Home Blog Page 25

সিটিং সার্ভিস,নাকি চাঁদাবাজি

ঢাকার প্রায় প্রতিটি রুটেই সিটিং সার্ভিস বাস চলাচল করছে।মূলত জ্যামের কারণে সিটিং সার্ভিস বাস আর লোকাল বাসে চলাচলের ক্ষেত্রে খুব বেশি ব্যবধান নেই।সময় একই লাগে।সিটিং সার্ভিসে নিরিবিলি বসে যাতায়াত করা যায় আর লোকালে ভীড় ঠেলে উঠতে হয় এটুকুই পার্থক্য।তবে ভাড়ার ক্ষেত্রে ঠিকই পার্থক্য দেখা যায়।

আমরা উত্তরার আব্দুল্লাহ পুর থেকে গুলিস্থান রুটের কথাই চিন্তা করি। আব্দুল্লাহপুর থেকে গুলিস্থানে ৩ নম্বর সিটিং সার্ভিসের ভাড়া ৩৫ টাকা।এখন যে মানুষটি এয়ারপোর্ট থেকে বাসে উঠে বাংলামোটর নামছে তাকেও ৩৫ টাকা দিতে হচ্ছে আবার যে আব্দুল্লাহপুর থেকে উঠে গুলিস্থান নামছে তাকেও একই ভাড়া দিতে হচ্ছে যা আইনত নীতি বর্হিভূত।আব্দুল্লাহপুর থেকে এয়ারপোর্টের সাধারণ ভাড়া সবর্নিম্ন ৫ টাকা ধরা যেতে পারে।অপর দিকে বাংলামোটর থেকে গুলিস্থানের ভাড়াও সবর্নিম্ন হারে যদি ৫ টাকাও ধরি তাহলে দেখা যাচ্ছে যে যাত্রী এয়ারপোর্ট থেকে উঠে বাংলামোটর নামছে তার কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

এখানে দেখা যাচ্ছে আব্দুল্লাহপুর থেকে কোন কোন যাত্রী এয়ারপোর্ট নামছে এবং সেখান থেকে সেই শুন্য সিটে নতুন যাত্রী উঠিয়ে তার থেকেও পুরো ভাড়াটাই নেওয়া হচ্ছে।অন্যদিকে বাংলামোটর নামা যাত্রীটি গুলিস্থান পযর্ন্ত ভাড়া দিয়ে নেমে যাওয়ার পর বাংলামোটর এবং শাহবাগ থেকেও সেই সিটের বিপরীতে নতুন যাত্রী উঠিয়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।এসব মনিটরিং করার মত কেউ নেই।সত্যি কথা লিখতে গেলে আমাদের কলম থামিয়ে দেওয়া হয়।বাস ড্রাইভার কিংবা কন্ট্রাকটরেরা যোগাযোগ মন্ত্রীর কোন নির্দেষই মানেনা।তারা যাত্রীদের বলে যোগাযোগ মন্ত্রী বললেই হবে নাকি?

     সিটিং সার্ভিসে ছাত্রদের থেকেও ফুল ভাড়া নেওয়া হয় এবং তথাকথিত হাফপাশ নেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়।ঠিক একই বাসে যখন পুলিশের কেউ ওঠে তার কাছ থেকে কোন ভাড়াই নেওয়া হয়না।পুলিশের নাকি পুরো পাশ আছে।পাশটা কে দিল, কেন দিলো তা আমাদের জানা নেই।সিটিং সার্ভিস বলে ছাত্রদের থেকে হাফ ভাড়াও নেওয়া যাবেনা অথচ সেই বাসেই পুলিশকে বিনা ভাড়ায় নেওয়া যাবে কোন নিয়মে সেটাও আমাদের মাথায় ঢোকেনা।নাকি মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক হয়রানি থেকে বাঁচতে এই নিয়ম তারা নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছে।

আমরা সাধারণ ভাবে জানি পুলিশ চাকরি করে,মাস শেষে বেতন পায়।তারা ভাড়া দিয়ে গেলে কিংবা হাফ ভাড়া দিলেও কোন সমস্যা নেই।কিন্তু ছাত্রেরতো কোন বেতন নেই তার থেকে কেন ফুল ভাড়াই নেওয়া হবে আর পুলিশ থেকে কেন কোন ভাড়াই নেওয়া হবেনা তা বোধগম্য নয়।এগুলোকে যদি চাঁদাবাজি বলে অভিহিত করি তবে এ সমাজ আমাদের ধুয়ে দেবে।চাঁদাবাজিকে চাঁদাবাজি বলা যাবেনা।

     পুলিশের পাশ কে দিয়েছে?নিশ্চই সরকার কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী?তাহলে ছাত্রদের ব্যাপারেওতো মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী একাধিক বার ঘোষণা দিয়েছেন অর্ধেক ভাড়া নিতে।পুলিশ পুরো মাফ পেয়ে যায় আর ছাত্ররা হাফ ভাড়াও দিতে পারেনা এটাকি জবরদস্তি নয়?

