রঙ্গীন ফানুস, পর্ব-২

     কবির স্যারের মুখে সেই প্রথম ক্যাডেট কলেজের নাম শুনি আমি।কিন্তু সে সম্পর্কে আমার কোন ধারনাই ছিলনা।কোন দিন ভুল করেও কবির স্যারকে জিজ্ঞেস করা হয়নি ক্যাডেট কলেজ আসলে কি?যতদুর মনে পড়ে এর পর তিনি কোন দিন ক্যাডেট কলেজের নামটাও নিয়েছেন কিনা সন্দেহ আছে।আর আমার মনে হয় তাকে যদি ওটা নিয়ে প্রশ্ন করতাম তবে দেখা যেত তিনি ওই ক্যাডেট কলেজ শব্দটা ছাড়া আর কিছুই জানেন না।ভুগোল আর ইতিহাসের ওপর স্যারের অন্যরকম দখল ছিল।সেই বয়সেই তিনি আহ্নিক গতি বার্ষিক গতির কথা বলতেন।আমার মাথাতে সেসব ঢুকতো না।আমি যেসব পরীক্ষায় আসবেনা সেসবে কান দিতাম না।এখন বুঝি সেই সব বিষয়গুলি যদি মনোযোগ দিয়ে শুনতাম তবে কতইনা ভাল হতো।কবির স্যারের সাথে আমার দেখা হয়নি অনেক অনেক বছর।বছরের পর বছর পেরিয়ে যায় কিন্তু আমরা ব্যক্তি জীবনে এতোই ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে অনেক কাছের মানুষেরও খোঁজ রাখতে পারিনা।বাবার মুখে একটা কথা শুনেছিলাম ‘চোখের আড়াল না মনের আড়াল’। সত্যিই এক জীবনে কেউ যখন চোখের আড়াল হয়ে যায় সে যেন মনের আড়ালেই হারিয়ে যায়। কালেভদ্রে হয়তো কারো সাথে দেখা হয়।বাকিরা অজ্ঞাতেই আজীবনের মত হারিয়ে যায়।একদিন হয়তো খবর পাই অমুক নেই।একদিন হয়তো তারাও শুনবে আমি নেই।

২.

সারা বছরে হয়তো একবার আমাদের জন্য নতুন কাপড় কেনা হতো।সেই নতুন কাপড় কেনার জন্যও কখনো শহরে যেতে হতো না।গ্রাম থেকে বের হলেই বিনোদপুর বাজার।কিংবা রাড়িখালি বাজার পার হলেই নবগঙ্গা নদী পেরিয়ে শত্রুজিৎপুর বাজার।আমাদের কাপড় যা কেনা হতো কিংবা বানানো হতো তার সবই ওখান থেকে।কথায় বলে মোল্লার দৌড় মসজিদ পযর্ন্ত আমাদের অবস্থা অনেকটা তাই।আমাদের দৌড় ছিল ওই বিনোদপুর বাজার নয়তো সবোর্চ্চ শত্রুজিৎপুর বাজার।এমনকি কেউ অসুস্থ্য হলে যখন শহরের সদর হাসপাতালে ভর্তি হতো তখনো আমাদের মত ছোটদের সেখানে যাওয়া হতো না।ছোটরা হলো নানা অকাজের কাজী।

ছোটদের নিলেই নানা তালবাহানা শুরু করবে ভেবেই বড়রা আমাদেরকে সব সময় বাড়িতেই রেখে যেত।আর তাদের হাতে ছিল আমাদেরকে বশ করার কঠিন এক অস্ত্র আর তা হলো চানাচুর।পাঁচ টাকা দিলেই এক প্যাকেট বড় সাইজের চানাচুরের প্যাকেট পাওয়া যেত।আমাদের সবারই প্রিয় ছিল এই চানাচুর।

বড়রা বলতো বাড়িতে থাকো তাহলে আসার সময় তোমাদের জন্য চানাচুর নিয়ে আসবো। আমরা সেই চানাচুরের লোভে বাড়িতেই থেকে যেতাম। কখনো আর শহরে যাওয়া হতনা।আবার দেখা যেত কখনো কখনো বাড়িতে রেখে যাওয়ার শর্তে চানাচুরের পরিবর্তে পুরো পাচ টাকাই হাতে ধরিয়ে দিত। যেদিন টাকা ধরিয়ে দিত সেদিন মনে হতো দুনিয়াতে সব থেকে বড়লোক হলাম আমি।আমাদের কাছে তখন পাচ টাকা মানে বিলগেটসের সমান টাকা।যদিও বিলগেটসের নাম গ্রামের একজনও জানতো না।এখন সেই সব কথা মনে পড়লে নষ্টালজিয়ায় আক্রান্ত হই।

