Home Blog Page 9

চলে এসো এক বর্ষায়

বাংলাদেশ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বলে সারা বিশ্বেই পরিচিত।প্রাচীন কাল থেকে এদেশের গ্রামবাংলার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছে বিশ্বের অগণিত পর্যটক।সুদুর চীন থেকে আসা ফা হিয়েন মুগ্ধ হয়েছেন এদেশের গ্রামের সৌন্দর্য দেখে। মুগ্ধ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন ইবনে বতুতা।এদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অপার সৌন্দর্য। সেই সব সৌন্দর্য ছাপিয়ে যায় বর্ষা কালে। বর্ষার আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকে,সারাদিন চলতে থাকে অবিরাম বৃষ্টি।

টিনের চালে সেই বৃষ্টির ঝরে পড়ার শব্দ মনে হয় নৃত্যরত কোন কিশোরীর পায়ের নুপুরের শব্দ।বর্ষা কাল এদেশের মানুষের অতি প্রিয় একটা ঋতু।বর্ষা কালে গ্রামে গ্রামে চলে নানা রকম পিঠা পুলির আয়োজন।কোথাও কোথাও দেখা যায় জারিসারি গানের আসর বসানো হয়।ঘুম কাতুরেরা বর্ষার সময় কাথার গায়ে ঘুমের দেশে হারিয়ে যায়।সারাদিন চলে বৃষ্টির অবিরাম বর্ষন।চারদিকে পানি আর পানি।

ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা সেই বৃষ্টিতে ভিজে উল্লাসে মেতে ওঠে।অনেকেই বর্ষার মৌসুমে জাল বানাতে বসে যায় এবং যাদের জাল আছে তারা খাল বিলে মাছ ধরতে ছুটে যায়।বর্ষাকালে গ্রাম যেন ভিন্ন আঙিকে সাজে তার অপরুপ সৌন্দর্যে।কৃষকেরা বর্ষাকে ঘিরে তাদের ধানের জমি প্রস্তুত করে,আর বাড়ির মেয়েরা অনেকেই মনের মাধুরী মিশিয়ে নকশী কাথা সেলাইয়ের কাজে হাত দেয়।

গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা দাদা দাদিকে ঘিরে বসে গল্প শোনার জন্য।শহরের সাথে গ্রামের এখানেই পার্থক্য। শহরের কংক্রিটের দালানের মধ্যে থেকে কখন বৃষ্টি আসলো আর গেল সেটা আমাদের অনেকের চোখেই পড়েনা।অপর দিকে গ্রামে বর্ষার আকাশ ক্ষণে ক্ষণে গুড়ুম করে ডেকে ওঠে আর ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ভয় পেয়ে দৌড়ে মায়ের কোলে গিয়ে লুকায়।বৃষ্টির ছোয়া পেয়ে ঘাস থেকে শুরু করে সব কিছু সতেজ হয়ে ওঠে।

গ্রামে না গেলে তাই বর্ষার প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব নয়।খাল বিল পানিতে থৈ থৈ করতে থাকে আর দুরন্ত ছেলেরা সেখানে সাতার কাটতে থাকে।হাসেরা হাপুস হুপুস ডুব দেয়। হয়তো কোথাওবা পানকৌড়ি কিংবা মাছরাঙা ওৎ পেতে বসে সাথে মাছ ধরার আশায়।কিন্তু অনেকেই এখন আক্ষেপ করে বলে এখন গ্রাম পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ক্রমাগত ভাবে আধুনিকতার ছোয়া লেগে গ্রাম হয়ে উঠছে শহরের মত।গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে,পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। ফলে এখন গ্রামেও অনাবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে।তবে সর্বপরি এই বাংলার রুপ রস গন্ধ সবতো গ্রামেই লুকিয়ে আছে।তাইতো শিল্পীর কন্ঠে ধ্বনিত হয় “যদি মন কাঁদে, তবে চলে এসো এক বরষায়। এসো ঝরো ঝরো বৃষ্টিতে,এসো জলে ভেজা দৃষ্টিতে”।

……………….

জাজাফী

কি শিক্ষা দিচ্ছে কোমল মতি শিশুদের

বাংলাদেশের সেই সব অভিভাবকদের কাছে আমাদের প্রশ্ন যাদের সন্তানদের দেশ সেরা স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য সকাল সন্ধ্যা বাচ্চার উপর বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন এবং কেউ কেউ মোটা অংকের ডোনেশান দিয়েছেন আপনারা কি বলতে পারেন যদি নামি দামি সেই সব স্কুলে বাচ্চাকে ভর্তি করানোর পরও সেই বাচ্চাকে সেই স্কুলের স্যারদের কাছে কিংবা অন্য কোন স্যার বা কোচিংএ প্রাইভেট পড়াতেই হবে তাহলে নামি দামি স্কুলে ভর্তি করে লাভ কি?

যে টাকা ওই স্কুলে ভর্তির জন্য বাচ্চার পিছনে খরচ করেছেন কিংবা ডোনেশান দিয়েছেন কিংবা কোচিং প্রাইভেট করে খরচ করেছেন সেই টাকা আপনার হাতে রাখুন। বাচ্চাকে বাসার পাশের অখ্যাত কোন স্কুলে ভর্তি করান। তার পর সেই হাতে রাখা টাকা গুলো বাচ্চার পড়াশোনার এবং সার্বিক কল্যানের জন্য খরচ করুন। দেখবেন আপনার বাচ্চা ওই সব নামি দামি স্কুলের সেরা ছাত্র ছাত্রীর চেয়ে কোন অংশেই খারাপ রেজাল্ট করবে না। বরং তার উপর প্রেশার কম থাকায় সে বরং পড়াশোনার পাশাপাশি কোকারিকুলার একটিভিটিস গুলোতেও ভাল করবে।তাদের শৈশব কৈশর হারিয়ে যাবেনা।

মূল কথা হচ্ছে ভাল স্কুলে ভর্তির জন্য যদি এতোই দৌড়ঝাপ করবো তাহলে কেন বাচ্চাকে ধর্ম কিংবা শারিরীক শিক্ষা বিষয়েও স্কুলেরই টিচারের বাসায় প্রাইভেট পড়তে যেতে হবে? ভাল স্কুল নামি দামি স্কুল তাহলে আপনার বাচ্চাকে কি দিচ্ছে? সেই স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য কেন তবে উঠে পড়ে লেগেছেন? আপনি জানেন যে আপনি নিজে আপনার সন্তানের মেধাকে আপনার সন্তানের সুন্দর শৈশব কৈশরকে ধ্বংস করছেন! নাহ এই সহজ কথাটা বোঝার মত জ্ঞান সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দেয়নি।


কোচিং প্রাইভেটে যদি যেতেই হয় তাহলে নামি দামি স্কুল আর ঘরের পাশের সাধারণ স্কুলের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? চলুন তবে বুয়েট মেডিকেল ঢাকা ভার্সিটি বা অন্য যে কোন ভার্সিটিতে যে কোন বিভাগে গিয়ে খোজ নিয়ে জেনে নেই কে কোন স্কুল থেকে পড়ে এসেছে। অধিকাংশই গ্রাম থেকে মফস্বল শহর থেকে এসেছে। আমি দিনাজপুরের কথাই বলি। দিনাজপুরের সাধারণ স্কুল থেকে যে হারে বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট মেডিকেলে চান্স পাচ্ছে এই শহরের নামি দামি স্কুল থেকে পাশ করা ছাত্ররা আনুপাতিক ভাবে সেই হারে চান্স পাচ্ছেনা।

সাধারণ স্কুলের ছাত্রটির জন্য যা ব্যয় হয়েছে তার দশগুন ব্যয় হচ্ছে শহরের ছাত্র ছাত্রীর জন্য। এই যে ব্যয় হচ্ছে এটা তৈরি করেছি আমরা নিজেরা অভিভাবকেরা। আমার মনে করছি ভাল স্কুলে ভর্তি না করলে আমাদের সন্তানেরা ভাল মানুষ হতে পারবে না প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেনা। এটা সম্পুর্ন ভুল ধারনা। বেরিয়ে আসুন আপনাদের দিবাস্বপ্ন থেকে। বাস্তবতা বুঝতে চেষ্টা করুন। এই সব শিক্ষাবানিজ্যের বিরুদ্ধে এখনি সোচ্চার হোন। নতুবা আপনার আমার সন্তান ভাই বোন কাগজে কলমে ভাল রেজাল্টধারী হবে কিন্তু বাস্তব জীবনে কি হবে সেটা সময়ই বলে দেবে।


প্রাইভেট এবং কোচিং যেখানে করতেই হচ্ছে সেখানে নামি দামি স্কুলে পড়ানো আর না পড়ানো সমান কথা। বরং ওই সব প্রতিষ্ঠান একই সাথে আপনার সন্তানের উপর নানা প্রেশার তৈরি করছে এবং আপনার পকেট খালি হচ্ছে। তাই মিছেই ভ্রমের পিছনে ছুটবেন না। বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা যদি চিন্তা করতেই হয় তবে ভেবে দেখুন আপনি ভুল পথেই এগোচ্ছেন।

