে,হাটতে পারেন।চোখের চশমার পাওয়ার অবশ্য বেড়েছে বেশ।এক কাপ চা হাতে নিয়ে টেলিফোন করলেন তাজকে।বললেন তুমি সোজা আমার বাড়ীতে চলে আসো।একসাথে মিলে বের হবো।

নুরজাহান রোড থেকে নজরুলকেও সাথে নিও।টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাজ বললেন ঠিক আছে আমি আসছি।তাজ এক মুহুর্ত দেরি না করে নিজের ভক্সওয়াগন নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন।নেতার কথা মত নুরহাজান রোড থেকে নজরুল সাহেবকে সাথে নিয়ে রওনা হলেন নেতার বাসার দিকে।নেতা তাদের দুজনকে দেখে বসতে বললেন।কাজের লোককে চা দিতে বলে তিনি উঠে দাড়ালেন।ওরা চা খেতে খেতে যেন রেডি হয়ে আসতে পারেন।মিনিট পাচেকের মধ্যেই নেতা ফিরে আসলেন।তার পর একসাথে বেরিয়ে পড়লেন।যেতে হবে শুক্রাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ে।ভোট দিতে হবে।গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে প্রত্যেকের উচিত যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া।

গাড়ী চলাচল নিষিদ্ধ হলেও তাদের গাড়ি কেউ আটকালো না।এই গাড়ির নম্বরই আলাদা।গাড়ি যখন শুক্রাবাদ স্কুলের সামনে নামলো তখন নেতা ভীষণ অবাক হলেন।কোথাও ভোটারদের লম্বা লাইন নেই।তিনি গাড়ী থেকে বাকি দুজনকে সাথে নিয়ে নামলেন।হেটে হেটে ভিতরে ঢুকলেন।কয়েকবার বাধার সম্মুখীনও হলেন। তার পর যখন ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের কাছে নিজের ভোটার নাম্বার দিলেন তখন তারা জানালো আপনার ভোটতো আগেই দেওয়া হয়ে গেছে!এ কথা শুনে নেতার বিস্ময়ের সীমা থাকলো না।সাথে তাজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন এবং ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।তারাও তাদের ভোটার নাম্বার দিয়ে জানতে চাইলেন সেগুলোর কি খবর।

পোলিং এজেন্ট জানালো আপনাদের ভোটও দেওয়া হয়ে গেছে।তিন মহান নেতা হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসলেন।নিজেদের ভক্সওয়াগনে চড়ে যেতে যেতে নেতা বললেন বুঝলে তাজ আমার স্বপ্ন সত্যি হলো না। সোনার বাংলা গড়বো বলে যে দেশ স্বাধীন করেছিলাম তা আর হলো না। নৌকার হাল বুঝি বেকে গেলো।নৌকার পরাজয় দেখবো ভাবতে পারিনি। অপশক্তিরা যেখানে জোর করে আমার ভোটটাও দিয়ে দিয়েছে সেখানে নৌকার জয়  হবে কি করে।

তাজউদ্দিন আর সৈয়দ নজরুলও হতাশ হলেন।ধানমন্ডি ৩২ এ গিয়ে চিলেকোঠায় বসে থাকলেন নিরবে।সন্ধ্যার পরফলাফল ঘোষণা হলো।দেখা গেলো শুক্রাবাদ স্কুলে সব ভোট নৌকায় পড়েছে,অন্য দল একটাও ভোট পায়নি।নেতার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।তিনি শুনতে পেলেন বাইরে মিছিল হচ্ছে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চলেছি।বুকে হাত দিয়ে তিনি চেয়ারে বসে পড়লেন।তাজউদ্দিন আর সৈয়দ নজরুল এগিয়ে আসলে তিনি জানতে চাইলেন তাজ তুমিকি বলতে পারো ওরা আমার কোন আদর্শ বাস্তবায়ণ করছে?

তাজউদ্দিনের মুখে কোন কথা বের হলো না।সৈয়দ নজরুল নেতার মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলেন।তারতো বলার মত ভাষা নেই।

২ জানুয়ারি ২০১৯

জাতিসংঘে ফাতিহা আয়াত

রূপকথার গল্প থেকে উঠে আসা কোন রাজকন্যার গল্প নয় আজ বরং আমরা শোনাবো সত্যিকারের এক রাজকন্যার কথা,যার কথার যাদুতে মুগ্ধ অসংখ্য মানুষ।আমেরিকার বুকে নিজেকে একটুকরো বাংলাদেশ করে রেখেছে।জ্যাকসন হাইটস হঠাৎ আলোকিত হয়ে উঠলো।যেন মনে হচ্ছিল একসাথে অনেক গুলো নক্ষত্র তাদের সমস্ত আলো নিয়ে জ্বলে উঠেছে।সব গুলো নক্ষত্রের ভীড়ে একটি ছোট্ট নক্ষত্রও ছিল কিন্তু কে জানতো ছোট্ট নক্ষত্রের আলোর রোশনাই অন্য সব নক্ষত্রকে ছাপিয়ে যাবে। আমেরিকার একটি টিভিচ্যানেল পুরো রমজান মাস ব্যাপী একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।সেই অনুষ্ঠানের নাম ছিলো রমাদান উইথ ফাতিহা।সেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলো ফাতিহা।আমরা যে রাজকন্যার গল্প শোনাবো বলেছিলাম সেই রাজকন্যাটির নাম ফাতিহা আয়াত।সাত বছর বয়স তার।যে বয়সে আমরা বাসায় মেহমান আসলে লুকিয়ে থাকি সেই বয়সে ফাতিহা অন্যদের শেখায়।জাতিসংঘের সদরদপ্তরে বিখ্যাত সব মানুষের সামনে বক্তব্য দেয়।ওর বক্তব্য শুনে অন্যরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে ফাতিহা জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছে।

গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় প্রচলিত নিয়মের বাইরে নিত্যনতুন পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে গণিত ও বিজ্ঞানের ভীতি দূর করার প্রয়াসের সে কাজ করছে।

ফাতিহা কেনেডি স্পেস সেন্টারে ২৭ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী বিখ্যাত নভোচারী ‘ডন থমাস’ এর সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে নভোচারী হওয়ার জন্য মূল্যবান দিক নির্দেশনা গ্রহণ করে।নানা বিষয় নিয়ে ফাতিহা সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করছে।আমরা যখন গাছ কাটি,আইসক্রিম খেয়ে যেখানে সেখানে খোসা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করি ছোট্ট ফাতিহা তখন পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য প্রতিবাদ করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ আগস্ট বিশ্ব যুব দিবসের অনুষ্ঠানে সে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছে। সেখানে সে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা যুবকদের দ্বারা বনাঞ্চল ধ্বংস ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে। এছাড়াও ১৬তম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলন ২০১৯, ইউএন ডে এবং উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাজেন্ডাতে অংশ নিয়ে শিশু নির্যাতন, লিঙ্গ বৈষম্য, পারিবারিক সহিংসতায় শিশুদের সমস্যা, শরণার্থী শিশুদের অমানবিক জীবন নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেছে।ওর বয়সীরা যখন কথা বলতেই ভয় পায় ফাতিহা তখন শিশুদের আনন্দময় শিক্ষার অধিকার নিয়ে কথা বলে।

বিশ্বব্যাপী শিশুদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বড় হয়ে সে এমন কিছু করবে যেন আর কোনো শিশু ক্ষুধা বা তৃষ্ণায় একটি দিনও না কাটায়। ফাতিহার মতে‘সন্তানকে মুখস্থ করাবেন নাকি আবিষ্কারের নেশা ধরিয়ে দেবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনার’ । ছোট্ট ফাতিহা ক্ষুধা,দারিদ্র ও শিশু কিশোর কিশোরীদের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে।এই পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে ফাতিহার সাথে কন্ঠ মেলাতে হবে।

কুরবানী ত্যাগ ও সন্তুষ্টি অর্জনের পথ

ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জল ঈদুল আযহা।আমাদের কাছে যেটি কুরবানীর ঈদ বলে বেশি পরিচিত।কোন কোন এলাকায় এটিকে বকরি ঈদও বলা হয়ে থাকে।মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম আঃ এর উপর পরীক্ষা স্বরুপ আল্লাহ কোরবানির বিধান আরোপ করেছিলেন যা পরবর্তীতে মুসলিমদের জন্য একটি অত্যন্ত ফজিলতপুর্ন ইবাদত হিসেবে গন্য হয়েছে।কুরবানী আমাদের শিক্ষা দেয় ত্যাগের,নিরহংকারী হওয়ার,অন্যের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের এবং সবর্পরি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজেকে সপে দেওয়ার।কুরবানীর মাধ্যমে সমাজে বৈষম্যের অবসান ঘটে এবং সবার মাঝে খুশির ঐকতান বেজে ওঠে।যারা আর্থিক ভাবে সচ্ছল তারা সারা বছরই ভালো খাবার খেতে পারে,ভালো পোশাক পরতে পারে।কুরবানির সময় সমাজের আপামর জনসাধারণ সবাই ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ পায়,ধনী গরীবের মধ্যে একটি ভালোবাসার সেতু তৈরি হয়।এটিই মুলত কুরবানির সব থেকে বড় শিক্ষা।ধনীর কুরবানির গোশতের একটি অংশ গরীবের জন্য বরাদ্দ থাকে ফলে কুরবানির অছিলায় গরীবের ঘরেও আনন্দের বান ডাকে।ধনীরা এই দিন আসেপাশের গরীব মিসকিনদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভালো খাবার খেতে দেয়,কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থও বিতরণ করা হয়।

