Home Blog Page 10

পৃথিবীর সর্বশেষ রাজকন্যা তোমাকে

প্রিয়ভাষিনী

আজ সম্ভবত প্রথমবারের মত তোমাকে লিখছি।প্রথমবারের মত লিখছি বলতে চিঠি লিখছি।এর আগে তোমার সাথে অনেক বার কথা হয়েছে কিন্তু কখনো এমন করে চিঠি লেখা হয়নি।যদি তুমি এই চিঠি পড়ে থাকো বা পেয়ে থাকো তবে মনে রেখো চিঠিটা শুধু তোমাকেই লিখছি।আশা করি অনেক ভালো আছ।শুধু আশা নয় আমার বিশ্বাস এ কটা দিন তুমি আগের চেয়ে বেশি ভালো আছে।এ কটাদিন যে চৈমনি রাজ্যের পাগল রাজপুত্র তোমায় ক্ষণে ক্ষণে জ্বালাতন করেনি।

পৃথিবীর সর্বশেষ রাজকন্যা

তোমার জন্য কোন উপহার নয় কোন ফুল নয় কোন দামী সামগ্রী নয় কিছুই আনিনি শুভেচ্ছার ডালা সাজিয়ে।হ্যা তোমাকেই পৃথিবীর সর্বশেষ রাজকন্যা বলেছি।অন্তত আমার ভাষায় এটাই সত্যি।কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে যখন তোমায় লিখছি তখন তুমি অনেক দূরে।ঠিক কত দূরে তা আমার জানা নেই।জানা নেই ঠিক এই সময়ে তুমি কি করছো।আমি যখন তোমায় নক করিনি তখন তুমি নিশ্চই ভেবেছ যাক ভালো হলো মানুষটার যন্ত্রনায় আর বাচিনা।কিন্তু তোমাকে অবাক করে দিয়ে আবার ফিরে এলাম।একবুক ভালোবাসা দিতে পারি বা না পারি সে কথা দিতে পারবো না তবে কখনো দুঃখ দেবোনা এটা অন্তত কথা দিতে পারি।

সুহাসিনী

ক্রেমলিন থেকে মস্কো কিংবা আরো দূরে প্যারিস থেকে আগ্রা হয়ে তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে এমন কোন ভূবন আমি তৈরি করবো যেখানে তোমাকে দুঃখ দেওয়ার মত কেউ থাকবে না।মেসিরা ফুটবলে গন্ডায় গন্ডায় গোল খেয়ে কাদলে কাদুক তোমাকে যেন কাদতে না হয়।কিন্তু এসব নিছক আমার কল্পনা ছাড়া কিছু নয়।দিনের আলো নিভে যেতে যেতে যখন আরেকটা রাত নেমে আসে তখন মনে হয় জীবনে আরো একটি দিন নিছক ছেলেমানুষী করে কাটিয়ে দিলাম।চা বাগানের প্রতিটি সবুজ পাতায় যখন ভোরের শিশির জমে থাকে তখন সেটাতে সুর্যের আলো পড়ে চিকচিক করে।তোমার হাসিটাও ঠিক তেমনই।হীরে বসানো সোনার ফুলের মতই দামী সেটা আমার কাছে।

স্বর্ণকিশোরী

কত কিছু লিখতে ইচ্ছে ছিলো তোমাকে কিন্তু লিখে আর কি হবে বলো।তোমার কি আর অতো সময় আছে চৈমনি রাজ্যের ভিখারী রাজপুত্রের লেখা পড়ে সময় নষ্ট করার।তোমার প্রতিটি মুহুর্ত কতনা দামী।দূরে বসে প্রতিদিন প্রতিক্ষন যখন তোমায় ভাবি মনে হয় তুমি দূরে নও এইতো আমার আঙ্গীনা জুড়ে।হৃদয়ের প্রতিটি ভাজে ভাজে তোমায় খুজে পাই।তুমি বাস্তবে থাকো বা না থাকো জেনে রেখো আমি এমন করে তোমায় আজীবন খুজে নেব হৃদয় থেকে হৃদয়ে।

ভরা পুর্নিমার সমস্ত জোছনা তোমার জন্য।সুনীল আকাশে ভেসে যাওয়া সাদা মেঘ গুলো তোমার জন্য।বর্ষায় গ্রামে গ্রামে যত কদম ফুল ফোটে তাও তোমার জন্য।তোমার জন্য আমার এক আকাশ নীল,তোমার জন্য শাপলায় ঘেরা আমার নকখোলার বিল।আকাশে ডানা মেলা শঙ্খচিল।তোমার জন্য সমুদ্রের সবগুলো ঢেউ,লুকা প্যাসিওলির সবগুলো সমীকরণ,সূত্র।তোমার জন্য পিসার হেলানো টাওয়ার,চীনের মহাপ্রাচীর,মস্কোর ঘন্টা,ব্যাবিলনের শুন্যউদ্যান কিংবা আগ্রার তাজমহল এসবের কোনটাই দেবার ক্ষমতা আমার নেই।তোমার জন্য আমারা শুধু জোড়াতালি দেওয়া ভালোবাসাটুকু আছে।তা যদিও তোমার কোন কাজে আসবে না তবুও ভাবছি যত্ন করে রেখে দেই।যদিও কখনো তোমার দরকার হয় তখন তুমি নিও।

মুক্ত বিহঙ্গের মত আকাশে উড়ে বেড়াও হে শতডানার রঙীন প্রজাপতি।তোমার জন্য এ আমার অনন্ত শুভকামনা।

তোমাকে ভাবনা করি প্রিয়

জাজাফী

২৬ জুন ২০১৮

তুমি এখন ব্যস্ত ভীষণ

কথা হয়না মোটেও

আগের মত দেখিনা আর

হাসি তোমার ঠোটেও।

আগের মত তোমার জন্য

হাসপাতালে সুবিধার তুলনায় বর্ধিত ফি কেন?

আমাদের দেশ ক্রমাগত ভাবে উন্নত হচ্ছে।জীবন যাত্রার মান বাড়ছে সেই সাথে বাড়ছে নিত্যদিনের খরচ।সেই তুলনায় বাড়ছেনা আমাদের মত নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের উপার্জন।মূল্যবৃদ্ধির দিক দিয়ে সব থেকে এগিয়ে আছে হাসপাতাল গুলো।সেবার মান বাড়ুক বা না বাড়ুক তারা ঠিকই রোগী থেকে উচ্চ মূল্যে চার্জ আদায় করছে।স্কয়ার,এপোলোর মত বড় হাসপাতালগুলোর কথা বাদই দিলাম আসুন আমরা সাধারন মানের হাসপাতালগুলোর দিকে তাকাই।যেখানে দেখতে পাই এক একটি কেবিন ভাড়া তারা চার হাজার থেকে আট হাজার টাকা আদায় করছে।যদি গড়পরতায় চার হাজার টাকা হিসেবে ধরি তাহলে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চার্জ হচ্ছে শুধু মাত্র একটি দেড়শো থেকে দুইশো স্কয়ারফিটের রুমের জন্য।মনে করি ওই রুমে সারা মাসের ত্রিশদিনই রোগী থাকছেনা।সে ক্ষেত্রে আমরা আনুমানিক দশদিন রোগী থাকবে বলে ধরে নিলে দেখা যাবে ভাড়া আদায় হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা।কী আছে ওই রুমে,ওই কেবিনে? যেখানে প্রতিদিনের জন্য ৪ হাজার বা তার বেশি টাকা ভাড়া আদায় করা হবে?একটা ফ্রিজ আছে।

সারা দিন ফ্রিজ চললে কতটুকু বিদ্যুত খরচ হয় তা আমাদের কম বেশি সবার জানা।একটা ফ্রিজের দাম কত তাও আমাদের অজানা নয়।রুমে একটা টিভি আছে সেই টিভির দাম এবং সারা দিন টিভি চালালে বিদ্যুৎ কি পরিমান খরচ হয় তাও আমাদের অজানা নয়।আর আছে একটা এসি।সেই এসি সম্পর্কেও আমাদের ধারনা কম নয়।সব মিলিয়ে কোন ভাবেই রুমের ভাড়া প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা হতে পারেনা।৮ হাজার টাকার হিসাব বাদই রাখলাম।

