Home Blog Page 19

মাহি ও তার বন্ধু

বাম হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে ক্লাসে ঢুকলো মাহি।বন্ধুরা ওকে ঘিরে ধরে জানতে চাইলো তোর কি হয়েছে?হাতে ব্যান্ডেজ কেন?গত কালকেওতো তুই ভাল ছিলি আজ এ অবস্থা হলো কি করে?এক সাথে এতো গুলো প্রশ্ন করলে ছোট্ট মাহি কি করে উত্তর দিবে?মাহি এবার গবর্ণমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে ক্লাস ফোরে পড়ে।বন্ধুরা ওকে খুবই ভালবাসে এবং ও নিজেও বন্ধুদের ভালবাসে।সে শান্ত হয়ে একটা সিটে বসলো এবং বললো তোদের সব প্রশ্নের উত্তরতো আমি একসাথে দিতে পারবোনা।

বন্ধুরাও ওকে ঘিরে দাড়িয়ে থাকলো।মাহি তখন বললো সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাসায় কেউ নেই।আম্মু নেই,আব্বু নেই,আপুও নেই।সারা বাড়ি নিরব।যেন ভুতুড়ে বাড়ি।মাহির কথা শুনে সবার গা শিরশির করতে লাগলো।যেন মাহি কোন একটা ভুতের গল্প বলছে।এর পর ভাবলাম ভাইয়া নিশ্চই আছে।আমার ভাইয়া আবার অনেক বড় বিজ্ঞানী।নটরডেম কলেজে পড়েতো তাই সে বিজ্ঞানের অনেক কিছু জানে।ভাইয়াকে নিশ্চই ওর রুমে পাওয়া যাবে।আমি স্কুল ড্রেস পরে ব্যাগ কাধে ঝুলিয়ে ভাইয়ার রুমে গেলাম।যদি ভাইয়া থাকে তবে ওকে বলবো আমাকে স্কুলে পৌছে দিতে।

আমি খুব সাবধানে ওর রুমে ঢুকলাম।ঘন অন্ধকার চারদিকে।দিনের বেলায় একটা রুম এতো অন্ধকার থাকে ভাবাই যায়না।কোথাও কেউ নেই।আমি ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকলাম কেউ কোন সাড়া দিলনা।ভাইয়ার রুমে ঢুকতে এমনিতেই ভয় লাগে।টেবিলে নানা রকম কেমিকেল রাখা।কোনটাতে যে কি হয় জানা নেই।একটু অসাবধান হলেই সবর্নাশ।মাহির কথা শুনে সবাই নিরব হয়ে গেল।সবাই ভয়ে ভয়ে আছে,যেন সত্যি সত্যিই তখন মাহির মত তারাও ওরকম পরিস্থিতিতে আছে।

মাহি আবার বলতে শুরু করলো।যখন কয়েকবার ডেকেও ভাইয়ার কোন সাড়া পেলাম না তখন ভয়ে আমার শরীরে কাটা দিয়ে উঠলো।আম্মু,আব্বু,আপু কেউ নেই,এমনকি ভাইয়াও নেই? সবাই গেল কোথায়?সবাই কি হাওয়ায় মিলিয়ে গেল?ভাবতে ভাবতে ভাইয়ার রুম থেকে বের হবো বলে যখন ঘুরেছি ঠিক তখনই ঘটলো ভয়ংকর ঘটনাটি।মাহির কথা শুনে ক্লাসের সবাই ভয়ে চিৎকার করে উঠলো।কি ঘটলো কি ঘটলো?ভুত ছিল?নাকি দৈত্য?কামড়ে দিয়েছিল?আচ্ছা দৈত্যের কয়টা দাত ছিল?শিং ছিল?

মাহি বললো আরে থামতো তোরা। ভুত,প্রেত,দৈত্য দানো কিছু না।আসল কথা শোন।আমি যখন সেই অন্ধকারেই ঘুরে ভাইয়ার রুম থেকে বের হতে যাবো তখন অসাবধানতায় ভাইয়ার টেবিলের উপরে রাখা অনেক অনেক কেমিক্যালের শিশির একটিতে ধাক্কা লেগে আমার বাম হাতে পড়লো।আমার মনে হলো সাথে সাথে হাতটা অবাশ হয়ে যাচ্ছে।আমি দ্রুত রুম থেকে বের হয়ে বেসিনে গিয়ে ভাল করে পানি দিয়ে হাত ধুয়ে তার পর একাএকাই ব্যান্ডেজ করেছি।না জানি কোন এসিড ফ্যাসিড হবে হয়তো। তা না হলে ওটা পড়ার সাথে সাথে আমার হাত ওভাবে অবাশ হয়ে যাবে কেন?

ওর কথা শুনে সব বন্ধুরা একসাথে বলে উঠলো সবর্নাশ! শুধু রাহুল চুপ করে ছিল।সে এবার জানতে চাইলো আচ্ছা মাহি তুই ব্যান্ডেজ করার পর ভাইয়ার রুমে গিয়ে চেক করে দেখিসনি যে ওই কেমিক্যালের শিশির গায়ে কি নাম লেখা ছিল?মাহি বললো হ্যা আমি ব্যান্ডেজ করে ভাইয়ার রুমে গিয়ে লাইট জ্বালিয়ে চেক করেছি।যে শিশির কেমিক্যাল আমার হাতে পড়েছিল সেটার গায়ে লেখা H2O ! মাহির কথা শুনে অন্যরা যখন বলছে সবর্নাশ,ওটা নিশ্চই ভয়ংকর কোন কেমিক্যাল,তুই একটুর জন্য বেঁচে গেছিস তখন রাহুল হো হো করে হেসে উঠলো।

