জাজাফী গল্প ভাবনায় ছিলোনা এমন

ভাবনায় ছিলোনা এমন



ফুটপাত ধরে একাকী হাটছি।হঠাৎ একটি কালো পাজেরো গতি কমিয়ে আমার পাশে পাশে চলতে শুরু করলো।আমি ভাবলাম গাড়ীটা থামবে তাই গতি কমিয়েছে।পরে দেখলাম গাড়ীর কাচ নামিয়ে কেউ একজন আমাকে ডাকছে।মানুষটাকে চিনতে পারছি না।সে গাড়ি থামিয়ে নিচে নেমে আসলো।ড্রাইভার গাড়ি চালাচ্ছিল সে পিছনে বসা। কাছে আসতেই চিনতে পারলাম আমার বন্ধু বদরুল।বদরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষাকৃত পেছনের দিকের একটি সাবজেক্টে পড়াশোনা করেছে।

ভাবলাম আজকাল উবারেতো সহজেই যাওয়া আসা করা যায় ও বোধহয় উবারে কোথাও যাচ্ছে।আমি বললাম দোস্ত উবারে করে কই যাস? সে বললো উবারে করে যাবো কেন?দেখছিস না এটা পাজেরো। উবারে কখনো পাজেরো দেখেছিস? ভাবলাম তাও ঠিক।বললাম তাহলে গাড়ীটা কার? সে বললো গাড়িটা সে কিনেছে।৮৬ লাখ টাকা দাম পড়েছে।আমার মাথায় হাত। বললাম কোন বড় লোকের একমাত্র মেয়েকে পটিয়ে বিয়ে করে রাতারাতি বড়লোক হয়েছিস নাকি আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ পেয়েছিস?

আমার বন্ধু আমার কাধে হাত রেখে বললো দোস্ত তোদের মত আইবিএতে পড়তে পারিনি বলে কি গাড়ি কিনতে পারি না।ওর কথা শুনে মনে মনে বললাম শালা টিটকারি মারো!খোচা মারো। মুখে বললাম তা দোস্ত অমন করে বলছিস কেন?আমি কি কখনো তোকে ছোট চোখে দেখেছি?এখন বল কিভাবে কিভাবে এতো দামী গাড়ি কিনলি? সে বললো দোস্ত বিজনেস বুঝলি বিজনেস করছি।তোদের মত বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে না পড়লেও বিজনেস কিছু কিছু বুঝি।

বিজনেস করে এতো টাকাওয়ালা হয়েছে শুনে আরো অবাক হলাম। জানতে চাইলাম কিসের বিজনেস যে এতো পয়সাওয়ালা হয়েছিস?অবৈধ কোন ব্যবসা নয়তো? বিদেশে আদম পাচার করিস নাকি? সে হো হো করে হেসে উঠে বললো দোস্ত ইয়ার্কি করিস না। ওরকম কিছু না। এই বিজনেসের আইডিয়া কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পেয়েছি আর সেটা ইউনিক হিসেবে বিবেচনা করে কাজে লাগিয়েছি। এবং অল্প দিনেই বিরাট লাভ পেয়েছি।

জানতে চাইলাম কিসের বিজনেস খুলে বল। আমার বন্ধু বললো ভিসি স্যারের কথা শুনে মাথায় বুদ্ধি খেলে গেলো।সারা ঢাকার অলিতে গলিতে কত সিঙ্গাড়া সমুচার দোকান। সবখানে ৫ টাকা কিংবা আরো দামে বিক্রি হচ্ছে।ওরা কত কষ্ট করে সিঙ্গাড়া সমুচা বানিয়ে তার পর সেটা পাচ টাকা দামে বিক্রি করছে।আমি ভাবলাম আমি যদি তিনটাকা দিয়ে টিএসসি থেকে সিঙ্গাড়া সমুচা কিনে সারা ঢাকার অলিতে গলিতে যতো দোকান আছে সবার কাছে চারটাকা দরে বিক্রি করি তাহলে প্রতিদিন আমি সাড়ে সাত লাখ পিচ সিঙ্গাড়া সমুচা বিক্রি করতে পারবো। সব খরচ বাদ দিয়েও আমার প্রতিদিন ৫ লাখ টাকা লাভ থাকবে।ওদিকে সেই সব দোকানদাররাও কোন পরিশ্রম না করে আমার কাছ থেকে চারটাকা দিয়ে কিনে পাচটাকায় বিক্রি করে প্রতিটাতে একটাকা লাভ করতে পারবে। এই চিন্তা থেকে আমি টিএসসি থেকে প্রতিদিন সিঙ্গাড়া সমুচা কিনতে লাগলাম এবং সারা ঢাকার অলিতে গলিতে সাপ্লাই দিতে শুরু করলাম। একমাসেই আমার ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা লাভ হলো।

বন্ধুর কথা শুনে আমার মাথায় আসমান ভেঙে পড়ার মত অবস্থা।আমাকে হতভম্ব হতে দেখে সে একটা ঝাকুনি দিয়ে বললো দোস্ত আয় তোকে সিঙ্গাড়া খাওয়াই। এই বলেই পাশে ফুটপাতে দাড়িয়ে সিঙ্গাড়া বিক্রি করছে এমন একজনের কাছে সিঙ্গাড়া চাইলো।আমরা পাচটাকা দরে সিঙ্গাড়া কিনে খেতে লাগলাম। আমার বন্ধু গুল মারছে কিনা সেটা যাচাই করার জন্য সিঙ্গাড়াওয়ালাকে প্রশ্ন করলাম এই সিঙ্গাড়া কি তুমি বানিয়ে আনছো না কিভাবে কি? সে জানালো এটা টিএসসির বিখ্যাত সিঙ্গাড়া।আমাদের সাপ্লাইয়ার এসে দিয়ে যায়।আমরা চার টাকা দরে কিনি এবং একটাকা লাভে পাচটাকায় বিক্রি করি।

হাতে নাতে প্রমান পেয়ে আমার আক্কেল গুড়ুম। বন্ধুকে বললাম দোস্ত তুইতো জিনিয়াসরে। ইচ্ছে করছে তোর কদমবুচি করি। ও হেসে উঠলো। এর মাঝে শুনতে পেলাম কে যেন বলছে কাট। আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি বেশ কয়েকজন মানুষ হাতে লাইট ক্যামেরা আরো কতকি। বন্ধুর সাথে কথা বলতে বলতে খেয়ালই করিনি পিছনে আরেকটা গাড়ী ছিলো। বন্ধুকে বললাম কাহিনী কি? সে জানালো তোর অজ্ঞাতেই একটা শ্যুটিং করে ফেললাম। এটি একটি শর্ট ফিল্ম নাম “তিনটাকার সমুচায় কোটি পতি”

লেখাঃ জাজাফী
৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

Tags: ,