এই ঢাকা শহরের সব থেকে অভিজাত এলাকায় বিলাশবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়া যায় ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়।যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকে কম পক্ষে চার থেকে ছয়টি বেড রুম, চারটি বাথ রুম দুইটি বারান্দা,ড্রয়িং,ডায়নিং আরো অনেক কিছু।সব কিছু বাদ দিয়ে যদি আমরা শুধু বেড রুম ধরে হিসাব করি তাহলে দেখতে পাই চার রুম হিসেবে প্রতি রুমের ভাড়া আসে মাসে ৩০ হাজার টাকা বা তার কিছু বেশি।তার মানে প্রতিদিনের হিসাবে মাত্র ১০০০ টাকা।পাশাপাশি বাকি সুবিধার কথা বাদই দিলাম।সেই অ্যপার্টমেন্টে সারা বছর এসি চলে,গিজার চলে, টিভি ফ্রিজতো চলেই।দেখা যাচ্ছে সব ফ্যাসিলিটি থাকার পরও রুম প্রতি খরচ ২০০০ টাকার অধিক হয়না।তা ছাড়া সেই রুম গুলোও হাসপাতালের নাম মাত্র কেবিনের মত কবুতরের বাসা নয়।

একটা সাধারণ মানের হাসপাতালে দেড়শো স্কয়ারফিট বা তার কিছু বেশি বড় একটা কেবিনের ভাড়া তাহলে কি করে ৪০০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকা হতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়।এমনকি নন এসি হলেও সেই সব রুমের ভাড়া ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকা বা তার কিছু বেশি।এখন আমরা যদি একটু ভাল করে দেখি তাহলে এসি এবং নন এসির ভাড়ার তারতম্য দেখতে পাই প্রায় দ্বিগুন।নন এসি রুমে শুধু মাত্র এসি এবং ফ্রিজ নেই।একটা এসি এবং একটা ফ্রিজের জন্য দিনে ২০০০ বা তার বেশি টাকা চার্জ করা হয় কি করে তাও আমাদের ক্ষুদ্র মস্তিস্কে ধরেনা।যদি বলা হয় সব কিছুর সাথে আয়া বুয়া,প্রতিদিনের ডাক্তারের ভিজিট সব কিছুর চার্জ সহ ওই পরিমান ভাড়া আসে তাহলেও সেটা অতিরিক্তই মনে হয়।ডাক্তার দিনে একবার ভিজিট করলে তার চার্জ যদি আমরা ৫০০ টাকা ধরি আর নার্সের জন্য ৩০০ টাকা ধরি তাহলে মোট ৮০০ টাকা হয়।পাশাপাশি আয়া বুয়ার চার্জ কত সেটা প্রত্যেকেই জানি।সেটা ধরলেও দেখা যাচ্ছে ১০০০ এর বেশি চার্জ হচ্ছেনা।কিন্তু সেটা কোন ভাবেই ৪০০০ টাকা হতে পারে না।

আমরা ওই সব কেবিনে মাসে দশদিন রোগি থাকবে বলে ধরেছি।কিন্তু দেখা যায় প্রায় পচিশ দিনই কেবিন গুলো পরিপুর্ন থাকে।তাহলে এক রুমের ভাড়া আদায় হচ্ছে আড়াই লাখের বেশি।যেখানে এই শহরের সব থেকে বিলাশবহুল ডুপ্লেক্সের ভাড়াই আড়াই লাখ টাকা নয় সেখানে একটা রুম থেকে সাধারণ মানের একটা হাসপাতাল ভাড়া আদায় করছে আড়াই লাখ বা তারও বেশি টাকা।স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এগুলোর দিকে কোন দিন নজর দিয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই।

এই দিক গুলোতে নজর দেওয়া সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।আমাদের কারো এতো বেশি টাকা নেই যে ওই পরিমান ভাড়া দিতে আমাদের গায়ে লাগবেনা।এ গুলো যে অনিয়ম এবং অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে তা আমাদের মত ক্ষুদ্রজ্ঞান সম্পন্নরাও বুঝতে পারে কিন্তু যাদের বুঝার কথা তারাই বুঝতে চায়না। একটা ছোট্ট কেবিনে দু্ইটি সাধারণ সিট এবং সাধারণ সুবিধার বিনিময়ে এতো গুলো টাকা চার্জ করা কোন ভাবেই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করিনা।

এবার আসি ডাক্তারদের বিষয়ে।সেবার ব্রত নিয়ে আমরা চিকিৎসা বিদ্যা পড়তে শুরু করি কিন্তু দিন যায় আর আমাদের চিন্তা চেতনার পরিবর্তন হতে থাকে।ডাক্তার মাত্রই রোগীর এক আস্থার স্থান।টাকার বিনিময়ে হলেও সে ঠিকই সেবা দিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু টাকার পরিমানটার দিকে তাকালে সেটি আৎকে ওঠার মত অবস্থা হয়।অধিকাংশ হাসপাতালে একটা শিশুর জন্মের সময় সিজারের জন্য শুধু মাত্র ডাক্তারের ফি দিতে হচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।একজন ডাক্তার তার পড়াশোনার জন্য অনেক শ্রম দিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি তিনি অর্থ খরচ করেছেন।কিন্তু সেই অর্থ ওঠানোর জন্য সিজারের সময় এতো টাকা চার্জ নেওয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করিনা।সে যদি পাঁচ হাজারের পরিবর্তে তিন হাজার টাকা চার্জ করতো তাহলে নিশ্চই তার খুব বড় কোন ক্ষতি হতনা। উপরন্ত রোগী এবং তার পরিবারের জন্য সেটা বড় ধরনের উপকার হতো বলেই মনে করি।

সিজারের সময় ওষুধ থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি রোগি কর্তৃক সর্বরাহ করা হয়ে থাকে।এমনকি রোগি ওটিতে নেওয়ার আগে বন্ডে সাইন করা হয় যে রোগির যে কোন ক্ষতি হলে ডাক্তার দায়ী থাকবে না।এখন দেখা যাচ্ছে ডাক্তার শুধু মাত্র রোগির শরীর কেটে শিশুটিকে সুন্দর ভাবে বের করে আনছে এবং আনুষাঙ্গিক কাজ করছে।সময় লাগছে সর্ব সাকুল্যে আধা ঘন্টা।এই আধাঘন্টার জন্য তাকে চার্জ হিসেবে দিতে হচ্ছে নুন্যতম ৫ হাজার টাকা।যেহেতু ওটিতে একাধিক ডাক্তার থাকেন তাই সব মিলিয়ে চার্জ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার কাছা কাছি চলে আসছে।অথচ তারা একটু সদয় হলেই এই চার্জ কমিয়ে আনতে পারতো।আমাদের দেশে সেবা দান কারী বলে যারা আছেন তারা আসলে সেবা দান করছেনা বরং সেবা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছে।

৫ জানুয়ারি ২০১৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের দিন

যারা যায় তারা কেউ কোন দিন ফিরে আসে নাকো
রেখে যায় কিছু স্মৃতি,বলে যায় তুমি ভালো থাকো।

ভালো থাকা না থাকায় যে গেলো তার কিবা যায় আসে
যখন একাকী আমি তখনোতো কেউ তার পাশে।

চোখে চোখ রেখে দিনমান হাসি গান খুনসুটি হোক
কেউ যেন না ভাবে কারও কারও সুখ বুঝি আমাদের শোক।

ততোটা খারাপ নই কেউ কভু চলে গেলে অভিশাপ দেব
না থাকা মানুষটি কোথায় কেমন আছে আজীবন তার খোজ নেব।

যারা গেলো তারা যেন ভালো থাকে, জীবনটা হোক মধুময়
কেমন আছো বলবোনা আবারও যদি দেখা হয়।

আমি জানি ভালো আছো, কেমন আছ সে প্রশ্ন করবোনা আর
কাটুক আনন্দে,হাসি গান উল্লাসে তোমাদের এই অভিসার।

তারপর যদি কোন ভোর আসে আকাশটা কালো মেঘে ঢাকা
সব আছে তারপরও যদি কভু লাগে ফাঁকা ফাঁকা।

ডাক দিও প্রয়োজনে আগের মতই আমি ছায়া দেব, রবো পাশে পাশে
আমি চাই কালো মেঘ না জমুক কোনদিন তোমার আকাশে।

এতোদিন মিছেমিছি ভয় হতো এই বুঝি চলে গেলো কেউ
এই বুঝি স্বপ্ন ভেঙে উঠলো বুকে ভাঙনের নিদারুণ ঢেউ।

এখন আর ভয় নেই চলে গেছে যে কখনো এজীবনে ছিলোই না কভু
কতনা আপন ছিলো, মিছেমিছি তাকে ঘিরে স্বপ্ন ছিলো তবু।

তবে আর যাই হোক ভালো থাক যে যেখানে আপনার মত
কারো মনে না থাকুক আজীবন বয়ে চলা ক্ষত।

