সখদের বাসায় যাওয়া

শিশু শিল্পীদের মধ্যে কেবল মাত্র একজনের বাসায় আমি গিয়েছি। সেই একজন হলো সাদিকা মালিহা সখ।আমি নিজেই কল্পনা করতে পারিনি যে ওভাবে সত্যি সত্যিই গিয়ে হাজির হবো। এর আগে একবার অবশ্য অতিথি ইশরাতের বাসার নিচে গিয়ে ফিরে এসেছি। ওকে একটা পার্সেল দিতে গিয়েছিলাম। ও অবশ্য জানতো না যে আমি যাবো কিংবা যাওয়ার কোন পরিকল্পনাও ছিলো না। তবে সখদের বাসায় যাওয়ার জন্য সখ এবং ওর পরিবার আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। দীর্ঘ 14 বছর পর ঢাকার বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হলাম। সব কিছু সরিয়ে নেওয়ার মত কেউ না থাকায় আমাকেই কক্সবাজার থেকে তিনদিনের জন্য ঢাকায় যেতে হলো। তিনদিন আসলে খুবই কম সময়। 14 বছর ধরে যা কিছু জমেছে তা কি তিনদিনে সরানো সম্ভব ? বিশেষ করে যদি সেটা সাজিয়ে গুছিয়ে সরাতে হয়। আমি দ্বিতীয় দিন সকালেই অনেকটা খেই হারিয়ে ফেলেছিলাম। হঠাৎ মনে হলো এতো চিন্তা না করে যা কিছু আছে সব প্যাক করে ফেলি তার পর সময় পেলে যখন পারি দেখে শুনে আলাদা করে নেবো। যে ভাবনা সেই কাজ। দেখা গেলো দ্বিতীয় দিন বিকেলেই সব গুছিয়ে কুরিয়ার করে দিলাম। কিছু বই পাঠালাম তুর্যদের বাসায়।সম্ভবত 180 কপি বই পাঠিয়েছি ওদের ওখানে। এর বাইরে কিছু বাড়িতে পাঠিয়েছি আর বাকি কিছু কক্সবাজারে।

তুর্যর আম্মু,দিহানের আম্মু,তাসিন তাজিম এবং সখ সবাই বলেছিল যেন আমি দেখা করি। কিন্তু সবার সাথে আমার বন্ধুত্ব এতো ভালো যে এক দুই ঘন্টার জন্য দেখা করে কোন আনন্দই হবে না বরং দুঃখ হবে যে ইস কেন আরও বেশি সময় থাকা হলো না। তুর্যর আম্মুকে বললাম এবার আসতে পারবো না। অন্য কোন দিন আসবো। তাসিন তাজিমকে বললাম তোমাদের বাসায় আসার সম্ভাবনা প্রবল কারণ বনশ্রীতে আমি আমার আরেকটা পরিচিত ভাইয়ের বাসায় যেতে পারি তাহলে ওখান থেকে তাসিন তাজিমের বাসায় যাওয়া সহজ হবে। তবে কাউকেই কথা দেইনি। এর মাঝে সখও বললো আমি যদি যাই হতে খুশি হবে। আমি বললাম কথা দিচ্ছি না তবে ঠিকানা দিয়ে রাখলে সুযোগ পেলে গিয়ে বাসার নিচে দাড়িয়ে ফোন করবো। যেহেতু দ্বিতীয় দিনেই কাজ শেষ করে রেখেছি আর শেষ দিন শুধু ব্যাংকে একটু কাজ ছিলো সেটা সারতে সারতে দুপুর একটা বাজলো। ভাবলাম হাতে বেশ সময় আছে তাই কোন এক বাসা থেকে ঘুরে আসা যেতে পারে। একটা মোটরসাইকেল ভাড়া করে রওনা হলাম সখদের বাসায়।মোটরসাইকেল থেকে নামার পর দেখি লোকটা তার হেলমেট নিতে ভুলে গেছে যা আমার মাথায় তখনো লাগানো। হেলমেট খুব হাল্কা হওয়ায় বুঝতেই পারিনি যে মাথায় হেলমেট আছে।সেটা কিভাবে লোকটার কাছে পৌছানো যাবে তা নিয়ে অনেক সময় পার করলাম কিন্তু কাজের কাজ কিছু হলো না।শেষে উপায় না পেয়ে বাসা অব্দি নিয়ে গেলাম।যদি কখনো লোকটা বাসার নাম মনে করে খোজ নিতে আসে তবে পেয়ে যাবে। 

