চারিত্রিক সনদপত্র ও অন্যান্য

বিকেল গুলো এখন বিষন্ন হয়ে উঠেছে।রাত জেগে ফেসবুক ইউটিউবে ঘুরাঘুরি করে সকালে ঘুমোতে গেলে ঘুম ভাঙে দুপুরে।যতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকি কোন চিন্তা নেই কিন্তু বিকেল যেন আর কাটতেই চায় না।কি করে কাটবে?একাকী এই শহরে ঘুরে বেড়াতে কার বা ভালো লাগে।যখন আমার অখন্ড অবসর তখন বন্ধুরা ব্যাচমেটরা সব অফিসে নিজের ক্যারিয়ার আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত।শুধু আমরাই কোন কাজ নেই।পাশ করে বের হয়ে একটা কাজের জন্য কত চেষ্টা করেছি কিন্তু কাজ আর মেলেনি।এখন তাই অবসরযাপন করছি।বন্ধুরা অফিস থেকে ফিরে রাতে ফেসবুকে বসলে আড্ডা চলে।সকালে ওরা সব যে যার অফিসে চলে গেলে আমার যেহেতু কিছু করার থাকেনা তাই আমি ঘুমাই।বড়ভাইদের কাছে সিভি দিয়ে রেখেছি।সিভি দিতে দিতে আমি ক্লান্ত হলেও সিভি দেওয়া থামাইনি।এমনকি একটা পযার্য়ে গিয়ে ছোটভাইদেরকেও সিভি দিতে শুরু করলাম।

 

ফোনে টাকা থাকেনা বলে সব সময় সবাইকে ফোন করতে পারিনা।রাতে অবশ্য অনেকের সাথে মেসেঞ্জার বা ভাইবারে কথা হয়।ফোনে টাকা থাকুক চাই না থাকুক ইন্টারনেট চালাতে পারি বিশেষ করে বাসায় থাকাকালীন।দোতলায় থাকে রিমুরা।ওদের ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক আমার রুমেও খানিকটা আসে।একদিন ও যখন স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিলো তখন ওকে বললাম এই রিমু আমাকে একটু হেল্প করবি? ও বললো ভাইয়া তুমিতো বড় মানুষ তোমার আবার হেল্প লাগবে কেন?তাছাড়া আমার মত পুচকে তোমাকে কি এমন হেল্প করতে পারবে?আমি আসলে মনে মনে ফন্দি এটেছিলাম কারণ এ ছাড়া আমারতো আর কোন উপায় ছিলো না।আমি রিমুকে বল্লাম জানিস আমি না ভীষণ একটা গাধা।আমার কথা শুনে রিমু আমার মুখেরদিকে তাকিয়ে বললো এইটা তুমি অবশ্য ঠিকই বলেছো।তোমার চেহারার মধ্যে একটু গাধাগাধা ভাব আছে।

 

বিষয়টা আমাকে বেশ ভাবালো।আমি প্রশ্ন করলাম তুই কি করে বুঝলি আমার চেহারার মধ্যে গাধাগাধা ভাব আছে।রিমু বললো এটা আমার কথা নয় এটা প্রতীতি আপু বলেছে।প্রতীতি হলো রিমুর বড় বোন।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।আমার সাথে কথা হয়না।অতো সুন্দরী মেয়েদের সাথে কথা বলতে আমার ভয় হয়।কিংবা বলা চলে লজ্জাও হয়।আমি এমনকি আড়চোখে তাকাইও না।এক দুবার তাকে দেখেছি এবং সমস্যা হলো তার দিকে তাকালে চোখ ফেরানো যায় না।ওসব চিন্তা বাদ দিয়ে যে ফন্দি করেছি সেটা হাছিলে মন দিলাম। আমি বললাম রিমু সত্যি বলছি আমাকে একটু হেল্প করতে হবে।রিমু এবার সিরিয়াস ভাবে জানতে চাইলে ভাইটু অতো ভনিতা না করে সোজা বলো কি করতে হবে?তবে হ্যা তুমি যদি কোন চিঠিফিটি লিখে আমার হাতে দিয়ে বলো এটা প্রতীতি আপুকে দিতে হবে তাহলে কিন্তু পারবো না।

 