হয়তো ছিলোনা কভু আমাদের দিন
কারো কাছে জমা নেই কারো কোন ঋণ।

জাজাফী
১৮ মার্চ ২০২০

এতিম শহর কিংবা সৎ বাবার সংসারে বসবাস

কী এক আশ্চর্য টানে প্রতিনিয়ত অগণিত মানুষ গ্রাম,গঞ্জ,মফস্বল শহর ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছে এক যাদুর শহরে যার নাম ঢাকা। নাম ঢাকা হলেও আদতে তার পুরোটাই খোলা। ডাস্টবিন খোলা,ড্রেন খোলা,ম্যানহোল খোলা,ওবারব্রিজের ছাদ খোলা।অগণিত মানুষের ঘুমানোর জন্য কোন ছাদ নেই।তারা প্রতি রাতে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটায়। দূর থেকে আশ্চর্য মায়াবী শহরটির সৌন্দর্য কল্পনা করে ছুটে আসা মানুষগুলো দুদিনেই বুঝতে পারে সবটাই ভ্রম,ভিতরে ভিতরে শহরটা নষ্ট হয়ে গেছে। কংক্রিটের এই শহরে বিশুদ্ধ বলে যা কিছু আছে ভিতরে ভিতরে কোনটাই বিশুদ্ধ নয়। ঢাকা শহরের বতর্মান অবস্থা দেখে অনায়াসে বলা যায় এটি একটি এতিম শহর। এর পিতা মাতা বলে কিছু নেই। যদি থাকতো তবে অযত্ন অবহেলায় আজ এর এমন করুণ অবস্থা হতো না। আর এ শহরে যারা বাস করছে তারা যেন সৎ বাবার সংসারে বসবাস করছে। একান্তুই যারা ঢাকা শহরকে এতিম হিসেবে মেনে  নিতে রাজি নন তাদের জন্য বলা যেতে পারে ঢাকা শহর এতিম না হলেও সৎ বাবার সন্তান হিসেবে দিন কাটাচ্ছে। নগর পিতা বলে আমরা যাদের সম্মোধন করছি তারা সৎ বাবার ভূমিকায় অভিনয় করছে। যে বাবা সৎ সন্তানের কিসে ভালো হয় কিসে মন্; হয় তা নিয়ে কোন মাথা ব্যতা নেই। সৎ ছেলে কোথায় গেলো না গেলো, কি খেলো না খেলো তাতে তার কিছুই যায় আসে না। এতিম অথবা সৎ বাবার সন্তান বলেই  ঢাকা শহরের আজ করুণ অবস্থা।

চর্মচক্ষু দিয়ে যারা ঢাকা শহরের সুউচ্চ ভবন,ফ্লাইওভার,মেট্রোরেল,বিলাসবহুল সিনেমা হল,নামি দামী রেস্টুরেন্ট,শপিংমল আর রাস্তার দামি দামি গাড়ি দেখে এ শহর উন্নতির দিকে যাচ্ছে ভেবে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন তারা নিছক একটা অংশ দেখেছেন যা তাদের সামনে। ধারনক্ষমতা বলে একটি কথা আছে যা এ শহরের বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কোনদিন ভেবেও দেখেনি।তারা মনে করেন শহরের আবার ধারণ ক্ষমতা কি?শহরতো শহরই। সামান্য একটি লিফটেও যেখানে বলে দেওয়া হয় ধারণ ক্ষমতা 8জন বা 10 জন সেখানে একটা পুরো শহর সেসবের বাইরে। তরতর করে গড়ে উঠছে সুউচ্চ ভবন।কোনটি দশতলা,কোনটি বিশতলা আবার কোনটি ত্রিশ তলা।আমাদের নীতিনির্ধারকেরাই সেগুলোর অনুমদোন দিচ্ছেন। কিন্তু যেখানে দশতলা,বিশতলা বা ত্রিশতলা ভবন গড়ে উঠছে সেখানকার ধারণক্ষমতা কতটুকু?ঐ যায়গাতে যে পরিমান মানুষ বসবাস করতে শুরু করবে তাদের জন্য পযার্প্ত বিশুদ্ধ পানি,বিশুদ্ধ বাতাস,খেলার মাঠ কি আছে?সেসব না ভেবেই সুউচ্চ ভবন নির্মানের অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতো মানুষের জন্য যে পরিমান অক্সিজেন দরকার সে পরিমান সবুজায়ন কি  আমরা করতে পেরেছি। এতো মানুষের জন্য বিদ্যুৎ,গ্যাস,পানি সবর্রাহ কোথা থেকে আসবে? পয়োনিষ্কাষন ব্যবস্থার কি হবে? রাস্তাঘাটে যানবাহনের যে চাপ তৈরি হবে সেগুলো কি কেউ একবারও ভেবে দেখেছে?

এ শহরকে তাই বড্ড এতিম নয়তো সৎ বাবার সন্তান বলে মনে হয়। তাইতো নগরপিতা বা আর যারাই দায়িত্বে আছেন তারা সেসব ভাবেন না। সৎ সন্তান গোল্লায় গেলেইবা কার কি! যেখানে পাঁচতলা ভবন থাকার কথা সেখানে বিশতলা ভবন হচ্ছে। পাঁচটি পরিবারের স্থলে ঠাই নিচ্ছে পঞ্চাশটি পরিবার। যে ছোট্ট খেলার মাঠে বিশজন শিশু নির্বিঘ্নে খেলতে পারতো সেখানে খেলতে আসছে দুইশো শিশু। আর এভাবেই কদিন বাদে সেই খেলার মাঠগুলোও চলে যাচ্ছে প্রাইভেট ক্লাবগুলোর হাতে। তার পর নির্দিষ্ট কিছু শিশুরাই কেবল সেখানে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।আবাহানী মাঠ থেকে শুরু করে কলাবাগান,উত্তরা,গুলশান এতিম শহরের সবর্ত্রই একই অবস্থা।এতিম শহরে পার্ক বলে সেই রমনা পার্ক আর  বোটানিক্যাল গার্ডেন ছাড়া আর কিছু নেই। দুটোর যে কোনটিতে পৌছাতে হলে বাসা থেকে দুই তিন ঘন্টা সময় হাতে নিয়ে বেরোতে হবে। বাকি দু চারটা বেসরকারী পার্ক নামে মাত্র পার্ক হিসেবে চলছে। কাকের পিঠে ময়ুরের পেখম লাগিয়ে ময়ুর নাচ দেখানোর মতই অবস্থা।একটা ফোয়ারা,দুটো দোলনা আর পায়ে হাটা পাথর বসানো পথ নিয়ে সেগুলো পার্ক নামধারণ করে আছে।সবুজের নামগন্ধও নেই বলা চলে। আমাদের মধ্যে সমন্বয়ের বড়ই অভাব। সংসদে কেউ যখন কোন প্রস্তাব উত্থাপন করেন সেটি পাশ হয় হ্যা অথবা না ভোটের মাধ্যমে। কারো কোন যৌক্তিক মতামত নেওয়া হয় না।আনীত প্রস্তাবের কোন অংশ সংযোজন বা বিয়োজনের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না সে ব্যাপারে মতামতের সুযোগ খুবই কম। সরাসরি হ্যা অথবা না করে দেওয়ার মতই এ শহরের অভিভাবকেরা কারো কোন মতামত না নিয়ে নিজেদের খেয়ালখুশি হতো যা খুশি করছে।

এতিম শহরের মানুষগুলোও এতিম কিংবা সৎ মায়ের সংসারে বড় হওয়া সন্তানের মত। আমরা সবাই সৎমায়ের সংসারে বড় হচ্ছি।তবে একটা কথা বলতে হয় অনেক সৎমা তার সব সন্তানকে নিজের সন্তানের মত লালনপালন করে থাকেন কিন্তু এ শহরের দায়িত্ব নিয়ে যারাই বেসেছেন তারা সেই সব সৎ মায়েদের ভুমিকায়ও অবতীর্ন হতে পারেন নি। তাই তাদেরকে সৎ মায়ের সাথে তুলনা করলে প্রকারান্তে অসংখ্য ভালো সৎ মাকে ছোট করা হয়।আমরা কিসে ভালো থাকবো,কিসে আমাদের ভালো হবে তা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই।আমাদের মতামতের কোন দাম নেই।উন্নয়নের সংজ্ঞা আমাদের শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা যা শেখাচ্ছে সেটাই সব,আমাদের মত করে বলার কিছু নেই।

মেট্রোরেল হচ্ছে,ফ্লাইওভার হচ্ছে,টানেল হচ্ছে এগুলো অবশ্যই অবকাঠামোগত উন্নয়ন। কিন্তু আমাদের কি চাই আর কি চাই না তা কেউ জানতে চায়নি। পরিবারের পাচজন সদস্যের জন্য যখন একটি টেলিভিশন থাকে তখন সবার পছন্দ এক হবে এমন নয়।কেউ খবর দেখবে,কেউ খেলা দেখবে,কেউ সিরিয়াল দেখবে আবার কেউ কার্টুন দেখবে।এখন অভিভাবক তকমা গায়ে লাগিয়ে রিমোর্ট হাতে আপনি যদি আপনার ইচ্ছেমত চ্যানেল চালিয়ে রাখেন তবে বাকিরা নিজেদের সৎ মায়ের সন্তান নয়তো এতিম ভাবা ছাড়া আর কি করতে পারে? এ শহরে কত শ্রেণীর মানুষ আছে,সবার চাহিদা আলাদা,মতামত ভিন্ন। কিছুদিন আগেও নেতারা বাসযোগ্য ঢাকা গড়বো স্লোগান শুনিয়ে ভোটরদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাসযোগ্য ঢাকা আসলে কি সেটা কি তারা কখনো আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন? তারা যে ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে চায় সেটা কাদের জন্য? টিভি রিমোর্ট হাতে নিজের পছন্দের চ্যানেল চালিয়ে রাখা অভিভাবকের মত তারাওকি নিজেদের মত করে বাসযোগ্য ঢাকা তৈরি করবে।