     লোকাল বাস গুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিলেও ছাত্র ছাত্রীদের থেকে অর্ধেক ভাড়া নিতে খুব বেশি কথা কাটাকাটি না করলেও শুক্রবার আসলেই তারা ফুল ভাড়ার জন্য তর্ক করতে শুরু করে।এমনতো নয় যে শুক্রবার আসলেই ছাত্র ছাত্রীরা চাকুরেজীবী হয়ে যায়।আর তাছাড়া শুক্রবার গুলোতে এখন ক্লাস হচ্ছে,পরীক্ষা হচ্ছে। ছাত্র ছাত্রীদের জীবনে কি কোন শুক্র শনিবার বলে কিছু আছে।

সিটিং সার্ভিস গুলোতে তুলনামূলক ভাবে তাই যাত্রী হয়রানি বেশি হচ্ছে।অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি অন্যায় ভাবে ভাড়া চাপিয়ে দিয়ে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।একজন যাত্রী এয়ারপোর্ট থেকে উঠে কেন আব্দুল্লাহপুরের ভাড়া পরিশোধ করবে?আর কেনইবা বাংলা মোটরে নামার পরও গুলিস্থানের ভাড়া পরিশোধ করবে?যেতো আব্দুল্লাহ পুর থেকে আসেনি কিংবা গুলিস্থান যাচ্ছেনা।তবুও কেন সেই অংশের ভাড়া তাকেই পরিশোধ করতে হবে?

     যারা এসব মনিটর করেন তারা কি কোন দিন এগুলোর খোঁজ নেন?আর যখন ছাত্র ছাত্রীরা ভাড়ার বিষয়ে কথাকাটাকাটি করে রাস্তায় গাড়ি আটকে দেয় তখন সবার টনক নড়ে এবং সব দোষ হয় ছাত্র ছাত্রীদের।তারা এটা বলতেও পিছপা হয়না যে এই সব ছাত্র ছাত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেনি,মারামারি করতে এসেছে।

     মহম্মদপুর শিয়া মসজিদের ওখান থেকে যে গাড়িটি মিরপুর ঘুরে কামারপাড়া যাচ্ছে সেই সব সিটিং সার্ভিসেও চরম অরাজকতা চলছে।শ্যামলী থেকে যে উঠে কামারপাড়া যাচ্ছে তার ভাড়াও যা আবার মিরপুর দশ নাম্বার থেকে যে এয়ারপোর্ট যাচ্ছে তার ভাড়াও একই।যে পথটুকু আমি ভ্রমন করছিনা তার ভাড়া কেন আমি দিতে যাবো?কে করেছে এই নিয়ম?আমি নেমে যাবার পরওতো ওরা নতুন যাত্রী তুলে তাদের থেকে ভাড়া আদায় করছে।

     বাসে উঠলেই একটা তথাকথিত ভাড়ার চার্ট দেখানো হচ্ছে। কে বানিয়েছে ওই চার্ট?কি আছে ওগুলোর ভিত্তি?যোগাযোগ মন্ত্রীর দেওয়া প্রকাশ্য নির্দেশকে তারা মানবেনা অথচ মনগড়া বানানো ভাড়ার চার্ট মানতে যাত্রীদের বাধ্য করবে।

আট ঘন্টা কাজের কথা বলে প্রতিনিয়ত ১১ ঘন্টা কাজ করিয়ে নেওয়া অফিসও কখনো আমাদের একটা টাকা বেশি দেয়না, যেখানে আমরা আমাদের শ্রম দিচ্ছি এবং প্রতিষ্ঠানকে মুনাফা অর্জন করিয়ে দিচ্ছি। সেখানে বিনা ভ্রমনে কেন আমি গন্তব্যের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে যাবো?কিসের দায় পড়েছে?এ সবই অন্যায় এবং এগুলো অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিত।না হলে একদিন ছাত্র ছাত্রীরা,সাধারণ যাত্রীরা রুখে দাড়াবে আর ওই সব চাঁদাবাজদের রাজপথে টেনে নামাবে।

আমাদের একটাই দাবি আমরা যাত্রা পথের অতিরিক্ত কোন ভাড়া দেব না।অন্যায় ভাবে দিনের পর দিন আমাদের থেকে সিটিং সার্ভিসের নামে চিটিং করে চাঁদাবাজি করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের উচিত এটার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।যদি পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে সাধারণ জনগন নিজেদের মত করে কারো কারো চরিত্রে সুন্দর ভাবে কলঙ্কতিলক লাগিয়ে দেবে।

     রাজধানী ঢাকার প্রতিটি রুটে সিটিং সার্ভিসে ভাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং করার জোর দাবী জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার আমরা করেছি তা বাস্তবায়ন করতে হলে কোন খাদ রাখা চলবে না।সোনা হতে হবে গিনি সোনা।এভাবে প্রকাশ্যে অন্যায় ভাবে ভ্রমন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হলে সত্যিকারের সোনার বাংলা স্বপ্ন হয়ে থেকে যাবে।তাই এই ভাড়া চাঁদাবাজদের রুখে দিতে হবে এখনি।

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

কার্টুন এবং শিশুদের ভবিষ্যত

আমরা এখন অতি আধুনিক হয়ে গেছি।সন্তানের হাত ধরে ঘুরতে যাওয়ার পরিবর্তে আমরা এখন বিদেশী ডগ নিয়ে ঘুরি কিংবা হাতে থাকে মোবাইল এবং অবিরাম স্যোশাল মিডিয়াতে ঘুরাঘুরিও চলতেই থাকে। আর সেই ফাঁকে আমাদের সন্তানেরা, আমাদের ছোটরা বঞ্চিত হয় আমাদের ভালবাসা থেকে,তৈরি হয় কৃত্রিম পরিবেশ। শহুরে জীবনে মা-বাবার পেশাগত ব্যস্ততার কারণে এবং বিকল্প বিনোদনের তেমন ব্যবস্থা না থাকায় এ যুগের বাচ্চাদের বেবী সিটার বলা যায় কার্টুনকে। কত রকম কার্টুন যে তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে তার কোন সীমা নেই।