মানুষ গড়ার কারিগর যদি নিজেই মানুষ না হয়

মানুষ গড়ার কারিগর যদি নিজেই মানুষ না হয়,তবে সে কি করে মানুষ গড়বে?আমাদের কোমলমতি শিশু-কিশোর যারা বিদ্যার্জন নামক দুর্লভ বস্তু আহরণের জন্য দিন-রাত ছুটছে, তাদের অবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমান যুগে যারা আধুনিক অভিভাবক, তাদের অধিকাংশের সন্তান একটি বা দু’টি।

ফলে আমাদের সন্তানদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা এতো বেশি যে, সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, বড় আমলা, বিজ্ঞানী সবকিছু বানাতে হবে, এমন ভাবনায় আমরা পাগলের মতো দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছি। আর এ সুযোগ নিচ্ছে বিদ্যা নিয়ে বর্তমানে ব্যবসায় জড়িত শিক্ষক ও বিদ্যাপিঠের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কমিটি। ছেলেমেয়েদের আমরা এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করতে দিতে চাই না।

এমনিতেই ঢাকা শহরের শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলার কোনো সুযোগ নেই, অধিকন্তু অতিরিক্ত লেখাপড়ার চাপে শিশুদের মানসিক ও স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে তাদের হয়ত ভিন জগতের মানুষে পরিণত করছি আমরা।

শিশু-কিশোরদের সামাজিকীকরণ যে একটি প্রকৃত ও অতি প্রয়োজনীয় শিক্ষা তা বুঝতে চেষ্টা করি না। অতি ব্যস্ততার কারণে আমরা যেমন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাই না, তেমনি কোনো আত্মীয়স্বজন বাসায় এসে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষতি করুক, সেটাও পছন্দ করি না। ফলে ছেলেমেয়েরা আত্মীয়দের তেমন চেনে না। যৌথ পরিবার না থাকায় চাচাতো মামাতো ভাইবোন বা অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বন্ধন সৃষ্টি হয় না। এর ফলে আমরা আমাদের অজান্তেই শিশুদের এক ঘরে করে ফেলছি।

তাই আজকালকার শিশু কিশোররা অন্তঃমুখী হয়ে বেড়ে উঠছে এবং তারা নতুন পরিবেশে বা অপরিচিতজনদের কাছ থেকে নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। যা কোনোভাবেই সুস্থ আচরণের বহিঃপ্রকাশ নয়।
অতিরিক্ত লেখাপড়ার চাপ শিশুদের শুধু যে মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে বা মানসিক পীড়া সৃষ্টি করে, তা নয়, এটি তাদের শারীরিক সমস্যাও সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি চিকিৎসা বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ল্যানচেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, এশিয়ার প্রধান প্রধান শহরের বিদ্যালয়ে লেখাপাড়া শেষ করা শিক্ষার্থীদের ৯০ শতাংশ ক্ষীণদৃষ্টি সমস্যায় ভুগছে। গবেষকরা বলেছেন, বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার অতিরিক্ত চাপ এবং বাইরের প্রাকৃতিক আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণেই ক্ষীণদৃষ্টিজনিত সমস্যা এত প্রকট আকার ধারণ করেছে।


তাই আসুন আমাদের শিশু কিশোরদের সত্যিকার শৈশব কৈশর ফিরিয়ে দিই। ওদের জীবন হয়ে উঠুক আনন্দঘন। কোচিং আর প্রাইভেট টিউটরদের দৌরাত্ব কমে যাক এটা প্রত্যাশা করি এবং সেই সাথে স্কুল গুলোতে যেন শিক্ষকেরা আগের মত আন্তরিকতা নিয়ে পড়ান সেই জোর দাবী জানাই।

শিক্ষক স্কুলে নিজ দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করে ছাত্রছাত্রীকে বাসায় প্রাইভেটে আসতে বলার যে প্রচলন শুরু হয়েছে তা বন্ধ হওয়া উচিত। ওই সব শিক্ষকদের বলতে চাই কদিনইবা বাচবেন তাহলে এতো ফাকিবাজি করে ধান্দা করে টাকা আয় করে কি হবে বলুন? আপনারা নাকি শিক্ষক আর শিক্ষক নাকি মানুষ গড়ার কারীগর। আপনারা নিজেরাইতো মানুষ হতে পারেন নি তাহলে অন্যকে কিভাবে মানুষ করবেন?

আমাদের বিবেক

নিজের কাজটি সঠিক ভাবে করে যাওয়াই দেশ প্রেম। যে তার নিজের কর্তব্য কাজ সঠিক ভাবে করেনা সে প্রকারান্তে দেশ প্রেম থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছে। আর যে দেশকে ভালবাসেনা সেইতো দেশের জন্য বোঝা স্বরুপ। স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে আমাদের জন্মের অনেক আগে।তার পর ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে নানা সময় স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস পরিবর্তিত হয়েছে। যেন অনেকটা নদীর স্রোতের মত এই একদিকে যাচ্ছে তো কিছুক্ষণ পর দিক পরিবর্তন হচ্ছে।

সময়ের সাথে সাথে তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও বাক নিয়েছে নানা দিকে। সবাই দাবী করে তারাই সত্যের পথে আর বাকিরা মিথ্যা বানোয়াটি। এর পর যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের সামনে তুলে ধরা হলো স্বাধীনতার বিপক্ষের মানুষ আর স্বপক্ষের মানুষ এই দুই ধরনের শ্রেনী ব্যবধান।আপাত দৃষ্টিতে ১৯৭১ সালে যারা দেশ স্বাধীন হোক এটার পক্ষে ছিল তারাই স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোক আর যারা অখন্ড পাকিস্তান চেয়েছিল তারা স্বাধীনতার বিপক্ষের লোক।

কালে কালে এ ঘাটের জল ও ঘাটে গড়িয়েছে এবং আমাদের সময়েই কতিপয় স্বাধীনতার বিপক্ষের লোকের অপরাধ প্রমান করে মৃত্যু দন্ড প্রদান করা হয়েছে। তার মানে এ প্রশ্ন এক দিক থেকে অবান্তর যে কে স্বাধীনতার বিপক্ষে। কারণ এখন সবাই বুঝে গেছে জেনে গেছে কে বা কারা স্বাধীনতার বিপক্ষে।মুক্তিযুদ্ধে যারা প্রাণ বাজি রেখে এই দেশ স্বাধীন করেছিল তাদের অনেকেই খেতাব ধারী। আবার তারাই সময়ে সময়ে এমন সব কান্ড ঘটিয়েছে যা দেখে মনে হয় তারাও স্বাধীনতার বিপক্ষে।

বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল তারাও স্বাধীনতার বিপক্ষে।মনে পড়ে কর্ণেল তাহেরের কথা? তিনিও খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং তাকে ফাসী দেওয়া হলো।যারা ফাসী দিল তাদেরকেও যুক্তি তর্কে স্বাধীনতার বিপক্ষের লোক বলে প্রমান করা যাবে। অথচ তারাও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতার বিপক্ষে কারা সেটা বের করার আগে জানা উচিত স্বাধীনতার স্বপক্ষে কারা। স্বাধীন এই দেশটাকে যারা মনে প্রাণে ভালবাসে এবং দেশের সার্বিক মঙ্গল কামনা করে তারাই স্বাধীনতার পক্ষের লোক এর বাইরে যারা আছে তারা সবাই স্বাধীনতার বিপক্ষের লোক।

যে ট্রাফিক পুলিশ টাকার বিনিময়ে অবৈধ পন্য বোঝাই ট্রাক ছেড়ে দেয় সে স্বাধীনতার বিপক্ষে। যে অবৈধ পন্য স্বাধীন এই দেশে প্রবেশ করায় সে স্বাধীনতার বিপক্ষে। পরীক্ষার সময় যারা প্রশ্ন পত্র ফাস করে তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে। যারা শিক্ষার আনুপাতিক মান বাড়ানোর জন্য গণ হারে এ প্লাস দেওয়ার ফরমান জারি করে তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে।যারা ক্রিকেট দল ভাল খেললে তাদের মাথায় তুলে নাচে এবং খারাপ খেললে বাবা মা তুলে গালি দেয় তারাও স্বাধীনতার বিপক্ষে।

