তড়িঘড়ি করে অফিস থেকে নিচে নামলো সুজন। নামার আগে বলে গেল বস একটু নিচে যাচ্ছি। তার মধ্যে একরকম উত্তেজনা কাজ করছে। সে না বললেও আমি বুঝতে পারলাম কেন তার মধ্যে এতো উত্তেজনা কাজ করছে। তার প্রিয় একজন মানুষ আসছে। সেটার উত্তাপ তার মনের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে।তাকে বললাম সুজন একটু পরে যাও। সে বললো স্যার লেট করলে দেরি হয়ে যাবে। শেষে নুন আনতে পানতা ফুরানোর মত দশা হবে। যে উদ্দেশ্যে আমি নিচে যেতে চাচ্ছি তা আর হবে না। সূর্যাস্ত দেখার জন্য কিংবা নতুন চাঁদ দেখার জন্য আপনি বসে থাকলে চলবে না। যথাসময়ে উপস্থিত হতে হবে। আমিও তেমনই চাঁদ দেখবো বলেই নিচে যাচ্ছি। সুজনের কথা শুনলে যে কেউ ভাববে ও বোধহয় পাগল টাগল হয়ে গেছে। এখন সকাল সাড়ে এগারটা বাজে। এই সময়ে দিনের বেলায় সে নতুন চাঁদ কিভাবে দেখবে? নতুন চাঁদ উঠতে এখনো ঢের বাকি আর সেটাও উঠবে সন্ধ্যাবেলায়। সেই চাঁদ দেখে চাঁদে দেখা কমিটি ঘোষণা করবে কুরবানীর ঈদ কবে হবে। অথচ সুজন এখন এই দিনের বেলায় নতুন চাঁদ দেখতে নিচে যাচ্ছে। বিষয়টা আসলে অন্যদের কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও আমি জানি ও যা বললে ঠিকই বলছে। রুপক অর্থে ও যে মানুষটিকে দেখার জন্য ব্যস্ত হয়ে নিচে যাচ্ছে তিনি ওর কাছে নতুন চাঁদের মতই। ঘোষণা অনুযায়ী আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিরাট এক গাড়িবহর নিয়ে এই পথ দিয়ে যাবেন সেই আকাঙ্ক্ষীত মানুষটি। সুজন যাকে মনে ও প্রাণে ধারণ করে। দিব্য চোখে একনজর তাকে দেখার সাধ মনে মনে পুষে চলেছে বছরের পর বছর। সুযোগ হয়নি কখনো। সুতরাং এতো কাছে চলে আসা সুযোগ সে হাতছাড়া করতে রাজি নয়। আমাকে বললো স্যার ফিরে এসে শুনবো আপনার কথা। আমাকে আর আটকাবেন না। আমিও হাসি দিয়ে বললাম ঠিক আছে যাও।
বেশ কিছুদিন হলো প্রচন্ড লোডশেডিংএ হাসফাঁস করছি। আইপিএস এর ব্যবস্থা নেই। অবশ্য একটা জেনারেটর আছে। প্রচন্ড শব্দ হয়। জেনারেটরে যে এতো শব্দ হতে পারে তা আমার জানা ছিল না। যখন ছোট ছিলাম তখন মাঠে ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য শ্যালো মেশিন ব্যবহার করা হতো। ভটভট করে শব্দ হতো। অনেক দূর থেকেও সেই শব্দ শোনা যেতো। সেই সাথে বের হতো ডিজেল পোড়া কালো ধোঁয়া। এখনো বেশ মনে আছে সেই শব্দ ছিল বিকট। কিন্তু এই জেনারেটরের সাথে যদি তুলনা করি তবে সেটার শব্দ মশার কানের কাছে গান শোনানোর চেয়ে তীব্র নয়। কিন্তু গরম থেকে বাঁচতে হলে জেনারেটরের শব্দ সহ্য করতেই হবে। তা সহ্য করতে আপত্তি নেই কারো। তবে জেনারেটর চালানোর জন্য যে তেল দরকার সেটার গভীর সংকট চলছে। ফলে খুব সচেতন ভাবে অতি প্রয়োজন ছাড়া জেনারেটর চালানোর সুযোগ নেই। আর আমাদের এই জেনারেটরটাও না একে বারে হাভাতে হাতির মত। এতো পরিমান তেল খায় যে বলে বুঝানো যাবে না। চৈত্র মাসে ফেটে চৌচির হওয়া জমিতে এক বোতল পানি দিলে যেমন সাথে সাথে সেটা উধাও হয়ে যায় আমাদের জেনারেটরটা অনেকটা সেরকম। এক হাজার টাকার অকটেন দিলে টেনেটুনে দুই ঘন্টা চলে। ছোটবেলায় মা বলতেন হিসাব না করে চললে রাজার গোলাও শেষ হয়ে যায়। তখন কথাটা না বুঝলেও এখন বুঝি। এখনতো একটু বড় হয়েছি। আর আমাদের এই জেনারেটরটা দেখলে সেটা আরও বেশি করে মনে