কিন্তু কার্টুন গুলো আমাদের বাচ্চাদের আনন্দ দিলেও কি শেখাচ্ছে সেটা কি কখনো আমরা ভেবে দেখেছি?কার্টুন দেখে দেখে আমাদের বাচ্চাদের মেধা ও মননে বিরুপ প্রতিকৃয়া তৈরি হচ্ছে তা কি কখনো ভেবে দেখেছি?পাচ বছরের একটি ছেলে যখন কার্টুন দেখে বাবা মায়ের কাছে আবদার করে সুপার ম্যানের পোষাক কিনে দিতে এবং না দিলে কেদে আকাশ মাটি এক করে ফেলে তখন বাবা মা বাধ্য হয়ে ছেলেটিকে সেই পোষাক কিনে দেয় এবং সেখানেই যদি সব থেমে যেত তাহলেও কথা হত।সেই পোষাক পরে বাচ্চা ছেলেটি যখন উচু থেকে লাফিয়ে পড়ে হাত পা ভেঙে ফেলার মত ঘটনা ঘটায় এবং বলে সুপার ম্যান যে পোষাক পরে লাফ দিলে কিছু হয়না আমি সে পোষাক পরে লাফ দিলে ব্যথা পাই কেন তখন বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হয়। কার্টুনের ভালো-মন্দ বিতর্ক খুব নতুন কিছু নয়। সারা বিশ্বে এ নিয়ে বহু বিতর্ক প্রচলিত। বাংলাদেশে এখনো সচেতনতার বড় অভাব। তাই লেখার প্রয়োজনবোধ করছি।

কার্টুন আমাদের শিশুদের মনে নানারকম প্রতিকৃয়া সৃষ্টি করছে।আমরা জানি ভাল কিছুর চেয়ে খারাপ দিকেই মানুষের ঝোক বেশি।তাই কার্টুন যেহেতু বাচ্চাদের মনস্তাত্তিক বিষয়টাকে মাথা রেখে তৈরি হয় তাই সেটা বাচ্চাদের মোহগ্রস্থ করে রাখবে সেটাই স্বাভাকি।ফলে সেই অগচরে বাচ্চারা এমন সব বিষয় শিখছে যেখানে মোরালিটিতে আঘাত লাগছে। সাত বছরের একটা মেয়েকে রেখে তার মা যখন না ফেরার দেশে চলে গেল তখন সেই মেয়েটিকে মানুষ করার জন্য একজন মায়ের অভাব দেখা দিল।ওর একাকীত্ত্ব ঘুচিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ওকে মানুষ করার জন্য যখন ওর বাবা আরেকটা বিয়ে করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং বলছেন আমাদের রাজকন্যার জন্য নতুন একটা মা নিয়ে আসি তখনি ছোট্ট মেয়েটি বিরুপ প্রতিকৃয়া দেখাচ্ছে।

সে কোন ভাবেই নতুন মা চায় না।কেন চায়না? তারও যুক্তি সে এই বয়সেই দাড় করিয়ে ফেলেছে।কার্টুনই তাকে সেটা শিখিয়েছে যা আদতে শিক্ষার নামে অপশিক্ষাই বলতে হচ্ছে। সে বলছে স্টেপ মাদার খারাপ হয়! অথচ ওই বয়সী একটা বাচ্চার সৎ মা বা স্পেট মাদার কি তা বুঝার কথাই নয়।এমন নয় বাসার কেউ বিষয়টা তাকে শিখিয়েছে। সে কার্টুন দেখে এটা শিখেছে। সে বলছে স্লিপিং বিউটির স্টেপ মাদার খারাপ ছিল,স্নো হোয়াইটের স্টেপ মাদার খারাপ ছিল,সিন্ডেরেলার স্টেপ মাদার সিন্ডেরেলাকে কষ্ট দিয়েছিল তাই সব স্টেপ মাদারই পচা হয়,খারাপ হয়।

আমারও যদি স্টেপ মাদার আসে তবে সেও খারাপ হবে,আমাকে কষ্ট দেবে।এমনকি এটুকু বলেই কিন্তু বাচ্চাটা থেমে থাকেনি। সে মনে করে সুযোগ পেলে স্টেপ মাদার তাকে মেরেও ফেলতে পারে যেমন সিন্ডেরেলার মা তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।দেখা যাচ্ছে অনেক বাচ্চাই কার্টুন না দেখালে খেতে চায় না।যতক্ষণ কার্টুন চলে ততোক্ষণ সে খাবার খায় যা সত্যিকার অর্থেই একটা বিরক্তিকর ব্যাপার।স্কুলে গিয়ে কোন একটা বাচ্চা দুষ্টুমী করছে,বাচ্চারা দুষ্টুমী করতেই পারে কিন্তু সেটা যদি সীমার বাইরে চলে যায় এবং পরিবারকে জানানোর পর যখন কার্টুন দেখা বন্ধ করে দেওয়া হয় দেখা যায় বাচ্চা বাসার এটা ওটা ভাংতে শুরু করেছে।এ গুলো অবশ্যই কার্টুনের নেতিবাচক প্রভাব। অবশেষে আমরা বাধ্য হয়ে হার মানি এবং আবার তাকে কার্টুন দেখতে দেই। এখন কার্টুন দেখে কোমলমতি শিশুরা লিপকিস কি জিনিষ সেটাও শিখে ফেলছে অবলিলাক্রমে যা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য কোন বিষয় হতে পারেনা। কিছু কিছু বাচ্চা তার ক্লাসেই এটা নিয়ে আলোচনা করছে এবং বলছে লিপ কিস হলো ট্রু লাভ কিস। এটা করলে প্রিন্সেস গিসেলের মত একে অন্যকে ভালবাসবে!