মাহি ওর হাসি দেখে ঘাবড়ে গিয়ে বললো তুই আমার বন্ধু নাকি শত্রু? আমার এতো বড় বিপদের কথা শুনেও তুই হাসতেছিস?ক্লাসের অন্যরা তখন মাহির পক্ষ নিয়ে রাহুলকে একই কথা বললো। রাহুল তখন শান্ত হয়ে মাহিকে প্রশ্ন করলো তুই ডিসকভারি চ্যানেল দেখিস?মাহি জানালো সে কাটুর্ন নেটওয়ার্ক ছাড়া অন্য চ্যানেল দেখেনা।রাহুল আবার প্রশ্ন করলো তুই কিশোর আলো পড়িস?মাহি জানালো না কিশোর আলোওতো পড়িনা,রাহুল আবার প্রশ্ন করলো তুই বিজ্ঞান চিন্তা পড়িস?এবারও মাহি জানালো সে বিজ্ঞান চিন্তা কি জিনিস তাই তো জানেনা।অন্য বন্ধুরা বললো মাহির হাতে কেমিক্যাল পড়ার সাথে ওসবের কি সম্পর্ক?রাহুল বললো তোরাও সবাই নিশ্চই মাহির মতই ডিসকভারি চ্যানেলও দেখিসনা আবার কিশোর আলো কিংবা বিজ্ঞান চিন্তাও পড়িস না।

যদি পড়তি তাহলে বুঝতি।ক্লাসের কেউ রাহুলের কথার কিছুই বুঝলোনা। রাহুল তখন বললো আরে বোকা মাহির হাতে যেটা পড়েছে আর ও ঘাবড়ে গিয়ে পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেছে ওটাও ছিল পানি!মানে মাহি পানি দিয়ে পানিই ধুয়েছে!রাহুলের কথা শুনে অন্যরা চমকে উঠলো।মাহি শুধু বললো তুই গুল মারিস না!ওটা পানি হতে যাবে কোন দুঃখে?ওটার গায়ে স্পষ্ট লেখা আছে H2O ! রাহুল আবার হো হো করে হেসে উঠলো।তার পর বললো এ জন্যইতো বললাম যে তোরা যদি কিশোর আলো কিংবা বিজ্ঞান চিন্তা পড়তি তাহলে এরকম বোকামী করতিনা।

পানির সংকেত হলো H2O ! মানে বিজ্ঞানের ভাষায় পানিকে H2O দিয়ে বোঝানো হয়! রাহুলের কথা কেউ বিশ্বাস করলোনা।তখন রাহুল ব্যাগ থেকে একটা বিজ্ঞান চিন্তা ম্যাগাজিন বের করে দেখালো যে সত্যি সত্যিই পানিকেই H2O বলা হয়! সবাই তখন খুবই অবাক হয়ে গেল।সবাই কাড়াকাড়ি করে বিজ্ঞান চিন্তা ম্যাগাজিনটা দেখতে লাগলো।রাহুল তখন সবাইকে বললো একটা মজার ঘটনা শুনবি?ওর কথা শুনে সবাই বিজ্ঞানচিন্তা ম্যাগাজিনটা রেখে ওর দিকে তাকাল।ও বলতে শুরু করলো

      আমার বুশরা আপু সায়েন্স নিয়ে পড়ে।মাহির ভাইয়ার মতই তার ঘরেও অনেক কিছু আছে।আমি আপুর থেকে অনেক কিছু শিখেছি পাশাপাশি বিজ্ঞান চিন্তা আর কিশোর আলো পড়েও অনেক কিছু শিখেছি।একদিন আপু বাসায় নেই।আম্মু রান্না করছে।আমি ডাইনিং টেবিলে পানি খেতে গিয়ে দেখি আম্মু বেশ চিন্তিত।আমি বললাম আম্মু কি হয়েছে,কি নিয়ে চিন্তা করছো?আম্মু বললো দেখতো কি যন্ত্রনা।রান্না বসিয়েছি এখন দেখি খাবার লবন নেই।এখন লবন ছাড়া রান্না করি কি করে?আমার মনে পড়লো আপুর রুমে আমি লবন দেখেছি।সাথে সাথে আপুর রুমে গিয়ে কাচের একটা ছোট বোতল নিয়ে আসলাম।সেটা নিয়ে আসলাম। এসে দেখি আম্মু নেই।

আমি সেই বোতল থেকে বেশ খানিকটা তরকারির মধ্যে ঢেলে দিলাম।একটু পরেই আম্মু ফিরে এলে আমি বললাম আম্মু তোমার তরকারিতে আমি খাবার লবন দিয়ে দিয়েছি আর কোন চিন্তা নেই।আম্মু চোখ কপালে তুলে বললেন তুই খাবার লবন কোথায় পেলি?আমি আপুর রুম থেকে আনা শিশিটা আম্মুর হাতে দিয়ে বললাম এই দেখ আরো অনেক খানি আছে।আম্মু শিশিটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে দেখে বললেন তুইতো সবর্নাশ করেছিস।সবাইকে কি মেরে ফেলবি নাকি?তরকারিতেতো তুই বিষ মিশিয়ে দিয়েছিস।আমি অবাক হয়ে বললাম কি বলছো আম্মু?বিষ মেশাবো কেন?আমিতো লবন দিয়েছি।আম্মু শিশিটা দেখিয়ে বললেন এই দেখ এই বোতলে লেখা আছে সোডিয়াম ক্লোরাইড।এটা নির্ঘাত বিষ না হয়ে যায়না।

আমি তখন হো হোক করে হেসে উঠলাম।আমার হাসি দেখে আম্মু রাগ করলেন আর বললেন তুই হাসছিস কেন?আমি দ্রুত রুমে গিয়ে একটা বিজ্ঞান চিন্তা আর একটা কিশোর আলো নিয়ে আসলাম।তার পর বললাম আম্মু ওটা বিষ না ওটাই লবন। এই দেখ।তার পর আম্মু দেখলেন সত্যি সত্যিই বিজ্ঞান চিন্তাতে লেখা আছে লবনের রাসায়নিক নাম সোডিয়াম ক্লোরাইড!আম্মু আসলে বিজ্ঞানের ছাত্রী না বলেই বুঝতে পারেনি।আম্মু তখন আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন ওহ আমার লক্ষ্মী বাচ্চাটা কত্ত সুইট।