বাসযোগ্য ঢাকা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে বিভিন্ন রকম হতে পারে।তরুণ যুবকেরা কিভাবে দেখে বিষয়টি,শিশু কিশোরদের জন্য বাসযোগ্য ঢাকা কেমন হতে পারে?গৃহীনী নারীর চোখে বাসযোগ্য ঢাকা কেমন আর কর্মজীবী নারীর চোখে কেমন তা জানার মানুষ নেই। বরং কারো কাছ থেকে এসব না জেনে নগরপিতারা নিজেদের মত করে বাসযোগ্য ঢাকা গড়বে।সেই ঢাকা এতিম শহর বাসির জন্য বরাবরের মতই এতিম শহর হিসেবে থাকবে নাকি পরিবর্তন আসবে তা আমরা জানি না।বয়স্ক মানুষের জন্য বাসযোগ্য ঢাকার সংজ্ঞা যেমন হবে তরুণদের জন্য তা নাও হতে পারে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরাও নিশ্চই তাদের মত একটি শহর কল্পনা করে যেখানে তাদের সুযোগ সুবিধাগুলো থাকবে।পাজেরোতে চলাচলকারী আর পায়ে হাটা দিনমজুরের চোখে বাসযোগ্য ঢাকা একরকম হবে না।সংস্কৃতিকর্মীরা চাইবে যেন পযার্প্ত সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ থাকে। কিন্তু কোন দিন এসব নিয়ে কেউ ভাবেন না। হাতে রিমোর্ট পাওয়ার পর কোন চ্যানেল চলবে তা তারা নিজেরাই ঠিক করেন। এতিম শহরবাসীর আর বলার কিছু থাকে না। তারা বার বার ঠকে। অগত্যা নিজেদের ভাগ্যকে দোষ দেয়। দূর থেকে ঝাউবন ভেবে ছুটে এসে এ শহরের মানুষগুলো উলুখাগড়ার স্তুপ দেখে শুরুতেই যে হোচট খায় তা বয়ে চলে বাকি জীবন। খুব কম মানুষই এই মিছে মায়া কাটিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে।

আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান দিয়ে নিজেরাই নানা ভাবে এনালগে আটকে আছি। নির্বাচনী প্রচারনায় কোটি কোটি পোষ্টারে ছেয়ে ফেলি গোটা শহর। শহরটাকে যারা পরিস্কার রাখবে বলে দায়িত্ব নিতে চায় তারাই এটিকে সবচেয়ে বেশি নোংরা  করে রাখে। সাধারণ জনগণ পোষ্টার,ব্যানার,ফেস্টুন,বিলবোর্ড লাগায় না,ওগুলো সব অভিভাবক তকমা গায়ে লাগানো সৎ বাবাদের কাজ। দিন যতই যাচ্ছে এ শহরের অবস্থা আরও করুণ হচ্ছে। কোথাও কোন কিছু পরিকল্পিত ভাবে হচ্ছে না। আমরা হরহামেশাই রাস্তাখোড়াখুড়ি দেখতে পাই। আজ সুয়ারেজ লাইনের কাজের জন্য খোড়া হচ্ছে তো কিছুদিন পর গ্যাস লাইনের জন্য ভালো রাস্তা আবার খোড়া হচ্ছে।সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে,জনদুর্ভোগ হচ্ছে। অথচ সঠিক পরিকল্পনা  থাকলে রাস্তা একবার খুড়েই সবগুলো সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যেতো। সবকিছুর একটি ধারণ ক্ষমতা থাকে। এ শহরেরও ধারণ ক্ষমতা সীমিত অথচ এর জনসংখ্যা এর ধারণ ক্ষমতাকে অতিক্রম করে গেছে বহু আগেই।তারপরও প্রতিনিয়তই লাখ লাখ মানুষ এ শহরে হাজির হচ্ছে অন্ধ মোহে।আমরা এই মোহ থেকে মানুষকে বাচাবার জন্য উদ্যোগ নিতে ব্যার্থ হয়েছি।ফলে দুর্গতি আরো বাড়ছে। বিদ্যুৎ,গ্যাস,পানির সংকট প্রকট হচ্ছে।রাস্তায় যানবাহন বাড়ছে,যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বাতাস দুষিত হচ্ছে,শহরের উপর চাপ বাড়ছে, রোগাক্রান্ত হচ্ছে সব বয়সী। একটি বেলুন আপনি চাইলেই ইচ্ছেমত ফুলাতে পারবেন না। তার একটি ধারণক্ষমতা আছে। তার বেশি ফুলাতে চাইলে তা ফেটে যাবে। এ শহরের ধারণক্ষমতা অনেক আগেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে।এর পরও যদি এভাবে চাপ বাড়তে থাকে তবে বেলুনের মতই এ শহরটা ফেটে যাবে। আমাদের এতিম শহরটাকে বাচাতে হবে। আমরা সৎ মায়ের সংসারে বেড়ে ওঠা সন্তানেরা কিছুই করতে পারছি না। যে দুজন নগরপিতার আসনে বসেছেন তারা এ শহরের সত্যিকারের বাবা হবেন নাকি সৎ বাবা থেকে যাবেন তার উপর নির্ভর করছে শহরের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে দাবার ঘুটির মত চিন্তা ভাবনা করে পদক্ষেপ নিতে হবে।যেখানে একটি সৈন্য যেমন গুরুত্বপুর্ন তেমনি ঘোড়াও গুরুত্বপুর্ন।শুধু রাণী বাচিয়ে চলতে গেলে একসময় একটা সৈন্যও অবশিষ্ট্য থাকবে না আর তখন রাজ্য হারা হতে হবে। বাসযোগ্য ঢাকা নির্মানের স্বপ্ন যদি নগরপিতাদের থেকে থাকে তবে নগরবাসীদের প্রতি তাদের প্রথম আহ্বান হতে হবে “ আসুন আমরা আলোচনা করি,ঢাকাকে কিভাবে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলা যায়”

কিন্তু তারা কি সেই আহ্বান করবেন? কোনদিনতো এমন আহ্বান করতে দেখিনি। রিমোর্ট হাতে থাকলে কি আর কেউ অন্যের পছন্দ অপছন্দের গুরুত্ব দেয় কখনো! তবে কি এ শহর বরাবরের মতই এতিম থেকে যাব? আর আমরা থেকে যাবো সৎ বাবার সংসারে!

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নিজেকে লিখি খোলা চিঠি

সারাজীবন কত মানুষকে চিঠি লিখেছি এবার নিজেকে লিখলাম। নিজের কাছে নিজের চিঠি।

প্রিয় জাজাফী

তোমাকে আমি খুব গুরুত্বপুর্ন কিছু কথা বলার জন্য এই চিঠি লিখছি।আমি জানি এই কথাগুলির অধিকাংশই তোমার জন্য প্রযোজ্য নয় তার পরও তোমাকে লিখছি কারণ তুমি আমার কথাগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিবে এবং তোমার মাধ্যমে অনেকেই কথাগুলো জানতে পারবে যাদেরকে আমি নিজে সরাসরি বললে এসব থোড়াই কেয়ার করতো। এগুলো কোন উপদেশ নয়, ধরে নিতে পারো এগুলো আমার নিজের অভিমত যা আমি কখনো কারো উপর চাপিয়ে দেইনি, তবে আমি সব সময় আশায় বুক বাঁধি অন্যরাও এটি অনুসরণ করবে।

প্রিয় জাজাফী

বিপদ কখনো বলে আসেনা। তাই যে কোন বিপদের সময় আশাহত হবে না,ঘাবড়ে যাবে না।মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নিবে।কোথাও আগুন লাগলে সাহায্য করবে এবং সাহায্য করতে না পারলে অন্তত ভীড় বাড়িয়ে দমকল বাহিনীর কাজে বিঘ্ন ঘটাবে না।বিপদগ্রস্থ মানুষের ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে লাইক শেয়ার পাওয়ার চেয়ে তার সাহায্যে যতটা পারো হাত বাড়িয়ে দিও।কেউ যখন রক্ত চেয়ে তোমাকে মেসেজ দিবে তখন চেষ্টা করো সাহায্য করতে। রক্ত দিতে ভয় পেয়ো না।মনে রেখো একের রক্ত অন্যের জীবন।পারত পক্ষে বিপদাপন্ন মানুষের পাশে দাড়াবে।সাহায্য করতে না পারলেও অন্তত তাকে অভয় দেবে,সাহস দেবে। কাউকে এমন কোন পরামর্শ দেবে না যা তার জন্য সামান্য তম হলেও ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়।