অগণিত কার্টুনের মধ্যে হাতে গোনা যে একটা দুটো কার্টুন আমাদের শিশুদের শিক্ষা দেয় সেই সব কার্টুন হয় আমরাই বাচ্চাদেরকে দেখতে অভ্যস্থ করিনা কিংবা তারাই দেখতে চায়না।সিসিমপুর যখন একটা বাচ্চাকে নানা কৌশলে নানা কিছু শেখাতে ব্যস্ত সেখানে মটুপাতলু তার উল্টোটা।টম এন্ড জেরি,মিকি মাউস আরো কত কত যে কার্টুন আছে বলে শেষ করা যাবেনা। আর ডোরেমনতো রীতিমত আমাদের বাচ্চাদেরকে ফাঁকিবাজি শেখাচ্ছে। এসব কার্টুন বন্ধ হওয়া উচিত। বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিয়ে দেখুন ডোরেমনের নির্মাতা দেশেই ডোরেমন দেখেনা ৯০ ভাগেরও বেশি শিশু আর আমাদের দেশে তা দেখে ৯৫ ভাগেরও বেশি শিশু।টিভি,কম্পিউটার বা সিডি না থাকলে শিশুরা পরিবারের কারো না কারো মোবাইলেই দেখে কার্টুন।আর সেই সব কার্টুনের যোগান দাতা হই আমরা নিজেরাই। এভাবেই জেনে শুনে আমরা আমাদের শিশুদের অশিক্ষা অপশিক্ষার পথে ধাবিত করি।

একটা শিশু বর্ণ মালা চেনেনা কিন্তু একে ফর্টিসেভেন,থ্রি নট থ্রি রাইফেল চেনে কার্টুন দেখে।শিশু মনে যা পায় তা স্থায়ী ভাবে দখল করে নেয়।তাই নেতিবাচক বিষয় যদি শিশু মনে একবার ঢুকে যায় তা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন।বিনোদনের জন্য যদি কার্টুন ফরজ কিছু হয়ে থাকে তবে এদেশে কি নির্মাতার অভাব?কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে যে সব আজগুবী বানিজ্যিক সিনেমা বানানো হচ্ছে তার পরিবর্তে শিক্ষামুলক কার্টুন কি তৈরি করা যায়না?দুই বার অস্কার বিজয়ী নাফিস বিন জাফরও কিন্তু বাংলাদেশের সন্তান এবং বিখ্যাত এনিমেটর।সুতরাং সদিচ্ছার অভাবেই মুলত তা হয় না।সর্বস্তরের মানুষের উচিত কার্টুনের ক্ষতির দিকটা বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। না হলে অদুর ভবিষ্যতে আমাদের শিশুরা কিভাব বেড়ে উঠবে সেটা কল্পনারও বাইরে গিয়ে দাড়াবে।এবং তখন হয়তো আমাদের আর করার কিছু থাকবে না।

জাজাফী

১১ জুলাই ২০১৬

 

চাকরি ক্ষেত্রে বিষয় বৈষম্য কেন?

বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে এখন অনেক বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে যা আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য মোটেই যুগোপযোগী নয়।যে দেশে চাকরির বিজ্ঞাপন মানেই বিবিএ এমবিএ চাওয়া সে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপারপার বিষয়গুলোর মূল্য কি?শেখার জন্য আমরা বা আমাদের সমাজের কয়জন স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই?সবাই যাই সার্টিফিকেট অর্জন করে ভাল চাকরি করার স্বপ্ন নিয়ে।আর চাকরি মানেই যেখানে বিবিএ এমবিএ এবং নামে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয় সেখানে আরবী,ফার্সি,উর্দু,বাংলা কিংবা ওরকম আরো বিষয় গুলিতে পড়ে কতটা কাজে আসবে তা আমাদের জানা নেই। বরং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওই সব বিষয়ে ভাল রেজাল্ট করার পরও আমাদের ভাই বোনেরা হতাশ হচ্ছে চাকরির বিজ্ঞাপন গুলো দেখে।

     আমরা কোন বিষয়কেই ছোট চোখে দেখিনা বা কাউকে কারো চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেইনা বলে যারা বড় বড় কথা বলে তারাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচু স্তরে বসে বিজ্ঞাপন সাজায় বিশেষ কিছু বিষয় ছাড়া যেখানে অন্যরা আবেদনই করতে পারেনা।তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ওই সব বিষয় পড়িয়ে লাভ কি?বন্ধ করে দেওয়াইকি যুক্তিযুক্ত নয়? চাকরি পাওয়ার প্রাথমিক শর্তই যদি হয় বিবিএ এমবিএ তাহলে গোড়া থেকেই কেন আমরা সেসব বিষয় নিয়ে পড়ছিনা,পড়াচ্ছিনা।যে সব বিষয়ের আপাত দৃষ্টিতে কর্মজীবনে না কোন চাহিদা আছে না কোন মূল্য আছে, সেসব বিষয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্র ছাত্রীদের হাতাশাই শুধু বাড়বে।আমরা মনে করিনা যে শুধু মাত্র বিশেষ কিছু বিষয়ের ছাত্র ছাত্রীরাই ওই সব চাকরি পাওয়ার যোগ্য আর বাকিরা লবডঙ্কা।চাকরির বাজারে কে কার থেকে এগিয়ে সেটা বুঝতে হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে সব বিষয়ধারীকে আবেদনের সুযোগ দিয়ে দেখুন।কে কার থেকে ভাল তা তখনই বুঝা যাবে।যোগ্যতার বিচার আপনারা যখন সার্টিফিকেট দিয়ে করেন তখন বাকি বিষয়ধারিদের আর কিইবা করার থাকে।

