জাজাফী ডিম্বাণু গল্প দিনবদলের সাক্ষী

দিনবদলের সাক্ষী



জীবিত থেকেও মানুষ একা হয়ে যেতে পারে বাহার সাহেব হঠাৎই সেটা অনুভব করলেন।মৃত্যুর পর যেমন তার কোন সঙ্গী থাকেনা অনেকটা সেরকম।বাহার সাহেব বেশ বড় রকম হোচট খেলেন।তার পাশে এখন কেউ নেই।একবার মনে হলো চিমটি কেটে দেখবেন তিনি আসলে বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন।মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা পরই সবাই বিদায় জানায়।বাহার সাহেবকেও সবাই বিদায় জানিয়েছে।তিনি এখন একা অথচ তিনি বেঁচে আছেন এটাই আশ্চর্যের বিষয়।

মনে পড়ে মাত্র কদিন আগেও চারপাশে এতো মানুষ ভীড় করতো যে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার দশা। তিনি হিসাব মেলাতে চেষ্টা করেন।সেই সব দিনগুলিতে তার যাকিছু ছিলো এখনো তার সবটাই আছে শুধু মানুষ গুলো নেই।সেই দামী গাড়িটা এখনো আছে,মুখের হাসি,কথা বলার ভঙ্গি,মাঝে মাঝে বাংলার সাথে অদ্ভুত রকম ইংরেজী মিশিয়ে কথা বলার কোনটাই তিনি ছেড়ে দেন নাই।অথচ তাকে নিয়ে কোন মাতামাতি নেই।

কদিন আগে পান থেকে চুন খসলেই বাহার সাহেবকে নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠতো আর এখন টু শব্দটিও শোনা যায় না।একই মানুষ একই পরিবেশ কিন্তু চিত্রনাট্য আলাদা।শুধু মাত্র নির্ধারিত চেয়ারটিতে তিনি এখন আর বসেন না বলেই তার এখন আর কোন মূল্য নেই।

বাদাম খেয়ে যেমন সবাই খোসা ফেলে দেয়,কলা খেয়ে ছোবড়াটা যেমন ফেলে দেয় তিনিও তেমনই।একার্থে তাকেও ফেলে দেওয়া হয়েছে।বিমানবন্দরে সী অফ করতে যেমন কেউ আসেনি তেমনি বিমান থেকে অবতরণের পরও তাকে রিসিভ করতে তেমন কেউ আসেনি।অথচ কদিন আগেও তার আগমনে চারদিকে রব পড়ে যেতো।শহরের দেয়ালে দেয়ালে রঙ্গীন পোষ্টার ছেয়ে যেতো।মোড়ে মোড়ে নির্মিত হতো তোরণ। …….

অগল্পঃ দিনবদলের সাক্ষী
–জাজাফী

আরও পড়ুনঃ

Tags: