Home Blog Page 26

তুমি বললে

ইচ্ছে করে আরো একবার দেখি
একবার পাই ভালবাসার ছোয়া
তুমি বললে মামা বাড়ীর আবদার?
নাকি এটা ছেলের হাতের মোয়া?

 

৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

হিসেবের খাতা

জানি আমি নেই তোমার হিসেবের খাতাতে
আজ থেকে রাখবোনা তোমার কথা মাথাতে।

Zazafee

৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

আপনি কোন ধরনের পাঠক?

আপনি কোন ধরনের পাঠক আমি তা জানি না, তবে আমি নিজে মধ্য মানের পাঠক। আমি বই কিনলে বেছে বেছে কিনি তারও আগে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ফ্ল্যাপের লেখাটা মন দিয়ে পড়ি,বইটা উল্টোপাল্টে দেখি এবং পারলে দু এক পৃষ্ঠা পড়ে বুঝতে চেষ্টা করি। এর পর যদি মনে হয় বইটা পড়া উচিত তখন সেটা কিনি। বইটা উপন্যাস বা গল্পই হবে তা কিন্তু নয়। ইতিহাসও হতে পারে বিজ্ঞানও হতে পারে।

দিব্য প্রকাশের স্টলে গিয়ে দেখুন “তাজমহলের গল্প” শিরোনামে “মো: আদনান আরিফ সালিম ( Salim Aurnab ) এর লেখা একটি বই পাবেন দাম ৬০০ টাকা মত। কমিশনে কিছু কমে কিনতে পারবেন। এই বইটি আপনাকে এই বইমেলার অনেক উপন্যাস,কবিতা,গল্পের বই থেকেও বেশি আনন্দ দেবে বলে আমি মনে করি।

একটু আগেই আমি বলেছি দ্বিতীয় সৈয়দ হকের (Ditio Syed-Haq) লেখা বই : মেঘ ও বাবার কিছু কথা” শিরোনামের বইটি অসাধারণ। সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে ঢুকতেই কথা প্রকাশের স্টল। আপনাকে কিছু করতে হবেনা শুধু গিয়ে কিছুক্ষন দাড়িয়ে দেখবেন পাঠক এসে আপনাআপনি বলছে দ্বিতীয় সৈয়দ হকের বইটা দিনতো। আপনি ঘুরে দেখতে পারেন তার ফেসবুক ওয়াল।তিনি বলা চলে কোথাও এই বইয়ের প্রচার প্রচারণা করেন নি। তার পরও বইটা বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। সিয়ামের সাথে গিয়ে আমি গত দিন একবার বইটা কিনেছি কিন্তু সংগ্রহে রাখতে পারিনি হাতছাড়া হয়ে গেছে। আবার কিনেছি সেটাও হাতছাড়া হয়ে গেছে এবং আজ আবার কিনেছি।

দেখুন একটা বই মানুষকে জোর করে পড়ানো যায়না অথচ আরেকটা বই মানুষ আপনাআপনি কিনছে কথা বলছে। কেন কিনছে? খ্যাতিমান সব্যসাচী লেখকের পুত্রের লেখা বলে? নাকি তাকে নিয়ে লিখেছে সে জন্য? এর কোনটাই হয়তো নয় আবার দুটোই হতে পারে। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে আমাদের জনপ্রিয়তম লেখক হুমায়ূন আহমেদকে নিয়েও অনেকেই বই লিখেছেন কিন্তু লেখার মান ভাল নয় বলে সেগুলো হারিয়ে গেছে কিংবা আমরা গ্রহণ করিনি। শুধু গ্রহণ করেছি শাকুর মজিদের (Shakoor Majid ) লেখা দুটি অসাধারণ বই “হুমায়ূন আহমেদ: যে ছিল এক মুগ্ধকর এবং নুহাশপল্লীর এই সব দিনরাত্রি” সেই সাথে সালেহ চৌধুরীর লেখা ” সৌখিনদার এবং আমি এবং হুমায়ুন আহমেদ বইটি। এবার দেখলাম আরো অনেকেই হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে লিখেছেন।

বিখ্যাত মানুষকে নিয়ে লিখলেই পাঠক সেই বই গ্রহণ করবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই।এখানে লেখক নিজে যদি মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেন তবেই পাঠক সেটা মনে রাখবে এবং লুফে নেবে।আমি যদি স্বয়ং গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ কিংবা ফিদেল ক্যাস্ট্রো কিংবা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখি মানুষ সেটা গ্রহণ করবেনা কারণ আমি লেখক নই। অথচ কোন একজন গুনী লেখক যদি আমাকে নিয়েও বই লেখে সেটাও পাঠক লুফে নেবে। আদনান আরিফ সালিমের লেখা “তাজমহলের গল্প” কিংবা দ্বিতীয় সৈয়দ হকের লেখা “মেঘ ও বাবার কিছু কথা” কিংবা শাকুর মজিদের “লেস ওয়ালেসার দেশে” পাঠক লুফে নেয় এবং মনে রাখে।