শরীরে শক্তি থাকার পরও কাজ না করে যারা ভিক্ষা করে এবং ডাকাতি ও ছিনতাই করে তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে।ভোটের সময় যারা মিষ্টি কথা আর প্রতিশ্রুতির বান ডেকে ক্ষমতায় যাওয়ার পর জনগনের কথা মনে রাখেনা তারাও স্বাধীনতার বিপক্ষে।যারা সরকারী দলকে চাপে রাখতে পণ্য আটকে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে সিট পেতে হলে যাদের কথা মত উঠবস করতে হয় তারাও স্বাধীনতার বিপক্ষে। স্বাধীনতার বিপক্ষে প্রকারান্তে অনেকেই।তাই কেবল মাত্র চিহ্নিত লোক গুলোকেই স্বাধীনতার বিপক্ষের লোক মনে করে বাকিদের কথা ভুলে গেলে চলবে না। স্বাধীনতার বিপক্ষের মানুষগুলোকে শুধরে দিতে না পারলে স্বাধীনতার সুফল পাওয়া যাবেনা কোন দিনই।।

……………………………………………………………………………………………………………

মুক্ত ও বন্দীত্ব

মানুষ মুক্তি চেয়েছিল

ট্রাফিকজ্যাম,কল কারখানার ধোয়া,যানবাহনের বিরক্তিকর আওয়াজ

আর জনসভায় রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেওয়া ভাষণ থেকে।

মুক্তি চেয়েছিল সমাজ থেকে,দৈনন্দিন রুটিন থেকে

ক্যারিয়ার,স্বপ্ন,কর্পরেট জীবনের দৈনিক অকাল্পনিক পরিশ্রম করা

বাচ্চারা মুক্তি চেয়েছিল স্কুলের ভারি ব্যাগের বোঝা বহন করা থেকে,

নিজের সক্ষমতার অধিক হোমওয়ার্ক থেকে।

ট্রাফিক পুলিশ মুক্তি চেয়েছিল সারাদিন ধুলোবালির মাঝে দাড়িয়ে

অবিরাম বেখেয়ালে ছুটে চলা গাড়ির বিরক্তিকর হর্ণ

আর বেপরোয়া চালক ও পথচারি থেকে।

পরিচালক প্রযোজকদের চাপে শিডিউলে নাকাল হওয়া

শিল্পীরাও মুক্তি চেয়ে ছিলো

কিন্তু কেউ মুক্তি দেয়নি।

না কোন স্কুল শিক্ষার্থীদেরকে মুক্তি দিতে পেরেছে প্রাধন শিক্ষক

না কোন মানুষ মুক্তি দিতে পেরেছে 

রাজনৈতিক নেতাদের কানফাটানো ভাষণ থেকে

করপরেট জীবনে খেটে খাওয়া মানুষটিকে

কখনো মুক্তি দেয়নি তার উধ্র্বতন কর্তৃপক্ষ।

ট্রাফিক পুলিশকে মুক্তি দিতে পারেনি বিভাগীয় কমিশনার

ঘুম ঘুম চোখে জীবীকার তাগিদে যে বাস চালক

নিজের সাথে সাথে আরও কিছু মানুষের জীবনের ঝুকি বাড়িয়ে রোজ গাড়ি চালাতো

সেও কখনো মুক্তি পায়নি।

রূপালী পর্দার নায়ককে মুক্তি দেয়নি তার ব্যাস্ত শিডিউল

দুনিয়া জোড়া খ্যাতি নিয়েও

এতটুকু অবসর যাপনের অবাকাশ পায়নি লিওনেল মেসি।

পৃথিবীর কেউ কাউকে মুক্তি দিতে পারেনি

বরং প্রতিনিয়ত আরও অগণিত জালে বেঁধে রেখেছে।

মুক্তি চেয়ে চেয়ে ক্লান্ত মানুষগুলো যখন মুক্তির আশা ছেড়ে দিয়েছিল

ঠিক তখন একই সাথে সবাই মুক্ত হয়ে গেলো

ফুটবল মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো মেসিরা মুক্তি পেলো

উইলো হাতে প্রচন্ড রোদে দাড়িয়ে থাকা থেকে মুক্তি পেলো বিরাট কোহলি।

সারা সপ্তাহ কাজের চাপে সন্তানকে আদর করে যে বাবা কোলে নিতে পারেনি

আজ সেও মুক্ত

চাইলেই সকাল সন্ধ্যা সন্তানকে বুকে নিয়ে গল্প আড্ডায় দিন কাটাতে পারে

কাজের বুয়ার রান্না খেতে খেতে রাধতে ভুলে যাওয়া মানুষটিও

ইচ্ছে মত শখের রান্না খাওয়াতে পারে স্বামী সন্তানকে।

দৈনন্দিন জীবনের গৎবাধা নিয়মের বেড়ালজাল থেকে আজ মুক্তি মিললেও

কেউ মুক্ত স্বাধীন নয়।

এ মুক্তি মানে ইচ্ছেমত পাখির ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো নয়

এ মুক্তি মানে প্রিয়জনকে বাহুডোরে বেধে সিনেপ্লেক্সে যাওয়া নয়

রিওক্যাফেতে মুখোমুখি বসে ধুমায়িত কফি খাওয়ার নয়।

এ মুক্তি মানে পার্কের বেঞ্চিতে বসে বাদাম খেতে খেতে গল্প করা নয়

মুক্তির নামে এও এক বন্দীত্ব।

তবুও ভালো,ঘরে থাকি,প্রিয়জনকে সময় দেই,বই পড়ি আর সিনেমা দেখি

এমন সুযোগ একশো বছরেও একবার আসে না

শুধু মুক্তি মেলেনি সাদা অ্যাপ্রোনের,স্টেথেস্কোপের

কমলা রঙের পোষাক পরা মানুষগুলোর

মুক্তি মেলেনি জলপাই রঙা পোষাকের

সমস্ত পৃথিবীকে মুক্তির সাথে সাথে তারা বন্দীত্ব বরণ করেছে

আর সবাইকে ভালোরাখার আশা

তবে আপনি ঘরে থাকুন,তাদেরকে ভালো রাখুন।

25 মার্চ  2020

অন্যের ভালোকাজের প্রশংসা করি প্রচার করি।

লেখাটা শুরু করছি ফুটবলের দুই কিংবদন্তি ম্যারাডোনা আর পেলেকে দিয়ে।তার পর সেটা মির্জা ফখরুল আর ওবায়দুল কাদেরের হাত ধরে এগিয়ে যাবে। আমি ভেবে দেখলাম পৃথিবীতে খুব কম মানুষ আছে যারা নিজেদের সমকক্ষ অথবা প্রতিদ্বন্দ্বির ভালো কাজের প্রশংসা করে বা মূল্যায়ন করে। বরং যত খুশি নিন্দা করে,ছোট করতে ভালোবাসে।

কে সেরা? ম্যারাডোনা নাকি পেলে?
এই প্রশ্ন ম্যারাডোনাকে করলে তিনি নিজেকে এগিয়ে রাখে আর পেলেকে করলে তিনি নিজেকে শুধু এগিয়েই রাখে না বরং ম্যারাডোনাকে নিচে নামাতে নামাতে এমনকি নেইমারের সাথে তুলনা করতে ছাড়ে না। কোন দিন ম্যারাডোনাকে বলতে শুনিনি পেলে সর্বকালের সেরাদের একজন আর পেলেকেও বলতে শুনিনি ম্যারাডোনা আামার দেখা অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।

হালের মেসি রোনালদোও পরস্পর পরস্পরের প্রশংসা করতে শুনিনি। কেউ হয়তো বলতে পারে দূর থেকে অনেক দূরে বসে কি করে শুনবে? বিষয়টা তেমন না। মেসি রোনালদোরা কাশি দিলেও তার সংবাদ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং প্রশংসা করতে শুনিনি কখনো।

এবার আসি আওয়ামীলীগ বিএনপি তথা ওবায়দুল কাদের আর মির্জাফখরুল বিষয়ে। যে কোন ভাবেই হোক আওয়ামীলীগ দীর্ঘমেয়াদে সরকারে আছে। অনেক কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সেই সব কাজের কোন কোনটা ভালো আবার কোন কোনটা খারাপ। কিন্তু বিএনপি তথা মির্জাফখরুলকে কোন দিন আওয়ামীলীগের বা ওবায়দুল কাদেরের প্রশংসা করতে শুনিনি। বলতে শুনিনি ওবায়দুল কাদের এই ভালো কাজটা করেছে।

ঠিক একই ভাবে ওবায়দুল কাদেরকে কোন দিন বলতে শুনিনি মির্জাফখরুল এবং বিএনপি অমুক অমুক ভালো কাজ করেছে। বিএনপি যেমন কোন দিন আওয়ামীলীগের কোন ভালো কাজ দেখতে পায়নি তেমনি আওয়ামীলীগও বিএনপির কোন ভালো কাজ দেখতে পায়নি। যদি দেখতে পেতো তবে শুনতাম কোন দিন না কোন দিন একে অন্যের ভালো কাজের প্রশংসা করতো বিবৃতি দিতো।

