Thursday, February 2, 2023
Homeনিবন্ধভিক্টর ভিটকো ম্যাজিকে যিনি বুদ হয়ে আছেন

ভিক্টর ভিটকো ম্যাজিকে যিনি বুদ হয়ে আছেন

ম্যাজিক কথাটির মধ্যেই একরকম ম্যাজিক রয়েছে।রুপকথার গল্পের মত একজন ম্যাজিশিয়ান ভোজবাজির মত উধাও হয়ে যেতে পারে আবার অদৃশ্য থেকে কিছু আনতেও পারে।কিন্তু ম্যাজিক আসলে কি? ম্যাজিক এর বাংলা প্রতিশব্দ যাদু হলেও এটি কিন্তু তথাকথিত যাদুবিদ্যা নয় এবং ম্যাজিশিয়ান মানে যাদুকর হলেও এই যাদুকর রুপকথার যাদুকরের মত নয়।ম্যাজিক হলো কিছু কৌশল যা বিজ্ঞানের একটি ধারার মধ্যে অর্ন্তভুক্ত।কোন কিছু নতুন করে আবিস্কার করার নামই বিজ্ঞান।ম্যাজিকও তেমনই নতুন কিছু দেখানো।মানুষ মাত্রই স্মৃতিরোমন্থন করতে ভালোবাসে।

অতীতকে বর্তমানে টেনে এনে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাই মানুষের সামনে ভেসে ওঠে এমন সব ঘটনা যা আজীবন আনন্দ হয়ে ঘিরে থাকে।আর সেটা যদি হয় আবিস্কারকের কাছে তাহলেতো কথাই নেই।আবিস্কারক কোন একটি আবিস্কার করে যতটানা আনন্দ পায় তার চেয়ে বেশি আনন্দ হয় যখন তিনি দেখেন তার আবিস্কৃত কোন বিষয় নিয়ে কেউ কাজ করছে,কেউ সেটা ব্যবহার করছে।আলেক্সান্ডার গ্রাহামবেল টেলিফোন আবিস্কার করে যতটা আনন্দ পেয়েছিলেন তার চেয়ে ঢের বেশি আনন্দিত হয়েছিলেন টেলিফোনে অন্যদেরকে কথা বলতে দেখে।ম্যাজিকের ক্ষেত্রেও রয়েছে আবিস্কারক এবং আবিস্কারকেরও রয়েছে অনেক গল্প।

আজ আমরা বলবো ভিক্টর ভিটকোর কথা।অনেকের কাছেই নামটি অচেনা মনে হবে কিন্তু যারা ম্যাজিক নিয়ে কাজ করেন কিংবা ম্যাজিকের খোঁজ খবর রাখেন তারা নামটি নিশ্চই জানেন।তিনি অসংখ্য ম্যাজিক আবিস্কার করেছেন কিন্তু তার আবিস্কৃত সব থেকে বিখ্যাত ম্যাজিক হলো ফ্লাইং লিংকিং রিং ম্যাজিক।১৯৯৪ সালে জাপানের ইয়োকোহামাতে FISM আয়োজিত জেনারেল ম্যাজিক ফেস্টিভ্যালে তিনি ফ্লাইং লিংকিং রিং প্রদর্শন করেন এবং দর্শকনন্দিত হয়ে দ্বিতীয় পুরস্কার লাভ করেন।তার পর ক্রমাগত ভাবে সেটি জনপ্রিয়তা পেতে থাকে কিন্তু অনেকেই এর রহস্য ভেদ করতে পারে না।ভিক্টর ভিটকো রাতারাতি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়ত অর্জন করতে থাকেন।

স্বাধীন বাংলাদেশেও ম্যাজিক হয়,ম্যাজিশিয়ানও আছেন অনেকে।কেউ কেউ আর্ন্তজাতিক খ্যাতি সম্পন্ন।আমাদের এই দেশটাকে বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ চিনতে শুরু করেছে।ভিক্টর ভিটকোর মত ম্যাজিশিয়ান আগে কখনো এই দেশের নাম শুনেছে কিনা জানিনা তবে এবার তারই আবিস্কৃত ম্যাজিকের কল্যাণে তিনি এই দেশ সম্পর্কে জানতে পারলেন।স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি ফিরে গেলেন ১৯৯৪ সালে ইয়োকোহামাতে তুমুল করতালি ঘেরা সেই সময়ে।

ইউটিউবে তিনি একটি ভিডিও দেখে মুগ্ধ হলেন।তিনি দেখতে পেলেন বাংলাদেশের এক ম্যাজিশিয়ান তার আবিস্কৃত  ফ্লাইং লিংকিং রিং ম্যাজিক দারুন ভাবে প্রদর্শন করছেন।ম্যাজিশিয়ানের নাম প্রিন্স হারুন।এর আগে প্রিন্স হারুন যে সব শো করেছেন তা এই প্রদর্শনীর তুলনায় সামান্যই বলতে হবে।তা না হলে ভিক্টর ভিটকোর মত ম্যাজিশিয়ান মুগ্ধতা প্রকাশ করে ফেসবুকে এটা নিয়ে লিখতেন না।ভিক্টর লিখলেন সত্যিই আমাকে তুমি ফিরিয়ে নিয়ে গেলে ১৯৯৪ সালের ইয়োকোহামাতে।বাংলাদেশে ফ্লাইং লিংকিং রিং ম্যাজিকটি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রিন্স হারুন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।ভিক্টর ভিটকো এটির আবিস্কারক হিসেবে প্রিন্স হারুনের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন।

আবিস্কারকের কাছ থেকে যখন বাহবা পাওয়া হয় তখন সেই বিষয়ে কাজ করার সার্থকতা পাওয়া যায়।ম্যাজিশিয়ান প্রিন্সহারুনের ক্ষেত্রেও কথাটি প্রোযোজ্য।যারা ম্যাজিকটি দেখে নানা বিধ মন্তব্য করেছেন তাদের সেই মন্তব্যের চেয়ে তাই ভিক্টরের মন্তব্য ম্যাজিশিয়ানের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ধরা দেয়।আবিস্কারকের অনুপ্রেরণামুলক মন্তব্য পেয়ে ম্যাজিশিয়ান তাই তার কাজকে আরো সুনিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলতে আপ্রান চেষ্টা করছেন।যদিও তিনি জানেন নিখুত বলে কিছু হয়না,কোথাও না কোথাও খুৎ থেকেই যায়।তার পরও ম্যাজিশিয়ান প্রিন্স হারুনের চেষ্টা নিরন্তর।ফ্লাইং লিংকিং রিং ম্যাজিকটি তাকে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত করেছে।

জাজাফী

Most Popular

Recent Comments

RichardDeecy on ছোটলোক
RichardDeecy on গন্তব্য
RichardDeecy on দুই মেরু
FreddieCesty on তুমি বললে
FreddieCesty on দুই মেরু