আনিসুল হক (Anisul Hoque) অনেক বই লিখেছেন। তার অগণিত পাঠক। তার পাঠকের শ্রেনী বিভাগও আলাদা। পিচ্চিদের জন্য তিনি গুড্ডু বুড়া লিখেছেন সেটা আপনি পড়লে ভাল লাগবেনা এবং ওটা পড়ে আপনি হয়তো আনিসুল হকের সমালোচনা করে ধুয়ে দিবেন অথচ ওটা ছোটদের জন্য চমৎকার একটি বই যা পড়ে ছোটরা খুবই মজা পায়। কিশোরদের জন্য তিনি লিখেছেন “একাত্তুরের একদল দুষ্টু ছেলের দল” সেটা পড়লেও আপনার ভাল নাও লাগতে পারে এটাই স্বাভাবিক।আগে নিজেকে কোন স্তরের পাঠক মনে করেন সেটা নির্ধারণ করে লেখকের লেখা পড়ুন তাহলে সমালোচনা করলেও লেখকের কাছে সেটা ভাল লাগবে এবং লেখক আপনার থেকে কিছু শিখবে এবং পরবর্তীতে আপনার উপযোগি আরো বই লিখতে পারবে। আপনি উচ্চমানের পাঠক হলে এই বই মেলায় আনিসুল হকের যে দুটো নতুন বই এসেছে তা আপনাকে হয়তো মুগ্ধ করবে না।যেমন তরুনদের কাছে “এক লক্ষ লাইক” বইটা ভাল লাগতে পারে কারণ তরুণদের অনেকেই ফেসবুকে মেতে থাকে। আবার কিছুটা রহস্যপ্রিয় যারা তাদের কাছে “প্রিয় এই পৃথিবী ছেড়ে” বইটাও ভাল লাগবে। তবে আমি যেহেতু নিজেকে মধ্যমানের পাঠক বলে মনে করি তাই এ দুটো বই আমাকে খুব বেশি টানবে না। আমি বরং এই নতুন দুটো বই থেকে অনেক বেশি এগিয়ে রাখবো গত মেলায় আসা “জেনারেল ও নারীরা” বইটিকে। আইয়ুব খান,ইয়াহিয়া খানদের কাহিনী আমাকে মুগ্ধ করে রেখেছে এখনো।ঠিক একই বই হয়তো আপনাকে মুগ্ধ নাও করতে পারে।

সে জন্যই আমাদের আগে উচিত নিজেকে পাঠক স্তরে বিন্যস্ত করা তার পর বই পড়া।স্বকৃত নোমানের (Swakrito Noman) একটা বই বের হয়েছে “শেষ জাহাজের আদমেরা” এই লেখকের নাম আপনি নাও শুনে থাকতে পারেন আবার শুনে থাকলেও থাকতে পারেন। অথচ সে অলরেডি বেশ অনেক গুলো নামী দামী সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছে। আপনি যদি ভুল করেও তার লেখা “বাক বদলের কালে” বইটা পড়তে বসেন তাহলে শুরুতেই বলে বসবেন এ আবার কোন লেখক হলো? তার চেয়ে বরং আপনি তার লেখা “কালকেউটের সুখ” উপন্যাসটি আগে হাতে নিন।

আমরা অনেক সময় ভুল সময়ে ভুল বই হাতে নিই এবং সেটাকেই সব মনে করে লেখক কবিদের বিচার করি।একজন আনিসুল হকের “এক লক্ষ লাইক” বইটার সমালোচনা না করে বরং আপনি মধ্য মানের বা উচু মানের পাঠক হলে ওসব লেখা পাশ কাটিয়ে “জেনারেল ও নারীরা” কিংবা “মা” কিংবা আরো কয়েকটি বই আছে সে গুলো পড়েন।

এবার বাংলাএকাডেমী পদক যাদের দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে একজন আমার ফ্রেন্ডলিস্টে ছিলেন।তার লেখা আমার মোটেও ভাল লাগতো না।আমি ভাল না লাগলে সেটাতে লাইক দেইনা কমেন্ট করে বলি আমার ভাল লাগেনি।একদিন সমালোচনা সহ্য করতে না পেরে তিনি আমাকে আনফ্রেন্ড করলেন।তাতে আমার কি কোন ক্ষতি হলো? বরং তিনি একজন পাঠক কিংবা ছোটখাট সমালোচক হারালেন।হয়তো বলতে গেলে তারও কোন ক্ষতি হয়নি।তাকে আজই প্রথম কাছ থেকে দেখলাম এবং আমি যেভাবে তাকে কল্পনা করতাম তিনি আসলে তাই।তা বলেতো আমি তাকে অপমান করতে পারিনা।এই দেশের অগণিত পাঠক বা অন্যরা শাহাদুজ্জামানের সমালোচক।আমি সেগুলো পড়ে আনন্দ পাই কিন্তু বিশ্বাস করিনা।কারণ আমি নিজে তার কিছু লেখা পড়েছি মুগ্ধ হয়েছি।

এই দেশে ভ্রমন কাহিনী যারা লেখেন তাদের মধ্যে মঈনুস সুলতান (Mainus Sultan) কিংবা শাকুর মজিদের নাম অনায়াসে বলা যায়।কিন্তু এবার যিনি পুরস্কারে ভূষিত হলেন তার নাকি এটাই প্রথম বই।নানা কথা উঠেছে সেটা নিয়ে।আমি তার সমালোচনা করতে যাচ্ছিনা কারণ তার লেখা আমি পড়িনি।

এই লেখাটা বেশি বড় হয়ে যাচ্ছে।যারা এতোটুকু সহনশীলতা নিয়ে পড়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ। বই মেলা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই আমরা প্রচার প্রচারণা করি।আমি এটাকে কিছুটা সমর্থনও করি।একজন লেখক বই লিখেন অনেক সাধনা করে।সেটা সবাইকে জানানো কোন অপরাধ নয়।তবে পাঠকদের উচিত ভাল লেখার প্রচার করা।লেখক তার দিক থেকে সব বইয়েরই প্রচার করবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু পাঠকের উচিত তার পড়া সেরা বইটার কথা অন্যদের জানানো।