আমি বললাম খুব পাকা পেকেছিস দেখি।আরে ওসব কিছু না।রিমু বললো ওসব কিছু না তাহলে কি?তুমি যে বললে হেল্প লাগবে।আমার মত গিনিপিগের হেল্প লাগবে তোমার মত জলহস্তির এটা ভাবা যায়?রিমুর সাথে আমার দারুন বন্ধুত্ব।ক্লাস সেভেনে উঠেছে সে।রাজউকে পড়ে।আমি রিমুদের বাসায় ভাড়া থাকি।ভাড়া বাকি পড়েছে বেশ ক মাসের।জানিনা যে কোন সময় ঘর থেকে বের করে দেবে কিনা।অবশ্য রিমুকে রিকোয়েস্ট করে তখন কিছু একটা করা যাবে।আমি রিমুকে বললাম জানিস আমি না ঠিক জানিনা কিভাবে মোবাইলে ওয়াইফাই কানেক্ট করতে হয়! তোরাতো ওয়াইফাই ব্যবহার করিস আমাকে শিখিয়ে দিবি কিভাবে ওয়াইফাই কানেক্ট করে?রিমু আমার হাত থেকে মোবাইলটা নিয়ে সার্চ দিলো।সবার আগে রিমুদের নেটওয়ার্ক আসলো।রিমু তখন ওটাতেই পাসওয়ার্ড দিয়ে কানেক্ট করে দেখিয়ে বললো এইতো এভাবে করতে হয়।মোবাইলে ও পাসওয়ার্ড দেওয়ার সাথে সাথে ওর হাত থেকে মোবাইল নিয়ে অটো সেভ দিয়ে দিলাম যেন পাসওয়ার্ডটা থেকে যায়।তারপর রিমুর হাতে আবার মোবাইলটা ফিরিয়ে দিতে দিতে বললাম ও তাই এতো দেখি বেশ সোজা আর আমি দেখ কত বড় গাধা যে এটাও বুঝতে পারিনি।রিমু মাথা দোলাতে দোলাতে বাসায় চলে গেলো।সেই থেকে আমি ফ্রিতে ওয়াইফাই চালাই।রাতে বাসায় থাকলে সেই ওয়াইফাই দিয়ে নেট চালাই এবং কথাও বলি।

 

যতজনকে সিভি দিয়ে রেখেছিলাম তার তালিকা করলে একটা বড় টালি খাতা লাগবে।আমি মোবাইল কোম্পানী থেকে বিশ টাকা ধার নিয়ে দুএকজনকে ফোন করলাম।কারো কাছেই কোন আশার বাণী শুনতে পেলাম না।শুধু শুধু আমার বিশটাকা খরচ হয়ে গেলো।আমি যখন বিশটাকার চিন্তায় মগ্ন তখন অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসলো।ফোন রিসিভ করে জানতে চাইলাম কে?ওপাশ থেকে বললো ভাই আমি সিয়াম চিনতে পারতেছেন না?কলেজে আপনার ফলোয়ার ছিলাম।আমি চিনতে পারলাম।বললাম কি খবর সিয়াম বলো।ও বললো ভাই আপনি আমাকে সিভি দিয়েছিলেন মনে আছে?আমি মনে মনে বললাম সিভিতো কতজনকেই দিয়েছি তা কি আর মনে থাকে।মুখে বললাম হ্যা হ্যা মনে আছে।তা কি খবর বলো।সিয়াম বললো ভাই একটা চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে আপনার জন্য।আপনি কাগজপত্র সব সত্যায়িত করে পাঠান সাথে অবশ্যই চারিত্রিক সনদপত্র দিবেন।সিয়ামকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানালাম এবং বিস্তারিত জেনে নিলাম কবে কোথায় কিভাবে কি করতে হবে।ফোন রেখে দেওয়ার পর মনে আর আনন্দ ধরে না।

 

মনে হচ্ছিল যাই এখনি প্রতীতিকে বলে আসি চাকরিটা আমি পেয়েগেছি তুমি শুনছো!কিন্তু আমি তা বলতে পারিনি।প্রতীতি তো আর বেলাবোস নয় যে তাকে গানে গানে এ খবর দেবো।আমি তখনই কাগজপত্র যা ছিলো সব চেক করলাম।এখন চারিত্রিক সনদপত্র জোগাড় করতে হবে।রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে চিন্তা করলাম এই চারিত্রিক সনদপত্র জিনিষটা একটা ফালতু বিষয়।আমার চারিত্রিক সনদ দিবে অন্য একজন যে কিনা আমাকে তেমন জানেই না!আমার চরিত্র সম্পর্কে সব থেকে ভালো জানি আমি নিজে।তাহলে আমার নিজের স্টেটমেন্ট না নিয়ে অন্যের বলা কথায় কান দিয়ে লাভ কি?যারাই আমাকে চারিত্রিক সনদ দিবে তারাতো আমার সম্পর্কে ভালোই বলবে!ওসব ভেবে অবশ্য লাভ নেই।ওদের চাহিদা সনদপত্র সুতরাং আমাকে তা দিতেই হবে।

 