প্রিয় জাজাফী

কেউ যখন তোমাকে কিছু বলতে চায় তুমি মন দিয়ে শোনো। ব্যস্ত থাকলে তাকে তোমার ব্যস্ততার কথা বলে কথা সংক্ষিপ্ত করতে বলো অথবা সময় নাও পরে শুনবে বলে।তা বলে এড়িয়ে যেও না।হতে পারে কথাগুলো সে তোমাকে বলতে পারলে তার অনেক প্রশান্তি আসবে,উপকার হবে।কারো কথার মাঝে তাকে থামিয়ে দিওনা বরং পুরোটা বলতে দাও।আগে ভালো শ্রোতা হও তার পর বক্তা।কোন একটি বিষয় সম্পর্কে তোমার জানা না থাকলে তুমি তা অকপটে স্বীকার করো এবং জেনে নাও। নিজের অজ্ঞতা ঢাকার জন্য বানোয়াটি কোন কথা বলা থেকে নিজেকে বিরত রাখো।

প্রিয় জাজাফী

অন্যের সমালোচনা করা খুব সহজ,এটি সবাই করে থাকে কিন্তু নিজের সমালোচনা কেউ নিজে করে না এবং অন্যে যখন সমালোচনা করে তখন তা খুব কম সংখ্যক মানুষ মেনে নিতে পারে।তুমি অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজের সমালোচনা করো,নিজের দোষগুলো খুজে বের করে তা থেকে বেরিয়ে আসো।তোমাকে নিয়ে কেউ সমালোচনা করলে সেগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দাও এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো।সমালোচনা করার চেয়ে গ্রহণ করাই শ্রেয় বলে মনে করো।

প্রিয় জাজাফী

তোমাকে যদি কখনো কেউ ফোন করে বা শুভেচ্ছা জানিয়ে মেসেজ দেয় তবে তুমি চেষ্টা করো সেটা রিসিভ করতে এবং উত্তর দিতে।যদি তুমি খুব ব্যস্ত থাকো তবে পরে সময় করে মেসেজের উত্তর দিও,ফোন ব্যাক করো। এটা তোমার দায়িত্ব।যার ফোন তুমি রিসিভ করতে পারোনি তাকে ফোন ব্যাক করার নাম সৌজন্যতা। তোমার উচিৎ সৌজন্যতা শেখা।

প্রিয় জাজাফী

ভালো কাজের জন্য মানুষকে ধন্যবাদ দিও।এমনকি সেই ভালো কাজটি যদি তোমার জন্য নাও হয়ে থাকে। তুমি যদি দেখো কেউ একজন আইসক্রিম খেয়ে প্যাকেট বা কাঠি যেখানে সেখানে না ফেলে ময়লা রাখার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলেছে তবে তুমি তাকেও ধন্যবাদ দিও।কারণ সে জায়গা নোংরা না করে একটি ভালো কাজ করেছে।তুমিও চেষ্টা করো যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলতে।আমরা প্রত্যেকে যদি নিজের ব্যবহৃত ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলি তবে পরিবেশ এমনিতেই পরিচ্ছন্ন হবে।

প্রিয় জাজাফী

রাস্তা ঘাটে চলতে গেলে তুমি দেখবে অনেক ধুলাবালি।কখনো কখনো থুথু ফেলতে হবে।তুমি অবশ্যই চেষ্টা করো যেখানে সেখানে থুথু না ফেলতে। তুমি হয়তো ভাবছো এখানে থুথু ফেললে কিছু হবে না আসলে তা নয়। অন্যের ফেলা থুথু তোমার চোখে পড়লে পায়ের নিচে পড়লে বা হাতে লাগলে তোমার কেমন লাগবে? নিশ্চই খারাপ লাগবে। ঠিক একই ভাবে তোমার ফেলা থুথু অন্যের ক্ষেত্রে এমর পরিস্থিতির জন্ম দিবে।

প্রিয় জাজাফী

পরিচিত কেউ অসুস্থ হলে খোঁজ নিও।সহমর্মিতা জানাও।এতে করে তার হয়তো কোন উপকার হবে না তবে সে সাহস পাবে এবং খুশি হবে। তুমিও যদি কখনো অসুস্থ্য হও তবে দেখবে তোমার পাশে কত প্রিয় মুখ। তোমার তখন ভালো লাগবে। পাশাপাশি তোমার অসুখের কথা শুনে যদি খুব কাছের কেউ না আসে তবে তুমি মন খারাপ করবে না।হতে পারে তার আসার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু আসতে পারেনি।

প্রিয় জাজাফী

রাস্তা পারাপারে সব সময় ওভারব্রীজ ব্যবহার করবে।যদি কোথাও ওভারব্রীজ না থাকে তবে খুব সাবধানে পার হবে।আর হাটার সময় ফুটপাত ব্যবহার করবে।তুমি নিজে সচেতন হলে তোমাকে দেখে হয়তো কেউ না কেউ অনুপ্রাণিত হবে।দুর্ঘটনা রোধ হবে।

প্রিয় জাজাফী

ধুমপান করো না এটি ক্ষতিকারক। আর একান্তই যদি ধুমপানে আসক্ত হও তবে এমন ভাবে করো যেন তোমার ধুমপান অন্যের বিরক্তির কারণ হয়ে না দাড়ায়।রাস্তাঘাটে অহরহ দেখা যায় ধুমপানকারীদের জন্য অধুমপায়ীরা কষ্ট পায়।তারাতো তোমার কোন ক্ষতি করেনি তাহলে তুমি কেন তাদের বিরক্তির কারণ হবে?ক্ষতির কারণ হবে? একই ভাবে পান খেলে যেখানে সেখানে থুথু ফেলো না।যদিও জানি তুমি এসবের কোনটিতেই আসক্ত নও এবং তুমি যথেষ্ট সচেতন।

প্রিয় জাজাফী

বেসিনে হাতমুখ ধুতে গিয়ে অযথাই ট্যাপ খুলে রাখবে না।পানির অপচয় করবে না।ফ্রি হোক আর নিজের কেনা হোক তুমি কখনো টিস্যুপেপারও অপচয় করবে না। গ্যাসের চুলা অযথাই জ্বালিয়ে রাখবে না।এমনকি তোমার আম্মু বা বোন যদি জ্বালিয়ে রাখে তবে তুমি বন্ধ করে দিবে।অযথা অতিরিক্ত লাইট জ্বালিয়ে রাখবে না। যতটুকু খাবার তুমি খেতে পারো তার বেশি নিয়ে নষ্ট করবে না।

প্রিয় জাজাফী

টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব সময় খেয়াল করবে তোমার ব্যবহারের পর যেন তা অন্যের ব্যবহার উপযোগি থাকে। অন্যের ব্যবহার উপযোগি রাখার মাধ্যমেই সবাই নিজে ব্যবহারের সময় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পেতে পারে।ব্যবহৃত টিস্যু যেখানে সেখানে ফেলবে না। কখনো টয়লেটে ফ্ল্যাশের ব্যবস্থা থাকলে অবশ্যই ফ্ল্যাশ করবে এবং হাই কমোডের সিট উঠিয়ে রাখবে যেন ভিজে গিয়ে অন্যের ব্যবহারের অনুপোযোগি না হয়।

প্রিয় জাজাফী

কখনো কোন কিছুতে নিজের সামান্য ক্ষতি হবে ভেবে নিজের দোষ অন্যের উপর চাপিয়ে দেবে না। মনে রাখবে দোষ স্বীকার করার মধ্যেই মহত্ব লুকিয়ে আছে। দুদিনের এই ক্ষণিকের জীবনে দাপট দেখানোর কিছু নেই। সবাইকে নিয়ে মিলে মিশে থাকার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা নিহীত।

প্রিয় জাজাফী

তুমি যদি পাবলিক বাসে ওঠো এবং বসার সিট না পাও তবে খালি থাকা সাপেক্ষে মহিলা সিটে বসতে পারো।তবে যখনই কোন নারী,প্রতিবন্ধী বা বয়স্ক কেউ উঠবে তাকে সিট দিও।তবে পারত পক্ষে সিট না থাকলেও মহিলা সিটে বসো না।বরং অন্যান্য সিটে বসা অবস্থায় কোন নারী,শিশু,বয়স্ক সিট না পেলে সাধ্য মত তাকে বসতে দাও।তোমার সামর্থ আছে দাড়িয়ে থাকার,তাদের হয়তো নেই। সামান্য পথ দাড়িয়ে থাকলে তোমার নিশ্চই ক্ষতি হবে না ঠিক যেমন তুমি সামান্য পথ বসে গেলে তেমন কোন উপকার হবে না।