     যারা ২০০৪ সালে এইচএসসি পাশ করেছিল তারা এখন অন্যদের তুলনায় আরো ভীষণ রকম বিপদে আছে।সরকার নির্ধারণ করেছিল গ্রেড পয়েন্ট ৫ এর মধ্যে ৩ পেলেই প্রথম শ্রেনী ধরা হবে।সেই দিক বিবেচনা করেই সব চলছিল। ইদানিং দেখা যাচ্ছে বিজ্ঞাপনগুলোতে গ্রেড পয়েন্ট ৫ এর মধ্যে ৪ থেকে ৪.৫ চাওয়া হচ্ছে।২০০৪ সালে বা তার আগে পাশ করা ছাত্রছাত্রীদের কতজন ওরকম গ্রেড পয়েন্ট নিয়ে পাশ করেছিল?তাদের বয়স শেষের পথে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই বেকার।যাওবা স্বপ্ন ছিল, এখন গ্রেড পয়েন্টের খড়গের নিচেয় তারা মরিমরি করছে।

     ঢলাও করে এ প্লাসের বন্যা বইয়ে দিয়ে এখন পু্বর্সুরীদের বিপদে ফেলে দিয়েছে এদেশেরই কতিপয় নীতিনির্ধারকেরা।কে তাদের বুঝাবে, যারা নিজেরাই বুঝতে পারেনা।একটা গ্রাম্য প্রবাদ আছে উঠলো বাই চললো বু দরগায় যাই। এদেশেও হয়েছে তাই। যখন যার যা খুশি তাই নিয়ম করে নিচ্ছে।

     চাকরির বিজ্ঞাপন গুলোতে হাতে গোনা কয়েকটা বিষয় ছাড়া বাকি বিষয়ের ছাত্র ছাত্রীরা আবেদন করার সুযোগটুকুও পাচ্ছেনা। এটা সম্ভবত বেকারত্বকে মাথায় পেতে নেওয়া অগণিত ছাত্রছাত্রীরা ছাড়া এ দেশের কারো চোখে পড়েনা, কারো মাথায় ঢোকেনা। হাতে গোনা বিষয় গুলি ছাড়া বাকিরা যদি আবেদন করার সুযোগই না পাবে তবে বন্ধ করে দিন ওই সব বিষয় যার কোন বাজার মুল্য নেই। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার একবার বলেছিলেন এ দেশে প্রত্যেক ছাত্র ছাত্রীকে দুটো বিষয়ে পড়তে সুযোগ দেওয়া উচিত। একটা হলো বিবিএ এমবিএ যা দিয়ে সে চাকরি করে খাবে, আরেকটা হলো সে অন্তর থেকে যে বিষয়ে পড়তে ইচ্ছা করে সেটা।

     বিসিএস এবং সরকারী কিছু কিছু চাকরি ছাড়া কর্ম জীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী গুলো পছন্দের তালিকায় শীর্ষে।সেগুলো বাদেও পন্য বাজারজাত করে এমন সব কোম্পানীতে মার্কেটিং এর চাকরির ক্ষেত্রেও বাকি সব বিষয়কে মুল্যায়নও করা হয়না।গুড়ো দুধ বিক্রি করুন আর সয়াবিন তেল বিক্রি করুন সব ক্ষেত্রেই হাতে গোনা কয়েকটি বিষয় ছাড়া বাকিরা যেন যোগ্যই নয়।তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো কেন জেনে শুনে ওসব বিষয়ে ভর্তি করিয়ে পড়ানো হচ্ছে? এটাকি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানেনা?জানার পরও কেন ওসব বিষয় চালু রয়েছে?

     হয় চাকরি ক্ষেত্রে এই সব বিষয় বৈষম্য দূর করুন নয়তো চাকরির বাজারে হাতে গোনা যে বিষয়গুলো সবাই মূল্যায়ন করছে সেগুলোর বাইরের সব বিষয় বন্ধ করে দিন। কথায় বলে দুষ্টু গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল।যে বিষয়ে পড়ে কর্ম জীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হয় সেই সব বিষয়ে পড়ার চেয়ে না পড়াই কি ভাল নয়?

     ঢলাও ভাবে এ প্লাসের বন্যা শুরু হওয়ার আগে যারা এইসএসসি পাশ করেছিল তাদের কথা বিবেচনা করে সর্বক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ৩ প্রাপ্তদের আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে।যে কোন চাকরির ক্ষেত্রে (ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ক্ষেত্র বিশেষ বাদে) প্রাথমিক আবেদনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়ের বেড়াজাল রাখা চলবেনা।ডিজিটাল বাংলাদেশে ওগুলো এক একটা এনালগ সিস্টেম ছাড়া আর কিছু নয়।প্রাথমিক আবেদনের সুযোগ সবারই থাকা উচিত। তার পর ধাপে ধাপে কেউ মেধার বলে টিকে গেলে সে যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। চাই সে আরবীতেই পড়ুক আর সংস্কৃতিতেই পড়ুক।আর না টিকলে সে বিবিএ এমবিএ হলেও বাতিল বলে বিবেচিত হোক এটাই সবার কাম্য।