রাহুলের কথা শুনে সবাই খুবই আশ্চর্য হলো।তারা সবাই বিজ্ঞান চিন্তা ম্যাগাজিনটা বাসায় নিয়ে যাওয়ার আবদার করলো।রাহুল বললো আরে একটা ম্যাগাজিন সবাই কি করে বাসায় নিবি।তার চেয়ে লাইব্রেরীতে গেলেইতো কিনতে পারবি।ক্লাসের সবাই হুররে বলে চিৎকার করে উঠলো।এমন সময় সুষমা মিস ক্লাসে ঢুকলেন।বাচ্চাদেরকে এতো আনন্দিত দেখে জানতে চাইলেন তোমরা আজ এতো খুশি কেন? তখন রাকিন বলে উঠলো মিস আপনি কিশোর আলো পড়েন?মিস বললেন নাতো।রাহুল বললো মিস আপনি বিজ্ঞান চিন্তা পড়েন?মিস বললেন নাতো।মাহি বললো মিস আপনি ডিসকভারি চ্যানেল দেখেন?মিস বললেন নাতো,আমিশুধু স্টার প্লাস দেখি।মিসের কথা শুনে সারা ক্লাস আবার হাসিতে ফেটে পড়লো।মিস বুঝতেই পারলেন না মাহি ও তার বন্ধুদের হঠাৎ কি হলো।

২০ নভেম্বর ২০১৬

ইমেইলঃ [email protected]

এমবিবিএস রেজাল্ট সমাচার

দেব দেব করে MBBS এর
রেজাল্ট কিন্তু দিচ্ছেনা
এই ফাঁকে কিছু ঘটে যেতে পারে
কেউ তার খোঁজ নিচ্ছেনা।

বাড়িতে কোন রান্না না করে
হোটেলে যেমন খাওয়া যায়
প্রশ্ন পত্র ফাঁস না করেও
কখনোবা চান্স পাওয়া যায়।

চোখ কান সব খোলা রাখো ভাই
কি যে হয় সব আড়ালে
গ্যাঞ্জাম লাগে এই কথা নিয়ে
প্রতিবাদ করে দাড়ালে।

মন্ত্রী মশাই এতো লেট কেন?
রেজাল্ট কখন পাবো?
দোকানীরা সব পথ চেয়ে আছে
মিঠাই কখন খাবো।

জানিনা এবারও কত ভাই বোন
ফেলবে চোখের জল
ভাল এক্সাম দিয়েও হয়তো
পাবেনাকো ভাল ফল।

আড়ালে যা হবে তা কি আর জানি
কত কিছুইতো ঘটে
কত অভাগার কপাল পুড়বে
পড়ে যাবে সংকটে।

এমন দিনকি আসবে কখনো
মরবেনা কারো আশা
সবার স্বপ্ন সত্যি হবে
বেঁচে রবে ভালবাসা।

ডাক্তার হব পণ করে কেউ
হতাশ হবেনা আর
মন্ত্রী মশাই বলুন না কে
গ্যারান্টি দেবে তার।

আর কেন দেরি এবার আপনি
রেজাল্ট খানাতো দিন
MBBS রেজাল্ট নিয়ে
আর কত হবে সীন?

এই ফাঁকে যদি কোন কিছু ঘটে
কে নেবে তার দায়
ভাল এক্সাম দিয়েও আমরা
করবো কি হায় হায়?

#জাজাফী
১০ অক্টোবর ২০১৬
#MBBS_Result2016

তোমার সকল চাওয়া

তুমি আমায় আকাশ হতে বলো
যেন আমি অনেক দূরে থাকি
তখন তুমি অন্য কারো হবে
আমায় দেবে শুভংকরের ফাঁকি।
 
আমি তবে আকাশ হব কেন?
আমি হবো ধুসর-কালো মেঘ
বৃষ্টি হয়ে ঝরে যাবো একা
কেটে যাবে তোমার সব উদ্বেগ।
 
তুমি আমায় নদী হতে বলো
যেন আমি সাগরে যাই মিশে
সরিয়ে দেবার এতই যখন শখ
আমায় নিয়ে ভাবনা এতো কিসে।
 
আমি না হয় সমুদ্দুরই হবো
নদীর চেয়ে সেটা অনেক দূর
যেখান থেকে আসবেনা আর ভেসে
তোমার কাছে আমার কোন সুর।
 
 
——————————-
 
#জাজাফী
১৮ মার্চ ২০১৭

কাবা শরীফের মার্বেল পাথর ও একজন প্রকৌশলীর গল্প

হজ্জ কিংবা উমরাহ করতে যাঁরা মক্কায় হারাম শরীফে গিয়েছেন, তাঁরা সবাই নিশ্চয়ই একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছেন- চামড়া পোড়ানো প্রখর রোদে খোলা আকাশের নিচে কাবার চারপাশে তাওয়াফ করার সময় পায়ের তলাটা পুড়ে যায় না, বরং বেশ ঠান্ডা অনুভূত হয়।

কারণ, এর নেপথ্যে রয়েছে এক চমকপ্রদ ইতিহাস।

ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল (১৯০৮-২০০৮) একজন মিশরীয় প্রকৌশলী ও স্থপতি; লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। মিশরের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী- যিনি হাইস্কুল শেষে ‘রয়েল স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ ভর্তি হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ইউরোপে পাঠানো ছাত্রদের ভেতরেও তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ, ইসলামি আর্কিটেকচার-এর ওপর তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রথম মিশরীয় প্রকৌশলী।

ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল প্রথম প্রকৌশলী- যিনি হারামাইন (মক্কা-মদিনা) সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। এই সুবিশাল কর্মযজ্ঞ তত্ত্বাবধান করার জন্য সৌদি বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন গ্রুপের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি; মোটা অংকের চেক উনি ফিরিয়ে দেন! তাঁর সততা ও কাজের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে বাদশাহ ফাহাদ, বাদশাহ আব্দুল্লাহসহ সকলের প্রিয়পাত্র ও বিশেষ আস্থাভাজন করে তোলে।

তিনি বাকার বিন লাদেনকে বলেছিলেন, এই দু’টি পবিত্র মসজিদের কাজের জন্য পারিশ্রমিক নিলে শেষ বিচারের দিনে আমি কোন মুখে আল্লাহর সামনে গিয়ে দাঁড়াবো?