প্রীতির এবারও দুটো বই বের হচ্ছে।তার ফেসবুক ফলোয়ার ৪৫ হাজারের বেশি।তার একটা বইয়ের নাম “নারীর নাড়ী” আরেকটি “প্রেমিক”। এর আগেও তার দু একটা বই বের হয়েছে।আপনি যদি তরুন হন এবং নারী ভক্ত হন তাহলে তার লেখা “উনিশ বসন্ত” বইটাকে সেইরকম বই বলে চালিয়ে দিবেন। আর আপনি যদি একটু শক্তপোক্ত পাঠক হন তাহলে বলবেন এটা কোন লেখা হলো? তার প্রচুর প্রচার প্রচারণা আছে। তার বইয়ে ভূমিকা লিখে দেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। তার বই কত গুলো বিক্রি হয়? আমি জানিনা।আমাকে বিচারের ভার দেওয়া হয়নি যে আমি বিচার করবো। কিন্তু পাঠক হিসেবে আমি বলতে পারি প্রীতির এই জনপ্রিয়তা থাকা সত্তেও এমন অনেক কিশোর কিশোরী লেখক আছে যাদের লেখা আরো বেশি মানসম্মত। আমি দেখলাম একই প্রশ্নের উত্তর স্বকৃত নোমান যেভাবে দিলেন প্রীতি দিলেন উল্টো।

মীম নোশিন নাওয়াল খানের (Meem Noshin Nawal Khan) নাম শুনেছেন কিনা জানিনা।ব্যক্তিগত ভাবে কিভাবে কিভাবে যেন সবার সাথেই আমার ভাল রিলেশান আছে যদিও কারো সাথেই আমার কোন দিন দেখা হয়নি। এই মীমের অনেক প্রতিভা।কেউ কেউ আবার সমালোচনার ঝড়ও বইয়ে দেয় কিন্তু মীম সেগুলো গায়ে মাখে না।বিদ্যা প্রকাশ থেকে এবার ওর “পড়শি” নামে একটা বই বের হয়েছে।গত বছর বের হয়েছিল “দূর্বা” নামে একটা উপন্যাস।এক বছর পর যে বইটি বের হলো স্বাভাবিক ভাবে মনে হওয়া উচিত আগের বইটা থেকে এই বইটা বেশি মানসম্মত হবে কিন্তু আমার মতে এই বইটার চেয়ে আগের বইটা বেশি ভাল ছিল।আপনি চাইলে মিলিয়ে নিতে পারেন।মেয়েটি এবার ভিকারুননিসা নুন স্কুল থেকে এসএসসি দিচ্ছে।সে নিজেকে প্রচার করেনা ঠিকই কিন্তু তার বই অনায়াসে ৫০০ কপি বিক্রি হয়।তার কারণ ছোট মানুষ হিসেবে সে যথেষ্ট ভাল লেখে। কার কার চেয়ে ভাল লেখে সেটা বলতে গেলে আমি যদি বলি প্রখ্যাত লেখক মোশতাক আহমেদের চেয়ে ভাল লেখে তাহলে আমাকে সবাই তুলোধুনো করে ছাড়বে।

১৬০ পৃষ্ঠার একটা বই কমিশনের পর ২২৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে দেখে আমারও মনে হয়েছে বইয়ের দাম একটু বেশিই।শাহাদুজ্জামানের “কাগজের নৌকা” বইটা কিনতে গিয়ে দেখি ৪০০ পৃষ্ঠার বইয়ের গায়ের দাম ৮০০ টাকা। কেনা হয়নি।

আজকের রাতের ঘটনা বলে ইতি টানি। হাসান আজিজুল হক স্যারের রিডিং রুমে বসে আছে এইসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ে।কেন বসে আছে? কারণ হাসান আজিজুল হক স্যার বসে বসে খুব মন দিয়ে ওই মেয়েটির লেখা গল্প পড়ছেন।তার কারণ গল্পগুলো পড়ে স্যার ওকে একটা ভূমিকা লিখে দেবেন।স্যার ওর অনেক গুলো ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন অনেক কিছু দেখিয়ে দিয়েছেন আর ওর লেখা এই প্রথম বইটাতে একটা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী আছে সেটা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন “তুমি এটা জাফর ইকবাল সাহেবকে পাঠাও”!! কেন বলেছেন সেটা আমি অনুভব করেছি।কারণ ওই মেয়েটির লেখা ওই বিজ্ঞান কল্পকাহিনীটা আমিও পড়েছি। সুতরাং লেখা যেটা ভাল সেটার প্রশংসা যদি না করি তাহলে অন্যায় হবে। হাসান আজিজুল হক স্যার যে বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর প্রশংসা করেছেন সেটির লেখক “মোসাররত মেহজাবীন মীম” (Mosarrat Meem) বন্ধুরা যাকে আদর করে ডাকে মীম্মা।স্মৃজনশীল মেধা অন্বেষনে যে দেশ সেরা হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে এক লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেছিল এবং ঐতিহ্য প্রথম আলো গোল্লাছুট গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় গল্প লিখে বিজয়ী হয়েছিল।

বই মেলাতে গিয়ে হুজুগের বসে একটা দুটো বই কিনে ফিরে আসবেন না।বই দেখুন বুঝুন এবং কিনুন। হ্যারিপটার রাতারাতি বিলিয়ন বিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে তাই বলে সেটি কিন্তু লিও টলস্টয়ের বইয়ের চেয়ে সেরা নয়।তাই ভাল বই পড়ুন এবং যে বই পড়ে আপনার ভাল লেগেছে তা অন্যকে জানান।

