আজকের শিশুদের সুন্দর বিষয় শিক্ষা দেই

খুব কম বাবা মা আছেন যারা সন্তানকে তাদের নানাবিধ প্রতিভা বিকাশে উৎসাহ দিয়ে থাকেন,পাশে থাকেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাবা মা সন্তানের যে কোন প্রতিভাকে মূল্যায়ন করেন না এবং পারলে ধমক দিয়ে সেটিও বন্ধ করে দেন। বাচ্চা খুব যত্ন করে একটা এঁকে বাবা মাকে দেখাতে গেলে বাবা মায়ের সময় হয় না কিংবা দেখলেও ভালো করে দেখে না। না দেখেই বলে বেশ হয়েছে। অনেক সময় বলে যাওতো এখন বিরক্ত করো না, কাজ করছি। ছবি আঁকার ইচ্ছেটা আর তখন থাকে না। এই ভিডিওটা দেখুন সিজদা নামের মেয়েটি শুধু ছবি আঁকছেই না বরং বাবার নানাবিধ প্রশ্নের উত্তরও দিচ্ছে। ছবিতে সে কি এঁকেছে,কিভাবে এঁকেছে,কি রং ব্যবহার করেছে সব বলছে।

ছোটদেরকে উৎসাহ দিলে তারা অনেক কিছুই করতে পারে। ওদের মধ্যে অনেক প্রতিভা আছে শুধু বিকাশ ঘটানো দরকার। এই যে চারদিকে এতো অনাচার অবিচার কত খারাপ ঘটনা ঘটছে তা ঘটবে না যদি আমরা আজকের শিশুদের সুন্দর বিষয় শিক্ষা দেই,সুন্দর করে গড়ে তুলি।

পৃথিবীর ৯৯.৯৯% বাবা মা সন্তানের ভালো চায় এবং তারা সন্তানের ভালোর জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে । তবে আফসোস করে বলতে চাই সেই সব বাবা মা আসলে জানেই না সন্তানের ভালো বলতে আসলে কি বুঝায়? একটা বাচ্চা প্রাইভেট না পড়ে একাই অংক করতে চেষ্টা করতে চায় সেটাই ভালো নাকি বাবা মা জোর করে ভালো কোন টিচার রেখে দিয়ে তার মাধ্যমে শিখলো সেটাই ভালো?

বাসায় লিফট আছে তাই কখনো সিড়ি বেয়ে ওঠা হয়না। অথচ মাঝে মাঝে সিড়ি বেয়ে বাচ্চাকে নিয়ে ওঠানামা করলে ব্যয়াম ও হয়ে যায় আবার অলসতাও কাটে। কিন্তু অনেক সময় বাচ্চা সিড়ি দিয়ে নামতে চাইলেও আমরা বলি নাহ চলো লিফট দিয়েই নামতে হবে।

খুব ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদেরকে পরাধীন ভাবে মানুষ করা হচ্ছে। খেতে না চাইলে জোর করে খাওয়ানো হচ্ছে,পড়তে না চাইলে জোর করে পড়ানো হচ্ছে,ঘুমোতে না চাইলে জোর করে ঘুমাতে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে,কথা বলতে না চাইলে কথা বলানো হচ্ছে আবার কথা বলতে চাইলেও ধমক দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সেই সব বাচ্চা অন্যদের তুলনায় প্রতিভার স্বাক্ষ্যর রাখে যারা বাবা মায়ের কাছ থেকে ভালো আচরণ শেখে,প্রতিভার মূল্যায়ন পায় এবং সব কিছুতে উৎসাহ পায়। আমি রাত জেগে পড়তে চাইতাম আমাকে বলা হতো এই এখন ঘুমা শেষে বাধ্য হয়ে ঘুমিয়ে যেতাম। আমি জানি আমি কতটা পিছিয়ে গেছি। তখন যদি আমাকে ঘুমাতে না বলে বলা হতো আর কতটুকু পড়া বাকি আছে? অনেকতো রাত হলো তাহলে বোধহয় ভালো হতো। অনেক রাত কিন্তু তখন হতো না বরং রাত নয়টা বাজার সাথে সাথে ঘুমিয়ে যেতাম!

শেখার কোন বয়স নেই বলে যেটা বলা হয় সেটা সত্যি কিন্তু একটা সময়ে শেখার মত পরিবেশ থাকে না কিংবা পরিবেশ থাকলেও সুযোগ হয় না। তাই ছোটবেলায় ওদের নানা বিধ প্রতিভাকে মূল্যায়ন করা উচিত তবেই ওদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা বেরিয়ে আসবে নতুবা ঘুমন্ত অবস্থায় আমার মত আজীবন ঘুমিয়ে যাবে প্রতিভাগুলো।

সেই সব বাবা মাকে ধন্যবাদ দেই যারা তাদের সন্তানদের টাকা,বাড়ি গাড়ি, ভালো পোশাক দিয়ে ভালো রাখাকে প্রাধান্য না দিয়ে পাশাপাশি বাচ্চাকে মূল্যায়ণ করেছে,নানা বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছে আর ভালো মানুষ হতে সাহায্য করেছে।

আমি এখন অনেক রাত অব্দি জেগে জেগে কাজ করি। আমার মনে হয় সময় কত দ্রুত চলে যায় কাজ শেষ করা হয় না। সময় যদি আরও ধীরে চলতো !

–জাজাফী
১৭ মে ২০২০