সখদের বাসাটা বিরাট এক বিল্ডিং এ। মনে হয় ছাদটা আকাশে গিয়ে ঠেকেছে। বাসার বাইরের আউটলুক দেখেই মনে হয় রাজপ্রাসাদ।তবে বাসার পার্কিংলট খুব একটা ভালো লাগেনি। নিচে দাড়িয়ে ফোন দিলাম সখকে। ওর আম্মু রিসিভ করলেন। নাম্বার যেহেতু সেভ করা নেই তাই জানতে চাইলেন কে আমি? আমি নিজের কথা না বলে জানতে চাইলাম এটা কি সখদের বাসা? তিনি বললেন হ্যা সখদের বাসা। আমি তখন নাম বললাম। ওপাশ থেকে সবার মধ্যে একরকর্ম উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেতে দেখলাম। সখের আম্মু সখকে ডেকে বললেন জাজাফী এসেছে! যদিও তাদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে সত্যি সত্যিই আমি এসেছি। সখকে তিনি বললেন নিচে নেমে আমাকে রিসিভ করতে কিন্তু সখের নাকি নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো আমি এসেছি শুনে! ওরা কত সহজ সরল যে সামান্য এই আমি এসেছি শুনে এতোটা খুশি হয়েছে যে আম্মুকে বলেছে আম্মু একটা ইনহেলার কিনে আনো নিঃশ্বাস নিতে পারছি না এক্সাইটমেন্টের কারণে। অবশেষে সখের বাবা নেমে আসলেন। বললেন জাজাফী রাইট? আমি মাথা দোলালাম তিনি আন্তরিকতার সাথে হাত এগিয়ে দিলেন।

করোনার এই দিনে হাত মেলানো কি ঠিক? আমি বিষয়টা বললাম কারণ আমিইতো বাইরে থেকে এসেছি সুতরাং  জীবাণু বহন কারী হয়তো স্বয়ং আমিই। তার পরও তার আন্তরিকতার কাছে হার মেনে হাত মেলালাম। লিফটে করে উঠলাম সখদের বাসায়। রুমে ঢুকে দেখলাম সিমসাম নিরিবিলি একটা বাসা।মাত্র পৌনে তিনজন মানুষ থাকে বাসায়। সখের বাবা মা সখ আর ওর পুতুলের মত একটা ভাই। সে ভীষণ শান্ত আর ভদ্র তবে শুনেছি মাঝে মাঝে ভীষণ দুষ্টুমী করে।আমি হাতমুখ ধুয়ে ওজু করে নামাজ পড়লাম। এর মাঝে সখের ছোট্ট পুতুলের মত ভাইটা বার কয়েক আমাকে উকি মেরে দেখে গেলো। ভয় পাচ্ছিল কিংবা অপরিচিত দেখে সহজে আসতে চাইছিলো না। নামাজ শেষ হলে সখদের প্রধান রুমে গিয়ে বসলাম। গল্প হলো ওর বাবা মায়ের সাথে আর সখের ভাইকে কাঁধে নিলাম গল্প করলাম সখের সাথে।