যে ফুল সুগন্ধ ছড়ায় তা ঝোপের আড়ালে ফুটলেও মানুষ তাকে খুজেঁ নেয়।ভাল বইয়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়। বই হোক আমাদের পরম বন্ধু।

—জাজাফী
৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
বাংলা একাডেমী

Zazafee

বই মেলার দাওয়াত

বইমেলাতে দাওয়াত দিলাম
আসেন না ভাই আসেন
আপনি না ভাই ফুচকা খেতে
ভীষণ ভালবাসেন।

মেলায় আসুন ফুচকা খেতে
ঘুরে দেখুন বই
ফুচকা খেয়ে,সেলফী তুলে
করুন না হইচই।

বই কিনতে বলছিনা আর
বই কিনে কি লাভ?
বইয়ের সাথে সেলফী তুলে
নিতেই পারেন ভাব।

আপনি এলে চ্যানেল গুলোয়
মূখ দেখানোও হবে
বইমেলাতে এসেছিলেন
প্রমানটাও রবে।

ফেসবুকেতে ছবি দিবেন
লাইক পাবেন হাজার
টিভি চ্যানেল প্রচার করবে
দারুন বইয়ের বাজার।

প্রচার হবে এবার মেলায়
বিক্রি হচ্ছে বেশ
মনে হবে প্রথম দিনেই
দ্বিতীয় সংস্করন শেষ।

এবার মেলায় মানুষ অনেক
কেনার মানুষ কম
ফুচকা খাওয়া চলছে দারুন
বিক্রিও হরদম।

পরের বছর মেলা তবে
ফুচকা মেলাই হোক
বইকে তখন ফুচকা ভেবে
কিনবে কিছু লোক।

…….Zazafee
৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
বাংলা একাডেমী

কার অপেক্ষাতে

তুমি আসবে ভেবে রোজ বইমেলাতে যাই
গিয়ে কত খুঁজি, দেখি নাই নাই তুমি নাই।

তবে কি এবারও আসবেনা,অপেক্ষা বাড়বে আরো কিছু কাল
কবে কোন বই মেলাতে আসবে তুমি?সেটা কত সাল?

নাকি কোন দিন আসবেনা? শুধু একবার যদি আসো
পাতা গুলো ছুয়ে ভাববো, সত্যিই কত ভালবাসো।

Zazafee
৬ফেব্রুয়ারি ২০১৭

পৃথিবীর অন্য প্রান্তে

পায়ে হেটে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ঠিক কত সময় লাগবে এটা ক্যালকুলেশান করে বের করার চেষ্টা করছিলাম। ড্রয়িংরুমের মেঝেতে বসে খাতা কলমে হিসাব কষছিলাম। এমন সময় আমার পিচ্চি বোন স্কুল থেকে ফিরে এলো।কাধের স্কুল ব্যাগটা সোফার উপর রেখে বললো ভাইয়া তুমি কি হিসাব করো একা একা?

আমি বললাম হিসেব করে দেখছি পায়ে হেটে একটা মানুষ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে ঠিক কত সময় লাগবে। আমার কথা শুনে ও কি যেন ভাবলো তার পর বললো ও তুমি এটা নিয়ে সারা খাতা হিসেব কষে ভরে ফেলেছ? এতো সোজা বিষয় নিয়ে এতো হিসেব করা লাগে? দাড়াও তোমাকে আমি প্র্যাকটিক্যালি দেখাই। এটা বলেই ব্যাগটা নিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। আমি অবাক হয়ে ভাবলাম এই পিচ্চিটা প্র্যাকটিক্যালি কিভাবে দেখাবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পায়ে হেটে যেতে কত সময় লাগবে?

কিছুক্ষণের মধ্যেই ও ফিরে এলো।হাতে করে নিয়ে এলো একটা পৃথিবীর মানচিত্র এবং একটা স্টপওয়াচ। মানচিত্রটা ড্রয়িংরুমের মেঝেতে বিছিয়ে আমার হাতে স্টপওয়াচ দিয়ে বললো তুমি ওটা অন করো আমি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পায়ে হেটে যাচ্ছি। তাহলেই তুমি দেখতে পাবে ঠিক কত সময় লাগবে।

অতঃপর আমার পিচ্চি বোনটা মাত্র দুই সেকেন্ডে পায়ে হেটে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে গেল। জুল ভার্ন যেটাকে ৮০ দিনে নিয়ে ঠেকিয়েছিলেন আর বিশ্ব হতবাক হয়ে গিয়েছিল যে এটা কোন ভাবেই সম্ভব নয় সেটা আমার পিচ্চি বোন মাত্র দুই সেকেন্ডে নামিয়ে নিয়েছে। জিনিয়াস একটা।

৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

উন্নত রাষ্ট্র গড়তে চাই ইতিবাচক পরিবর্তন

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এই দেশে রাজনীতি গণতন্ত্রের অস্ত্র হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু রাজনীতি এখন অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। নানাক্ষেত্রে দলীয়করণ, একে অন্যের দোষারোপ করা এখন নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। দুই সমান্তরাল রেখার মতন চলে রাজনৈতিক প্রধান দুই দল, অথচ এদের একই সরলরেখায় চলার কথা ছিলো। ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ও তার নেতাকর্মীরা মনে করে ক্ষমতা যাদের হাতে সেই আওয়ামীলীগের সাথে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে ক্ষমতাশীনরা মনে করে বিএনপিকে জনগণ ত্যাগ করেছে। এই গ্যাপ পুরণের দুই দলের কোনো ইচ্ছা বা প্রচেষ্টা নেই।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় হয়েছিল একটি স্বপ্ন নিয়ে। যে স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি তে সমুজ্জ্বল সম্ভাবনাময় একটি রাষ্ট্র । স্বাধীনতার ঊনপঞ্চাশ বছরে ক্ষমতার পালাবদলে এদেশের সফলতা ও ব্যর্থতা দুটোই বেশ আলোচিত। রাষ্ট্রের সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত রাজনীতি।রাষ্ট্রের ছোট থেকে বড় সব বিষয়ের সাথে এটি জড়িত। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো সিংহভাগ তরুণ এখন রাজনীতি বিমুখ।তরুণ সমাজ দেশের মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ । যারা দেশ, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি নিয়ে নতুন চিন্তা করে, সমাজকে, সুখী সমৃদ্ধ বৈষম্যহীন করে গড়ে তুলতে চায়। যেখানে দূর্নীতি, অপসংস্কৃতির বদলে সৎ এবং ঝঞ্ঝামুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

তরুণ প্রজন্মই পারে আধুনিক চিন্তা, মনন শক্তি দিয়ে কাজের প্রসার ঘটানো, বেকারত্ব ও গোঁড়ামি মুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন। আর তাই প্রয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা। উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এক দুরন্ত গতির সময় পার করছে, সেই সময়কে আরো এগিয়ে নিতে সবক্ষেত্রে সবধরণের মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ খুবই জরুরি, সেখানে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে তরুণরাই। বর্তমান বাঙালি তরুণ প্রজন্মের সামনে দেশের কিছু লজ্জাজনক সামাজিক সমস্যা, সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য, বেকারত্ব যা একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতা, আধুনিকতার সম্পূর্ণ বিপরীতে।

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় যে ভিতের ওপর হয়েছিলো, যেই সংস্কৃতির চর্চাকে প্রতিষ্ঠিত করতে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো সেই চর্চা থেকে যোজন যোজন দূরে গিয়ে ব্যাক্তি এবং গোষ্ঠী স্বার্থ বড় হয়ে ওঠায় রাষ্ট্রের উন্নয়নের গতি শ্লথ হয়েছে, সেই সাথে বারবার থমকে গিয়েছে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ।  তরুণরা সৃষ্টিশীল, দেশপ্রেমিক। এই তরুণরাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে তুলেছিলো গণজাগরণ মঞ্চ, এছাড়াও সামাজিক, অর্থনৈতিক, গবেষণা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেখানেই তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছে সেসব কাজে সফলতার হার বেড়েছে।

বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে দ্বিদলীয় বৃত্ত দেখা যায়, যাদের রাজনৈতিক অদুর্দর্শিতার কারণে কখনো ভোটারবিহীন নির্বাচন, কখনো সামরিক শাসকদের ক্ষমতাদখল, কখনো পেছনের দরজা দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পায়তারা, এসব রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নও থমকে গিয়েছে বারবার, তবুও শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ যেটুকু এগিয়েছে সেটুকুতে তরুণদেরই একটা বড় অবদান আছে।

তরুণদের সরাসরি রাজনীতিবিমুখতাই সকলের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের চর্চা ব্যহত হয়ে, অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল নিতে পারার অন্যতম কারণ । এক পক্ষ বলছে দেশে কোন রাজনৈতিক সংকট নেই অন্যদল বলছে রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই দুইয়ের মাঝে যে সাধারণ জনগণ আছে তারা কি মনে করছে তা কেউ কখনো ভেবে দেখছে না। আমজনতা বলে কথা।এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক যে সংকট বিরাজ করছে তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হতে পারে রাজনীতিতে তরুণদের আরো অংশহগ্রহণ বাড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের অংশ নেবার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, অসাম্প্রদায়িক বাঙালির মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন হয়েছিল মূর্খতা ও রাজনৈতিক অসচেতনতা থেকে। তরুণ সমাজ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়েছে সবসময়। বিপ্লব এসেছে তাদের হাত ধরেই। কিন্তু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়টিকে ফ্রেমে ধারণ করলে সেটা খানিকটা আলাদাই মনে হয়। কখনো কখনো দ্বিধায় পড়ে যেতে হয়। মনে হয় ক্ষমতাশীল ও দায়িত্বশীল পদে অবস্থানকারী লোকদের ব্যবহারে পুরনো সামন্তীয় দম্ভ ফুটে উঠছে।

বারবার রাজনীতির মাঠে বর্ষিয়ানদের পালাবদল উন্নয়নের ধারায় কতটা গতি আনতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নেই।বিগত বছর গুলোতে তাদের কার্যক্রম সবাই দেখেছে। সুতরাং তরুণদের কাঁধে সেই একই দায়িত্ব দিতে পারলে তারা তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রের কতটা উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ধারা আরো সমু্ন্নত করতে পারবে সেটা দেখার সুযোগ তৈরি করা উচিৎ।

রাজনীতি শব্দটা আজকাল অনেকের জন্য একটা লাভজনক ব্যবসার নাম হয়ে উঠেছে। অথচ বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন সেই  স্বপ্নে কোথা্ও এরকম হওয়ার কথা ছিল না। মানুষের অধিকার, ন্যূনতম চাহিদা মেটাবার ব্যবস্থা, সামাজিক ন্যায়, মানবিক মর্যাদা এসবের জন্য ব্রিটিশ শাসন থেকে পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে বাংলাদেশের জন্ম। কিন্তু সেখানেও কেবল খাবার, বাসস্থান, স্বাস্থ্য আর শিক্ষার সংস্থান করতে মানুষের নাভিশ্বাস যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে মানুষের টাকা অকল্পনীয় উন্নয়ন ব্যয় ও দুর্নীতি, ব্যঙ্ক, শেয়ার কেলেঙ্কারি নানাভাবে লোপাট অব্যাহত আছে।