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী সন্তান জন্ম দিয়ে মারা যান। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি। মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পুরোটা জীবন আল্লাহর ঘর রক্ষণাবেক্ষণে উৎসর্গ করেন। অর্থ-বিত্ত, খ্যাতি-যশ, মিডিয়ার লাইম লাইট থেকে দূরে সরে থেকে তিনি তাঁর ১০০ বছরের জীবনের পুরোটা সময় মক্কা ও মদীনার দুই মসজিদের সেবায় বিনিয়োগ করে গেছেন।

মক্কা-মদিনার হারাম শরীফের মার্বেলের কাজের সঙ্গে উনার জীবনের একটি বিস্ময়কর ঘটনা রয়েছে। উনি চেয়েছিলেন- মাসজিদুল হারামের মেঝে তাওয়াফকারীদের জন্য এমন মার্বেল দিয়ে আচ্ছাদিত করে দিতে- যার বিশেষ তাপ শোষণ ক্ষমতা রয়েছে। এই বিশেষ ধরনের মার্বেল সহজলভ্য ছিল না। এই ধরনের মার্বেল ছিল পুরো পৃথিবীতে কেবলমাত্র গ্রিসের ছোট্ট একটি পাহাড়ে।

ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল গ্রিসে গিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে মার্বেল কেনার চুক্তিস্বাক্ষর করে মক্কায় ফিরে এলেন এবং সাদা মার্বেলের মজুদও চলে এলো। যথাসময়ে বিশেষ নকশায় মাসজিদুল হারামের মেঝের সাদা মার্বেলের কাজ সম্পন্ন হলো।

এর ঠিক ১৫ বছর পরে সৌদি সরকার তাঁকে মাসজিদুন নব্বীর চারদিকের চত্বরও একইভাবে সাদা মার্বেল দিয়ে ঢেকে দিতে বললেন। কিন্তু ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল দিশেহারা বোধ করলেন! কেননা ওই বিশেষ ধরনের মার্বেল কেবলমাত্র গ্রিসের ওই ছোট্ট জায়গা বাদে গোটা পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায় না এবং সেখানে যতটুকু ছিল, তার অর্ধেক ইতোমধ্যেই কিনে মক্কার হারাম শরীফে কাজে লাগানো হয়ে গেছে। যেটুকু মার্বেল অবশিষ্ট ছিল- সেটা মাসজিদুন নব্বীর প্রশস্ত চত্বরের তুলনায় সামান্য!

ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইল আবার গ্রিসে গেলেন। সেই কোম্পানির সি.ই.ও-র সঙ্গে দেখা করে জানতে চাইলেন, ওই পাহাড় আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে? সি.ই.ও জানালেন, ১৫ বছর আগে উনি কেনার পরপরই পাহাড়ের বাকি অংশটুকুও বিক্রি হয়ে যায়! এই কথা শুনে তিনি এতটাই বিমর্ষ হলেন যে, তাঁর কফি পর্যন্ত শেষ করতে পারলেন না! সিদ্ধান্ত নিলেন- পরের ফ্লাইটেই মক্কায় ফিরে যাবেন। অফিস ছেড়ে বেরিয়ে আসার আগে কী মনে করে যেন অফিস সেক্রেটারির কাছে গিয়ে সেই ক্রেতার নাম-ঠিকানা জানতে চাইলেন- যিনি বাকি মার্বেল কিনেছিলেন।

যদিও এটা অনেক দুরূহ কাজ, তবু কামালের পুনঃপুন অনুরোধে সে পুরোনো রেকর্ড চেক করে জানাবে বলে কথা দিলো। নিজের নাম এবং ফোন নম্বর রেখে বেরিয়ে আসার সময় কামাল মনে মনে ভাবলেন- কে কিনেছে, ১৫ বছর পরে তা জেনেই-বা আর লাভ কী?

পরদিন এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে অফিস সেক্রেটারি ফোনে জানাল, সেই ক্রেতার নাম-ঠিকানা খুঁজে পাওয়া গেছে! কামাল ধীর গতিতে অফিসের দিকে যেতে যেতে ভাবলেন- ঠিকানা পেয়েই-বা লাভ কী? মাঝে তো অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে…।

অফিসে পৌঁছলে সেক্রেটারি তাঁকে ওই ক্রেতার নাম-ঠিকানা দিলেন। ঠিকানা হাতে নিয়ে ড. মোহাম্মাদ কামাল ইসমাইলের হৃদ্স্পন্দন বেড়ে গেল, যখন তিনি দেখলেন- বাকি মার্বেলের ক্রেতা একটি সৌদি কোম্পানি!

কামাল সেদিনই সৌদি আরব ফিরে গেলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি কোম্পানির ডিরেক্টর এডমিন-এর সঙ্গে দেখা করে জানতে চাইলেন- মার্বেলগুলো দিয়ে তাঁরা কী করেছেন, যা অনেক বছর আগে গ্রিস থেকে কিনেছিলেন?