পড়ে। যে হারে সে তেল খায় সেই হারে মনে হয় টিউবওয়েলের মুখ দিয়ে পানিও বের হয় না। অথচ আমাদের পাশেই অনিমেষদার অফিস। সেই অফিসেও একটা জেনারেটর আছে। কিন্তু শব্দ নেই। একদম কাছে না গেলে তার শব্দ শোনা যায় না। বিয়ের পর নতুন স্বামী স্ত্রী বাসর ঘরে যেভাবে ফিসফিস করে প্রায় শোনা যায় না এমন ভাবে কথা বলে। প্রেমিক প্রেমিকা যেমন পার্কে বসে কিংবা মোবাইলে খুব নিচু গলায় কথা বলে। পাশে দাঁড়ালেও শোনা যায় না। অনিমেষ দার অফিসের জেনারেটর অনেকটা সেরকম। খুব কাছে না গেলে শব্দ শোনা যায় না। অথচ অনিমেষদার অফিস চলছে নিগিঢিগির উপর। অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা। কিন্তু তারপরও তাদের সব কিছু কত ফিটফাট। কথায় বলে উপরে ফিটফাট আর ভেতরে সদরঘাট। অনিমেষদার অফিসের সব ফিটফাট হলেও অর্থনৈতিক সক্ষমতার দিক থেকে একেবারে নাজেহাল অবস্থা। বছরের পর বছর ব্যবসায় লস যাচ্ছে। মালিকপক্ষ নিজেও লুটেপুটে খাচ্ছে। সেই দিক থেকে আমাদের অফিস অনেক ভালো অবস্থানে আছে। কিন্তু ভালো অবস্থানে থাকলেও উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখার দিক থেকে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য অধিকাংশ লাইট বন্ধ থাকে। হঠাৎ করে কেউ গেট ঠেলে ভিতরে ঢুকলে ভড়কে যাবে। ভাববে এটা কি অফিস নাকি কোনো অন্ধকার গুহায় এসে পৌঁছালাম?
পাশাপাশি দুটি অফিসের জেনারেটরের এই পার্থক্য দেখে আবুল হায়াত আর চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত সেই বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ে যায়। দুটো জেনারেটরই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তবে দামের পার্থক্য থাকায় সার্ভিস কোয়ালিটি আকাশ পাতাল ব্যবধান। অবশ্য এ ক্ষেত্রেও বিজ্ঞাপনে দেখানো আবুল হায়াতের মেয়ে জামাই চঞ্চল চৌধুরী যেমন দামে সস্তা দেখে বাজে কাপড়,বাজে টিন কিনে ভেবেছিল জিতে গেছে। পরে দ্রুত টিন ফুটো হয়ে গেছে আর এক ধোয়াতেই কাপড় থেকে রং উঠেছে। আমাদের জেনারেটর কেনার ক্ষেত্রেও অফিসের সুপ্রিম বস একই নীতি ফলো করে ধরা খেয়েছে। অবশ্য তিনিতো বসেন হেড অফিসে। তাকে তো আর এই বিকট শব্দ শোনা লাগে না। অন্যদিকে তেল কেনার আবার সারা মাসের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫ হাজার টাকা। যেখানে ১ হাজার টাকার তেলে মাত্র দু ঘন্টা যায় সেখানে সারা মাস কিভাবে ৫ হাজার টাকার তেল দিয়ে চলা যায় তা আমার বোধগম্য নয়। অল্প দামে না কিনে ভালো জিনিস কিনলে তাতে তেল খরচ হতো কম আবার শব্দও হতো কম।টেকসই হতো। দীর্ঘ মেয়াদে লাভবান হওয়া যেতো। বোধহয় দূরদর্শী চিন্তা থেকেই বাংলা প্রবাদ প্রচলন হয়েছিল সস্তার বার অবস্থা।
শীত শেষ হতে না হতেই বিদ্যুৎ সংকট শুরু হলো। আর তা ক্রমাগত ভাবে প্রকট হতে শুরু করলো। এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে আর এক ঘন্টা থাকে না। গ্রামের দিকের কথাতো বলাই যাবে না। সেখানে এক ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘন্টা থাকে না। গ্রামের লোকেরা বলে মাঝে মাঝে নাকি তাদের গ্রামে বিদ্যুৎ আসে! একটা গল্প শুনেছিলাম এক লোকের খুব মামলা দেওয়ার অভ্যাস ছিল। সুযোগ পেলেই মামলা দায়ের করতো। লোকটা একবার শহরে গেলো। তার