এই যে পদ্মাসেতু হচ্ছে বিএনপিকে কোন দিন বলতে শুনিনি আওয়ামীলীগ সরকার সাহস করে পদ্মা সেতুর কাজ হাতে নিয়েছে যা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। তারা বরং বলবে কোথায় কত টাকা মেরে খাচ্ছে বা খাবে সেসব। একই অবস্থা আওয়ামীলীগেরও। তাদের মুখেও কোন দিন বিএনপি সরকারের কোন ভালো কাজের প্রশংসা শুনিনি।

পেলে ম্যারাডোনার মতই ক্রিকেট,টেনিসেও কেউ কাউকে সেরা বলতে নারাজ। কেউ কারো ভালো কাজের প্রশংসা করতে নারাজ। নাদাল কখনো মনে করে না ফেদেরার সেরা আবার ফেদেরারও কখনো মনে করে না নাদাল সেরা। শচীন মনে করে না বিরাট কোহলি সেরা আবার বিরাট কোহলিও মানে না শচীন সেরা।

অভিনেতারাও বাদ পড়বে না
আমাদের দেশের কোন অভিনেতাকে কখনো বলতে শুনিনা অমুকের অমুক সিনেমাটা অসাধারণ হয়েছে। অন্তত নিজ থেকে কেউ বলে না।চুপ করে থাকে। সে জানে সিনেমাটা খুব ভালো হয়েছে তাও সে বলে না। সেটা আয়নাবাজী দেখেই হোক বা ঢাকা এটাক দেখেই হোক কিংবা অন্য কোন মুভি দেখেই হোক। নির্মাতারাও খুব কমই অন্য নির্মাতার প্রশংসা করে। সব দায় যেন আমাদের মত দর্শকদের।

লেখক কবিরা বাদ যাবে এমনটা ভাবছি না কখনো
এই যে আমাদের অনেক খ্যাতিমান লেখক কবি আছেন আমি কখনো নির্মলেন্দু গুনকে বলতে শুনিনি মহাদেব সাহা খুব ভালো কবিতা লেখেন কিংবা মহাদেব সাহাকে বলতে শুনিনি নির্মলেন্দু গুন ভালো কবিতা লেখেন। আমি কোন লেখককে বলতে শুনিনি এই মেলায় অমুক লেখকের অমুক বইটি খুব ভালো যদিনা তিনি ওই লেখকের বন্ধু মহলের কেউ হয়ে থাকেন। রিকম্যান্ড করার যে বিষয়টি তা একেবারেই উঠে গেছে। সাদাত হোসাইন তার নিজের বই সম্পর্কেই প্রচার করছে আনিসুল হকও তার নিজের বই সম্পর্কেই প্রচার করছে।

আর রিকম্যান্ড করতে গেলে ঘুরে ফিরে বিশ্ব সাহিত্য নয়তো আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কিংবা শহীদুল জহির ঘুরে ফিরে আসছে। কেউ বলছে না অমুক লেখকের অমুক বইটি সেরা একটি বই আবার সেই লেখকও অন্য লেখকের বই নিয়ে বলছে না। বরং পড়ে মুগ্ধ হলেও চেপে যাচ্ছে কারণ একজন বিখ্যাত লেখক যদি অন্য এক লেখকের লেখার প্রশংসা করে তবে অন্যরাও প্রভাবিত হয়ে সেই লেখকের সেই বই পড়বে এবং মুগ্ধ হয়ে তার পাঠক হয়ে যাবে! এটা অনেকেই চান না।

করোনার এই দুর্যোগ কালে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে তার প্রশংসা কম হচ্ছে,প্রচার কম হচ্ছে বরং প্রচার হচ্ছে কে সাহায্য দিলো না সেটা। অগনিত ডাক্তার নার্স সেবাকর্মী জীবন বাজি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে তাদের কথা প্রচার কম হচ্ছে বরং প্রচার হচ্ছে কোন ডাক্তার নার্স কোয়ারান্টাইনে গেলে!

একটা উদাহরণ দেই টিভিতে অভিনয় করে ইয়াশরীব হাবিব নামে ছোট্ট একটা বাচ্চা সে তার আয়ের টাকা দিয়ে গরীবদের যতটা সম্ভব সাহায্য করেছে সেটা প্রশংসা না করে কেউ কেউ বলছে নাম কামানোর জন্য এটা করছে।

বুয়েটিয়ানরা মানতে পারছে না কুয়েটিয়ানরা অনেক কিছুতে তাদের চেয়ে সেরা আবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মানছে না বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ভালো কিছু করা সম্ভব।

চীন থেকে যে মহামারি পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে চীন তা ভালোভাবেই মোকাবেলা করতে পেরেছে বা সচেষ্ট হয়েছে সেটার প্রশংসা হচেছ না বরং দোষারোপ করা হচেছ চীনের প্রতি । তারা যে নানা ইকুইপমেন্ট দিয়ে বিশ্বকে সহযোগিতা করছে তার প্রশংসা কম হচ্ছে বরং ভাইরাস ছড়ানো নিয়ে নিন্দা হচ্ছে।

চারদিকে মানুষ মারা যাচ্ছে জানাজা দেওয়ার লোক মিলছে না আবার কেউ একজন মারা গেছে আর দূর দুরান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ জানাজা দিতে হাাজির হচ্ছে।

বেশ চলছে দুনিয়া!

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী ‘পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে । কবি বোধকরি ভুল লিখেছিলেন।

আসুন প্রশংসা করি,শুধু নিন্দা না করে প্রতিপক্ষ হলেও তার ভালোকাজের প্রশংসা করি,প্রচার করি। নিজে ভালো কাজ করতে পারি বা না পারি অন্তত অন্যের ভালোকাজের প্রশংসা করি প্রচার করি।

— জাজাফী
১৮ এপ্রিল ২০২০

যেখানে যেটুকু পাই তাতেই আমি মানিয়ে নেই

আমি যখন ক্লাস ইলেভেনে তখন ক্লাস টেনের এক ফলোয়ার যার নাম আব্দুল আলীম সে কবিতা লিখতো এবং বিভিন্ন ছোটখাট পত্রিকায় তা ছাপা হতো। ওর কবিতা ছিলো খুব কঠিন। মানে সম্ভবত ডিকশনারীতে থাকা সবচেয়ে কঠিন শব্দগুলো বেছে বেছে নিয়ে তারপর কবিতা লিখতো। আমি একদিন ডেকে বললাম তুই কী ছাতামাথা লিখিস কিছুই বুঝতে পারি না ওর চেয়েতো আমিই ভালো লিখতে পারি। কথাটা বলেছি ঠিকই কিন্তু জীবনে কোনদিন কবিতা লিখিনি।

সে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলো। বললো ভাই তাহলে লিখে দেখাইয়েনতো। ভাবলাম ঠিক আছে তবে মনে মনে বিপদ আসছে টের পেলাম। এর চেয়ে ভাই ক্রসকান্ট্রি অনেক সোজা,হার্ডল রেস জেতাও সহজ। রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে গেলো তখন চুপিচুপি লিখতে শুরু করলাম। অনেকবার লেখার পর যা দাড়ালো তা কবিতা হলো কিনা জানিনা তবে নিজের কাছে বেশ লাগলো। পরদিন আলীমকে ডেকে পাঠালাম। ও আসার পর ওর হাতে কবিতাটা ধরিয়ে দিয়ে বললাম দেখ কেমন লিখেছি? সে পড়ে বললো ভাই ভালো লিখেছেন,আপনি পারবেন।

আমি বেশ খুশি হলাম তবে বুঝলাম সিনিয়রের লেখা খারাপ বলার সাহস নেই বলেই সে ভালো বলেছে। সেই থেকে শুরু। মনে হতো কবি হবো। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই কবিতা সংখ্যা সেঞ্চুরী পুর্ণ হলো। আমি সেগুলোর নাম দিলাম অকবিতা।কিছু ভক্তও তৈরি হলো আমার। তারা আমাকে সামনে পেলেই জোর করে কবিতা লিখে দিতে বলতো। অনেকটা রাজদরবারে থাকা কবিদের মত সেই কবিতা বা অকবিতাগুলোর সবই হতো যার সামনে বসে লিখছি তাকে নিয়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে যেতাম আর সেখানেও আমার ক্ষুদে পাঠক তৈরি হতে লাগলো। আমি ভাবলাম বেশ বেশ কবিই হবো। লেখাপড়ায় ঢিল দেওয়া শুরু হলো। ভ্যাকেশান এলেই ছুট। পড়াশোনা খুব কমই হতো লেখার পোকা মাথায় ঘুরে বেড়াতো।