যখন সেই পাচ টাকা হাতে দিয়ে দেওয়া হতো তখন আমাদের মনের মধ্যে যে পাখিটা বাস করতো সে তার রঙীন ডানা মেলে আকাশে উড়াল দিত।সেদিন আর পড়ালেখা হতো না। বড়রা সেটা জানতো তার পরও সাথে করে শহরে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তারা এটা করতো।তারা মনে করতো ছেলে পেলেকে শহরে নিয়ে যাওয়ার যে ঝামেলা তার চেয়ে একদিন পড়ালেখা না করে যদি হইহই করে ঘুরে বেড়ায় তবুও শান্তি।গ্রামে শিক্ষিত মানুষের হার খুবই কম ছিল।পুরো গ্রামে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম  এ তথ্যটিই বলে দেয় গ্রামের অবস্থা কি ছিল।আর আমার স্কুল লাইফের সময়টা তাহলে কিরকম ছিল সেটা সহজেই অনুমান করে নেওয়া যেতেই পারে।এখন গ্রামে প্রতি ঘরে ঘরেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে মেয়ে পাওয়া যাবে কিন্তু তখনকার কথা ছিল সম্পুর্ন আলাদা।

     হাতে পাওয়া পাঁচটাকা নিয়ে আমাদের আনন্দের সীমা ছিলনা।পরিকল্পনা করতাম এই টাকা দিয়ে কি কি করবো।কখনোই মনে হতো না যে এখান থেকে একটাকা দুই টাকা জমিয়ে রাখবো।সবার আগে অবধারিত ভাবেই মার্বেল কেনার জন্য বাজেট করতাম দুই টাকা। তখন দুই টাকায় ৩০টার বেশি মার্বেল পাওয়া যেত।আমার বেশ মনে পড়ে মার্বেল ছিল আমাদের সব থেকে প্রিয় বিষয়।

      বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালিন সময়ে একদিন বিকেলে এক পিচ্চির সাথে বসে আছি তাদের ঘরে।সেদিন তার মা তাকে এবং আমাকে কিছু পিঠা খেতে দিলেন।পিচ্চিটার বয়স তখন পাঁচ কিংবা ছয় বছর।সে প্লেট থেকে একটা পিঠা হাতে নিয়ে আমাকে বললো জানো এই পিঠাটা না আমার প্রিয় পিঠা। আমি বললাম কতটা প্রিয়? সে বললো অনেক প্রিয়।তার পর পিঠা নিয়ে তার সাথে অর্ধেক এমফিল আর অর্ধেক পিএইচডি থিসিস করে ফেললাম।সে আমাকে জানালো সেই পিঠাটা নাকি তার কাছে তার বাবা মায়ের চেয়েও প্রিয়! আমি বললাম কি বলছো তুমি? তোমার বাবা মার চেয়েও তুমি এই পিঠাকে বেশি ভালবাসো? সে বললো অবশ্যই ভালবাসি। আমার বেশ অবাক লাগলো। সামান্য পিঠা কারো কাছে এতো প্রিয় হতে পারে? আমি বললাম আচ্ছা মনে করো তোমাকে এক প্লেট পিঠা দিয়ে বলা হলো এই পিঠা নিয়ে তুমি বাসা থেকে বেরিয়ে যাও তাহলে কি করবা? সে আগের মতই উত্তর দিলো: এই পিঠা আমাকে এক প্লেট দিয়ে যদি বলে এই বাসা থেকে চলে যেতে তাও আমি যেতে রাজি আছি কিন্তু এই পিঠাই আমার সব থেকে প্রিয়!