সখের হাত থেকে ওর মোবাইল নিয়ে ওর আইডি থেকে মেসেঞ্জারে কল করলাম নির্ঝর বিশালকে। সেতো খুবই অবাক। বায়না ধরলো ভাইয়া আমাদের বাসায় আসো এক্ষুনি আসো।নির্ঝরের সাথে কথা শেষ করে সুবাইতাকে ফোন করলাম। সে যদিও তখন তার কাজিনদের সাথে গ্রামের বাড়িতে দারুন ব্যস্ত। তার পরও কিছুটা কথা হলো।ফোন করলাম জুয়েনাকে চমকে দেওয়ার জন্য তবে মনে হলো ও বেচারির মনটা কোন কারণে খুবই বিষন্ন। এর বাইরে ফোন করলাম আয়াজকে তবে কথা হয়নি।শুরুতে আমি কাউকেই বলিনি যে আমি সখদের বাসায় গিয়েছি।তবে একটু একটু করে অনেকেই জেনে গেলো যে আমি গিয়েছিলাম সখদের বাসায়। তখনই আমার ক্ষুদে বন্ধুরা মন খারাপ করা শুরু করলো। আয়াজ মনখারাপ করে কথাই বলবে না বলে সিদ্ধান্ত নিলো কিন্তু আমি পরে কক্সবাজারে ফিরে এসে সুন্দর করে বুঝিয়েছি সে বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। দিহান রিহান তাসিন তাজিমকেও বুঝিয়ে বলেছি।ওরা বুঝতে পেরেছে। সবাই আমাকে এতো ভালোবাসে,পছন্দ করে যে আমি মুগ্ধ। একজীবনে আমিতো ওদের জন্য কিছুই করিনি। শুধু মাত্র ওদের একটা দুটো ছবি শেয়ার করেছি আর হয়তো দু চার কথা লিখেছি। ওদের কেউ কেউ আছে যাদের কাছে আমার সম্পর্কে নেগেটিভ কিছু বললেই ওরা রাগ করে! এমনকি মা বাবাও যদি বলে!! 

সখদের বাসাটা কেমন?

সখদের বাসাটা খুব সুন্দর,মনোরম,নিরিবিলি।ডায়নিং স্পেচ একটু ছোট তবে ওভার অল বাসাটা সুন্দর। একটা সুন্দর ড্রয়িং রুম আছে যেখানে দারুণ আড্ডা দেওয়া যায়। আবার চাইলেই স্টুডিও হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বোধহয় এই রুমে সখ নাচ প্র্যাকটিস করে।সখদের বাসায় একটা রুম ফাঁকা পড়ে আছে সেখানে একটা টেবিল রেখেছে। সখ মাঝে মাঝে সেখানে বসে ছবি আঁকে আর ভাইয়ের সাথে আড্ডা দেয়।বাইরে তাকালেই খোলা আকাশ দেখা যায়।আমার বাসা নিয়ে যখন ঝামেলা হচ্ছিল তখন অনেকেই আমাকে নানা ভাবে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল তাদের প্রত্যেকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।সেই মানুষগুলোর মধ্যে সখের পরিবারও ছিলো। তারা আমাকে ওই খালি রুমটাই দিয়ে দিতে চেয়েছিল। উত্তরা হলে আমি অবশ্য প্রস্তাবটা লুফে নিতাম তবে নয়াপল্টন বলে আর লুফে নিতে পারিনি।যেমন আমার বইয়ের বিরাট একাংশ তুর্যদের বাসায় রেখে দিয়েছি। মজার ব্যাপার হচ্ছে বইগুলো কিন্তু বাক্সবন্দি হয়ে থাকবে না বরং খুবই আন্তরিকতা দেখিয়ে তুর্যর বাবা মা একটা নতুন বুকশেলফ পযর্ন্ত অর্ডার দিয়েছে যেন বইগুলি প্রদর্শন করা যায় এবং সুন্দর থাকে। সখদের বাসায় বড় একটা টিভি আছে যদিও এখন ইন্টারনেট ইমেইলের যুগে টিভি খুব একটা দেখাই হয় না। ওর পুতুলের মত ছোট্ট শান্ত ভাইটিও নিজে একা একাই ইউটিউব দেখে! ভাবা যায়!

কি কি খেলাম? আন্তরিকতা কেমন?