পরদিন বিকেলে বাসা  থেকে বেরিয়ে সোজা রওনা হলাম কমিশনারের অফিসে।কিন্তু গিয়ে দেখলাম কমিশনার নেই।পিওনের কাছে জিজ্ঞেস করলাম সে বললো কমিশনার কাজে বাইরে আছে আজ আর দেখা হবে না।তাকে আমি আমার বিষয়টা বললাম কিন্তু সে বললো কমিশনার না থাকলেতো দেওয়ার সুযোগ নেই।অগত্য আমাকে ফিরে আসতে হলো।পরদিন আবার গেলাম কিন্তু একই কথা।এভাবে পরপর পাচদিন যাওয়ার পর আর সহ্য হলো না।কেননা আর হাতে মাত্র একদিন আছে।কাগজপত্র সব জমা দিতে হবে।এতো কাঠখড় পুড়িয়ে একটা চাকরির ব্যবস্থা হলো তা যদি এভাবে হাতছাড়া হয়ে যায় সামান্য একটা চারিত্রিক সনদের জন্য তাহলে তো আক্ষেপের সীমা থাকবে না।আমি পঞ্চম দিন পিওনকে বললাম কি তামাশা শুরু করেছেন আপনারা।যখনই আসি কমিশনার থাকে না তাহলে যায় কোথায়?তাকে জনগণ ভোট দিয়ে নিবার্চিত করেছে জনসেবা করার জন্য।কিন্তু আমরা কি সেই জনসেবাটুকু পাচ্ছি।একটা চারিত্রিক সনদ নেওয়ার জন্য পরপর পাচদিন আসলাম কিন্তু কমিশনারের খোজ নেই।বিষয়টা কি বলুনতো।

 

আমার কথায় সেই পিওনের বোধহয় বেশ রাগ হলো।সে ক্ষেপে উঠে বললো আরে রাখেন মিয়া আপনার চারিত্রিক সনদপত্র! কে দেবে আপনাকে চারিত্রিক সনদপত্র?পিওনের কথা শুনে আমি অবাক হলাম।বললাম কে দেবে মানে? কমিশনার দিবে।চারিত্রিক সনদপত্রতো কমিশনারই দেয়।সে মুখে তাচ্ছিল্যের ভাব করলো।আমি বললাম আজকে চারিত্রিক সনদ না নিয়ে আসি এখান থেকে যাবো না।এই বলে চেয়ার টেনে বসে পড়লাম।তখন পিওন বললো ভাই বসে থেকে কোন লাভ নেই।কমিশনার আসবে না।তারা আসার মত অবস্থা নেই।সুযোগও নেই।পিওনের কথায় মনে খটকা জাগলো।বললাম আসবে না আসার সুযোগ নেই এসবের মানে কি?

 

পিওন হাই তুলতে তুলতে বললো ভাই আপনি বরং এক মাস পরে আসেন, আসলে কমিশনার সাহেব একটি ধর্ষন মামলায় এখন জেলে আছেন। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই। তদবীর চলছে, আশা করি দু একমাসের মধ্যে জামিন হয়ে যাবে।আমি আর কোন কথা না বাড়িয়ে উঠে পড়লাম।যে কমিশনারের নিজের চরিত্রের ঠিক নেই সে আবার আমাকে কি করে চারিত্রিক সনদপত্র দিবে?ভেবেছিলাম আর কখনো দুইনাম্বারী চিন্তা মাথায় আনবো না কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে এটা করতে বাধ্য করলো।নীলক্ষেত থেকে যেমন সত্যায়িত সিল বানিয়ে নিজেই সব সত্যায়িত করি তেমনি এবার নিজের চারিত্রিক সনদপত্রও বানিয়ে নিতে হবে।সেদিনই সন্ধ্যার দিকে গিয়ে একটা চারিত্রিক সনদ বানালাম।পরদিন সরাসরি উপস্থিত হতে হবে সেই সব সনদ কাগজপত্র নিয়ে।উত্তেজনায় ঘুম হলো না ঠিকমত।

 

 

বিছানায় গড়াগড়ি খেতে লাগলাম।খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে রুমমেটের সাবান ধার করে গোসল করলাম।থাকলে হয়তো একটু সেন্টও নিতাম।সেই ছোট ভাইয়ের অফিস পান্থপথে।আমাকে বলে রেখেছে আমি যেন সকাল দশটার মধ্যে উপস্থিত হই।সেই মোতাবেক আমিরেডি হয়ে সব পেপার্স নিয়ে রওনা হলাম।যাওয়ার সময় রুমমেট শুভর কাছ থেকে পাচশো টাকাও ধার নিলাম।বললাম চাকরিতো পেয়ে গেছি আজই জয়েন করছি।সুতরাং টাকাটা বেতন পেয়েই ফেরত দেবো কোন সমস্যা নেই।ও টাকাটা দিলো।ভাবলাম পথে যেন দেরি না হয় তাই উবারে করে যাই।যেহেতু আমার মেগাবাইট নেই তাই ঘরে বসেই ফ্রি ওয়াইফাই দিয়ে উবার ডাকলাম।কল রিসিভ করে লোকেশান ঠিক করে বেরিয়ে পড়লাম।