সেই পিচ্চিটার মতই আমাদের কাছে মনে হতো মাবের্ল খেলতে দেওয়ার অনুমতির বিনীময়ে এক ওয়াক্ত না খেয়ে থাকতে বললে তাও আমার রাজি হয়ে যেতাম।এই খেলাটা এতো জনপ্রিয় ছিল যে মনে হতো এটাই বাংলাদেশের জাতীয় খেলা।নাহ তখন কিন্তু জাতীয় খেলা বিষয়ে কোন ধারনা ছিলনা কিন্তু মনে হতো সব থেকে বেশি জনপ্রিয় খেলাই হলো মাবের্ল খেলা।জাতীয় বিষয়গুলোর মধ্যে আমরা শুধু জানতাম জাতীয় পাখির নাম, ফুলের নাম, মাছের নাম এবং জাতীয় কবির নামটা জানতাম। এর বাইরে আর যত জাতীয় বিষয় আছে তার কিছুই আমাদের জানা ছিলনা।শুধু আমাদের কেন, পুরো এলাকার কারো জানা ছিল বলে মনে হয়না।মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের স্কুলেরই কারো ওসব জানা ছিলনা তখন।একবিংশ শতাব্দীতে এসে যে স্কুলে এখনো পত্রিকা পৌছায়না সেই স্কুলে এতো বছর আগে কেউ ওই সব বিষয় জানবে তা প্রায় ভাবাই যায় না।ঠিক এই কারনের ক্যাডেট কলেজ বিষয়েও কারো কোন ধারণা ছিলনা। কবির স্যার ওই শব্দটা উচ্চারণ না করলে হয়তো কোন দিন ওই বয়সে ওরকম একটা অজপাড়াগায়ে বসে ক্যাডেট কলেজ বলে যে কিছু একটা আছে তাই জানা হতো না।আমাদের সবার মাঝে মাবের্ল খেলা নিয়ে যে উন্মাদনা ছিল তা বোধহয় বর্তমানে উসাইন বোল্টের একশো মিটার দৌড়ের সময় যেমন উত্তেজনা হয় তার চেয়ে কোন অংশে কম ছিলনা।আমরা মাবের্ল খেলার জন্য এহেন কাজ নেই যা করিনি।স্কুল ছুটি হওয়ার পর অধিকাংশ দিন আমরা বাড়ি না ফিরে কোথায় কোথায় চলে যেতাম মাবের্ল খেলতে।ফিরতাম রাত হলে। তবে বড়দের চোখের পড়লেই দাবড়ানি খেতে হতো। কেউ এই খেলাটা পছন্দ করতো না।শেষে উপায় না দেখে আমরা অপকর্মে লিপ্ত হতাম। দেখিয়ে দিতাম আমাদের দস্যিপনা।আর আমাদের সেই দস্যিপনা টের পাওয়া যেত যখন লোকেরা পাট কাটতে যেত। দেখা যেত কোন কোন জমির ভিতরে একটা বিশাল এলাকা জুড়ে একটাও পাটগাছ নেই।সেখানকার মাটিও বেশ পরিপাটি করা যেন প্রতিদিন কেউ সেখানে লেপন দিয়েছে।গ্রামের কাচা ঘরগুলোতে মহিলারা লেপন দিয়ে পরিপাটি করে রাখে।আমরা যখন কোথাও মাবের্ল খেলার যায়গা পেতাম না তখন একবার ইকবাল এই বিটকেলে বুদ্ধি বের করলো।পাটক্ষেতের চারপাশে অগণিত পাট থাকায় ভিতরে কোন একটা অংশ যদি ওভাবে কেটে সেখানে খেলার ব্যবস্থা হয় তাহলে কারো সাধ্যি নেই আমাদেরকে ধরার।সে কারণেই বিভিন্ন পাটক্ষেতের মাঝে আমরা মাবের্ল খেলার কোট তৈরি করতাম। যখন সেখানে সুবিধা হতো সেখানেই খেলতাম।

পর্ব-১ এখানে

পর্ব-৩ এখানে

20 thoughts on “রঙ্গীন ফানুস, পর্ব-২

  1. I wish to express thanks to you just for rescuing me from such a condition. Right after checking through the internet and coming across suggestions which are not productive, I assumed my life was done. Existing minus the solutions to the problems you’ve resolved all through this posting is a crucial case, and ones which may have in a negative way damaged my career if I had not discovered your web page. Your own personal capability and kindness in dealing with almost everything was useful. I’m not sure what I would have done if I hadn’t come across such a thing like this. I can also at this time look ahead to my future. Thanks very much for your skilled and results-oriented guide. I won’t hesitate to refer the website to any individual who would like tips on this matter.

  2. I just wanted to post a remark in order to thank you for these lovely tips and tricks you are sharing at this site. My long internet research has at the end been compensated with awesome knowledge to talk about with my relatives. I ‘d say that we visitors are undoubtedly lucky to live in a magnificent place with many wonderful professionals with great things. I feel extremely grateful to have come across your entire webpages and look forward to tons of more fun minutes reading here. Thanks a lot once again for everything.

  3. I intended to write you the very small observation just to give many thanks over again for all the pleasant advice you’ve shared on this site. It is open-handed of people like you to supply freely just what a lot of people might have sold as an ebook to make some profit on their own, specifically considering that you could possibly have tried it if you wanted. The concepts as well served to be the easy way to fully grasp other individuals have the identical desire like my personal own to find out lots more related to this issue. I’m certain there are lots of more pleasant instances up front for folks who scan your site.

  4. I and my pals happened to be checking out the great information and facts from your web page and so immediately I got a horrible suspicion I never expressed respect to you for those techniques. My young boys were very interested to read them and have in effect absolutely been tapping into these things. Appreciation for really being simply accommodating as well as for deciding on varieties of incredibly good subject areas millions of individuals are really eager to learn about. Our sincere apologies for not saying thanks to you sooner.

  5. My brother recommended I might like this website. He was entirely right. This post truly made my day. You cann’t imagine simply how much time I had spent for this information! Thanks!