তার পর একদিন কবিতা লেখার ভূত মাথা থেকে সরে গেলো। ভাবলাম ধুর কবিতা লিখে কী হবে তার চেয়ে গল্প লিখি। আমি কি আর জানতাম শব্দের পর শব্দ জোড়া দিলেই গল্প হয় না। শেষে আগের মতই নাম দিলাম অগল্প।আশ্চর্য ব্যাপার হলো গল্পগুলো নামিদামী পত্রিকাতেও ছাপা হতে লাগলো। তবে পত্রিকায় কলাম পড়তে পড়তে মনে হলো ধুর গল্প লিখে কি হবে তার চেয়ে কলাম লিখি। বুদ্ধিজীবী হতে হলে কলাম লিখতে হবে।

শুরু হলো কলাম লেখা। এটাও চললো বেশ বছর তিনেক। পত্রিকায় নিয়মিত ছাপা হতে থাকলো। একবার পত্রিকা থেকে বললো জাজাফী তোমার ছবি দিতে হবে কলামের সাথে ছবি ছাপাতে চাই। আমি বললাম থাক আমার কলাম ছাপানোর দরকার নেই তবু ছবি দেবো না! তিনি কি মনে করলেন জানিনা তবে আমি অহংকার প্রকাশ করিনি তা তিনি বুঝেছেন। শেষে ছবি ছাড়াই আবার ছাপাতে শুরু করলেন। কিন্তু বেশিদিন গেলো না আগ্রহে ভাটা পড়লো।

ভাবলাম ছোটদের সাথে এতো মিশি,তারা আমায় বন্ধু মনে করে এমনকি অনেকেই বন্ধু বলেও ডাকে তাই ছোটদেরবন্ধু নামে একটি ওয়েবসাইট করলাম। প্রথমে এটাসেটা যা খুশি দিতাম পরে ভাবলাম ছোটদের নানা বিষয় ওখানে তুলে ধরি। একাকি বেশ কিছুদিন চালানোর পর টিমে সদস্য বাড়লো এখন তারাই কাজ করছে লিখছে সম্পাদনা করছে। এর পর মাথায় ভুত চাপলো ভাবলাম আরো একটা কিছু করা উচিত যেটাতে শুধু ছোটরা নয় বরং বড়রাও থাকবে সেই চিন্তা থেকে Teenagers নামে একটা ওয়েবসাইট করলাম ইংরেজীতে।

এ দুটোই এখন চলছে বেশ। এখন লেখালেখি সব লাঠে উঠেছে। টিমের সবার সাথে দিন রাত ফেসবুক মেসেঞ্জারে এই দুটো সাইট নিয়ে পড়ে আছি। কাজ হচ্ছে খুব কম তবে আড্ডা হচ্ছে বেশ। আর আমার সেই ছোট্ট বন্ধুর পরিধি এখন আরো বেড়েছে। টিভি খুললেই যে বাচ্চাদের দেখতাম এখন তারা আমার সাথে গল্প করে কথা বলে কখনো কখনো আমাকে নানা নামে সম্মোধন করে। বেশ মজায় দিন কাটে। আর ফেসবুকে মাঝে মাঝে এটা ওটা পোষ্ট করি ( যদি দুই চারটা লাইক পড়ে, লাইক কমেন্ট দেখতে বেশ ভালো লাগে!!) এটাও কতদিন চলবে তা জানিনা। হয়তো নতুন কোন কিছুর প্রতি আগ্রহ জন্মাবে। যেমন কবি হতে চাইতাম,লেখক হতে চাইতাম,ব্যবসায়ী হতে চাইতাম,কলামিস্ট হতে চাইতাম সব এক এক করে সরে যাচ্ছে।

আমার কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই,বোধকরি কখনোই ছিলো না। আমার বন্ধুরা,পরিচিতজনেরা সবাই কোন না কোন পরিকল্পনা করে বেড়ে উঠেছে এবং জীবনযাপন করছে। এই করোনার দুর্যোগের দিনে তাদের পরিবার আছে,প্রিয়জন আছে কিন্তু তাদের নাকি কিচ্ছু ভালো লাগছে না মানে বন্দী কারাগার মনে হচ্ছে। আমার তা মনে হচ্ছে না। আমি আগেও এভাবেই ঘরে কম্পিউটারের সামনে দিনের পর দিন রাতের পর রাত কাটিয়ে দিতাম এখনো দেই। পরিবর্তনের ভিতর এই যে মাঝে মাঝে শুক্রবারে ধানমন্ডিতে গিয়ে কিছু রেস্টুরেন্টে খেতাম এখন তা যাওয়া হয় না।

যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মত শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি সব সময় তৈরি আছে। আমি যেখানেই থাকি যে পরিস্থিতিতেই থাকিনা কেন নিজের মত করে তা সাজিয়ে উপভোগ্য করে তুলি। বিশ্ববিদ্যালয় হল মসজিদে মাথার নিচে ডায়েরি দিয়ে রাতের পর রাত ঘুমানোর অভিজ্ঞতা আমার আছে,নদী সাতরে পার হওয়ার অভিজ্ঞতা আমার আছে,একাধারে ২৫ কিলোমিটার হাটার অভিজ্ঞতা আমার আছে,২৪ ঘন্টায় একবার খেয়ে থাকার অভিজ্ঞতা আমার আছে।

আমি জানি কোন কিছুতেই আমি পারফেক্ট নই তবুও আমি কম বেশি সব শিখেছি।আমি ছবি আঁকতে পারি,গল্প কবিতা লিখতে পারি,গান লিখতে পারি,সাইকেল চালাতে পারি,ভ্যান রিকশা চালাতে পারি,একতলা বিল্ডিং এর ছাদ থেকে অসংখ্য বার লাফিয়ে নামার অভিজ্ঞতা আছে(এখন হয়তো পারবো না)মুভি দেখতে খুব ভালো লাগে,বিজ্ঞাপন দেখতে ভালো লাগে,বই পড়তে ভালো লাগে,গান শুনতে ভালো লাগে,কুরআন তিলাওয়াত শুনতে ভালো লাগে। রান্না করতে পারি,সংসারের সব কাজ পারি,বাদরামিও করতে পারি।আমার কখনো বোরিং লাগে না। জীবনটাকে আমি একটি বেডরুমের মত করে ফেলেছি যার ইন্টেরিয়র ডিজাইন আমি নিজের মনের মত করেছি যেন ভালো না লাগার কিছু না থাকে।

ভালো ঘর,ভালো কাপড়,ভালো খাবার এসব নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নেই।যখন যেখানে যেটুকু পাই তাতেই আমি মানিয়ে নেই,খুশি থাকি। বাকি জীবন এভাবেই কাটবে হাসি আনন্দে।

— জাজাফী
১৮ এপ্রিল ২০২০

করোনা কালের কথকতা

পৃথিবীতে প্রতিদিন যে হারে বোমা হামলা, সন্ত্রাস নির্মুলের নামে হামলা,নারী ও শিশু নির্যাতন,খুন, ছিনতাই,চাঁদাবজি হতো তা মুহুর্তে নাই হয়ে গেছে। এখন পযর্ন্ত করোনার কারণে সারা বিশ্বে ১ লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। তবে আমার ধারণা করোনার কারণে এই সময়ে বেঁচে গেছে অন্তত বিশ লাখ মানুষ। তারা হয়তো মারা যেতো বোমার আঘাতে,মারা যেতো সন্ত্রাসের ছুরিকাঘাতে বা বুলেটে,মারা যেতো রেপড হয়ে, মারা যেতো গাড়ি একসিডেন্ট করে,আগুনে পুড়ে।

এক দিক থেকে এটি ভালো হলেও এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে থাকলে তা হবে ভয়াবহ। তখন বেঁচে থাকার তাগিদে খুন হবে অনেক মানুষ। হামলার শিকার হতে হবে অনেককে। একটা কথা আছে নিজে বাচলে বাপের নাম। ওই কথাটাকে ভুলে যেতে হবে। এখন একে অন্যের বিপদে পাশে থাকতে হবে তবেই আপনার আমার বিপদে অন্যরাও এগিয়ে আসবে। নতুবা আপনি আমি যদি অন্যের বিপদে পাশ না দাড়াই আমাদের বিপদেও কেউ পাশে দাড়াবে না।

তার পর “চোখের বদলে চোখ নেওয়ার রীতি পুরো পৃথিবীটাকেই অন্ধ করে দেবে” নিয়মের মতই পৃথিবীটা পৃথিবীর মতই থাকবে, এয়ারপোর্টগুলোতে সারি সারি প্লেন থাকবে কিন্তু পাইলট থাকবে না,কেবিনক্রু থাকবে না,যাত্রী থাকবে না। রাস্তা থাকবে গাড়ি থাকবে না,ড্রাাইভার থাকবে না। হাসপাতাল থাকবে ডাক্তার থাকবে না নার্স থাকবে না। স্টেডিয়াম থাকবে খেলোয়াড় থাকবে না,দর্শক থাকবে না। ক্যামেরা থাকবে ক্যামেরাম্যান থাকবে না অভিনেতা থাকবে না। কাগজ কলম থাকবে লেখক থাকবে না।