জীবনে প্রথমবার গিয়েছি,প্রথম বার দেখা কিন্তু মনে হয়েছে জনম জনমের পরিচিত আমি। আত্মার সাথে মিশে থাকা এক অসাধারণ সম্পর্ক যেন হৃদয়ের সাাথে হৃদয়ের। আমি যাওয়ার সাথে সাথে যেন রান্নার ধুম পড়ে গেলো।বিষয়টা অনেকটা এমন যে সখদের বাসায় জাজাফী আসেনি বরং এসেছে প্রিন্স অ্যাডওয়ার্ড! ফ্রিজ ভর্তি হরেক রকম মাছ মাংস ভর্তি। তা থেকে বের করতে গিয়ে সখের আম্মুর হরহামেশাই ভুল হচ্ছিল। এক রকম মাংস বের করতে গিয়ে বের হচ্ছিল অন্যরকম। খেতে বসে দেখি অন্তত 10 রকম আইটের রেডি! যে আমি বছরের পর বছর দুপুরে কিছুই খাই না তার সামনে দশ রকম পদ সাজিয়ে দিলে সে কি রেখে কি খাবে? সখের বাবা একটা একটা করে উঠিয়ে দিলেন। চিংড়ি রান্নাটার স্বাদ অন্যরকম ছিলো। আমি আগে কোথাও এতো স্বাদ করে চিংড়ি খাইনি। সখদের বাসায় গিয়েও আমার পুরোনো অভ্যাস আমি ত্যাগ করিনি। মানে দুই রকম মাছ খেয়েছি সবরকম কাটা সহ।ওরা সেটা অবশ্য নোটিশ করেনি তবে আমিই দেখিয়ে দিয়েছি।দুই তিন রকম সবজি ডাল একেবারেই ছুয়ে দেখিনি।খাবার শেষ করে সবে মাত্র গিয়ে বসেছি গল্প করবো বলে তখনই সখের আম্মু আবার প্লেটে করে রুটি আর হাসের মাংস নিয়ে হাজির। সত্যি বলছি হাসের মাংস অসাধারণ হয়েছিল কিন্তু আগেইতো হরেকম রকম খাবার খেয়ে পেট ভর্তি করে ফেলেছি তাই হাসের মাংস আর রুটি যতই সুস্বাদু হোক না কেন খেতে পারিনি। জোর করার পর জাষ্ট এক টুকরা মাংস আর এক টুকরা রুটি খেয়েছি। এটা খাওয়া শেষ হতে না হতেই দেখি কয়েক রকম ফল কেটে নিয়ে এসেছেন। পেটে যায়গা থাকলে তবেই না খাবো। তার পরও একটুকরা আম খেলাম। আর দুই রকম মিষ্টি খেলাম।

সখের বাবার সাথে অনেক বিষয়ে কথা হলো। মানুষ হিসেবে তিনি সত্যিই দারুণ।প্রথম বার দেখা হওয়ার পরও মনে হয়নি তিনি আমাকে প্রথম দেখছেন।সদালাপি এবং নিপাট ভদ্রলোক তিনি। তবে আমার খুবই বিব্রত লেগেছে আমার সাথে আপনি আপনি সম্মোধনে কথা বলার জন্য। আমি শুরুতেই বলেছিলাম আমাকে অনায়াসে তুমি বা তুই করেও বলা যাবে। আর নাম ধরে ডাকলে আরও ভালো। যেমন সখ,আয়াজ,রোহান,সিজদা আমাকে নাম ধরে ডাকে। যাই হোক গল্পে গল্পে অনেক সময় হয়ে গেলো আমার আবার ফেরার তাড়া ছিলো। আছরের নামাজ পড়লাম এবং এক কাপ ধোয়া ওঠা চা খেয়ে বিদায় নিলাম। আসার সময় আমার হাতে দুটো উপহার তুলে দেওয়া হলো। একটা উপহার প্রায় এক বছর আগে সখ বান্দরবন-রাঙ্গামাটির দিকে ভ্রমনে গিয়ে আমার জন্য কিনে এনেছিল (কি জিনিষ বলা যাবে না) সে যখন ভ্রমনে গিয়ে ওটা কিনেছিল তখনই আমাকে বলেছিল জাজাফী তোমার জন্য একটা গিফট কিনলাম যখন দেখা হবে দিবো তোমাকে। আরেকটা গিফট ওর বাবা মায়ের পক্ষ থেকে।প্রয়োজনীয় উপহার যা আমার নানা সময়ে বেশ কাজের।(এটাও বলবো না কি উপহার)।মজার ব্যাপার হচ্ছে উপহার দিয়েই তারা ক্ষান্ত হন নি বরং এক বক্স হাসের মাংশ আর রুটি দিয়ে দিয়েছেন! পেট এতো ভর্তি ছিলো যে আমি নিশ্চিত ছিলাম রাতে আর ক্ষুধা লাগবে না। হলোও তাই। রাত পেরিয়ে সকাল হলো এবং সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আমি কক্সবাজারে পৌছালাম। গোসল সেরে ব্রাশ করে সখদের দেওয়া রুটি আর হাসের মাংশ খেলাম আয়েশ করে। রুটি এবং মাংসের স্বাদ অক্ষুন্ন ছিলো। হাসের মাংস না হয়ে অন্য কোন মাংস হলে এই গরমে নিশ্চই নষ্ট হয়ে যেতো।