সাথে যে গিয়েছিল সে জানতে চাইলো ভাই কাজতো শেষ এখন কী করবেন? সোজা বাড়ি যাবেন নাকি অন্য কিছু করবেন? সে বললো শহরে যখন এসেছি চাচার নামে একটা মামলা দিয়েই যাই। বিদ্যুতের অবস্থা হয়েছে সেরকম। বিদ্যুৎ সংকট মানেই বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করে শহরের মানুষকে বিদ্যুৎ দিয়ে গ্রামের লাইন অফ করে রাখি। এর পিছনে অবশ্য কিছু যুক্তি তারা নিজেরা ভেবে রেখেছে। বিদ্যুৎ অফিস মূলত শহরে। আর সেই শহরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে অফিস ঘেরাও হওয়ার সম্ভাবনা আছে। গত সপ্তাহে আমাদের শহরে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও হয়েছিল বলে শুনেছি। আমি অবশ্য তখন ট্যুরে ছিলাম। তাছাড়াও শহরে নামীদামী ক্ষমতাবান লোকও থাকে। অন্যদিকে গ্রামে থাকে গেয়ো ভুত, কৃষক,দিনমজুর। গ্রাম থেকে শহরের দূরত্বও অনেক। তাদের ক্ষমতাও কম। ফলে গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকলে তারা হয়তো দুই চারটা গালি দিবে,হাসফাস করবে কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসতো ঘেরাও করতে আসবে না। আর তাছাড়া তারা তাদের গ্রামের বাড়িতে বসে দুই চারটা গালি দিলে সেই গালিতো আর শুনতে হচ্ছে না। তাই বিদ্যুৎ অফিসের কর্তারা গ্রামের লোকদেরকেই বলির পাঠা মনে করেন। তারা আরও ভাবেন গ্রামের মানুষ হাতপাখার বাতাস খেতে পারবে। অনেক গাছ আছে,পুকুর আছে। সেই পুকুরপাড়ে গিয়ে বসবে। গরম কম লাগবে। এগুলো কিন্তু আমার কথা না। এগুলো মানুষ বলাবলি করে। এসব বলা কি আমার পক্ষে সাজে?
বিদ্যুতের এই চরম সংকটের মধ্যেও কখনো কখনো হাওয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। কিংবা বলা চলে হাওয়া থেকে বিদ্যুৎ যোগান দেওয়া হয়। তখন কোনো লোডশেডিং হয় না। দারিদ্রকে যাদুঘরে পাঠানোর কথা বলেছিলেন কোনো এক গুণীজন। তেমনি সেই সময়ে লোডশেডিং শব্দটা কেবল ডিকশনারির পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে এক গানের শিল্পী যে কোটায় সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন বিদ্যুৎ একদিন ঝাকায় করে ফেরি করা হবে। এই বিদ্যুৎ লাগবে বিদ্যুৎ। কিন্তু সেই দিন আমাদের দেখা হয়নি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যয়ের কেউ কথা রাখেনি কবিতার মত আক্ষেপ করা যেতেই পারে। সেই ফেরিওয়ালী এখন জেলে নাকি পলাতক ঠিক মনে পড়ছে না। বিদ্যুৎ সংকটে লোডশেডিং এর প্রকট এতো বেশি হয়েছিল যে জনজীবনে অশান্তি নেমে এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ গতকাল দুপুরের পর থেকে এক সেকেন্ডের জন্যও বিদ্যুৎ যেতে দেখিনি। এটা অবশ্য অনুমেয়ই ছিল। এটুকু বুঝার জন্য রকেট সায়েন্স জানা লাগে না। মহামতি কুরেইশী আসবেন। সে কারণেই তার সম্মানার্থে বিদ্যুৎ বিভাগ এই অভাবনীয় কাজটি করেছেন বলে অনেকের ধারণা। মহামতি কুরেইশী অচিন্ত্যনগরের নতুন জমিদার। আগের জমিদারের অবসরের পর তাকে জমিদারি দেওয়া হয়েছে। একসময় তিনি প্রচন্ড ক্ষমতাবান ছিলেন। আগের জমিদারের সাথে বিরোধ থাকায় তাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। তার পর কেটে গেছে পচিশ বছর। কুরেইশীর বয়স এখন সত্তর। অবশেষে তার নির্বাসন জীবনের অবসান ঘটেছে এবং তিনি অচিন্ত্যপুরে ফিরে এসেছেন। ফিরে এসেই মহামতি হিসেবে জমিদারি গ্রহণ করেছেন। চারদিকে এখন তার জয়জয়কার। অবশ্য রাজ্যে এমনও অনেক লোক আছে যারা তাকে সমালোচনায় ব্যস্ত। কিন্তু তিনি তা গায়ে মাখেন না। সহজ সরল দিনযাপন করছেন। এগুলো দেখে আমিও অনেক মুগ্ধ হই। অবশ্য আমার মুগ্ধতা সুজনের মত না।
