কিশোরী

কিশোরী মেয়ের প্রতি মায়ের করণীয়

সদ্য কৈশোরে পা দিয়েছে এমন কিশোরীদের নিয়ে মায়েদের চিন্তার সীমা নেই। এই বয়সটা শুরু হলে তার আচার ব্যবহারে আমুল পরিবর্তন আসে ফলে সেটার সাথে বাবা মা সহজে মানিয়ে নিতে পারে না।কিশোরীর মনে জেগে ওঠা অগণিত প্রশ্ন তারা সঠিক ভাবে উত্তর দিতে পারে না।বয়ঃসন্ধি এবং কৈশোরকালীন মেয়েদের আচার-আচরণ বোঝা ও তাদের সাহায্য করার বিষয়টি বাবা-মায়ের কাছে প্রায়শই বেশ ভয়াবহ ও কঠিন কাজ বলে মনে হয়। অধিকাংশ অভিভাবক তাদের কিশোরী সন্তানের সাথে বয়সঃসন্ধি নিয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন।বিশেষত সেই সব অভিভাবকদের ক্ষেত্রে এটি প্রবল যারা নিজেদের বয়সঃসন্ধির সময় এসব নিয়ে কারো কাছ থেকে পরামর্শ পায়নি।

আমাদের ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের নিরাপত্তার খুবই অভাব।কন্যা সন্তান সে শিশু হোক,কিশোরী হোক,তরুণী হোক বা বৃদ্ধা হোক নানা ভাবে তাকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।বিষয়গুলি মেয়েদের কিশোরী বয়স থেকেই সচেতন ভাবে বুঝাতে পারলে সে প্রস্তুতি নিতে পারবে আসন্ন ঝড় থেকে কিভাবে নিজেকে বাচিয়ে রাখা যাবে। কিশোরী মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর পাশাপাশি শারীরিক পরিবর্তন এবং ভালো-মন্দ স্পর্ষ সম্পর্কে জানানো অত্যন্ত জরুরী।

মেয়ের মধ্যে যখনই শারীরিক বা বাহ্যিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে তখনই মায়ের উচিত মেয়ের সঙ্গে বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে খোলাখুলি কথাবার্তা বলা। এতে করে কিশোরীর তার নিজের শারীরিক পরিবর্তনগুলির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সুবিধা হবে এবং সে মানসিক দিক থেকেও স্বচ্ছন্দ বোধ করবে। যেহেতু মেয়ে তাই এ ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। মা নিজে ত্রাতার ভূমিকায় অবর্তীন হবেন। কিশোরীদের বিষয়ে মা তার নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারেন, বিশেষত তিনি নিজে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন তার মেয়ে যেন সেগুলো খুব সহজে কাটিয়ে উঠতে পারে তা খেয়াল রাখতে হবে।


একজন কিশোরী খুব আবেগ প্রবণ হয়ে থাকে। সুতরাং তার অনুভূতিগুলি শুনতে হবে। যদি সে কথা বলতে চায় তাহলে নিজে যা করছেন তা থামিয়ে মা হিসেবে খুব মনোযোগ সহকারে তার কথা শুনতে হবে। যদি দেখা যায় যে মেয়ে কোনও বিষয় নিয়ে খুব চিন্তা করছে তাহলে তাকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন তার কথা শোনা এবং যথাযথ উত্তর দেওয়া। কৈশোর মনে শরীর নিয়ে একরাশ প্রশ্ন জাগে। এই পরিস্থিতিতে কিশোরীর যৌন সচেতন করার দায়িত্ব মাকেই নিতেই হবে। যেহেতু আমাদের দেশে স্কুলে এসব নিয়ে কোন শিক্ষা নেই তাই উচিত পরিবার থেকেই সচেতনামূলক শিক্ষা দেয়া। কিশোরীরা বান্ধবীদের কাছ থেকেই সব কিছু জেনে যায়। তবে অকারণ কৌতূহল দেখলে মায়ের উচিত নিজ থেকে সব আলোচনা করা।মাকে হতে হবে মেয়ের ঘনিষ্ট বান্ধবীর মত।

কিশোরী বয়সটাই এমন যে সে তার পছন্দ নয় এমন কোন বিষয় শুনতে আগ্রহী নয়। সেক্ষেত্রে কিশোরীর আচার-আচরণ সম্পর্কে সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে, পাশাপাশি চেষ্টা করতে হবে মেয়ের আচার-আচরণগত দোষত্রুটিগুলোর চেয়ে তার অন্তর্নিহিত উজ্জ্বল সম্ভাবনাগুলোকে বড় করে তার সামনে তুলে ধরতে হবে।এ ক্ষেত্রে তার ভিতরের গুণ বা ভালো অভ্যাসগুলোর প্রশংসা করা জরুরি। তার গুণগুলোর প্রশংসা করা দরকার।সে যে কাজটা ভালো পারে না বা তার দুর্বলতার দিকগুলো নিয়ে বেশি আলাপ-আলোচনা না করাই বাঞ্ছনীয়।


আমাদের সমাজে শুধুমাত্র পড়াশোনার ফলাফল দিয়েই মেয়ের যোগ্যতা বিচার করা হয়ে থাকে যা মোটেও ঠিক নয়। সে যদি পরীক্ষায় আশানুরূপ নম্বর না পায় তাহলে তাকে ছোট করা উচিত নয়। বরং তার চেষ্টাটাকে স্বীকৃতি জানানো এক্ষেত্রে একান্ত জরুরি। যদি মেয়েটি লেখাপড়ায় তেমন ভালো নাও হয়, তাহলে তার অন্য প্রতিভা বা গুণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে তার প্রতিভার যাতে আরও বিকাশ হয় সেই জন্য উৎসাহ দিতে হবে।


 কিশোরী মেয়েদের অভিভাবকত্ব করা মোটেই সহজ কাজ নয়। একজন প্রকৃত অভিভাবকের সবসময়ে উচিত মেয়ের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ রাখা, তাকে সহায়তা করা, উৎসাহ দেওয়া এবং তার প্রতি বিশ্বাসভাজন থাকা। বয়ঃসন্ধির মেয়েদের সঙ্গে তাদের মায়ের বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা একান্তই জরুরি।

মা হিসেবে কিশোরী মেয়ের কাছে আদর্শ হয়ে ওঠাটা অত্যন্ত জরুরী। মেয়েরা মায়ের সান্নিধ্যে থেকেই বরং সব কিছু শিখতে পারে। মাকে দেখে মেয়েটি শিখবে অন্যকে কিভাবে সম্মান করতে হয়, সহানুভূতিশীল হতে হয় এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে জীবনযাপন করতে হয়।

আজকাল অনেক মা তার মেয়েকে বন্ধুদের সাথে মিশতে দেয় না আর কেউ কেউ মিশতে দিলেও বাসায় বন্ধুদের আসা যাওয়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে যা মোটেও উচিত নয় কেননা এতে করে কিশোরীর মন ও মননে আঘাত লাগে যা হিতে বিপরীত ফল দেয়।মা হিসেবে মেয়ের সামাজিক মেলামেশার বা সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। এছাড়া মেয়ের বন্ধুবান্ধবদের গুরুত্ব দিলে মেয়ের মধ্যেও আত্মসচেতনতা গড়ে উঠবে।

31 মে 2020