     মূলত আমাদের দেশে কর্মমূখী শিক্ষার বড়ই অভাব।কারীগরি শিক্ষাই বলি আর অন্যান্য বিষয় বলি কোনটাই মূলত এদেশের অধিকাংশ কাজের সাথে খাপ খায়না।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছার পর এ দেশ যেদিন উন্নত দেশে পরিণত হবে সেদিন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইচ্ছা মত যে কোন বিষয় নিয়ে পড়লেও কোন সমস্যা থাকবেনা।কারণ তখন কর্মসংস্থানের কোন অভাব থাকবেনা।তবে বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করলে নীতিনির্ধারকদের আরো কড়া হতে হবে।চাকরিদাতারা কেন অন্য সব বিষয়কে আবেদনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করছে তার জবাব চাইতে হবে। সেই সাথে সরকার নির্ধারিত গ্রেড পয়েন্ট তিনের বদলে কেন চার বা সাড়ে চার চাওয়া হচ্ছে তাও খতিয়ে দেখতে হবে।পাঁচটা বিষয়কে প্রধান্য দিয়ে বাকি ত্রিশটা বিষয়কে পায়ে মাড়িয়ে গেলে দেশে একদিন বেকারত্ব এতো বেড়ে যাবে যে জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ তখন বেকার হয়ে বসে থাকবে।এদেশের আকাশ সেদিন বেকারের দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে উঠবে।সে ভার সইবার মত শক্তি তো আমাদের নেই।

জাজাফী

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

দৈনিক ইত্তেফাকের উপসম্পাদকীয়তে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ এ প্রকাশিত।

তোমার চলার পথ

“যে পথে হেটেছ তুমি
সে পথ আমার জন্য পুণ্যভূমি”

৩০/০১/২০১৭

বাঙ্গালীর ধৈর্য্য

হতাশাবাদীরা উদয়মান  সূর্যকে মনে করে অস্তগামী।হাতাশার চাদরে তারা এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে সেখান থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারছেনা। তাদের সামনে একটা গ্লাসের অর্ধেক পানি পূর্ণ করে উপস্থাপন করলে তারা বলে অর্ধেক গ্লাস খালি। কখনো ভেবে দেখেনা ক্লাসটা অর্ধেক পূর্ন। চারদিকে আজ হতাশাবাদীদের ভীড়। কিন্তু তার পরও আশাবাদীদের সংখ্যাও কোন অংশে কম নয়। এখনো এদেশে অনেক মানুষ আছে যারা সুন্দর আগামীর স্বপ্নে বিভোর। যারা মনে মনে বিশ্বাস করে আগামীর বাংলাদেশ হবে শিক্ষা শান্তি প্রগতিতে বিস্ময়জাগানিয়া দেশ। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।যে যত বড় স্বপ্নই দেখুকনা কেন সে যদি সেই স্বপ্নটা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করে তবে সে তা পারে।একজন বিলগেটস একদিনে তৈরি হয়না,একজন ড.মুহম্মদ ইউনুস রাতা রাতি জন্ম নেয়না। তার জন্য দরকার দৃঢ়প্রত্যয়, দরকার অকৃত্রিম ভালবাসা এবং ধৈর্য্য। বাঙ্গালীদের আর যাই হোক ধৈর্য্যের অভাব নেই এবং কোন কালেও অভাব ছিলনা। বাঙ্গালীদের ধৈর্য্যের বর্ণনা দেওয়ার মত যথাযথ শব্দও খুজে পাওয়া কঠিন। হয়তো বলতে পারি পাহাড় সমান ধৈর্য্য আছে বাঙ্গালীদের কিন্তু তাতেও কমই বলা চলে। আমরা যে কত বড় ধৈর্য্যশীল তার প্রমান আমাদের চোখের সামনেই ভূরিভূরি পাওয়া যাবে। দায়িত্বশীল মন্ত্রী যখন কোন একটা ঘটনার তদন্তের ব্যাপারে ৪৮ ঘন্টা সময় নেয় আমরা তখন আশাবাদী হই এবং সেই আটচল্লিশ ঘন্টা আর শেষ হয়না। যদিও ৪৮ দিন যায় ৪৮ মাস যায় কিংবা হয়তো ৪৮ বছরও যাবে। তার পরও বাঙ্গালীদের ধৈর্য্যর বাঁধ ভাঙ্গেনা। তারা ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করে কবে সেই আটচল্লিশ ঘন্টা শেষ হবে। বাঙ্গালীরা বরাবরই ক্রিকেট পাগল। খেলা দেখার টিকেটের জন্য ঘন্টারপর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকে,ঈদ কিংবা পূজাপার্বনে পরিবারের সাথে সময় কাটানোর জন্য ট্রেনের টিকেটের লাইনে ঘন্টারপর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে অনেকেই টিকেট না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যায় তার পরও ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গেনা।আমাদের ধৈর্য্যের নিত্যদিনের উদাহরণ ঢাকা শহরের অবিরাম যানজট। সকাল সাতটায় উত্তরা থেকে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা হলে দুপুর গড়িয়ে যায় আর আমরা ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করি।রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দের দোলাচালে শুরু হয়েছিল এসএসসি পরীক্ষা। ধৈর্য্য যেন বাঙ্গালীদের জন্মগত বৈশিষ্ট্য। তাই আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও দেখিয়েছে তাদের সীমাহীন ধৈর্য্য। দিন যায় মাস যায় কিন্তু তাদের পরীক্ষা যেন শেষই হতে চায়না। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকেরাও ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের পিছু ছাড়েনি। এতো ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়েও আমাদের রেহাই নেই। আমাদের জন্মই যেন হয়েছে আজন্ম ধৈর্য্যের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য। যে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার ধকল সহ্য করার পর আশার জাল বুনেছিল ফলাফলের পর কলেজে ভর্তি হবে, তাদের সে স্বপ্নটা ক্ষীণ হয়ে যায় যখন ভর্তিপরীক্ষার ফলাফল বার বার পেছানো হয়। তারপরও তারা ধৈর্য্য ধরেছে। এ যেন ধৈর্য্যধারনের কোন প্রতিযোগিতা। নীতিনির্ধারকদের চরম অবহেলা আর অদূরদর্শীতাই এসবের মূল কারণ। মেয়েদের কলেজে ছেলেরা চান্স পাচ্ছে তারপরও আমরা বিকার হয়ে বসে আছি। কলেজে ভর্তি হবার অধিকার যেন রিলিফের চাল পাওয়ার মত। লাইন ধরে দাড়িয়ে থাক,অপেক্ষা করো তবেই তাদের মর্জিমত তোমাকে দেওয়া হবে। অদক্ষদের হাতে যখন কোন একটা দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন আমাদের কেবল ধৈর্য্য ধারণ করে দিনের পর দিন মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই থাকেনা।শিক্ষা ব্যবস্থা দিনের পর দিন হুমকির মূখে পড়ছে।দাবী করা হচ্ছে বছরের প্রথম দিন কোটি কোটি শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। বছরের এক তৃতীয়াংশ চলে যাওয়ার পরও কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌছাচ্ছেনা। সেই সব বইই বিক্রি হচ্ছে কোন কোন লাইব্রেরীতে।সৃজনশীলতার নামে চলছে মেধা ধ্বংসের পায়তারা। বাজারে অহরহ বিক্রি হচ্ছে সৃজনশীল গাইড। তারা হাতে ধরে শেখাচ্ছে সৃজনশীলতা। সৃজনশীলতা কি মোটর ড্রাইভিং শেখার মত যে হাতে ধরে শেখানো যাবে। যে শিক্ষার্থীরা আমাদের আগামী দিনের চালিকা শক্তি আজ আমরা তাদের শিক্ষাজীবনকে হুমকির মূখে ফেলে উপরন্ত আমাদের স্বপ্নময় আগামীকেই হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছি। মাসেরও অধিক সময় ব্যায় করে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর ফলাফল হলো এবং শিক্ষার্থীরা আশায় বুক বাঁধলো কলেজে ভর্তির। এবার অনলাইনে ভর্তি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমরা বেশ আশায় বুক বেঁধেছিলাম কিন্তু আমাদের সব আশা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে যায় যখন দেখি ফলাফল বের হওয়া নিয়ে নাটকের নিত্যনতুন মহড়া। আরো হতাশ হতে হয় যখন সেই ফলাফলে মেয়েদের কলেজে ছেলেদের নাম উঠে আসে। আমাদের দেশে দক্ষ নাবিকের অভাব কোন কালেও ছিলনা কিন্তু তার পরও আমরা বার বার অদক্ষদের হাতে হাল ধরিয়ে দিয়ে মাঝ দরিয়ায় খাবি খাচ্ছি। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যেন সময় মত পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে বের হয়ে আসতে পারে সে ব্যবস্থা নীতিনির্ধারকদের নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দূর্বলতা গুলো দূর করা না গেলে আগামী প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্থ হবে যা অন্য অর্থে আমাদের দেশের ভবিষ্যতকেই হুমকিতে ফেলে দেবে। যখন নির্ধারিত সময়ে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবন শেষ করতে না পারে তখন স্বাভাবিক ভাবেই তার মধ্যে হতাশা কাজ করে,বেকারত্বের হার বাড়ে। আজকে যে শিক্ষার্থীরা সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হবে বলে আশায় বুক বেঁধেছিল তাদের ভর্তি নিয়ে যে অনাহুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক।তার পরও আমরা ধৈর্য্য ধরে আছি,হয়তো ধৈর্য্যের সীমানা প্রাচীর দিয়ে কোন একদিন উকি দেবে সুদিনের সুর্য।