এক কালে যেমন অগনিত ডাইনোসর ছিলো এখন তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তেমনি মানুষও বিল্পু হয়ে যাবে।

আসুন মানুষকে ভালোবাসি,পাশে থাকি। এই সময়ে কম কম খরচ করি এবং নিজের পরিচিতজনের মধ্যে কেউ অভুক্ত আছে কিনা সেটাা দেখতে চেষ্টা করি জানতে চেষ্টাা করি। দূরে রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে ত্রাণ দেওয়ার জন্য আপনাকে আহ্বান করছি না, জুরাাইনে যাওয়ার জন্য আহ্বান করছি না আমি বরং আহ্বান করছি আপনার বাসায় যে কাজ করতো তার খোঁজ নিন, আপনার বাসার যে দারোয়ান তার খোঁজ নিন, আপনার অফিসের যে কর্মচারি তার খোঁজ নিন।

শুধু মাত্র নিজের চারপাশে,নিজের খুব সন্নিকটে যারা আছে তাদের কথা ভাবুন এভাবে প্রত্যেকেই তার চার পাশ নিয়ে ভাবলে কে আসলে অভাবে আছে,অভুক্ত আছে নিদারুন দিনযাপন করছে তা বের করা খুব কঠিন কিছু হবে না। এই ঢাকা শহরে অট্টালিকা গুলোতে বিশাল বিশাল এপার্টমেন্টে তিন চারজন দারোয়ান কর্মচারি থাকে যা অ্যাপার্টমেন্টের সবাই মিলে চেষ্টা করলেই তাদের দেখতে পারে। আপনি যদি আপনার কাজের বুয়াকে সাহায্য করেন তবে সে নিশ্চই কোন বস্তিতে কোন গরিবালয়ে থাকে সেখানে একটা ঘর বেচে যাবে। আপনাকে সেই বস্তি খুজে বের করে সাহায্য করা লাগবে না।

বস্তিগুলোতে কিংবা গরিবালয়ে যারা থাকে সংসার করে তারা কারো না কারো বাসায় কাজ করে, কারো না কারো অফিসে কাজ করে। অন্যদেরকে সহযোগিতা নাইবা করলেন নিজের মানুষগুলোকে করুন দেখবেন কেউ বঞ্চিত থাকবে না।

অনেকেই দেখছি বিরিয়ানি রান্না করে,পোলাও রান্না করে প্যাকেটে করে বিতরন করছে। ধরে নেই প্রতি প্যাকেটে খরচ হচ্ছে ৫০ টাকা। এই পঞ্চাশ টাকায় আপনি যে খাবার দিচ্ছেন তা একজন একবার খেতে পারছে। অথচ আপনি যদি ওই পঞ্চাশ টাকার চাল তাকে দিতেন তবে সে তা দিয়ে হয়তো দুইবার খেতো তিনবার খেতো।

তাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। যারা সহযোগিতা করছে তাদের উৎসাহ দিন। আর আপনার যদি এমন কোন ইনকাম সোর্স থাকে যার জন্য ওই সময়ে আপনার তেমন কোন খরচ হচ্ছে না যেমন ধরুন বাড়ি ভাড়া। তবে আপনি সেখান থেকে কিছু অংশ ব্যয় করুন আর্তমানবতার সেবায়। যদি সবাই মারা যায় তবে আপনার বাড়ি পড়ে থাকবে,সেখানে ভাড়া করে থাকার ম ত কেউ থাকবে না।

কেউ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে? অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হবে অথচ আপনার গাড়ি আছে? দিন না তাকে গাড়িটা ব্যবহার করতে। কয় লিটার তেল পুড়বে? তার বিনিময়ে যদি একজনের জীবন বাঁচে। একদিন এমনও হতে পারে আপনার আমার টাকা আছে গাড়ি আছে সব আছে কিন্তু চিকিৎসার জন্য হাাসপাতালে নেওয়ার মত কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না,টেলিফোন করার সুযোগ হচ্ছে নাা। সব কিছু থেকেও যেন নেই।

আগে চার পদের তরকারী রান্না করতেন? এখন না হয় কিছুদিন এক পদ রান্না করুন বাকি তিনপদের জন্য যে বাজেট তার অন্তত এক পদের বাজেট কোন অসহায়কে দিন।

জানেন পৃথিবীতে সব কিছুই কারো না কারো পরিপুরক। ধরুন আমরা আজীবন ময়লা করলাম কিন্তু কোথাও কোন কাক নেই কোন কুকুর নেই তো সেই সব ময়লা যাবে কোথায়? আমরা ময়লার স্তুপে চাপা পড়বো। আবার ধরুন আমরাা নেই কিন্তু কাক আছে কুকুর আছে শেয়াল আছে। ওরা খাবে কি? না খেয়ে মারা যাবে।

যদি রাত না থাকতো তবে দিনের কোন মূল্য থাকতো না আর যদি দিন না থাকতো তবে রাতের কোন মুল্য থাকতো না। আজকে বিলগেটস যে বিশ্বের সেরা ধনী তার কথা বলি। ধরুন পৃথিবীর কেউ কম্পিউটার কিনলো না তাহলে সে কি ধনী হতে পারতো? আবার ধরুন সবাই কম্পিউটার কিনবে কিন্তু কেউ তৈরি করছে না তাহলে কি হতো।

পৃথিবীর সব কিছুই একে অন্যের পরিপুরক। গরিব আছে বলেই আপনি ধনী বলে পরিচিত হতে পারছেন আর ধনী আছে বলেই ওরা গরিব বলে পরিচিত হচ্ছে।

এই যে যারা চাল চুরি করছে,ডাক্তার নার্সদের বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলছে,এই বিপদের দিনেও রাজনীতি নিয়ে রেশারেশি করছে তারা কি ভালো করছে? এর আগে পৃথিবীর অনেক সম্পদশালী মারা গেছে। মানুষের জীবন মরুভূমির বুকে দাড়িয়ে থাকা গাছের মত। যদি সেই গাছ ছায়া দিতে পারে তবেই তার নিচে ঠাই নিবে অনেকে আর যদি শাখা পল্লবহীন হয় তবে কেউ দাড়াবে না কারো কোন কাজেই আসবে না। আমাদের জীবন কি শাখা পল্লবহীন সেই গাছের মত হবে? যা কারো কোন কাজে আসে না? যার জন্ম হয়েছে মাটি থেকে পানি শোষণ করে বায়ু গ্রহণ করে কিছুকাল দাড়িয়ে থেকে হারিয়ে যাওয়ার।

আসুন মানুষের পাশে দাড়াই,বিপদে বন্ধু হই।

— জাজাফী
১৭ এপ্রিল ২০২০

করোনার ছুটিতে ছোটাছুটি চলছে

করোনাতে ছুটি দিছলো ঘরে থাহার লাইগ্যা
কেডায় শুনে হেই কতাডা হবাই গেছে ভাইগ্যা।

আরও একবার ছুটির মিয়াদ বাড়ায় দিছে সরকার
বাড়ি থুইয়া ঢাহায় আসার তুমার কিয়ের দরকার?

কি কন? মোগো ছুটি বাতিল হেতের লাগি আহি
চাকরি যাবে ডর আছে না? বাড়ি ক্যামতে থাহি?

ওরে মদন হবাই যহন ঢাহার কাছাকাছি
তহন আবার বন্দ দিয়ে খেলোস কানামাছি?

কোন হাগলের পালায় হইড়া কনে যে কে মরে
মরন যহন আইবো তহন কেডায় থাহে ঘরে?

–জাজাফী
৫ এপ্রিল ২০২০

একই লেখার একাধিক পাঠপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে

একই লেখার একাধিক পাঠপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। যে বইটি পড়ে আামার মধ্যে মুগ্ধতার রেশ কাটতেই চাইছে না সেই একই লেখা পড়ে অনেকেই বলছে আরে ধুর এটা আবার কোন লেখা হলো নাকি। লেখা না ছাই। নাহ এই দুই পাঠকের কাউকেই আপনি দোষ দিতে পারবেন না। প্রথম শ্রেণীর কথা অনুযায়ী লেখক অসাধারণ লিখেছেন আর দ্বিতীয় ক্যাটাগরির কথা অনুযায়ী লেখক যাচ্ছেতাই লিখেছেন। এটা উল্টোও হতে পারে। লেখক আসলে একই লিখেছেন পাঠক তার রুচি অনুযায়ী লেখাটি পেয়েছে বা পায়নি তাই তার পাঠ প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হয়েছে। শুরুটা কাকে দিয়ে করবো? আচ্ছা সাদাত হোসাইনকে দিয়েই করি। শুনলাম সাদাত হোসাইন ভালো লেখেন। যখন শুনলাম তখন তার কোন লেখা আমি পড়িনি।