ডিরেক্টর এডমিন প্রথমে কিছুই মনে করতে পারলেন না। কোম্পানির স্টক রুমে যোগাযোগ করে জানতে চাইলেন- ১৫ বছর আগে গ্রিস থেকে আনা সাদা মার্বেলগুলো দিয়ে কী করা হয়েছিল? তারা খোঁজ করে জানাল- সেই সাদা মার্বেল পুরোটাই স্টকে পড়ে আছে, কোথাও ব্যবহার করা হয়নি!

এই কথা শুনে কামাল শিশুর মতো ফোঁপাতে শুরু করলেন। কান্নার কারণ জানতে চাইলে তিনি পুরো ঘটনা কোম্পানির মালিককে খুলে বললেন। ড. কামাল ওই কোম্পানিকে সৌদি সরকারের পক্ষে একটি ব্লাংক চেক দিয়ে ইচ্ছেমতো অংক বসিয়ে নিতে বললেন। কিন্তু কোম্পানির মালিক যখন জানতে পারলেন- এই সাদা মার্বেলে রাসূল (সা.)-এর মসজিদ চত্বর বাঁধানোর জন্য ব্যবহৃত হবে, তৎক্ষণাৎ তিনি এর বিনিময় মূল্য নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেন, আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালা আমাকে দিয়ে এটা কিনিয়েছিলেন আবার তিনিই আমাকে এর কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন; কেননা এই মার্বেল রাসূল (সা.)-এর মসজিদের উদ্দেশ্যেই এসেছে…!

বাস কন্ট্রাকটর

বাসে করে বনানী থেকে উত্তরা ফিরছি।আমার সাথে আছে প্রিন্স হারুন নামে আমার বেশ পরিচিত এক ভদ্রলোক।ভদ্রলোকের সাথে সারা জীবনে মাত্র একবারই আমার দেখা হয়েছে এবং সেটাও আজকেই।তবে আগে থেকেই ফেসবুকে যোগাযোগ ছিল।বাসের ভাড়া আমি দেব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম।হারুন সাহেব বললেন আজকে না হয় ভাড়াটা আমিই দেই। বড় ভাই হিসেবে তার কথাতো আমাকে রাখতেই হবে।আমি বললাম ঠিক আছে দিন।
বাসের কন্টাক্টর সামনে থেকে এক এক করে ভাড়া তুলতে তুলতে আমাদের কাছে চলে আসলো।এসেই তার স্বভাব মত ভাড়া চাইলো।হারুন সাহেব বললেন আমার কাছেতো খুচরা নেই ভাড়া দিতে সমস্যা হবে।কনটাক্টর বললেন বাংলাদেশেতো এক হাজার টাকার চেয়ে বড় নোট নেই।দিন আমি খুচরা করে দিচ্ছি।হারুন সাহেব বললেন ভাই আপনার কাছেতো কোন টাকাই নেই তাহলে খুচরা করবেন কি করে?কনটাক্টর ভড়কে গেল।
সে অন্য সব যাত্রী থেকে এতোক্ষণ ভাড়া তুলেছে তাহলে তার কাছে টাকা থাকবেনা কেন?তিনি বললেন আপনি টাকাটা দেন আমার কাছে যথেষ্ট খুচরা আছে।এবার হারুন সাহেব বললেন আপনি দেখুন আপনার হাতে কোন টাকাই নেই। সবতো সাদা কাগজ ধরে আছেন।কনটাক্টর সাথে সাথে হাতের দিকে তাকালো এবং তার প্রায় হার্টফেল করার অবস্থা।সত্যি সত্যি সে দেখলো তার হাতে একটাও টাকা নেই তার বদলে সব সাদা কাগজ।সে বললো তাহলে আমি এতোক্ষণ যে ভাড়া উঠালাম সেই টাকা গেল কোথায়?
আমিও দেখলাম সত্যি সত্যিই কনটাক্টরের হাতে কোন টাকা নেই।সেখানে এক গোছা সাদা কাগজ আছে।বাসের অন্য সব যাত্রীরাও তাই দেখলো।বিশেষ করে যারা ওনার কাছে কিছু টাকা ফেরত পাবে তারাতো তাকে জোর করতে শুরু করলো বাকি টাকা ফেরত দিতে।বাসের হেলপার আর ড্রাইভার ওনাকে বকাঝকা করলো।আর বললো কোন ফাকে কোন এক পকেটমার হাত থেকে টাকা লোপাট করে নিয়ে সেখানে সাদা কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে।
আমি তাকিয়ে দেখি হারুন সাহেব মিটমিট করে হাসছে।এবার তিনি মুখ খুললেন। বললেন আপনি এতো টেনশান করছেন কেন?আপনার হাতেতো অনেক খুচরা টাকা আছে আমাকে এক হাজার টাকার নোটটা খুচরা করে ভাড়াটা নিলেইতো পারেন। দেরি করছেন কেন?কনটাকটর মনে করলো তার সাথে হারুন সাহেব টিটকারি মারছেন।তিনি ক্ষেপে উঠতে গিয়ে আবার হাতের দিকে তাকিয়ে ভীষণ চমকে উঠলেন।সেখানে সত্যি সত্যিই অনেক গুলো টাকা আছে।কিন্তু আগের সেই সাদা কাগজের কোন চিহ্নও নেই।আমরা অন্য সব যাত্রীরাও দেখলাম সেখানে কোন সাদাকাগজ নেই বরং টাকা আছে।কনটাক্টর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।
হারুন সাহেব বললেন আমার নাম প্রিন্স হারুন।তখন সবাই চিনতে পারলো যে তিনিই সেই বিখ্যাত যাদুকর প্রিন্স হারুন।তার যাদুতে মুগ্ধ হয়ে কনটাক্টর ঘোষণা করলেন আপনাদের দুজনের ভাড়া দিতেই হবেনা।উপস্থিত সব যাত্রীরা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকলো প্রিন্স হারুনের দিকে।ঘাড় ঘুরিয়ে আমিও তাকিয়ে রইলাম লোকটার দিকে।যার সাথে ঘুরছি কথা বলছি এবং যে আমার ভাড়া দিয়ে দিচ্ছে তিনিই যে সেই ম্যাজিশিয়ান প্রিন্স হারুন তা কোন দিন বুঝতেই পারিনি।

হাতি নিয়ে মাতামাতি

বানের জলে ভারত থেকে ভেসে এলো হাতি
সেটা নিয়ে মেতে উঠলো সবাই রাতারাতি।

এরই ফাঁকে মন্ত্রী মশাই বন্ধ করলেন গ্যাস
সেইটা নিয়ে উঠলো মেতে গোটা বাংলা দ্যাশ।

এমন করেই আড়াল হলো রামপাল আর তনু
এভাবে সব আড়াল হবে বুঝতে পারছো মনু?