বিদায়ের পালাঃ

স্বল্প সময়ে যে আপ্যায়ন সখ এবং ওর পরিবার করেছে তা অকল্পনীয়। অতিথিপরায়নতার দিক থেকে আমি সখের পরিবারকে 100 তে নম্বর দিতে গিয়ে 200 দিয়ে দেবো। আমাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য সখ নিচে নামতে চেয়েছিল তবে আমি নিষেধ করেছি। পরে ওর বাবা নিজে গাড়িতে করে আমাকে বেশ অনেকটা এগিয়ে দিলেন। আমি সেখান থেকে অন্য একটা গাড়িতে করে উত্তরা ফিরে এসে বাসের টিকেট করলাম। আমি ভেবেছিলাম বাস বোধহয় রাত আটটায় তাই সখদের ওখান থেকে দ্রুত ফিরে এসেছি তবে এসে শুনি বাস রাত সাড়ে দশটায়। টিকেট করে বাসায় গিয়ে  ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়লাম এবং অপেক্ষা করলাম কখন রাত 9.45 বাজবে আর আমি বাসা থেকে বের হবো। তার পর সময় হলো এবং বেরিয়ে পড়লাম। পিছনে পড়ে থাকলো আমার অনেক বছরের স্মৃতি বিজড়িত ঘর,টেবিল,চেয়ার,বিছানা। বাড়ি মালিককে বলে  এসেছি সেগুলো বিক্রি করে দিতে। এখন আমার ঢাকায় কোন বাসা নেই। তবে বাসা না থাকলেও আমার জন্য সাজানো গোছানো অনেকগুলো বাসা আছে যেখানে আমি গেলেই আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আপ্যায়নের ডালি সাজিয়ে বসানো হবে। এতোটা ভালোবাসা আমার জন্য যারা জমিয়ে রেখেছে তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সখদের বাসা থেকে ঘুরে এসে খুবই আনন্দ পেয়েছি। যদিও অন্য অনেকে মন খারাপ করেছে তবে সবাইকে বলেছি আরও বেশি সময় নিয়ে আসবো আড্ডা দিতে। এর পর করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে তখন আবার যখন আসবো সে সময় সবার বাসায় যাওয়া সম্ভব হবে না বিধায় সবাইকে নির্দিষ্ট কোথাও আমন্ত্রণ জানাবো। সবাই মিলে আনন্দ হবে আড্ডা হবে। 

অনাত্মীয় আত্মীয় হলো আত্মার সাথে মিশে

ভালোবাসা পেয়ে না জানি কখন হারায়ে ফেলেছি দিশে।

ঢাকা শহরে আমার অনেক রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়র বসবাস,নিজস্ব বাড়ি,গাড়ি থাকার পরও তাদের সাথে কখনো কথা হয় না,যোগাযোগ হয় না, যাওয়াও হয় না কিন্তু যাদের সাথে আমার কোন দিন দেখা হয়নি তাদের সাথে নিয়মিত কথা হয়,যোগাযোগ হয় আর এভাবেই একে অন্যের আত্মর আত্মীয় হয়ে উঠি।এ বন্ধন অটুট রবে যতকাল বেঁচে রব। আর তাইতো অনাত্মীয় হয়েও আমাকে কেউ তার ব্যাংক একাউন্টের নমিনি করেছে আর আমিও গত দিন আমার কোম্পানীর নামে খোলা একাউন্টে কাউকে নমিনি করেছি। এর নাম ভালোবাসা। এর নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা আমার দেওয়ার সাধ্য নেই।

28 জুলাই 2020