আমি মেলায় গিয়ে তার বই যে স্টলে বিক্রি হচ্ছে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কিছু পড়তাম আর ভীড় দেখতাম। মোটা মোটা বই দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এটাকি এমনি এমনি? আনিসুল হক, সুমন্ত আসলামদের বইতো এমন বিক্রি হচ্ছে না। সেসব বইয়ের দামওতো কম। আচ্ছা বাদ দিলাম হাসান আজিজুল হকের বইওতো এমন বিক্রি হয়না। আমার মনে হলো এক বই মেলায় সাদাহ হোসাইনের যত কপি বই বিক্রি হয়েছে হাসান আজিজুল হক স্যারের সারা জীবনেও ততো কপি বই বিক্রি হয়নি। এটুকু পড়ে কেউ আবার ভাবতে বসবেন না আমি সাদাত হোসাইনের প্রচারে নেমেছি।

আমি সাদাত হোসাইনের নির্বাসন বইটা কিনলাম এবং পড়লাম। আমাকে মুগ্ধ করলো। আমি ছদ্মবেশ কিনলাম সেটাও আমাকে মুগ্ধ করলো। আমি ভাবলাম বইটা কি এমনি এমনি আমাকে মুগ্ধ করলো কি না! পড়তে দিলাম এমন কিছু পাঠককে যারা সমরেশ,সুনীল,শীর্ষেন্দু পড়ে অভ্যস্থ। তারাও পড়ে বেশ প্রশংসা করলেন! মনে হলো না আমি ভুল পড়িনি। আমি ছদ্মবেশ বইটা উপহার দিলাম হিমুকে।সে পড়ে যাষ্ট ধুয়ে দিলো। বললো এটা কি কোন লেখা হলো?সব গোজামিল মনে হলো। কিছুই যুক্তিযুক্ত নয়! একই বইয়ের দুটো পাঠক প্রতিক্রিয়া পেলাম। আমি বুঝলাম আমি কোন লেখক থেকে কি ধরনের লেখা আশা করি বা আমার মন ঠিক কোন ধরনের লেখা আশা করে তার উপর বইয়ের সাফল্য নির্ভর করে। আমি এর উদাহরণ দেবো অবশ্যই। অপেক্ষা করুন।

লতিফুল ইসলাম শিবলীর লেখা আসমান বইটার অনেক নাম শুনলাম। এর আগে তার কোন বই আমি পড়িনি। তো গিয়ে দাড়ালাম স্টলে উল্টেপাল্টে দেখে বইটা কিনলাম তার পর পড়ে ভালো লাগলো বলে কিনে নিয়ে আসলাম। পুরো বইটা পড়ে খুবই মুগ্ধ হলাম। মূলত আমার মন যে ধরনের লেখা আশা করছিলো সেটা হুবহু সেরকম লেখা। ভাবলাম তার অন্যান্য লেখাও পড়বো। কিনে আনলাম দারবিশ। সত্যি বলছি আমি লতিফুল ইসলাম শিবলী ভাইকে নিজে বলেছি দারবিশ আমার একটুও ভালো লাগে নি। অথচ এই দারবিশ বইটা নিয়েই কিছু পাঠক আছেন যাদেরকে আমি খুবই পছন্দ করি বিশেষ করে তাদের যে কোন মতামত তো তাদের কয়েকজন বললো আসমান বইটার চেয়েও দারবিশ বইটি বেশি ভালো। আমার ভাবনার সাথে এই মতামতের কিছুই মিললো না। আমি বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করলাম এবং বুঝলাম দারবিশ বইটিতে যে সব বিষয় নিয়ে বলা হয়েছে তা সম্পর্কে আমার আগে থেকে জানাশোনা কম এবং আগ্রহ কম বিধায় বইটি ভালো লাগেনি। আবারও বুঝলাম অনেক কিছুর উপর একটি লেখার ভালো লাগা মন্দ লাগা নির্ভর করে।

মঈনুল আহসান সাবেরের অনেক লেখা পড়েছি। কোন কোনটা ভালো লেগেছে আবার কোন কোনটা একেবারেই ভালো লাগেনি। তার মানে কি এই যে লেখক লিখতে পারেন নি আবার আপনি এ্ও বলতে পারেন না যে আমি পাঠক হিসেবে যাচ্ছেতাই। যেমন ধরুন কাফকা আসবে নামে যে বইটি সেটা আমার কাছে একেবারেই ভালো লাগেনি ঠিক যেমন দারবিশ ভালো লাগেনি তেমন। এটা হলো পাঠক মনের মানসিক প্রস্তুতি এবং গ্রহনের সক্ষমতার উপর নির্ভরশীল।
আমি একজন পাঠক হিসেবে সেই লেখাই পড়তে ভালোবাসি বা সেই লেখকের সেই লেখাটিকেই এগিয়ে রাখতে চাই বা সেরা বলে ঘোষণা করতে চাই যেটি পড়ে আমি আনন্দ পাই,যেটি পড়তে গিয়ে কোথাও আমাকে হোচট খেতে হয় না। যাই সেটা সাদাত হোসাইন লিখুক বা মার্কেজ লিখুক।

এই যে সবাই আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কিংবা শহীদুল জহিরের সাহিত্যের কথা বলেন কি লাভ যদি তা আমাকে মুগ্ধ করতে না পারে! আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই ভালো লেগেছে কিন্তু অন্যগুলো তেমন ভালো লাগেনি। আচ্ছা আমি স্বীকার করতে ভয় পাইনা বরং সরাসরি বলি আমি হয়তো তাদের লেখা বুঝতে পারিনি। ভাইরে ভাই কারো একজনের লেখা বুঝার জন্য যদি আমাকে তৈরিই হতে হয় তবে সেই লেখা দিয়ে আমার কাম কি? আমি পাঠক সুতরাং লেখক আমাকে তৈরি করে নিজের লেখা লিখবেন কেন বরং এমন লেখা লিখবেন যা গ্রহণ করতে প্রস্তুত আমি। নতুবা তাদের সেই লেখা গ্রহণের জন্য নিশ্চই গুটিকয়েক পাঠক আছেন উচ্চমার্গীয়। আামিতো সেই দলের নই।

শহীদুল জহিরের ডলুনদীর হা্ওয়া পড়তে গিয়ে যদি আমাকে পুরান ঢাকার ভাষা শিখতে হয় বুঝার জন্য তাহলে সেই লেখা পড়ে আমি আনন্দ পাবো কি করে? এরচেয়ে আমি ঢের বেশি পছন্দ করি শাহাদুজ্জামানের লেখা,সাদাত হোসাইনের লেখা,শাকুর মজিদের লেখা এবং আনিসুল হকের কোন কোন লেখা। এখন পযর্ন্ত আমি যেই লেভেলের পাঠক তাতে আমি দেখেছি একমাত্র হুমায়ূন আহমেদ এবং সাদাত হোসাইন ছাড়া আর কারো যত লেখা পড়তে গিয়েছি সবটা ভালো লাগেনি বরং কোন না কোনটাতে আমি হোচট খেয়েছি। এ দোষ যেমন লেখকের নয় তেমনি আমারও নয়। ওই সব লেখারও লাখ লাখ বিমুগ্ধ পাঠক আছেন। সাদাতের মাত্র তিন চারটা লেখা পড়েছি তাই তাকেও আপাতত বাদ রাখতে হচেচ্ছ। সে ক্ষেত্রে শুধু হুমায়ূন আহমেদের অনেক লেখা পড়েছি এবং কোনটাই পড়তে গিয়ে হোচট খাইনি।

রেজা ঘটকের কিছু কিছু লেখা পড়েছি ভালো লেগেছে। অথচ এই লেখকের নাকি অনেক সাধনা করে লেখা একটি বই “বসনা” এটা পড়তেই পারিনি। জাষ্ট বিরক্ত হয়েছি। আমি শেষে পড়তে না পেরে আরেকজনকে দিয়ে দিয়েছি ঢাউস সাইজের বইটা। এটা নিয়ে আমি লেখককে সে কথা বলেছি। স্বকৃত নোমানের লেখা পড়েছি অনেক সেই একই লেখকের রাজনটী বইটা পড়তে গিয়ে ভালো লাগেনি। আশান উজ জামানের লেখা “অন্য চোখে “ বইটি পুরস্কার পেয়েছে এবং প্রচুর প্রসংশাও কুড়িয়েছে। ছোট ছোট বাক্য বিন্যাসে ভিন্ন রীতিতে লেখা বইটির সমালোচনার চেয়ে প্রসংশাই বেশি পেয়েছে। আমিতো এই ধরনের লেখা পড়ে অভ্যস্থ নই ফলে আমার কাছে আশানুরুপ ভালো লাগেনি। আমি সেটা লেখককে বলেছি অকপটে। তা বলে আমি কখনো বলতে পারি না আপনি যাচ্ছেতাই লিখেছেন বরং বলতে পারি আমি যেমনটি পড়তে ভালোবাসি আপনার লেখাটিট সেরকম নয়। দুনিয়ার কোন লেখকই সব পাঠকের মনের মত করে লিখতে পারবেন না এটাই স্বাভাবিক।

