Sunday, July 25, 2021
Homeনিবন্ধআত্মবিশ্বাসই সফলতার প্রথম শর্ত

আত্মবিশ্বাসই সফলতার প্রথম শর্ত

আমাদের আত্মবিশ্বাসের বড়ই অভাব।আমরা নিজেরা কতটা কি করতে পারি সে বিষয়ে আমাদের নিজেদের যেন কোন ধারণা নেই বরং অন্যরা আমাদের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে যখন কোন মতামত দেয় তখনই আমরা সেটাকে কেবল গ্রহণ করি, চাই সেটা ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক হোক।এর ফলে দেখা যাচ্ছে আমরা কোন একটা কাজ পারার পরও আত্মবিশ্বাসের অভাবে সেটা করতে পারিনা কিংবা করতে চেষ্টাও করিনা।এই সমাজ এবং এই সমাজের কিছু মানুষ আমাদেরকে গল্পের সেই তথাকথিত হাতি বানাতে চাইছে এবং আমরাও বিনা দ্বিধায় সেই হাতি হয়ে যাচ্ছি।এখন আমাদেরই ভেবে দেখতে হবে যে আমরা কি আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান মানুষ হবো, নাকি গল্পের সেই হাতি হবো।সবার বুঝার সার্থে হাতির গল্পটি বলে নিতে চাই।তার পর নিজেদের সাথে মিলিয়ে দেখি সত্যিই আমরা সেই হাতি হচ্ছি নাকি মানুষ হচ্ছি।

পাবর্ত্য এলাকার রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে এক লোক দেখলেন রাস্তায় বিশাল একটা হাতি একটা ছাগল বাধা রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।লোকটি অবাক হয়ে হাতির মালিককে বললেন এতো বিশাল একটা হাতিকে এই ছাগল বাধার রশি দিয়ে বেঁধেছেন কেন?আপনিতো খুবই বোকা, হাতিটাতো সামান্য এই রশি ছিড়ে চলে যাবে। হাতির মালিক একটু হাসি দিয়ে বললেন ওই বিশাল হাতিটা এই সামান্য রশিটাও ছিড়তে পারবেনা। লোকটা অবাক হয়ে জানতে চাইলো কেন ছিঁড়তে পারবেনা। হাতির গায়েতো বিশাল শক্তি। সে এর চেয়ে দশগুন মোটা রশিও অনায়াসে ছিড়ে ফেলতে পারে।তার কথা শুনে হাতির মালিক বললেন আপনার কথা ঠিক আছে তবে এই বিশাল হাতিটি এই সামান্য রশিটিও ছেড়ার ক্ষমতা রাখেনা। ও যখন খুব ছোট ছিল তখনও এই রশিটা দিয়েই ওকে বেঁধে রাখতাম আর ও তখন অনেক চেষ্টা করতো এটা ছিড়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সেই সময়ে ও এতোটাই ছোট ছিল যে এই রশিটাও ছেড়া ওর পক্ষে অসম্ভব ছিল। ফলে দিনের পর দিন চেষ্টা করেও সে ছিড়তে পারেনি। এটা ওর আত্মবিশ্বাসকে শুন্যের কোটায় নামিয়ে দিয়েছে। ওর মনের মধ্যে গেথে গেছে যে রশিটা ছোটবেলায় অনেক চেষ্টা করেও ছিড়তে পারিনি সেটা আর কোন দিনই ছিড়তে পারবো না। ও যদি জানতো যে ওকে যে রশি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল সেটা ছোট বেলার জন্য যথেষ্ট শক্ত ছিল কিন্তু বড় বেলার জন্য তা তুচ্ছ তাহলে ও ছিড়ে বেরিয়ে যেতে পারতো।কিন্তু ওর সেই আত্মবিশ্বাসই নেই। আত্মবিশ্বাসহীন জীবনে সফলতা আসেনা।

এখন মিলিয়ে দেখুন এই গল্পটার সাথে আমাদের জীবনের মিল আছে কিনা। প্রতিনিয়ত আমরা কিছু করতে চাইলেই আশেপাশের অনেকেই বলে তুমি পারবেনা,এটা তোমার জন্য অসম্ভব কাজ,তুমি শুধু শুধু সময় নষ্ট করছো। যা পারবেনা তার পিছনে সময় দিয়ে লাভ কি। নানা জন এভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের উদ্যোগকে কটাখ্য করেছে,মনোবল ভেঙ্গে দিচ্ছে,বুঝাচ্ছে যে আমরা অক্ষম।আর আমরা তাদের কথাকেই প্রাধান্য দিয়ে নিজে একটিবারও চেষ্টা করে দেখছি না।আমাদের নিজের উপর কোন বিশ্বাস নেই, আস্থা নেই কিন্তু ওই সব তথাকথিত মানুষের বলা কথার উপর বিশ্বাস আছে।আমি কি পারি বা না পারি সেটা আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারোতো জানার কথা নয়। কি করে জানবে বলুন? নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখুন।

