করোনা কালের কথকতা

পৃথিবীতে প্রতিদিন যে হারে বোমা হামলা, সন্ত্রাস নির্মুলের নামে হামলা,নারী ও শিশু নির্যাতন,খুন, ছিনতাই,চাঁদাবজি হতো তা মুহুর্তে নাই হয়ে গেছে। এখন পযর্ন্ত করোনার কারণে সারা বিশ্বে ১ লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। তবে আমার ধারণা করোনার কারণে এই সময়ে বেঁচে গেছে অন্তত বিশ লাখ মানুষ। তারা হয়তো মারা যেতো বোমার আঘাতে,মারা যেতো সন্ত্রাসের ছুরিকাঘাতে বা বুলেটে,মারা যেতো রেপড হয়ে, মারা যেতো গাড়ি একসিডেন্ট করে,আগুনে পুড়ে।

এক দিক থেকে এটি ভালো হলেও এই পরিস্থিতি বেশিদিন চলতে থাকলে তা হবে ভয়াবহ। তখন বেঁচে থাকার তাগিদে খুন হবে অনেক মানুষ। হামলার শিকার হতে হবে অনেককে। একটা কথা আছে নিজে বাচলে বাপের নাম। ওই কথাটাকে ভুলে যেতে হবে। এখন একে অন্যের বিপদে পাশে থাকতে হবে তবেই আপনার আমার বিপদে অন্যরাও এগিয়ে আসবে। নতুবা আপনি আমি যদি অন্যের বিপদে পাশ না দাড়াই আমাদের বিপদেও কেউ পাশে দাড়াবে না।

তার পর “চোখের বদলে চোখ নেওয়ার রীতি পুরো পৃথিবীটাকেই অন্ধ করে দেবে” নিয়মের মতই পৃথিবীটা পৃথিবীর মতই থাকবে, এয়ারপোর্টগুলোতে সারি সারি প্লেন থাকবে কিন্তু পাইলট থাকবে না,কেবিনক্রু থাকবে না,যাত্রী থাকবে না। রাস্তা থাকবে গাড়ি থাকবে না,ড্রাাইভার থাকবে না। হাসপাতাল থাকবে ডাক্তার থাকবে না নার্স থাকবে না। স্টেডিয়াম থাকবে খেলোয়াড় থাকবে না,দর্শক থাকবে না। ক্যামেরা থাকবে ক্যামেরাম্যান থাকবে না অভিনেতা থাকবে না। কাগজ কলম থাকবে লেখক থাকবে না।

এক কালে যেমন অগনিত ডাইনোসর ছিলো এখন তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তেমনি মানুষও বিল্পু হয়ে যাবে।

আসুন মানুষকে ভালোবাসি,পাশে থাকি। এই সময়ে কম কম খরচ করি এবং নিজের পরিচিতজনের মধ্যে কেউ অভুক্ত আছে কিনা সেটাা দেখতে চেষ্টা করি জানতে চেষ্টাা করি। দূরে রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে ত্রাণ দেওয়ার জন্য আপনাকে আহ্বান করছি না, জুরাাইনে যাওয়ার জন্য আহ্বান করছি না আমি বরং আহ্বান করছি আপনার বাসায় যে কাজ করতো তার খোঁজ নিন, আপনার বাসার যে দারোয়ান তার খোঁজ নিন, আপনার অফিসের যে কর্মচারি তার খোঁজ নিন।

শুধু মাত্র নিজের চারপাশে,নিজের খুব সন্নিকটে যারা আছে তাদের কথা ভাবুন এভাবে প্রত্যেকেই তার চার পাশ নিয়ে ভাবলে কে আসলে অভাবে আছে,অভুক্ত আছে নিদারুন দিনযাপন করছে তা বের করা খুব কঠিন কিছু হবে না। এই ঢাকা শহরে অট্টালিকা গুলোতে বিশাল বিশাল এপার্টমেন্টে তিন চারজন দারোয়ান কর্মচারি থাকে যা অ্যাপার্টমেন্টের সবাই মিলে চেষ্টা করলেই তাদের দেখতে পারে। আপনি যদি আপনার কাজের বুয়াকে সাহায্য করেন তবে সে নিশ্চই কোন বস্তিতে কোন গরিবালয়ে থাকে সেখানে একটা ঘর বেচে যাবে। আপনাকে সেই বস্তি খুজে বের করে সাহায্য করা লাগবে না।

বস্তিগুলোতে কিংবা গরিবালয়ে যারা থাকে সংসার করে তারা কারো না কারো বাসায় কাজ করে, কারো না কারো অফিসে কাজ করে। অন্যদেরকে সহযোগিতা নাইবা করলেন নিজের মানুষগুলোকে করুন দেখবেন কেউ বঞ্চিত থাকবে না।

অনেকেই দেখছি বিরিয়ানি রান্না করে,পোলাও রান্না করে প্যাকেটে করে বিতরন করছে। ধরে নেই প্রতি প্যাকেটে খরচ হচ্ছে ৫০ টাকা। এই পঞ্চাশ টাকায় আপনি যে খাবার দিচ্ছেন তা একজন একবার খেতে পারছে। অথচ আপনি যদি ওই পঞ্চাশ টাকার চাল তাকে দিতেন তবে সে তা দিয়ে হয়তো দুইবার খেতো তিনবার খেতো।

তাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। যারা সহযোগিতা করছে তাদের উৎসাহ দিন। আর আপনার যদি এমন কোন ইনকাম সোর্স থাকে যার জন্য ওই সময়ে আপনার তেমন কোন খরচ হচ্ছে না যেমন ধরুন বাড়ি ভাড়া। তবে আপনি সেখান থেকে কিছু অংশ ব্যয় করুন আর্তমানবতার সেবায়। যদি সবাই মারা যায় তবে আপনার বাড়ি পড়ে থাকবে,সেখানে ভাড়া করে থাকার ম ত কেউ থাকবে না।

কেউ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে? অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হবে অথচ আপনার গাড়ি আছে? দিন না তাকে গাড়িটা ব্যবহার করতে। কয় লিটার তেল পুড়বে? তার বিনিময়ে যদি একজনের জীবন বাঁচে। একদিন এমনও হতে পারে আপনার আমার টাকা আছে গাড়ি আছে সব আছে কিন্তু চিকিৎসার জন্য হাাসপাতালে নেওয়ার মত কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না,টেলিফোন করার সুযোগ হচ্ছে নাা। সব কিছু থেকেও যেন নেই।

আগে চার পদের তরকারী রান্না করতেন? এখন না হয় কিছুদিন এক পদ রান্না করুন বাকি তিনপদের জন্য যে বাজেট তার অন্তত এক পদের বাজেট কোন অসহায়কে দিন।

জানেন পৃথিবীতে সব কিছুই কারো না কারো পরিপুরক। ধরুন আমরা আজীবন ময়লা করলাম কিন্তু কোথাও কোন কাক নেই কোন কুকুর নেই তো সেই সব ময়লা যাবে কোথায়? আমরা ময়লার স্তুপে চাপা পড়বো। আবার ধরুন আমরাা নেই কিন্তু কাক আছে কুকুর আছে শেয়াল আছে। ওরা খাবে কি? না খেয়ে মারা যাবে।

যদি রাত না থাকতো তবে দিনের কোন মূল্য থাকতো না আর যদি দিন না থাকতো তবে রাতের কোন মুল্য থাকতো না। আজকে বিলগেটস যে বিশ্বের সেরা ধনী তার কথা বলি। ধরুন পৃথিবীর কেউ কম্পিউটার কিনলো না তাহলে সে কি ধনী হতে পারতো? আবার ধরুন সবাই কম্পিউটার কিনবে কিন্তু কেউ তৈরি করছে না তাহলে কি হতো।

পৃথিবীর সব কিছুই একে অন্যের পরিপুরক। গরিব আছে বলেই আপনি ধনী বলে পরিচিত হতে পারছেন আর ধনী আছে বলেই ওরা গরিব বলে পরিচিত হচ্ছে।

এই যে যারা চাল চুরি করছে,ডাক্তার নার্সদের বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলছে,এই বিপদের দিনেও রাজনীতি নিয়ে রেশারেশি করছে তারা কি ভালো করছে? এর আগে পৃথিবীর অনেক সম্পদশালী মারা গেছে। মানুষের জীবন মরুভূমির বুকে দাড়িয়ে থাকা গাছের মত। যদি সেই গাছ ছায়া দিতে পারে তবেই তার নিচে ঠাই নিবে অনেকে আর যদি শাখা পল্লবহীন হয় তবে কেউ দাড়াবে না কারো কোন কাজেই আসবে না। আমাদের জীবন কি শাখা পল্লবহীন সেই গাছের মত হবে? যা কারো কোন কাজে আসে না? যার জন্ম হয়েছে মাটি থেকে পানি শোষণ করে বায়ু গ্রহণ করে কিছুকাল দাড়িয়ে থেকে হারিয়ে যাওয়ার।

আসুন মানুষের পাশে দাড়াই,বিপদে বন্ধু হই।

— জাজাফী
১৭ এপ্রিল ২০২০