চাপা পড়লো সাগর রুনি,রানা প্লাজাও কাকা
আড়াল হলো সোনালী ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা।

একটা কিছু আড়াল করতে অন্য কিছু ঘটে
সেটা নিয়েই ঝড় তুলছি আমরা চায়ের পটে।

হয়তো আসবে অন্য কিছু চাপা পড়বে হাতি
বাঙ্গালীরা সব ঘটনাই ভুলবে রাতারাতি।
……………………
জাজাফী
১৪ আগষ্ট ২০১৬

হোয়াইট হাউস

টিভিতে ডোলান্ড ট্রাম্পের ভাষণ শুনতে মোটেই ভাল লাগছিলনা। টিভিটা বন্ধ করে রিমোটটা সোফার উপর রেখে বাম হাত বাড়িয়ে হোয়াইট হাউসটা মুঠোর মধ্যে তুলে নিল প্রমি। তার পর সেটা টেবিলের ড্রয়ারের মধ্যে তালা মেরে রাখলো। গতকালকেই মেলা থেকে খেলনা হোয়াইট হাউসটা কিনেছে সে।ওটা তালা মেরে না রাখলে ওর বোনটা যদি নিয়ে নেয়। প্রমি এবার ক্লাস থ্রিতে উঠেছে।

—–
গল্পঃহোয়াইট হাউস
#জাজাফী
ক্যাটাগরিঃ এক নিঃশ্বাসে পড়া গল্প
৬ মার্চ ২০১৭

পথে পথে হিমু পরিবহণ

শ্রাবণের শেষ বিকেলে আমি দাড়িয়ে আছি শাহবাগে। আকাশে কোন মেঘ নেই,পড়ন্ত বিকেলে সূর্য তার যত টুকু তেজ তা পৃথিবীতে নিংড়ে দিচ্ছে। সেলিমের আসার কথা। ও এলে ওকে সাথে নিয়ে যাব রুপার বাসায়।রুপাকে পাব কিনা জানিনা অবশ্য সেলিমের কাছে নিশ্চই ফোন আছে ওর ফোন থেকে না হয় রুপাকে একটা ফোন করে বাসায় থাকতে বলে দেব। সেলিম ছেলেটা বেশ করিৎকর্মা। ইদানিং বেশ সামাজিক দায়িত্ব সচেতন হয়ে এটা ওটা করার চেষ্টা করছে। মাজেদা খালা জানেনা যে ইতমধ্যে বাদলের মত সেলিমও আমার ভীষণ ভক্ত হয়ে উঠেছে।

প্রথম যেদিন আমি সেলিমকে দেখলাম নিজেই থ হয়ে গেলাম। হলুদ পাঞ্জাবী,উস্কোখুস্কো চুল চেহারায় দার্শনিক ভাব। আমার সামনে এসে মাথা নিচু করে লাজুক ভঙ্গিতে বললো হিমু দা আমি আপনার ভীষণ ভক্ত। আমি স্বভাবসুলভ ভাবে বললাম তুমি যে আমার ভক্ত তাতো তোমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু তুমিতো খালি পায়ে না। আমার কথা শুনে সেলিম একটু খুকখুক করে কাশি দিয়ে বললো হিমু দা আমিতো আপনার ভক্ত মাত্র সরাসরি হিমুতোনা। খালি পায়ে থাকতে পারিনা। সেই থেকে সে আমার পিছনে লেগে আছে। আমার পিছনে লেগে আছে বলতে আমার সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছে। ও আরো অনেক অনেক হিমু ভক্তদের নিয়ে একটা বিশাল দায়িত্ব হাতে নিয়েছে। হুমায়ুন আহমেদের নামে ক্যান্সার হাসপাতাল বানাবে।

এ জন্য ওর রুপার সাহায্য দরকার। রুপার সাথে যেহেতু আমার ভাল জানাশোনা আছে তাই সেলিমের ধারনা হিমুদা সাথে থাকলে রুপাদির সাথে বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে।বাবা বলেছেন সব সময় মহাপুরুষরা ভাল কাজের সাথে যুক্ত থাকে। আমিও বাবার কথা রাখার চেষ্টা করছি। ছেলেটা বলেছিল আজ শাহবাগে এসে আমার সাথে দেখা করে রুপাদের বাসায় যাবে। সে জন্য বিশ মিনিট হলো এখানে অপেক্ষা করছি। শাহবাগ এখন আর আগের মত নেই। এখন কোন বিশেষ কিছু হলেই তরুনেরা শাহবাগে এসে জমা হয়। মিছিল করে,গলা ফাটিয়ে শ্লোগান দেয়। এই বিশ মিনিটেই অনেক কিছু চোখে পড়লো। আমি দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ দেখি নীল ক্ষেত থানার ওসি আকরাম সাহেব মটর সাইকেলে করে যাচ্ছেন। আমাকে দেখেই থামলেন।