তরুণ প্রজন্মের অংশীদার হিসেবে ঐতিহাসিক পরাম্পরায় এ দেশের তরুণরা যা করে এসেছে তা অব্যাহত রাখা; এই রোগ, স্বপ্নের বাংলাদেশ থেকে যে বিচ্যুতি তা চিন্তায়, কাজে, ঘরে, আড্ডা-অবসরে, রাজপথে প্রতিরোধ করা; নয়ত আমাদেরই হয়ত পচে যাওয়া একটা দেশ ও সমাজের ভার বইতে হবে।

টিএসসিতে কিংবা চারুকলায় গেলে দেখা যায় তরুণ প্রজন্মের ব্যাগে, ক্যাপে, নোটবুকে চে গুয়েভারা, ফিদেল ক্যাস্ট্রো সহ অন্যান্য বিপ্লবী নেতাদের ছবি বা ট্যাটু। অথচ সেই তরুণদের মধ্যে সরাসরি রাজনীতির প্রতি তেমন কোন আগ্রহ দেখতে পাওয়া যায় না।ফলশ্রুতিতে স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষে ছেয়ে যাচ্ছে ছাত্র রাজনীতির বড় একটা অংশ।শুধু মাত্র একা শেখ হাসিনার পক্ষে সেসব সামলে ওঠা সম্ভব নয়।

তরুণদের সুস্থ রাজনীতির চর্চার জন্যে সবচেয়ে বেশি জরুরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবাধ রাজনৈতিক চর্চা, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক তথা গণতান্ত্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের রীতি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও সেটা চালু হয়েছে কিছুদিন হলো তবে তা মানুষের মধ্যে আশা জাগাতে পারেনি। সেখানেও ক্ষমতার প্রভাব দেখানোর রীতি চোখে পড়ছে। 

ভোটের রাজনীতিতে যেখানে তরুণরা একটা বড় প্রভাব রাখতে পারে, সেখানে সরকার পরিচালনায় তরুণদের অংশগ্রহন একেবারেই হতাশাজনক। নির্বাচন পদ্ধতি,সরকার পদ্ধতিসহ রাষ্ট্রের বিভীন্ন বিভাগ নিয়ে তরুণদের মতামত ও অংশগ্রহণেরর  ভিত্তিতে সরকার পরিচালিত হলে সে সরকার আরো গতিশীল এবং কার্যকরি হয়ে উঠতো। উন্নত রাষ্ট্র গড়তে হলে এই সব ইতিবাচক পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরী।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকেও সংশোধন করতে হবে এবং আমাদেরকে যুক্তিযুক্ত কথা বলতে দিতে হবে যেন তার আলোকে সরকার সময়োপযোগি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।যেটা হয়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সত্যিকারের সোনার বাংলা।যেখানে কোন খাদ থাকবে না।

সেলস ম্যান

মাহবুবের উপর ওর বাবা মা ভীষণ বিরক্ত।বাবা মায়ের খুব স্বপ্ন ছিলো ছেলেটা বিসিএস ক্যাডার হবে,নাম কামাবে কিন্তু ছেলের সেদিকে কোন মন নেই।বিসিএস না হয় নাইবা দিলো কিন্তু এতো কষ্ট করে ডাক্তারী পাশ করার পর সে অন্তত প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারতো কিন্তু তাও করবে না।রোজ বাবা মায়ের কথা শুনতে শুনতে একসময় অতিষ্ট হয়ে মাহবুব সোনাকান্দি মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে জয়েন করলো।বেসরকারী ক্লিনিক হিসেবে তার বেশ আয়রোজগার হয়।ছাত্রজীবনে সে কানাডার সিটিজেনশীপ পাওয়ার ব্যাপারে আবেদন করেছিল।ভাগ্য ক্রমে সে কানাডা থেকে চিঠি পেয়ে গেলো। শেষে বাবা মাকে বুঝিয়ে কানাডার পথে উড়াল দিলো।বাবা মা তাকে বুঝিয়েছিল দেশে প্রাইভেট ক্লিনিকেতো ভালোই ইনকাম হচ্ছে তাহলে বিদেশে গিয়ে লাভ কি? কিন্তু সে কোন কথাই শোনেনি। তার পর একদিন সে সত্যিই কানাডাতে পাড়ি জমালো।

বাংলাদেশ থেকে ডাক্তারী বিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করলেও কানাডাতে সেটার কানাকড়িও মুল্য পেলো না।এর জন্য অবশ্য সে কোন চেষ্টাও করেনি।কয়েকটা পরীক্ষা দিয়ে সরকারের পৃষ্টপোষকতায় সে অনায়াসে ডাক্তার হিসেবে সেখানে কাজ করতে পারতো কিন্তু সে অতো সব ঝক্কি ঝামেলার দিকে যেতে রাজি নয়।কিন্তু বসে বসে খেলে তো রাজার গোলাও শেষ হয়ে যাবে তাই সে ভাবলো কিছু একটা করতেই হবে।নানা দিকে কাজের সন্ধান করতে করতে সে একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সেলসম্যান হিসেবে লোক নেওয়া হবে মর্মে জানতে পেরে স্থির সিদ্ধান্ত নিলো যা থাকে কপালে জীবনতো একটাই একটু পরখ করেই দেখি।এমন ভেবে সে সত্যি সত্যিই সেলসম্যানের কাজটা নিয়ে নিলো।