যদি কোন কিছু আমরা পেরে থাকি সেটাও সবার আগে আমাদেরই জানার কথা আর যদি কোন কিছু না পেরে থাকি সেটাও সবার আগে আমাদেরই জানার কথা। কিন্তু আমরা নিজে সেসব জানিনা না বরং জানে অন্য কেউ।এই অন্য কেউরাই আমাদেরকে সেই হাতি বানিয়ে রেখেছে যে হাতি ছোটবেলার সেই বিশ্বাসটাতেই অটুট থেকেছে। আমি আপনি কি হাতি? আমি আপনি কি মানুষ নই? তাহলে হাতিটার মত সেই বিশ্বাসে অটুট থাকবো কেন? অন্য লোকে বলবে আপনাকে দিয়ে এটা হবেনা, আপনি শুধু শুধু সময় নষ্ট করছেন, এই সব কথা কেন আপনি বিশ্বাস করে বসে থাকবেন?আপনার ক্ষমতা আছে কিছু করে দেখানোর কেবল মাত্র সাহস নিয়ে শুরু করুন। তার পর দেখিয়ে দিন আপনার শক্তি।

আপনি হয়তো চল্লিশ কেজি ওজনের একটা পাথর ওঠাতে পারবেন না, তার মানেতো এই নয় যে আপনি পাথরই ওঠাতে পারেন না। আপনি দুই কেজি ওজনের একটা পাথরতো ওঠাতে পারেন।

সমাজের কিছু লোক আপনাকে আমাকে সেই হাতি বানাতে চায় আর আমরা আত্মবিশ্বাসহীন সেই হাতির মত সমাজের কথা শুনে বোকা হয়ে বসে থাকি।কান নিয়েছে চিলে শুনে চিলের পিছনে ছুটি, কানে হাত দিয়ে দেখিনা।

আপনার আমার ঘাড়ের উপরে কি একটা মাথা নেই? সেই মাথায় কি চিন্তা করার কোনই ক্ষমতা নেই? যদি থেকে থাকে তাহলে অন্যের কথা শুনে বসে থাকবো কেন? নিজে চিন্তা করে দেখুন। তার পর শুরু করুন।অন্ধকার সরে গিয়ে ঠিকই আলো আসে। লোডশেডিং বেশিক্ষণ থাকেনা। আলো আসবেই। শুধু সময়ের ব্যবধান মাত্র। বঙ্গবন্ধু তার সাত মার্চের ভাষণে বলেছিলেন “তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো”। আমরা যে স্বাধীন একটা দেশ পেয়েছি তা কিন্তু ওই যা কিছু নিয়ে প্রস্তুত থাকার কারণে। সুতরাং অন্যে আপনাকে হাতি বানিয়ে রাখতে চাইলে আপনি থাকবেন কেন? আপনিও আপনার যা কিছু আছে তাই নিয়েই ঝাপিয়ে পড়ুন। সাফল্য একদিনে আসেনা। একটা গর্ত খুড়ে একটা আমের আটি সেখানে রেখে দিলে একদিন না একদিন সেটা থেকে চারা গাছ বের হবেই। হয়তো সেই আটিটা নষ্ট হলে চারাগাছ বের হবেনা, তাহলে আপনি আরো কয়েকটা গর্ত খুড়ে সেখানেও কয়েকটা আটি রাখুন।মনে রাখবেন সব গুলো আটি কিন্তু নষ্ট নয়। আপনি একবার কোন কিছুতে ফেইলিওর হয়েছেন মানে এই নয় সারা জীবনে আর কোন দিন বিজয়ী হবেন না।সুতরাং সমাজ আমাকে আপনাকে সেই হাতি হতে বললে আপনি আমি তা হব কেন? নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন।নিজেই নিজেকে বলুন যে আপনিও পারবেন। সুতরাং আজই এখনি শুরু করুন। খাতা কলম নিয়ে বসে যান এবং পরিকল্পনা করুন আপনি ঠিক কোন কাজটি নিয়ে এগোতে চান।সফলতা আসবেই। ঠিক যেমন মেঘ কেটে গেলে সুর্য উকি দেয়।আমাদের সফলতার সুর্যও নিশ্চই উকি দিবে।

জাজাফী

নিবন্ধকার

ওয়েবসাইটঃ www.zazafee.com

৯ এপ্রিল ২০১৭

(দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭)

Most Popular

Recent Comments