হিমু ভাই এখানে দাড়িয়ে কেন? ওঠেন থানায় গিয়ে এক কাপ গরম চা খেয়ে আসবেন। ভাবলাম যাই এতো করে যখন বলছে। আমি হাটছি আর ওসি সাহেব আস্তে আস্তে মোটর সাইকেল চালাচ্ছেন।ঘন্টা দুই তার সাথে আড্ডা দিলাম,তিন চার কাপ চা খেলাম তার পর মনে হলো এখন ওঠা দরকার। সেলিম নিশ্চই শাহবাগে এসে আমাকে না পেয়ে চিন্তা করছে। সত্যি সত্যিই দেখি সেলিম এসে দাড়িয়ে আছে আর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। আমাকেই খুজঁছে এটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। হঠাৎ আমার দিকে চোখ পড়তেই ওর মুখ উজ্জল হয়ে উঠলো। উচ্ছ্বাস দমিয়ে না রেখে বললো হিমু দা আপনি সত্যিই দেখা করার কথা মনে রেখেছেন।

কোন কথা না বলে ওকে নিয়ে রুপাদের বাসার দিকে রওনা হলাম। রুপাকে একটা ফোন করা দরকার এ কথা বলতেই সেলিম ফোনটা বের করে দিল। রুপাকে সাথে সাথেই পাওয়া গেল তবে সে বাসায় নেই। সে আছে কাটাবনে। শাহবাগ থেকে কাটাবন খুব বেশি দূরে নয়। বললাম ওখানেই তোমার সাথে দেখা হচ্ছে। রুপার সাথে সেলিম বেশ কিছুক্ষণ কথা বললো। জয়নালের সাথে দেখা করার দরকার ছিল বলে আমি সদর ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পরে জানতে পারলাম রুপা সেদিন সেলিমকে নিয়ে এমন কয়েকজনের সাথে দেখা করেছিল যারা ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য প্রায় ১৯ লাখ টাকা দিয়েছে। আমি রুপার পরিচিতি আর পরিধি দেখে অবাক হই।

কত সহজেই সে এতো গুলো টাকা জোগাড় করে ফেললো।ইদানিং শুনছি ফেসবুকে হিমু পরিবহন নামে একটা পেজও তৈরি করা হয়েছে। যতই লুকিয়ে থাকতে চাই হিমু ভক্তরা ততোই আমাকে বাইরে নিয়ে আসে। রাতে স্বপ্নে বাবা এসে ধমকে গেলেন হিমালয় তুমি বেশি মানুষের সাথে মিশছো এটা ঠিক হচ্ছেনা। আমি কি করবো? যে মানুষগুলো ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য আমার নামে হিমু পরিবহন খুলে এতো কষ্ট করছে তাদের সাথে আমি না থেকে পারিনা। আমি হিমু খালি পায়ে হেটে চেষ্টা করছি ক্যান্সার হাসপাতালের কাছে পৌছাতে। যেখানে আগে থেকেই হিমু পরিবহন পৌছে গেছে।

 

নিজেকেই চিনি না

নিজেরেই চিনিনাই তোমারে কি চিনবো
আপনারে চিনিতেই দিন হলো পার
ক্ষণিকের পৃথিবীতে সময় কোথায় বলো তোমা চিনিবার।

দর্পনে দেখি মূখ,সে আমিতো আমি না
আমারে যা দেখি আমি সে আমার প্রতিরুপ
আমিই আমাতে আজো অচেনাই রয়ে গেছি,তুমি নাকি চেনো মোরে খুব।

নিজেরে চিনতে গিয়ে সময়ের সবটুকু শেষ
এখনো হয়নি চেনা কণা কিংবা তার চেয়ে কম
তোমারে চেনার মত সময়তো নেই,নেই আর দম।

যদি আবার জন্ম নেই,আবারো পাই দিন কিছু
তখনোকি চেনা হবে আমারেই পুরো
চেনার পরেও যদি পাই কিছুক্ষণ,তখন নাহয় খোঁজ নেব তোমারো।

#জাজাফী
১৪ মার্চ ২০১৭

স্বপ্নঃ মধ্যম আয়ের দেশ

যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে এক সময় যারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে এ দেশটিকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অভিহিত করতে দ্বিধা করেনি আজ তারাই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে এদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা বুঝে উঠতে পারছেনা একটা দেশ কিভাবে তলাবিহীন ঝুড়ির তকমাকে পায়ে ঠেলে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের তলাবিহীন ঝুড়ি বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তা এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বিশেষ করে সামাজিক সূচকে বাঙলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মত। তাইতো বারাক ওবামাও তার ভাষণের মধ্যভাগে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশকে টেনে আনতে কাপর্ন্য করেনি। যত হতাশাবদীই হইনা কেন এসব দেখলে বুকটা গর্বেভরে ওঠে। আমার দেশই এখন অন্য অনেক দেশের জন্য উদাহরণ স্বরূপ এটা ভাবতেই ভাললাগার অনুভূতি ছুয়ে যায়। বিশ্বব্যাংক মধ্যম আয়ের দেশকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করেছে একটি হচ্ছে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ আর অন্যটি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ।

বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ বলে পরিচিত হবে। কিন্তু আমরা চাই প্রবৃদ্ধি নির্ভর মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পাশাপাশি আমরা সামগ্রিক উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে। দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেরই প্রতিফলন ও স্বীকৃতি এটি। জাতি হিসেবে এটি অবশ্যই আমাদের জন্য একটি মাইলফলক ও বড় অর্জন বলে বিবেচিত হতে পারে। মধ্যম আয়ের দেশ মূলত বিশ্ব ব্যাংকের একটি শ্রেণীকরণ ছাড়া তেমন কিছু নয়। বিশ্ব ব্যাংক যেহেতু বিভিন্ন দেশকে অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকে তাই এ শ্রেণী করণ। বাংলাদেশ যে শ্রেণীতে আছে এটির নিম্নক্রমে মাথা পিছু আয় হতে হয় ১০৪৫ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৭৪৫ যলার পর্যন্ত এ সীমা নির্ধারিত। এর বেশি হলে সেটি উচ্চ আয়ের তালিকাতে পড়ে।ভ বাংলাদেশ এ তালিকাতে আসায় বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির বিষয় যেমন অনুকূল হয়েছে বলে অনেকের ধারনা তেমনি মনে রাখা দরকার এটির মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও লক্ষ্যনীয়।