  6. I am glad for writing to let you understand what a amazing experience my wife’s girl encountered reading your web page. She noticed many details, not to mention what it is like to possess an amazing teaching character to get folks with ease learn about several hard to do matters. You truly did more than our own desires. I appreciate you for producing such informative, safe, revealing not to mention cool thoughts on the topic to Mary.

  7. I intended to draft you that tiny word to help say thanks yet again for your personal precious opinions you have contributed on this website. This has been surprisingly open-handed with you to convey easily all a lot of folks might have offered for an e-book to make some cash for themselves, and in particular seeing that you could have done it if you desired. These pointers likewise served like the easy way to fully grasp that someone else have the identical passion just as my own to realize more and more with regards to this problem. I believe there are thousands of more pleasant sessions ahead for folks who check out your blog.

  8. Hello There. I found your blog using msn. This is a really well written article. I will be sure to bookmark it and come back to read more of your useful info. Thanks for the post. I will certainly return.

  9. hi!,I like your writing so much! share we be in contact more about your article on AOL? I require a specialist on this space to solve my problem. May be that’s you! Having a look forward to peer you.

  10. I am writing to make you be aware of of the fabulous experience our princess experienced using your webblog. She noticed several pieces, including what it is like to have a marvelous helping heart to make folks very easily fully grasp several tortuous subject matter. You actually surpassed visitors’ desires. Thank you for delivering the precious, safe, explanatory and also easy guidance on your topic to Gloria.

  11. I would like to express my appreciation to this writer just for bailing me out of this issue. Right after browsing through the the net and seeing tricks which were not pleasant, I figured my entire life was gone. Being alive without the answers to the problems you’ve fixed by way of your article content is a crucial case, as well as ones which might have badly damaged my entire career if I had not noticed your web page. Your primary natural talent and kindness in dealing with all things was very helpful. I’m not sure what I would’ve done if I had not come across such a step like this. It’s possible to at this point relish my future. Thanks for your time very much for your professional and effective help. I won’t think twice to suggest your blog to any person who would like guidance on this topic.

  12. I simply wanted to make a quick remark to say thanks to you for the precious information you are giving on this site. My time intensive internet search has now been recognized with useful know-how to write about with my family and friends. I ‘d tell you that we site visitors are really lucky to exist in a magnificent community with many brilliant professionals with great concepts. I feel very fortunate to have discovered the weblog and look forward to tons of more enjoyable minutes reading here. Thanks a lot again for all the details.

  13. Wow! This could be one particular of the most helpful blogs We have ever arrive across on this subject. Actually Excellent. I am also a specialist in this topic so I can understand your hard work.

  14. I intended to send you this little note in order to thank you so much over again for your wonderful advice you’ve discussed in this case. It has been simply pretty open-handed with people like you to present without restraint all a few individuals would have distributed for an ebook to earn some bucks on their own, specifically given that you could possibly have done it if you ever decided. These basics also worked as the good way to be aware that many people have the identical fervor like my very own to see whole lot more when it comes to this condition. I am sure there are millions of more fun opportunities ahead for many who read your site.

  15. I would like to voice my respect for your kindness in support of men who require help with the idea. Your personal dedication to passing the message across became surprisingly significant and has in most cases allowed most people like me to realize their endeavors. Your invaluable hints and tips can mean a great deal to me and extremely more to my fellow workers. Best wishes; from all of us.

  16. I am writing to let you understand of the really good discovery our child found viewing your blog. She learned several pieces, most notably how it is like to possess a great coaching character to make other people clearly know just exactly several grueling issues. You truly did more than people’s expected results. Thanks for giving such invaluable, trustworthy, informative and as well as cool tips about the topic to Sandra.

  17. My spouse and i got very thankful when Michael could conclude his reports through the precious recommendations he was given using your blog. It’s not at all simplistic just to find yourself making a gift of methods people may have been selling. We really consider we’ve got the website owner to appreciate for that. The type of illustrations you made, the straightforward site menu, the friendships you can make it easier to engender – it’s mostly awesome, and it’s really letting our son and us recognize that that topic is thrilling, and that is tremendously indispensable. Thank you for all!

  18. I simply wanted to type a quick word so as to say thanks to you for these amazing strategies you are posting here. My extensive internet search has at the end been compensated with sensible points to exchange with my close friends. I would believe that many of us readers actually are quite lucky to exist in a great network with so many special people with insightful tips. I feel really blessed to have seen your webpages and look forward to some more excellent times reading here. Thank you once again for all the details.

  19. Hi there, just became aware of your blog through Google, and found that it’s truly informative. I’m going to watch out for brussels. I’ll appreciate if you continue this in future. Many people will be benefited from your writing. Cheers!

Leave a Reply

Your email address will not be published.