প্রিয় জাজাফী

তোমাকে যারা ভালোবাসে,স্নেহ করে তাদের তুমি অতি অবশ্যই ভালোবাসবে। আর যারা তোমাকে ঘৃণা করে বা অবহেলা করে তাদেরকে তুমি কখনোই ঘৃণা করবে না বা অবহেলা করবে না।তুমি তাদেরকে গুরুত্বের সাথে দেখবে ঠিক যেমন তুমি যাদের ভালোবাসো তাদেরকে যেমন গুরুত্ব দাও তেমন। কখনো কাউকে ছোট করো না। তুমি তাদের মত হইও না কখনো।

প্রিয় জাজাফী

মানুষ চারদিকে অনেক কথা বলে।সেসব কথার সবটা গ্রহণ করো না।তোমার নিশ্চই বিচারবুদ্ধির ক্ষমতা আছে।তুমি সেগুলো প্রয়োগ করো তার পর ভালোটাই গ্রহণ করো।যদি কখনো দ্বিধায় পড়ো তবে তুমি এমন কারো সাথে সে বিষয়ে পরামর্শ করো যাকে তুমি ভরসা করো তার পর তার মতামত নাও। সব ধরনের রিহিউমার থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখো।

প্রিয় জাজাফী

সন্তানকে তার পিতার দোষে দোষী ভেবো না এবং পিতাকেও তার সন্তানের দোষে দোষী ভেবো না। তবে সন্তানের সেই দোষ সংগঠনে পিতার অবাদন থাকলে সেটি ভিন্ন কথা ঠিক একই ভাবে পিতার দোষ সংগঠনে পুত্রের হাত থাকলে তাকে অবশ্যই দোষী ভাববে। যে দোষ একজন করেনি সে দোষে তাকে দোষী করা যায় না। তাহলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাফল্যে তার সন্তানকেও নোবেল সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া উচিত। এটি আমাদের দেশের রাজনীতির মত নয় যে উত্তরাধিকার সুত্রে কারো উপর ক্ষমতা বর্তাবে।

প্রিয় জাজাফী

ছোটরা তোমায় ভালোবাসে,সম্মান করে।তুমি অবশ্যই ছোটদের ভালোবাসবে এবং স্নেহ করবে।তাদেরকে কখনো নিরাশ করবে না।তারা কখনো ভুল করলে বকা না দিয়ে এমন ভাবে বলবে যেন সেটি থেকে তারা আরো ভালো করার উঁৎসাহ পায়।একই ভাবে বড়দের সম্মান করবে এবং কোন ভাবেই কষ্ট দেবে না। মিথ্যার সাথে কখনো আপোস করবে না।যদি মিথ্যার বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে না পারো তবে অন্তত তাকে প্রশ্রয় দিও না।

প্রিয় জাজাফী

একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক তুমি।কখনো এমন কোন কাজ করবে না যা তোমার নিজের জন্য ভালো হলেও দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। নিজের খাবার জোগাড় করতে গিয়ে অন্যের খাবার কেড়ে নিবে না।অন্যের অধিকার সমুন্নত রাখবে এবং কাউকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করবে না।তোমার কাছে কেউ কোন বিষেয়ে পরামর্শ চাইলে যদি তুমি মনে করো সে বিষয়ে তোমার জ্ঞান আছে তবে অবশ্যই পরামর্শ দিবে আর জ্ঞান না থাকলে তুমি তাকে বিনীত ভাবে তোমার অজ্ঞতার কথা জানাবে। অজ্ঞতার কথা জানানোর মধ্যে লজ্জার কিছু নেই বরং অজ্ঞতাকে লুকিয়ে রাখাই বড় রকম অজ্ঞতা এবং লজ্জার।

প্রিয় জাজাফী

এমন কোন কথা বলবে না যা অন্যায় ভাবে কারো সার্থে আঘাত হানে। এমন কোন কথা বলবে না যা শুনে বাদানুবাদ তৈরি হয়,হানাহানি হয়। ধর্মীয় বিষয় গুলোতে সহনশীল হবে। এক স্থানে সংগঠিত অন্যায়ের জন্য অন্য স্থানের একই মতবাদের অনুসারীরা দোষী হতে পারে না। এটা পৈত্রিক সম্পত্তি নয় যে বাবার সব পুত্র সমান ভাগ পাবে।এটি হলো জ্ঞানের মত যা পিতার এক সন্তান অর্জন করলে অন্য সন্তান সেটির সুফল পেতে পারে না।

আমি আশা করি এই বিষয়গুলি তোমার জীবনকে আরো সুন্দর করে তুলবে। তোমার জন্য অনেক ভালোবাসা ও শুভকামনা।

আমি অন্য কেউ নই বরং আমি আসলে তোমার ভিতরের তুমি,তোমার প্রকৃত বন্ধু

–জাজাফী—

৯ মার্চ ২০২০

অচেনা সুর অচেনা গান

9 মার্চ 2020

প্রতিদিন কী এক অস্থিরতা আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে।আমি সেই সময়টা ধরতে চেষ্টা করছি যে সময় চলে গেছে।আমি সেই স্মৃতিগুলো নিয়ে পড়ে আছি যে স্মৃতি ক্ষণিকের জন্য আমাকে আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে রেখেছিলো আর আজ তা বিষাদে পরিণত হয়েছে। কুড়িয়ে পাওয়া বাসের একটি টিকেট হাতে আমি অপেক্ষা করছিলাম কিন্তু আমার অগোচরে বাস আমাকে ফেলে রেখে চলে গেছে তবুও আমি অপেক্ষায় আছি যদি ফিরে এসে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। হায়! এটাতো বোকারাও বোঝে যে স্টপেজ ছেড়ে যাওয়া বাস ফেলে যাওয়া যাত্রীকে নিতে কখনো ফিরে আসে না।হারানো সময়, হারানো স্মৃতি কখনো কি ফিরে আসে।প্যানাল্টিশ্যুট একবার মিস করে ফেললে রেফারির হাতে পায়ে ধরলেও দ্বিতীয়বার সে সুযোগ দিবে না।আমিও হয়তো শ্যুট মিস করেছি তার পর অনেক অনুনয় করেছি কিন্তু রেফারির মন গলেনি।ভাঙা ডিঙি  নৌকা নিয়ে আমি বৃথাই সাগর পাড়ি দিতে চেষ্টা করছি।আমি জানি সাগরের ওপারে আমাকে অভ্যার্থনা জানানোর জন্য কেউ অপেক্ষায় নেই তার পরও কেন যে আমি সেই উত্তাল সাগর পাড়ি দিতে চাই আমি নিজেও জানি না।

মৃত্যু কাছে নাকি সে? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে গেলে বলতে হয় মৃত্যুই বেশি সন্নিকটে যাকে হাত বাড়ালেই ছোয়া যায়।যেন সে ওৎপেতে আছে আমাকে গ্রাস করবে বলে।এখন এই মুহুর্তে সে আমাকে ছোবল দিলেও আমার কিছু করার থাকবে না।সৃষ্টিকর্তা এভাবেই নিয়তি ঠিক করে দিয়েছেন। আর সে? কতটুকু কাছে?কতটুকু দূরে? বার মাইল? না ভুল বলেছি, আরেকটু বেশি হবে। বড়জোর বিশ মাইল দূরে তার অবস্থান।গতি যানে গেলে সেখানে পৌছাতে সময় লাগবে বিশ মিনিট বা তার কিছু কম।রাস্তায় জ্যাম থাকলে সেটা ঘন্টাখানেক হতে পারে।কিন্তু এই সামান্য পথ আমি পাড়ি দিতে পারছি না। যাত্রা শুরু করেছি সেই নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে।তার পর কেটে গেছে এক আলোঝলমল লাল সবুজের পতাকায় রঙ্গীন ডিসেম্বর, নতুন বছরের বার্তা নিয়ে আসা জানুয়ারি এমনকি একটি অধিবর্ষের ফেব্রুয়ারির উনত্রিশটি দিন।আমি এখনো অবিরাম ছুটে চলেছি কিন্তু নাগাল পাচ্ছিনা। কার নাগাল পাবো? সে তো আকাশের চাদের মত। আমার হাতে যে মই আছে তা দিয়ে আকাশ ছোয়ার সাধ্য কী!