এসব লেখকের কথা বাদ দেই আমি এবং বিশ্ব সাহিত্যের দিকে আসি।পাওলো কোয়েলহোর দ্য আলকেমিষ্ট পড়ে ভীষণ মুগ্ধ হয়ে কিনলাম “ বাই দ্য রিভার পিদরা আই স্যাট ডাউন এন্ড উইপ্ট” সত্যি বলছি মোটেই ভালো লাগেনি। এর পর মনে হলো ধুর ছাই তার আর কোন বই কিনবো না। তার পরও কিনলাম কয়েকটা তার মধ্যে ”ব্রাইডা”র কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। কিন্তু একই অবস্থা। আমাকে টানতে পারেনি। ঠিক সেই সময়ে কিনলাম ” ইলেভেন মিনিটস”। এই বইটা আমাকে আজও মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। একই লেখক একই পাঠক অথচ পাঠপ্রতিক্রিয়া ভিন্ন। কার দোষ দিবেন? লেখকের নাকি পাঠকের? কাউকেই দোষ দিতে পারবেন না। কারণ আমার যেটা ভালো লেগেছে সেই ইলেভেন মিনিটস এবং আলকেমিস্ট অন্যদের পড়তে দিয়েছি তাদের ভালো লাগেনি। আবার যে বইগুলি আমার ভালো লাগেনি সেগুলোরও দুনিয়াজোড়া সুনাম।

দুনিয়াজোড়া খ্যাতি নিয়ে হারুকি মুরাকামি লিখেছেন নরওয়েজিয়ান উড বইটি। আপনি আমাকে পাগল বলেন আর গাজাখোর পাঠক বলেন তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। নরওয়েজিয়ান উডের চেয়ে ঢের ভালো লাগে বাংলাদেশী অনেক সাধারণ লেখকের লেখা। আমাকে গালি দিতে পারেন কিন্তু আমি স্পষ্টবাদী। আমার ভালো না লাগলে সেটা কে কাউকে খুশি করার জন্য বলতে পারবো না যে ভালো লেগেছে। খোদ কাফকার মেটামরফসিস আমার ভালো লাগেনি। এই যে বললাম মেটামরফসিস ভালো লাগেনি এ জন্য আমার ফাসী হওয়া উচিত বলে্ও অনেকে মনে করতে পারেন কিন্তু আমি বলছি ভালো লাগেনি। এর চেয়ে বরং মান্টোর লেখা আমার ভালো লেগেছে। এর চেয়ে বরং মার্কেজের ”মেলানকোলিস হোর্স” ভালো লেগেছে। মার্কটোয়েনের লেখা ভালো লেগেছে।

বই কিন্তু অনেকটা সিনেমার মত,সিনেমার গানের মত। কিভাবে বলছি শুনুন। ধরুন সাদাত হোসাইনের বই সব চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে কিন্তু বছর শেষে আলোচনায় ঘুরে ফিরে একবারও সাদাত হোসাইনের বইয়ের কথা কেউ তুলবে না বরং তুলবে শহীদুল জহির বা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কথা। আপনি বাহুবলী সিনেমা এতো আয় করেছে দেখবেন দ্বিতীয়বার দেখতে গেলে কেউ এটা দেখবে না। আমির খানের কত সেরা সেরা মুভি আছে কিন্তু কেউ দেখতে গেলে ঘুরে ফিরে লগান নয়তো রাজা হিন্দুস্থানীই দেখবে। গান শুনতে গেলে দ্বিতীয়বার কেউ মাইয়ারে মাইয়ারে তুই অপরাধী রে শুনবে না বরং শুননবে “ যদি মন কাদে তবে চলে এসো এক বরষায়” কিংবা কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই”

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তার মত কেউ নেই অথচ দেখুন আইপিএল এ বিক্রির সময় তার দাম অনেক আনকোরা অচেনা খেলোয়াড়ের চেয়েও কম থাকে। এর মানে এই নয় যে সাকিব সেরা নয়। স্থান কাল পাত্র ভেদে সব বদলে যায়।

লেখকদের লেখা বইগুলিও পাঠক ভেবে পাঠকের রুচি ভেদে সমালোচিত আলোচিত হয়। একই লেখা কারো কাছে অসাধারণ আবার কারো কাছে যাচ্ছেতাই মনে হয়।

আরেকটা ব্যাপার আছে। কিছু মানুষ আছে হুদাই সমালোচনা করে। হয়তো জীবনে সেই লেখকের কোন লেখাই পড়েনি অথচ সমালোচনা করছে।কেন সমালোচনা করছে কারণ তার প্রিয় কোন ব্যক্তি সেই লেখকের সমালোচনা করছে মানে তারও সমালোচনা করতেই হবে। আরও আছে কারো কারো আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পাঠকপ্রিয়তা দেখে ইচ্ছে করে সমালোচনা করে। নিজে সেই পরিমান জনপ্রিয়তা না পাওয়ায় অনেক সময় এমনটা হতে পারে। বাচ্চাদের মত একটা উদাহরণ দেই। দীপু নাম্বার টু সিনেমায় দীপু তার বাবাকে বলেছিলেন তারেকে তার একদমই পছন্দ হয় না বা তারেক তাকে একদমই পছন্দ করে না। বাবা বলেছিলেন দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে। তারপর ঠিকই দুজন বন্ধু হয়েছিল।
সময় সময় সবকিছুই ওলটপালট হয়ে যায়।

আপনিকি কবিতা পড়েন? যদি নতুনদের কবিতা পড়েন তবে হয়তো এই আপনিই বলবেন সেই সব কবিতা যেমন আখতারুজ্জামান আজাদ,ইমতিয়াজ মাহমুদ আরও অনেকের অনেক কবিতা খোদ মহাদেব সাহা,নির্মলেন্দুগুনের কবিতার চেয়ে ভালো। আমি নিজেও এটা বলি। চাইলে আমাকে গালি দিতেই পারেন সেটা আপনার স্বাধীনতা। তা বলে আমি কখনোই বলিনা আজাদ বা ইমতিয়াজ মহাদেব সাহাকে ছাড়িয়ে গেছে বা নির্মলেন্দুগুনকে ছাড়িয়ে গেছে।আজাদেরা আমাদের সময়কে ধরে কবিতা লিখে আমাদের মন জয় করেছে আর মহাদেব সাহারা সেই সময়কে ধরেছিলেন।তবে সেই যে আগেই বলেছি আলোচনায় কিন্তু ঘুরে ফিরে আজাদদের নাম আসবে না বরং গুনদের নাম আসবে।

যে নজরুলকে পছন্দ করে সে রবীন্দ্রনাথকে পছন্দ নাও করতে পারে।ভালো কথা আমারতো রীবন্দ্রনাথের গান অসম্ভব ভালো লাগলেও কবিতা বা উপন্যাস খুব বেশি ভালো লাগে না। কবিতার ক্ষেত্রে জীবনানন্দ দাশের লেখাই বেশি ভালো লাগে। আবার শরৎচন্দ্রর চেয়ে জহির রায়হান ভালো লাগে।বিভূতিও ভালো লাগে। এর মানে কেউ কিন্তু কারো থেকে কম নয় বেশি নয়। যার যার অবস্থান থেকে সে সে ভিন্ন। পাঠকের পাঠাভ্যাস এবং রুচি ও আগ্রহই লেখকের লেখার মূল্যায়নে ভিন্নতা আনে। আর সে কারণেই অগণিত পাঠক সাদাত হোসাইনের লেখার ভক্ত হয় আবার অগনিত পাঠক পড়ে বা না পড়ে সাদাত হোসাইনকে ধুয়ে দেয়। আর এ কারণেই মহাদেব সাহা,নির্মলেন্দু গুণ বা ইমতিয়াজ মাহমুদের কবিতাকে ছাড়িয়ে জনপ্রিয় হয় মারজুক রাসেল।

সুতরাং অসুবিধা কি যদি কেউ বলে ওয়াও কী অসাধারণ লেখা কিংবা যদি বলে লেখা না ছাই!
লেখকের দুটোতেই লাভ! আলোচনা হোক বা সমালোচনা হোক প্রচারণাতো হচ্ছে! । সিগারেটের প্যাকেটে যতই লিখে দেন ধুম পান সাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তবু্ও যাদের খাওয়ার তারা খাবেই। একই ভাবে সাদাত হোসাইন বা মারজুক রাসেল বা আনিসুল হক যাকেই আপনি সমালোচনা করে ধুয়ে দেন না কেন তাদের পাঠক কমবে না বরং বাড়বে। আপনি বরং না পড়ে সমালোচনা করে থাকলে কিছু ভালো লেখার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন কিংবা পড়ে বিরক্ত হতে পারেন। সেটা আপনার ব্যাপার।

জাজাফী

২৮ মার্চ ২০২০