 

অস্তিত্বের সংকট

No automatic alt text available.অস্তিত্বের সংকট
হারিয়ে যেতে যেতে
রেখে যাই কিছু স্মৃতি,বলে যাই কিছু কথা
যদি কারো কাজে লাগে কিংবা অকাজে।

তুমি হয়তো

তুমি হয়তো ব্যস্ত ভীষণ
কথা হয়না মোটেও
আগের মত দেখিনা আর
হাসি তোমার ঠোটেও।

 

১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

তোমার চাওয়া

তুমি যেমন চেয়েছিলে তেমন করে আবার না হয় বাসবো ভাল তোমায়
আবার এলো ভালবাসার দিন,এখন শুধু ভালবাসার সময়।

 

২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

গন্তব্য

নদীর গন্তব্য সমুদ্র পযর্ন্ত,

আমার গন্তব্য তুমি।

 

 

২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বইমেলায় পাওয়া উপহার

পাঠক হিসেবে আমি মধ্যমানের।বই পড়তে আমার ভাল লাগে।সাহিত্য,দর্শন,ইতিহাস,শিল্পকলা সহ নানা বিষয়ে পড়ার চেষ্টা করেছি এবং সেটা অব্যহত আছে।যে মানুষটি জীবনে প্রথম বই লিখেছে এবং আমাকে দিয়েছে তার বইও আমি খুব মন দিয়ে পড়েছি এবং তাকে উৎসাহ কিংবা অবহেলা করার জন্য নয় বরং একজন সত্যিকার পাঠকের দৃষ্টিতে বইটা আমার কেমন লেগেছে তা জানিয়েছি এবং জানাচ্ছি।কোথাও খারাপ লাগলে রাখঢাক ছাড়াই অকপটে বলেছি অমুক অংশটি মোটেই আমার কাছে ভাল লাগেনি আবার যে অংশ ভাল লেগেছে সেটুকু সম্পর্কে বলেছি অসাধারণ।পাঠক হিসেবে আমি আমার মতামত দিতেই পারি এবং লেখক হিসেবে সেটাকে নেগেটিভ বা পজেটিভ যে কোন ভাবেই আপনি নিতে পারেন।