স্টোরের মালিক মিস্টার রডরিক মানুষ হিসেবে বেশ ভালো।পঞ্চাশের কাছাকাছি তার বয়স।টরেন্টতে যতগুলো বিশাল আকারের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে মিস্টার রডরিকেরটা তাদের মধ্যে অন্যতম।জায়ান্ট টাইগার নামে এই বিশাল আকৃতির ডিপার্টমেন্টাল স্টোরটির নামের মধ্যেই এর বিশালত্বের প্রমান বহন করছে।কিপলিং এভিনিউয়ে অবস্থিত এই ডিপার্টমেন্টাল স্টোর গোটা টরেন্টোর মধ্যে সব থেকে বেশি জনপ্রিয়।কাজে যোগ দেওয়ার প্রথম দিন সন্ধ্যায় বরাবরের মতই মিটিং রুমে মাহবুবের ডাক পড়লো।কথাবার্তায় বেশ স্মার্ট হওয়ায় কাজ পেতে তার খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।মিস্টার রডরিক জানতে চাইলেন মেহবুব তুমি কতজন ক্রেতার কাছে পন্য বিক্রি করেছ?রডরিক মাহবুবকে সঠিক ভাবে ডাকতে না পেরে মেহবুব বলে ডাকে। মাহবুব বললো আজতো প্রথম দিন তাই মাত্র একজনের কাছে বিক্রি করেছি।রডরিক খুব অবাক হলেন। তিনি বললেন কি বলছো তুমি? সারাদিনে মাত্র একজনের কাছে বিক্রি করেছ! জায়ান্ট টাইগারের কোন সেলস ম্যান দিনে ৩০ জনের কম ক্রেতার কাছে পন্য বিক্রি করে না আর তুমি কিনা মাত্র একজনের কাছে বিক্রি করেছ! আচ্ছা বলো তুমি কত বিক্রি করেছ?

মাহবুবের মুখে হাসি ফুটলো।রডরিক সেটা লক্ষ্য করলেন এবং ভীষণ অবাক হলেন।তিনি দেখেছেন কোন সেলসম্যান যদি ভালো বিক্রি করতে না পারে তাহলে সে খুব ভীত থাকে,চাকরি থাকবে কি থাকবেনা সেই চিন্তা থাকে কিন্তু মাহবুবের মধ্যে সেরকম কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।তিনি বিষয়টা কি ঘটতে যাচ্ছে তা দেখার অপেক্ষা করতে লাগলেন।এবার মাহবুব বললো আমি ওই এক ক্রেতার কাছে ৯৩ হাজার তিনশো পাউন্ড বিক্রি করেছি! মাহবুবের কথা শুনে রডরিকের মাথায় যেন সাত আসমান ভেঙ্গে পড়লো।তিনি জানতে চাইলেন তুমি কি এমন বিক্রি করেছ যে এতো দাম হয়েছে। এবার মাহবুব কথা বলার সুযোগ পেলো। সে বললো ম্যাকলিন নামে মধ্য বয়সী এক ক্রেতা আসলেন।আমি প্রথমে তার কাছে একটি মাছ ধরার ছোট বড়শী বিক্রি করলাম।তার পর তাকে বললাম আপনি যদি এর সাথে আরো দুটো ছোট বড় বড়শী নেন দেখবেন মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে।আমার কথা শুনে তিনি বেশ আগ্রহী হয়ে বললেন তাহলে তাই দাও।আমি তাকে মোট তিনটি বড়শী দিয়ে দিলাম। তিনি বিল পরিশোধ করবেন বলে যখন মনস্থির করতে যাচ্ছেন আমি তাকে বললাম মিস্টার ম্যাকলিন আপনি কিন্তু দুটো জিনিষ নিতে ভুলে গেছেন।তিনি জানতে চাইলেন সেই দুটো জিনিষ কি? আমি বললাম শুধু বড়শী নিলেতো হবে না সাথে একটা বড় ফিসিং রড আর ফিসিং গিয়ারও নিতে পারেন কাজে দিবে।তিনি সাথে সাথে রাজি হলেন।

মাহবুবের কথা মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনতে লাগলেন রডরিক।তার এক জীবনে এমন অদ্ভুত সেলসম্যান কখনো তিনি দেখেন নি।মাহবুব বললো মিস্টার রডরিক আমি যখন দেখলাম ম্যাকলিন দাম পরিশোধ করতে চাইছেন তখন বিনয়ের সাথে জানতে চাইলাম আপনি কোথায় মাছ ধরবেন বলে মনস্থির করেছেন?তিনি বললেন এখনো স্থির সিদ্ধান্ত নেইনি তবে নোভা স্কটিয়া অথবা সেইন্ট লরেন্স রিভারে যেতে পারি।ম্যাকলিনের কথা শুনে আমি বললাম তাহলেতো আপনার একটা নৌকা প্রয়োজন হবে।ওখানে নৌকা নাও পেতে পারেন।ম্যাকলিন জানতে চাইলেন আমাদের স্টোরে নৌকার ব্যবস্থা আছে কিনা আমি বললাম অবশ্যই।তাকে নিয়ে গেলাম গ্রাউন্ডফ্লোরে বোট স্টোরে।তিনি দেখেশুনে কুড়িফুট লম্বা ডাবল ইঞ্জিনের একটা ইয়ট কিনলেন।কেনার পর তাকে খুব চিন্তিত মনে হলো।আমি বললাম চিন্তার কোন কারণ নেই।আপনি ভাবছেন এই বিশাল ইয়ট কি করে আপনার ভক্সওয়াগনে করে নিয়ে যাবেন?আপনি চাইলে খুব সহজেই ইয়ট বহনের মত একটা গাড়িও নিতে পারবেন।তিনি পরামর্শটা লুফে নিলেন এবং একটা লরি কিনলেন।এর পর তিনি ক্রেডিট কার্ড বের করলেন দাম পরিশোধ করবেন বলে।আমি বললাম মাছ ধরার জন্য আপনি কোথায় থাকবেন বলে মনে করছেন?বিশেষ করে সেইন্ট লরেন্সের আশেপাশে ভালো কটেজ নেই।সাধারণত ওখানে যারা যায় তারা টেন্ট ব্যবহার করে। আমাদের এখানে ভালো টেন্ট আছে নিতে পারেন।ম্যাকলিন বললেন দেখাওতো কেমন টেন্ট।আমি তাকে টেন্ট হাউসে নিয়ে গিয়ে ছয় সাতজন থাকা যায় এমন একটি টেন্ট কিনতে উদ্বুদ্ধ করলাম।তার পর কাউন্টারে ফিরে এলাম।তিনি আমার হাতে ক্রেডিট কার্ড ধরিয়ে দিলেন।আমি সোয়াইপ করার আগে তাকে বললাম ম্যাকলিন মাছ ধরার ফাকে যখন টেন্টে অবস্থান করবেন তখনতো ক্ষুধা লাগতে পারে বা কিছুটা রিলাক্সে থাকতে ইচ্ছে করতে পারে তাই সেক্ষেত্রে কিছু খাবার আর পানীয় নিতে পারেন।