সে যেন মরিচিকার মত দূরে সরে যেতে যেতে আরো দূরে দিগন্ত রেখার খুব কাছে চলে যাচ্ছে। আমি যতই তার সন্নিকটে যাই সে ততোই সরে যায়।এভাবে সরে যেতে যেতে একদিন সে রংধনুর মত মিলিয়ে যাবে।তবে কি তাকে আমি জীবনের রংধনু বলবো।ক্ষণিকের জন্য সে উদয় হয়েছিল আমার হৃদয় আকাশে তার পর রংধনুর মতই মিলিয়ে গেছে। মনের মধ্যে রেখে গেছে কিছু রং যা আবছা হতে হতে একদিন নাই হয়ে যাবে। বাগান থেকে সদ্য তুলে আনা গোলাপ রাত পেরোতেই শুকিয়ে যাবে।শুকনো পাপড়ি গুলো জানিয়ে দিবে একদিন সে সুবাশ ছড়াতো।তার রেখে যাওয়া স্মৃতিও তেমন জানান দেয় একদিন এই ভুবন আলোয় ভরা ছিলো। আলোর মেলায় সে হাসতো,কথা  বলতো।তার পর বিরানভুমিতে পরিনত হলো আলোর মেলা।অন্ধকারে তলিয়ে গেলো।প্রত্নতাত্নিকেরা খনন করলে হয়তো হৃদয় ভুমিতে খুজে পেতে পারে সেই সব সোনালী অতীত যেখানে পরতে পরতে আছে আশৈশব লালন করা মধুর স্মৃতি এক মোহময়ীকে ঘিরে।

মেরিলিন মনরো নয় ,ক্লিওপেট্রা নয় এমনকি প্রিন্সেস ডায়নাও নয় সে খুব সাধারণ।এতো সাধারণ যে তার চেয়ে সাধারণ কেউ হতে পারে না।তবুও সে অসাধারণ।সে অনায়াসে খুন করতে পারে হাসি মুখে।উপেক্ষা করে।আমি তাকে কোন ভাবেই দোষ দিতে পারিনা যে সে আমাকে উপেক্ষা করেছে।সে যদি কখনো আমাকে প্রশ্রয় দিতো তবেই না উপেক্ষার প্রশ্ন উঠতো।যে সুর্য কখনো উদিত হয়নি তা কি করে অস্ত যাবে? যে কখনো প্রশ্রয় দেয়নি সে কি করে উপেক্ষা করবে? এ এক আশ্চর্য গোলক ধাধা।আমি সেই ধাধায় পড়ে ঘুরছি অবিরাম। আমাকে কেউ ঘুরতে বলেনি, আমাকে কেউ প্রবোধ দেয়নি গোলক ধাধায় পড়তে। কেউ বলেনি তুমি এভাবে ঘুরতে থাকো যতদিন মন চায়।বরং আমাকে মুক্ত স্বাধীন ভাবে ঘোরার কথা বলা হয়েছে। তবুও আমি পঙ্গপালের মত আগুনের চারপাশে উড়ছি যতক্ষণ না সেই আগুনে দাহ হতে হতে ভষ্মিভুত হচ্ছি।

এ এক আশ্চর্য অনুভুতি।পাওয়া না পাওয়ার হিসেবের চেয়েও অন্য কিছু যেন বড় হয়ে  উঠছে। অবিরাম বৃষ্টির দিনে রিকশার হুড তুলে পাশাপাশি ঘুরিনি কখনো,বৃষ্টিতে ভিজে মেতে উঠিনি আনন্দে।সিনেমা থিয়েটারে পাশাপাশি সিটে বসে উপভোগ করিনি ভয়ংকর কোন সিনেমা কিংবা রোমান্টিক সিনেমা।আমি যখন তাকে উত্তর মেরুতে খুজি সে তখন দক্ষিণ মেরুতে বাস করে।আমি যখন দক্ষিণ মেরুতে যাই তাকে দেখবো বলে সে তখন অজান্তেই উত্তর মেরুর বাসিন্দা হয়।আমি বুঝি এ কোন লুকোচুরি খেলা নয়।মুখে বিদায় বলতে  খারাপ লাগবে ভেবে এটা করা। ভালোবাসতে না পারলেও সে ভালোবাসার মূল্য বোঝে বলেই নাকি এমন করে।

শেষ কবে আমার সাথে তার কথা হয়েছিল তা তার মনে নেই থাকার কথাও নয়।আর শেষ কবে দেখা হয়েছিল সেটা মনে পড়ারতো কথাই নয়। এসব মনে রাখার দায়িত্ব নিয়ে সে পৃথিবীতে আসেনি।কবে কোথায় কোন আকাশ থেকে কোন তারা খসে পড়লো তা জেনে তার লাভ কি! ওসব ভাববে আমার মত জ্যোর্তিবিদরা।দিন তারিখ মনে রাখবে আমার মত ইতিহাসবিদরা।তার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহুর্তই নিজের জীবনের এক একটি ইতিহাস বলে লিখে রেখেছি।

সমান অধিকার নয় আগে চাই প্রাপ্য সম্মান

অধিকার কথাটির মধ্যে এক রকম জোর খাটানোর বিষয় থাকে।অধিকার আদায় করে নিতে হয় কিন্তু কিছু অধিকার আছে যা অধিকার শব্দকে ছাপিয়ে যায় এবং সেগুলো আদায় করে নেওয়ার কিছু নয় বরং স্বেচ্ছায় দিয়ে দিতে হয়।সেটাকে আমরা বলতে পারি যথাযথ প্রাপ্য সম্মান।ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের থেকে কেড়ে নেওয়া ন্যায্য অধিকার আদায় করে নিয়েছিলাম।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা আমাদের জাতিগত স্বাধীন ভুখন্ড আদায় করে নিয়েছিলাম। কিন্তু এমন কিছু অধিকার আছে যা এভাবে আদায় করে নেওয়া যায় না বরং অন্য সবার দায়িত্ব থাকে নিজ উদ্যোগে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। যেমন নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন। এটি কোন অধিকার নয় বরং আমাদের দায়িত্ব। অনেক নারী দীর্ঘদিন থেকে সংগ্রাম করে যাচ্ছে সমান অধিকারের দাবীতে।এই সমান অধিকার কথাটি নিয়ে অনেক মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে সবকিছুতেই খুৎ ধরা,সবকিছুতেই কথার পিঠে কথা জুড়ে দেওয়া।এমন কিছু অহেতুক বিষয় আমরা টেনে আনি যা দিয়ে খোঁচা দিতে পিছপা হইনা।আমরা বলি সমান অধিকারের কথা যখন উঠছে তবে আসুন এখানে ছেলেরা যেমন রোল প্লে করে নারীরাও তেমন করুক!

এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে নারীরা আর সমান অধিকার নিয়ে মাথা ঘামায় না বরং তারা চায় তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু যেন তাদের দেওয়া হয়।আর নিশ্চই সবাই জানে প্রাপ্য সম্মান বাজার থেকে কিনে নেওয়ার মত কোন দ্রব্য নয় যে কিনে নিবে এটা বরং নিজ উদ্যোগে দিয়ে দিতে হয়।

নারীর প্রতি সহিংসতা ক্রমাগত ভাবে বেড়েই চলেছে।অধিকারতো পরের কথা তারা পদেপদে হয়রানির শিকার হচ্ছে।আমরা কখনো দেখিনি বাসে,ট্রেনে,রাস্তায়,শপিংমলে,ওভারব্রীজে বা অফিসে কোন নারী ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কোন পুরুষের গা ঘেষে দাড়িয়েছে বা স্পর্শ করেছে বা কোন পুরুষকে হয়রানি করেছে।কিন্তু পুরুষের বেলায় সেই চিত্রটা সম্পুর্ন উল্টো।

আমাদের সমাজে এমন কোন নারী নেই যে একাধিক বার কোন না কোন স্থানে কোন না কোন পুরুষ দ্বারা নিগ্রহের শিকার হয়নি।অসংখ্য পুরুষ আছে যারা বাসে,ট্রেনে,অফিসে,শপিংমলে,ওভারব্রীজে,মেলায়, যেখানে যে অবস্থায় পারছে নারীকে নানা ভাবে অপদস্থ করছে।

ইচ্ছে করে নারীর শরীরের সাথে গা ঘেষে দাড়াচ্ছে,স্পর্শ করছে এবং নারী কথাটি বলতে গেলে মেয়ে শিশুদের কথাও বলতে হচ্ছে।এসব ঘৃণ্য কাজ থেকে রেহাই পাচ্ছেনা আমাদের মেয়ে শিশুরাও।সুতরাং এই সব নারীদের সমান অধিকার চাওয়ার কোন ইচ্ছেই নেই বরং তারা এখন চায় প্রাপ্য সম্মানটুকু,নিরাপদ একটি পরিবেশ।