মুসলিম বিশ্বে ঈদের দিনের মত আনন্দের আর কোন মুহুর্ত নেই।বছরে দুটো ঈদের মধ্যে কুরবানির ঈদ অন্যতম।নানা কারণে এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্ববহন করে।এমনকি রমজানের ঈদের চেয়েও তাই কুরবানির ঈদকে সবাই বড় ঈদ বলে মনে করে।বিশ্বজাহানের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর কাছেও এই দিনটি অত্যন্ত প্রিয়। এ প্রসঙ্গে একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দেওয়া যেতে পারে।আব্দুল্লাহ ইবনে কুত রা. থেকে বর্ণিত যে, প্রিয় নবী (সাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র নিকট দিন সমূহের মাঝে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দিন হলো কুরবানির দিন, তারপর পরবর্তী তিনদিন । কুরআনে সুরা হাজ্জ এ আল্লাহ বলেছেন “কখনই আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া ।এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহ্‌র শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছে; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে ।

Image result for কুরবানী ও শিশু

কুরবানির মাধ্যমে আমরা অনেক বিষয় শিখতে পারি।আত্মত্যাগ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি তার মধ্যে অন্যতম।এই দিনের রয়েছে গুরুত্বপুর্ন ইতিহাস।মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম আঃ স্বপ্নে দেখেন আল্লাহ তাকে তাঁর সব থেকে প্রিয় বস্তু কুরবানী করতে বলেছেন।তিনি প্রথমে দুম্বা তার পর উঠ কুরবানি করার পরও যখন একই স্বপ্ন আবার দেখলেন তখন তিনি ভেবে দেখলেন তাঁর সব থেকে প্রিয় নিজ পুত্র ইসমাইল।তিনি তখন পুত্রকে কুরবানি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিলেন।আল্লাহ সেদিন নিজ কুদরতে ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।সেই থেকেই কুরবানী ইব্রাহীমি সুন্নত বলে বিবেচিত হয়ে আসছে।কুরবানি সবার উপর ওয়াজিব নয় বরং বিশেষ কিছু শর্ত মিলে গেলে কুরবানী ওয়াজিব হয়।

কুরবানির দিনের রীতিনীতিঃ

  • কুরবানির পশু নিজে জবাই করা উচিত। জবাই করা সম্ভব না হলে অন্তত সামনে উপস্থিত থাকা উচিত।এমনকি রাসূল সাঃ হযরত ফাতেমা রাঃ কে বলেছিলেন কুরবানির সময় উপস্থিত থাকতে।
  • কুরবানির সময় উপস্থিত যাদের হাতেই ছুরি থাকবে তাদের বিসমিল্লাহ বলতে হবে।সেই সাথে ছুরিটি হতে হবে ধারালো।
  • কুরবানির গোস্ত নিজেরা খাওয়া যাবে,বিতরণ করা যাবে এবং ভবিষ্যতের জন্য জমা করা যাবে।তবে কুরবানি যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম তাই গরীবদের মধ্যে গোস্ত বিতরণ করা অতি উত্তম।
  • কুরবানি দাতা নিজে জবাই না করে অন্য কাউকে দিয়ে জবাই করলে তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত।কুরবানির গোস্ত ওইদিনই খাওয়া শুরু করা সুন্নত।
  • জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা গেলে শরীরের কোন চুল,নখ না কাটা উত্তম এবং কুরবানি করার পর কাটা সুন্নাত।
  • যদি কারো কুরবানি করার সামর্থ না থাকে তবে সে জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা গেলে শরীরের চুল,নখ কাটা থেকে বিরত থাকবে এবং কুরবানিরদিন এগুলো কেটে পরিস্কার করবে এটাই তার জন্য কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে বলে হাদিসে উল্লেখ আছে।
  • ৯ জিলহজ্জ ফজরের নামাজের পর থেকে ১৩ই জিলহজ্জ আসর পযর্ন্ত সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের উপর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব।
  • কুরবানির গোস্ত তিনভাগে ভাগ করে একভাগ নিজের জন্য রাখা এবং বাকি দুই ভাগের একভাগ গরীবদের আরেকভাগ প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মাঝে বন্টন করা মুস্তাহাব।তবে কারো পরিবারে লোক সংখ্যা বেশি হলে সবটুকু তারা নিজেরা খেতে পারবে।

কুরবানির পবিত্রতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী নতুবা কুরবানি কবুল হবে না।গোস্ত খাওয়ার নিয়তে কুরবানি করা যাবে না,হারাম উপার্জনের টাকায় কুরবানির পশু কেনা যাবে না।আল্লাহ খুশি হবেন আবার গোস্তও খাওয়া হবে এমন চিন্তা করে কুরবানি করা যাবে না।লোক দেখানোর জন্য অনেক দাম দিয়ে কিংবা বড় গরু কিনে কুরবানি দেওয়া যাবে না।যত টাকা দিয়ে গরু কেনা হয়েছে তা দিয়ে কত কেজি গোশত হয়েছে সেটার হিসাব করা যাবে না।পবিত্র কুরআনের এক আয়াতে বলা হয়েছে “ আর তোমাদের ধন সম্পত্তিতে রয়েছে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার” সুতরাং কুরবানির পবিত্রতা রক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কুরবানি করার নিয়ত করাউচিত এবং সমাজের বঞ্চিতদের মধ্যে কুরবানির গোশতের অংশ বিতরণের পাশাপাশি যতটুকু সম্ভব অসহায়দের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।

জাজাফী

৮ জুলাই ২০১৯

দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকাতে প্রকাশিত।