অধিকাংশ পাঠক সাধারণত বিখ্যাতদের লেখা পড়েই অভ্যস্থ। সে ক্ষেত্রে অনেক নবীন লেখকের কখনো কখনো খুবই মান সম্মত লেখাও আমাদের পড়া হয়ে ওঠেনা।আবার তাদের বইও কেনা হয়না এটা ভেবে যে সীমিত বাজেটে বই কেনার ক্ষেত্রে পছন্দমত বই কিনেই টাকায় কুলায়না সেখানে অপরিচিত নতুন কোন লেখকের বই কেনার সুযোগ কোথায়। আমি মাঝে মাঝে কিনি কিংবা অনেকেই বইয়ের সৌজন্য কপি দেয়।আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

আমি মনে করি যে গার্লফ্রেন্ডকে দামি দামি বই উপহার দেওয়ার পরও বইয়ের একটা পেজ উল্টিয়ে দেখেনা তাকে বই উপহার দেওয়ার চেয়ে আমার মত কোন দিন না দেখা অপরিচিত মধ্যমানের পাঠককে বই দেওয়া ভাল।কোন লেখক বন্ধু থাকলে আমাকে বই পাঠাতে পারেন।চেয়ে নিচ্ছি বলতে পারেন।আমি জানি কত বন্ধুকেইতো সৌজন্য কপি দিবেন তারা পড়েও দেখবে না সেখানে আমি অবশ্যই পড়ে দেখবো।(বি.দ্র: বই চাচ্ছি বলে আমার কিন্তু নিজেকে ছ্যাচড়া মনে হচ্ছেনা।)একটা কথা ভাবতে হবে মানুষকে বই সেধেও পড়ানো যায়না সেখানে আমি নিজে পড়তে চাচ্ছি। উদাহরণ হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের গাড়ি গুলোর কথাই ধরুন।বাড়ির পাশে এসে দাড়িয়ে থাকে কিন্তু আমরা ঢু মারার সুযোগও পাইনা।

এখন কাজের কথায় আসি।আপনাদের স্নেহ ভালবাসায় আমি ধন্য।আমাকে কত মানুষ স্নেহ করে,আদর করে ভালবাসে তার প্রতিদান দেবার মত ক্ষমতা আমার নেই।তাদের স্নেহ ভালবাসাও মহত্ত্বের পরিচায়ক।এতো স্নেহ দেখানোর পরও কত জনই নিজেকে আড়ালে রাখতে ভালবাসে ঠিক যেমন আমি নিজেও আড়ালে থাকতে ভালবাসি। আমার কাজে লাগবে এমন বেশ কিছু বই আজ উপহার পেলাম। ধন্যবাদ কিংবা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ করা যাবেনা তাই ওদিকে যাচ্ছিনা। আমি জানি বই গুলো অনেক দিন আমাকে অনেক কিছু শেখাবে। সেই অনেক কিছু থেকে একটুও যদি অন্যদের জানাতে পারি তবে সেটাকেই মনে করবো ভালবাসার প্রতিদান দেওয়া।

আজ একজন আমাকে যে বই গুলি উপহার হিসেবে দিয়েছেন তার তালিকা:
• জীবন জয়ের গল্প-দেওয়ান সাফায়েত-কথা প্রকাশ।
• নাটকের ক্লাশ-ডক্টর রাজীব হুমায়ুন-সূচীপত্র।
• বিশ্ব সাহিত্যের ক্লাসরুমে-মুহম্মদ আকতার হোসেন-আগামী প্রকাশনী।
• সাহিত্য তত্ত্ব-মাহবুবুল আলম-খান ব্রাদার্স এন্ড কোম্পানী।
• শুন্য থেকে বিশ্বজুড়ে-ফাবিহা তনিকা-দেশ।
• নোবেল ভাষণ (চার খন্ড আলাদা আলাদা)-হায়াৎ মাহমুদ-ইত্যাদি গ্রন্থপ্রকাশ।( Niaz Chowdhury Tuli ভাইয়া প্রচ্ছদ করেছেন)।
• সাহিত্য চর্চা-বুদ্ধদেব বসু-মাটিগন্ধ্যা।
• বস্তুবর্গ-মোস্তাফিজ কারিগর-কাগজ প্রকাশন।
• পড়শি-মীম নোশিন নাওয়াল খান-বিদ্যাপ্রকাশ।
• সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী-মিজান রহমান-বিশ্বসাহিত্য ভবন।
• বিশ্ব সাহিত্যের নয় রত্ন-কবীর চৌধুরী-কথা প্রকাশ।

আমি বিশ্বাস করি বই গুলো আমার জন্য বেশ কাজের।তিনি আরো বলেছেন পছন্দের আরো কিছু বই উপহার দিবেন।বই গুলো পড়ার পর আমি চেষ্টা করবো কি শিখলাম,কি জানলাম তা অন্যদের সাথে শেয়ার করতে।
———————————————————

ধন্যবাদান্তে:

জাজাফী (Zazafee)
প্রযত্নেঃ টি এ এম আখতারুজ্জামান
ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
বাসা:৭৯,গাউসুল আজম রোড,সেক্টর-১৪
উত্তরা,ঢাকা-১২৩০
ইমেইলঃ [email protected]
ওয়েবসাইটঃ www.zazafee.com