অফিসে,বাসে,ট্রেনে,শপিংমলে,মেলায়,ক্লাসে কোথাও যেন তাকে নিগৃহীত হতে না হয় নারীরা এখন সেটাই চায়।সমান অধিকার এমনিতেই প্রতিষ্ঠিত হবে যদি নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।যখন একজন নারী নির্বিঘ্নে নিরাপদে কাজ করার সুযোগ পাবে তখন সে তার স্বীয় কাজে আরো মনোযোগী হতে পারবে যা তার কাজকে আরও সুন্দর ও পরিপাটি করবে।

প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী নারী দিবস পালিত হয়।প্রতি বছর এই দিবসে র‌্যালী হয়,সভা-সমাবেশ হয়,সিম্পোজিয়াম হয়,ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয় এবং আমরা অনেক বড় বড় কথা বলি,আশার বাণী শোনাই।তার পর একদিন পেরোতে না পেরোতেই সব বেমালুম ভুলে যাই।এমনকি খোঁজ নিলে দেখা যাবে খোদ নারী দিবসেই অসংখ্য নারী নিগৃহীত হচ্ছে। আমরা অনেকেই বলে থাকি নিজের ঘরে কি মা বোন মেয়ে নেই? তাদের কথা ভেবে অন্য নারীকে সম্মান দিন।এই কথাটির কোন মানে হয় না।

নিজের ঘরে মা বোন মেয়ে থাকলে নারীকে সম্মান দিতে হবে আর না থাকলে কি দিতে হবে না? নারীকে সম্মান দিতে হবে তার নিজের জন্য।কারো কথা মনে করে তাকে সম্মান করতে হবে কেন? এখনকার দিনে নারীর সমান অধিকারের চেয়েও জরুরী নারীর যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।প্রতিটি নারীকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিন।

আমাদের এই বিশ্বে নারীর প্রতি দোষারোপের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে।কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা ভিডিও কিংবা ছবি প্রকাশ হলে নারীকেই হেনস্তার শিকার হতে হয়,পুরুষ দিব্যি ঘুরে বেড়ায়।নির্যাতকের শিকার নারীকে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় তা নির্যাতনের শিকার হওয়ার চেয়ে কম কষ্টদায়ক নয়।অথচ যারা নির্যাতন করছে তারা সমাজের বুকে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইনকে আরও কঠোর করা উচিত যেন কঠোর শাস্তির ভয়ে মানুষ শুধরে যায়।

নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার আগে নারীকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিন,তাকে নির্বিঘ্নে চলতে দিন,কাজ করতে দিন এবং আপনাদের চোখ,মুখ,হাত এবং অন্যান্য অংশ থেকে নারীকে নিরাপদ করুন। পোষাক এবং চলাফেরার দোহাই দিয়ে নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।আমরা পরিসংখ্যন থেকে দেখতে পাই যে সব নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের কেউ বোরখা পরা,কেউ দুই বছরের শিশু,কেউ জিন্স পরা,কেউ হিজাব পরা। পোষাকের দোষে কেউ নির্যাতনের শিকার হয় না বরং নির্যাতনকারী পুরুষের স্বভাব বদলাতে হবে।

নিকৃষ্ট কিছু বিকৃতমনা পুরুষ নারী ও শিশু নির্যাতনের মধ্যে বিকৃত আনন্দ খুঁজে পায়।আমরা মনে করি নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে হলে পুরুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। আরও একটি নারী দিবস চলে যাবে কিন্তু আমরা জানি না আমাদের সামাজে নারীদের প্রতি নিগ্রহের হার কমবে কি না।আমাদের এখন একটাই দাবী সমান অধিকার নয় সবার আগে নারীকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দিন,নিরাপদ একটি পরিবেশ দিন যেখানে সে নিবিঘ্নে নিজের সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারবে।

  • লেখকঃ জাজাফী

নিবন্ধকার,সমাজকর্মী
ওয়েবসাইটঃ www.zazafee.com

02-03-2020

খাকিময় স্মৃতিগুলো

 

বয়স যতই বাড়ুক আমার যখনই তাকাই ফিরে

স্মৃতিরা সবাই ভীড় করে রোজ খাকিচত্ত্বর ঘিরে।

সব স্মৃতি যদি মুছে যায় কভু নতুনের আগমনে

শুধু মোছে না খাকিপরা স্মৃতি ফিরে আসে প্রতিক্ষণে।

এ এমন প্রেম একবার যারা পড়েছে এমন প্রেমে

ভুলতে পারেনি যতক্ষণ তার শ্বাস না গিয়েছে থেমে।

ভুলে যেতে পারি স্কুলে যাওয়া প্রথম সকাল বেলা

ভুলে যেতে পারি শৈশবে যত খেলেছি পুতুল খেলা।

বাবার হাতের আঙুল ধরে হাটা সেই দিনগুলি

বড় হতে হতে সেই স্মৃতিটাও না জানি কখন ভুলি।

প্রথম প্রেমের মায়াবী প্রহর অনায়াসে ভুলে যাই

শুধু আজীবন থাকে এ হৃদয়ে খাকি পরা স্মৃতিটাই।

যখনই জীবনে নেমে আসে কোন বিষাদ অন্ধকার

শান্তনা পেতে খাকিপরা দিনে ফিরে যাই বার বার।

নিমিষেই মন ভালো হয়ে যায়,স্মৃতিগুলো মধুমাখা

সব যদি ভুলি তবু সেই স্মৃতি যায়নাকো ভুলে থাকা।

মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়ে আছি খাকিময় স্মৃতিগুলো

ফিরে ফিরে আসে নতুনের মত পড়েনা কখনো ধুলো।

প্যারেড গ্রাউন্ড ডাকে অবেলায় কতটা যে সেই টান

যেখানেই থাকি বার বার যেন ছুটে যেতে চায় প্রাণ।

যা কিছু পেয়েছি,যা কিছু শিখেছি যতটুকু তারে চিনি

নিজেকে যদিও ভুলে যাই তারে ভুলবোনা কোন দিনই।

এ এমন প্রেম একবার যারা পড়েছে এমন প্রেমে

ভুলতে পারেনি যতক্ষণ তার শ্বাস না গিয়েছে থেমে।

জাজাফী

১৯ জানুয়ারি ২০২০

তখনও তুমি থাকবে

পৃথিবীর সব আলো নিভে যাবে,চারদিকে এক রং নিকোষ কালো অন্ধকার
যখন সবাই হতাশায় নিমজ্জিত হবে,চারদিকে না পাওয়ার হাহাকার।


ভুবন ডাঙার চিল পথ হারাবে,ডানা মেলে উড়ে যাবে অজানায়
আকাশের তারাগুলো খসে যাবে,কেউ কেউ মেতে রাবে ভাবনায়।


তখনও তুমি থাকবে,ভেতর বাহির সবটা জুড়ে নিত্য তোমার বসবাস
কোন এক অজানা আলোয় অন্ধকার কেটে যাবে,আলোকিত হবে চারপাশ।


হাতে হাত রেখে না বলা কথাগুলো বলা হবে,স্বপ্নরা সাজবে রঙিন সাজে
তুমিও মুখ লুকাবে আপন মনে এ কাঁধে লাজুক লাজে।


–জাজাফী
১৮ জানুয়ারি ২০২০

নাকি সব মিছে মায়াজাল

এখনো স্বপ্ন দেখি,জেগে উঠি নব নব প্রেমে
যদিও ক্ষুদ্র জীবন জানিনা কখন যাবে থেমে।

ভালোবাসি,বিরহের সুর শুনি,প্রতিক্ষণে ভাঙনের ঢেউ
ডাক এলে ছেড়ে যাবো,ভুলে যাবো সবথেকে প্রিয় তোমাকেউ।

বেধেছি মায়ার বাঁধনে,সে বাঁধন সবটুকু মিছে
কেবলই শুন্যতা দেখি পড়ে আছে পিছে।

কেবলই প্রহর গুনি,একদিন শেষ হবে গোনা
সব কিছু থেকে যাবে,তার মাঝে আমি থাকবো না।

থাকি বা না থাকি আমি তাতে যদি কারো যায় আসে
কেউ যদি এজীবনে প্রিয় ভেবে থাকে আশেপাশে
মনে হয় এর বেশী নেই কিছু চাওয়া
খুশি মনে বলা যাবে,যা চেয়েছি তারও বেশি হয়ে গেছে পাওয়া।

পারিনি কিছুই দিতে,অপচয় করে গেছি জীবনের কতগুলো দিন
এভাবেই জমে গেছে তোমাদের কাছে কত ঋণ।

ভালোবাসি বলে বলে ঋণগুলো বাড়াবোনা আর
তবুও জানিনা কেন ভালোবাসি বলি বার বার।

আসলে কি ভালোবাসি? নাকি সব মিছে মায়াজাল
এভাবেই কেটে গেলো জীবনের কতনা সকাল।

থেমে নেই কোন কিছু, কেউ কারো নয়
তবুও সবারে জানি কতনা আপন মনে হয়।

— জাজাফী
১১ জানুয়ারি ২০২০