যেহেতু মহামতি কুরেইশী আসবেন তাই তিনি যেন এসে সব কিছু ঠিকঠাক দেখতে পান,প্রজাদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ না পান সে কারণেই মুলত বিদ্যুৎ বিভাগ এমন অসাধারণ কাজ করেছে। গতকাল দুপুরের পর থেকে এক মিনিটের জন্যও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়নি। কিন্তু অনুমান করছি এই সুখ বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। কথায় আছে ”সুদে আসলে উশুল করে নিবে”। মহামতি কুরেইশী চলে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ কতক্ষণ বন্ধ থাকবে,কী পরিমান লোডশেডিং হবে তা কল্পনাও করতে পারছি না। তবে সুজনের উত্তেজনা দেখে ভালো লাগছে। সে তড়িঘড়ি করে নিচে নেমে গেলো। মোটামুটি ধারণা করতে পারি কী ঘটতে যাচ্ছে। তারপরও সুজন ফিরে আসলে তার কাছ থেকে জানার আগ্রহ থেকে যাচ্ছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সুজন ফিরে আসলো। তার চোখে মুখে আনন্দের আভা। নতুন চাকরি পেলে কিংবা লটারি জিতলে যেমন মানুষ উল্লাসিত থাকে সে যেন তারচেয়েও বেশি আনন্দিত। অদৃশ্য ডানায় ভেসে বেড়াচ্ছে। মুখ জুড়ে হাসি। অন্যের মুখে হাসি দেখতে পেলে আমার ভালো লাগে। নিজে কারো মুখে হাসি ফুটাতে পারি বা না পারি এমনিতে কারো মুখে হাসি দেখলে আমিও খুশি হই। সুজনের হাসি আমাকেও খুশি করলো। জানতে চাইলাম এতো আনন্দিত কেন সুজন? সুজন হাফাতে হাফাতে বললো দেখা হয়েছে স্যার! দেখা হয়েছে। আমার দিকে তাকিয়ে হাতও নেড়েছেন। সুজনের কথা থেকে বুঝলাম মহামতি কুরেইশী এই পথ দিয়ে কিছুক্ষণ আগে গিয়েছেন। যাওয়ার পথে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে দুইপাশে অপেক্ষারত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে হাত নেড়েছেন। সুজনও তাদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু সুজন ভেবেছে তার উদ্দেশ্যেই বোধহয় মহামতি হাত নেড়েছেন। এই কারণেই বোধহয় বাংলায় প্রবাদ রচিত হয়েছে “পাগলের সুখ মনে মনে”। যাই হোক নিজেকে সুখী ভাবতে পারাও বিরাট ব্যাপার। অনেকে কোটি টাকার সম্পদ থাকার পরও সুখী না। সেখানে সুজন অসংখ্য মানুষের ভীড়ে থেকে মহামতির হাতনাড়াকে নিজের বিরাট সৌভাগ্য মনে করে সুখী হওয়াটাতো অন্যরকম ব্যাপার। এই সুখ কজনইবা অনুভব করতে পারে?
সেদিন সারাদিন সুজনের মুখে হাসি ফুটে থাকলো। হয়তো অফিস শেষে বাড়িতে যাওয়ার পথে পরিচিত যতজনের সাথে ওর দেখা হবে সবাইকে বলবে জানিস আজকে মহামতি কুরেইশী আমার দিকে চেয়ে হাত নাড়িয়েছেন। ওর ফেসবুক আছে কি না জানি না। থাকলে নিশ্চই স্ট্যাটাসও দিবে। সেই স্ট্যাটাসে অনেকে লাইক দিবে। অনেকে আবার প্রমাণ চেয়ে বসবে। মহামতি কুরেইশী যে তোকে উদ্দেশ্য করে হাত নেড়েছে তার প্রমাণ দেখা। ছবি থাকলে ছবি দেয়। অবশ্য যদি সত্যি সত্যি ছবিও থাকতো তাও অনেকে সন্দেহ করতো। সন্দেহপ্রবণরা বলবে আরে এটাতো এআই দিয়ে বানানো ছবি।
২৭ এপ্রিল ২০২৬