 

রাস্তার দুইধারের দৃশ্য অবিরাম সরে যেতে লাগলো।মোটরসাইকেলের পিছনে হেলমেট পরে আমি তখন স্বপ্ন দেখছি।কত বেতন হবে?কত খরচ করবো আর কত জমাবো।কতদিন জমানোর পর এমন একটা মোটর সাইকেল আমি কিনতে পারবো।থেকে থেকে জ্যামও ছিলো।পান্থপথে নামলাম।সিয়ামকে ফোন করবো বলে ফোন হাতে নিতেই মনে পড়লো ফোনে কল করার মত টাকা নেই।আগেরবার যে বিশটাকা ধার নিয়েছিলাম সেটাই এখনো শোধ করা হয়নি।তবে ভাবলাম চাকরিটা যেহেতু হয়ে গেছে তাই টাকা রিচার্জ করাই যায়।এই ভেবে একটা দোকান খুজে একশো টাকা রিচার্জ করলাম।পাশে একজন আইসক্রিম বিক্রি করছিলাম একটা কোণ আইচক্রিম খেলাম।হাতে তখনো দুশো টাকা মত আছে।এবার ফোন করবো বলে নাম্বার বের করতে যাবো এমন সময় সিয়ামের ফোন।মনেমনে খুশি হলাম।ভাবলাম ফোন রিসিভ করেই বলবো সিয়াম আমি অলরেডি চলে এসেছি আর পাচমিনিটের মধ্যে অফিসে পৌছাবো।ফোন রিসিভ করে আমি কিছু বলার আগেই সিয়াম বললো ভাই খুবই দুঃখিত আপনার আজকে আর আসার দরকার নেই।আসলে হয়েছে কি বস বলেছে এখন আপাতত কোন নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হবে না।আমি খুবই দুঃখিত যে এমন একটা কথা বলতে হচ্ছে।

 

সিয়ামের কথা শুনে বুকটা ফেটে গেলো।সব থেকে বেশি খারাপ লাগলো এই যে ধার করে টাকা এনে সেটা দিয়ে উবারে এসেছি খাচ্ছি মোবাইলে রিচার্জ করছি।অগত্য কলেজের জুনিয়রকে তো আর কিছু বলা যায় না তাই মুখে বললাম না না সিয়াম এতে দুঃখ পাওয়ার কি আছে।এখন হয়নি আশা করিপরে হবে।তাছাড়া তুমি ফোনকরে ভালো করেছ আমি বরং বাসাতেই থাকি।যেহেতু বাসা থেকে বের হইনি তাই কোন সমস্যা নেই আরামছে ঘুম দেওয়া যাবে।সিয়ামের কাছে মিথ্যে কথাটা বলেও খারাপ লাগলো।কোন কিছু আর করার নেই।হাটতে হাটতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেলাম।সারা দুপুর ঘুরে শেষে বিকেলে বাংলামোটর গিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢুকলাম।বাতিঘরে গিয়ে কিছু বই নাড়াচাড়া করলাম।কোন কিছুই ভালো লাগছে না।

 

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে গিয়ে একটা চেয়ার টেনে বসলাম।এখানে যারা আসে তাদের অনেককেই আমি চিনি।এক কোণায় রেজাঘটক আর তার দলবল ছবি তোলার মহড়া দিচ্ছে।আমি উদাস মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।মন চাইছিলো একটা কিছু খাই কিন্তু সায় দিচ্ছিল না।শুধু শুধু কটা টাকা নষ্ট করে লাভ কি।বাসায় ফিরবো বলে উঠে দাড়ালাম।হাটিহাটি পা পা করে লিফটের সামনে গিয়ে দাড়ালাম।লিফট উপরে আসছে।বোতাম চেপে অপেক্ষা করলাম।লিফট খুলতেই ভিতর থেকে লোকজন বের হতে শুরু করলো।সব শেষে বের হলো সিয়াম।আমার কলেজের ছোট ভাই।আমার দিকে তাকিয়ে সে ভীষণ লজ্জা পেলো।কিছু হয়তো বলতে চেয়েছিল আমি সুযোগ না দিয়ে লিফটে উঠে নিচে নেমে পড়লাম।

 

বাংলামোটর মোড়ে দাড়িয়ে আছি বিআরটিসি ডাবলডেকারের জন্য।হাতে তখন একটা ফাইল।সেই ফাইলে অনেক অনেক সত্যায়িত কাগজপত্র।সবার উপরে দেখা যাচ্ছে চারিত্রিক সনদপত্র।নীলক্ষেত থেকে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে বানানো।

 

লেখাঃ জাজাফী

২৪ অক্টোবর ২০১৮