আমার কাধে হাত রেখে ম্যাকলিন বললেন ইউ আর সো ইন্টেলিজেন্ট। তিনি তখন নিজ হাতে চিপ্স,পনির,বাটার,এমনকি দুই কেস বিয়ার নিলেন।আমি উপহার হিসেবে দোকানের পক্ষ থেকে তাকে আমাদের স্পেশাল ড্রাই স্যান্ডউইচ দিলাম।সব মিলিয়ে তার বিল হলো তিরানব্বই হাজার তিনশত পাউন্ড। এটুকু বলে মাহবুব থেমে গেলো। জায়ান্ট টাইগারের মালিক রডরিক তখন থ! তার মুখে যেন কোন ভাষা নেই।সম্বিত ফিরে পেতে দেরি হলো।তিনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে মাহবুবকে বললেন যে ক্রেতা মাছ ধরবে বলে একটা ছোট্ট বড়শী কিনতে এসেছিল তার কাছে তুমি এতো কিছু বিক্রি করে ফেললে! কি করে পারলে তুমি? এই বিদ্যা তুমি কোথা থেকে অর্জন করেছ? মাহবুব এবার হো হো করে হেসে দিয়ে বললো রডরিক তুমি ভুল বুঝছো! লোকটা কিন্তু বড়শী কিনতে আসেনি! মাহবুবের কথা শুনে রডরিক আরো অবাক হলো।তিনি জানতে চাইলেন তাহলে কি কিনতে এসেছিল? মাহবুব বললো সে এসেছিল মাথা ব্যাথার ওষুধ কিনতে। আমি তাকে বুঝিয়েছিলাম মাছ ধরলে মাথার যন্ত্রনা সেরে যাবে। 

জায়ান্ট টাইগারের বিশাল হলরুমে তখন পিনপতন নিরবতা। সেই নিরবতা ভেঙ্গে রডরিক হো হো হো করে হেসে উঠলো।এক জীবনে এমন বিস্ময়কর কথা তিনি শোনেন নাই।মাথা ব্যাথার ওষুধ কিনতে আসা ক্রেতার কাছে এক পাউন্ড দামের ওষুধ বিক্রির বদলে এই সেলসম্যান তিরানব্বই হাজার পাউন্ডের পন্য বিক্রি করেছে।হাসি থামিয়ে তিনি জানতে চাইলেন আচ্ছা মেহবুব তুমি এর আগে কি কাজ করতে? মাহবুব বললো আমি বাংলাদেশে একটি প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তার ছিলাম। আমি রোগীদের নানা ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, ইকো, ই সি জি, সি টি স্ক্যান, এক্সরে, এম আর আই ইত্যাদি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতাম এবং বলে দিতাম কোথায় কোথায় কোন কোন টেষ্ট করানো যাবে।। 

রডরিক থ মেরে বসে রইলেন। তার পর বললেন মেহবুব আজ থেকে তুমি আর সেলসম্যান নও। তুমি  বরং এখন থেকে আমার চেয়ারে বসবে আর আমি তোমার দেশে যেয়ে কোন প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে আসবো । তার পর বিয়ারের একটা ক্যান খুলে এগিয়ে দিলেন মাহবুবের দিকে।প্রশ্ন করলেন যে দেশের মানুষের সেলসের এতো দক্ষতা সেই দেশতো অনেক উন্নত হওয়ার কথা।মাহবুব কিছু বললো না।চুপ করে থেকে বললো হবে কি করে বলুন? ওখানেই কেউ কেউ অনলাইনে আইফোন ফাইভ দেখিয়ে পার্সেল করে ডিটারজেন্ট পাউডার নয়তো ছোট্ট এক খন্ড ইট!

মাহবুব ওপাশ থেকে কোন উত্তর পেলো না।দেখলো চেয়ারে ঢলে পড়েছে রডরিক। সে বার কয়েক রডরিক রডরিক বলে ডাক দিলো কিন্তু সাড়া পেলো না।যেহেতু সে ডাক্তার তাই বুঝতে পারলে রডরিক জ্ঞান হারিয়েছে।

২৮ এপ্রিল ২০১০