সেই সাথে রয়েছে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব ব্যাংক এটলাস মেথড নামে একটি নিজস্ব পদ্ধতিতে দেশগুলোকে চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেছে। বিশ্বব্যাংক মূলত কোন দেশের তিন বছরের গড় বিনিময় হারকে সমন্বয় করে,এতে করে আর্ন্তজাতিক মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের ওঠানামা সমন্বয় করা সম্ভব হয়। একটি দেশের স্থানীয় মুদ্রায় মোট জাতীয় আয়কে (জিনএনআই) মার্কিন ডলারে রুপান্তর করা হয়। এ কারণে আমরা দেখতে পাই বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবের সাথে বাংলাদেশ পরিসংখ্যন ব্যুরো (বিবিএস) এর হিসাবে গরমিল থাকে। বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সরকার দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করবে বলে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে এবং সেই পঘে যতটা সম্ভব কাজও হয়েছে। ফলে সরকারের ১০ বছরের প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় ২০২১ সালের মধ্যে আজ থেকে ৪৪ বছর আগে স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া এই দেশটি মধ্যম আয়েল দেশ হওয়ার কথা আছে।

মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া অবশ্যই একটি মর্যাদার বিষয়। বিশ্ব ব্যাংক যেহেতু সাহায্য দেওয়ার সবিধার জন্য এ শ্রেনীকরণটি করেছে সুতরাং এই শ্রেণীকরণের মূল উদ্দেশ্য দাড়াচ্ছে সাহায্য প্রদান প্রকল্প। তবে ১৯৬০ সালে যখন প্রথম এলডিসি ধারনাটি নিয়ে বিশ্বে আলোকপাত করা হলো তখন থেকেই বাংলাদেশ এলডিসি ভূক্ত ছিল। যদিও তালিকা প্রণয়ন হয় এগার বছর পর ১৯৭১ সালে ১৮ নভেম্বর যখন বাংলাদেশ স্বাধীনতার দ্বার প্রান্তে দাড়ানো। অবশ্য বাংলাদেশকে তালিকা ভূক্ত করা হয় ১৯৭৫ সালে যে সালটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতিতে ভরপুর। স্বল্পোন্নত দেশের সেই তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা ছিল বাংলাদেশ নামক ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের। আর সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে এগোচ্ছে সে ধারায় এগোলে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত লক্ষ্যমাত্রা ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবেনা।

সূচকে দেখা গেছে বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১০৮০ মার্কিন ডলার। কিন্তু এলডিসি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে হলে প্রয়োজন হবে ১২৪২ মার্কিন ডলার। সুতরাং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিকে আরো বাড়াতে হবে। বর্তমানে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৬.২ শতাংশ যা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়। সে ক্ষেত্রে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে ৭.৫ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন বিনিয়োগ বাড়াতে হবে জিডিপির আরও ৫ শতাংশ হারে এবং সেই সাথে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি রাখতে হবে ৮ শতাংশ। এটি অর্জিত হলে বাংলাদেশ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে বানিজ্য ক্ষেত্রে বাজার সুবিধা পাবে। ২০০৬ সালে গবেষণা সংস্থা “সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)” রুপকল্প তৈরি করে স্বাধীনতার ৫০ তম বছরে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার স্বপ্ন দেখিয়েছিল যা সরকারকে সে পথে হাটতে অনুপ্রাণিত করেছে। আর তাই আরো একধাপ সাহসী হয়ে সরকার ঘোষণা করেছে ২০২১ সালে সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে এবং দেশের প্রবৃদ্ধির হার হবে ১০ শতাংশ সেই সাথে মাথাপিছু আয় হবে ২ হাজার ডলার যা পাশ্ববর্তী দেশের মাথাপিছু আয়ের অধিক।

বাংলাদেশ এ যাত্রায় অগ্রগামি পথিক হয়েছে কিছু বলিষ্ঠ কমকান্ডের মাধ্যমে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া,কার্বন নিঃসরণ কমানো,শিশু মৃত্যুর হার কমানো,দারিদ্রতা কমিয়ে আনার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যায় নিম্নমূখী করা বাংলাদেশের অগ্রগতির মূল রহস্য। তবে এটুকুতেই আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোন সুযোগ নেই। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে এবং সময়ের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে আগামীতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে যার প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই। পুষ্টি,স্বাস্থ্য,শিশুদের স্কুলে ভর্তি এবং শিক্ষার হারের সমন্বয় আনতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ,জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিমান হ্রাস সহ বিশ্ববাজার থেকে দূরত্ব হ্রাসের জন্য ঐক্যমতের সমাজ গঠন করতে হবে।

একটা দেশকে কারো একার পক্ষে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় এমনকি সেটা সরকারের একার পক্ষেও সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও মজুরী আর্ন্তজাতিক মানের করা গেলে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদি।ধ পাবে যা আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে আনতে হবে।

আশার কথা হচ্ছে বিরোধী দলগুলো তাদের সহিংস মনোভাব থেকে কিছুটা হলেও বেরিয়ে আসতে পেরেছে যা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। সে ক্ষেত্রৈ সরকারকে তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মানসিকতা রাখতে হবে। সবার সর্বাত্মক প্রচেষ্টাই রুপকল্পকে রুপকথার রাজ্য থেকে বাস্তবে নিয়ে আসতে পারে। সুতরাং আমরা আশা করতে পারি স্বাধীনতার ৫০ বছর পুর্তির সময় আমাদের দেশটা হবে এমন একটি দেশ যে দেশটিকে সবাই মিলে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